ঝালকাঠির রাজাপুরে গাছ থেকে বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, মৃত্যু নিয়ে রহস্য!

ঝালকাঠির রাজাপুরে গাছ থেকে বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, মৃত্যু নিয়ে রহস্য!




এইচ এম জহিরুল ইসলাম মারুফ।

 ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ-


 ঝালকাঠির রাজাপুরের দক্ষিণ তারাবুনিয়া গ্রামে বাড়ির পাশের রেইন্ট্রি গাছ থেকে সুধীর ঘরামী (৯০) নামে এক বৃদ্ধর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে ওই তার লাশ উদ্ধার থানায় রাখা হয় এবং সোমবার ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় রাজাপুর থানায় অপমৃত্যু মামলা করেছে। সুধীরের ছেলে সুভাষ ঘরামীর  বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বয়স বেড়ে যাওয়া কিছুটা মানষিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। ঘটনার দিন তাকে খুজেঁ না পাওয়ার এক পর্যায়ে নিজবাড়ির রেইন্ট্রী গাছের ডালের সাথে গলায় রশি  অবস্থায় ঝুলন্ত দেখতে পেয়ে পুলিশ খবর দেয়। রাজাপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম সোমবার দুপুরে জানান, এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কোন কারন জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারন জানা যাবে।

পটিয়া পৌরসভা নির্বাচনে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হচ্ছেন -মোস্তাক আহমেদ

 পটিয়া পৌরসভা  নির্বাচনে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে  কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হচ্ছেন -মোস্তাক আহমেদ

সেলিম চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টারঃ- সারাদেশে ইউনিয়ন ও পৌর নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। এ ধারাবাহিকতা পটিয়া মেয়র  বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরা নড়ে চড়ে উঠেছে।          আগামী  পটিয়া  পৌরসভা নির্বাচনে  ৮ নম্বর  ওয়ার্ড  থেকে  কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পটিয়া পৌরসভা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক  মোস্তাক আহমেদ। দীর্ঘদিন তিনি    জাতীয় ছাএসমাজ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে বর্তমানে তিনি  পটিয়া পৌরসভা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত সময়ে এরশাদ মুক্তি আন্দোলন এবং



স্বেরাচারীণী খালেদা বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে পটিয়া        মোস্তাক সহ এক ঝাঁক  তরুণ  ছাএনেতা রাজপথে অগ্রণী ভুমিকা পালন করে। শিক্ষিত ভদ্র তরুণ  সমাজের অহংকার হিসেবে তার নির্বাচনী এলাকায় সুনাম রয়েছে। পাশাপাশি মোস্তাক আহমেদ তার নির্বাচনী এলাকায় যে কোন বিপদে পড়লে এগিয়ে আসেন। তার এইগুনে সাধারণ মানুষ তাকে ভালোবাসে। চলতি বছরে করোনার সময় ২৮ মার্চ থেকে এখনো পর্যন্ত তার নির্বাচনী এলাকায়  বিভিন্ন মানুষ কে তার সাধ্যমত সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। তার নির্বাচন করার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। মানুষের সেবা করা মোস্তাক আহমেদ এর লক্ষ্য উদ্দেশ্য  বলে তিনি দৈনিক জনতা প্রতিবেদকের সাথে  আলাপকালে স্বীকার করেন। মোস্তাক আহমেদ  বলেন মানবাধিকার মানবতার



 মানসেবা করতে বেশি টাকার প্রয়োজন হয়না। মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারলেই এটি মানবাধিকার, মানবতা,  মানসিকতা, মানবিক, এগুলোই মানবসভ্যতার  মানবসেবা বলে। আল্লাহর আমার ইচ্ছা পুরণ ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে মাদক, সন্রাস,ছাঁদাবাজ মুক্ত সমাজ গড়ে তুলবো এবং পটিয়া পৌর সভার মধ্যে ৮ নম্বর ওয়ার্ড হবে তিলোওমা নগরী মডেল ওয়ার্ড গড়ে তুলার ঘোষণা  দেন।

গ্রেপ্তারের ঘন্টাখানেকের মধ্যেই ভিপি নুরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে

গ্রেপ্তারের ঘন্টাখানেকের মধ্যেই ভিপি নুরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে





নিউজ ডেস্কঃ  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরকে গ্রেপ্তারের ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নূরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় ‘হয়রানিমূলক মামলা’র প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় নূরকে। সন্ধ্যার দিকে ধর্ষণ মামলার প্রতিবাদে ভিপি নূর ও তার সহযোগীরা শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবনের দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


গতকাল ২০ সেপ্টেম্বর রবিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী লালবাগ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। মামলায় মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ধর্ষণে সহযোগিতাকারী হিসেবে নুরুল হক নূরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।


মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে। ধর্ষণের স্থান হিসেবে লালবাগ থানার নবাবগঞ্জ বড় মসজিদ রোডে হাসান আল মামুনের বাসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজাপুরে সূর্যমুখী ফলনের ওপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

রাজাপুরে সূর্যমুখী ফলনের ওপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত




এইচ এম জহিরুল ইসলাম মারুফ।

ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি


কৃষিই সমৃদ্ধি প্রতিপাদ্যেকে সামনে রেখে ঝালকাঠির রাজাপুরে সূর্যমুখীর বিভিন্ন জাতের ফলন তারতম্য প্রদর্শনীর ওপর এক কৃষক মাঠ দিবস ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার উপজেলা সদরের মুক্তিযোদ্দা মিলনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। বারি (ওএফআরডি) আয়োজিত বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা, মাদারীপুর, ও শরীয়তপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সূর্যমুখী (জাত: সানরাইজ-২) সূর্যমুখী প্রদর্শনীর মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রিয়াজুল্লাহ বাহাদুর। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভোজ্য তেল হিসেবে সূর্যমুখী অনন্য। সে সাথে মনের খোরাকও যোগায়। শরীরের কোনো ক্ষতি নেই। বরং হিতকর। জাত হিসেবে বারি সূর্যমুখী-২ উৎকৃষ্ট। এর বীজ সংরক্ষণ করা যায়। তাই উৎপাদন খরচ কম। চাষে লাভজনক। প্রধান অতিথি তার বক্ত‌ব্যে আরও ব‌লেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক আমরা কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি প্রতি ইঞ্চি জমি চাষবাদের আওতায় এনে দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃ্দ্ধিতে অংশগ্রহনের জন্য উপস্থিত সকলের প্রতি আহ্বান জানান । আর বেশি বেশি সূর্যমুখী ফসল চাষ ও সূর্যমুখী তৈল ব্যবহারের পরামর্শ প্রদান করেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে মাঠ দিবসে হাইব্রিড ও ইনব্রিড জাতের বীজ ব্যবহার, ফলনের পার্থক্য, উৎপাদন ব্যয়সহ বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আর বেশি বেশি সূর্যমুখী ফসল চাষ ও সূর্যমুখী তৈল ব্যবহারের পরামর্শ প্রদান করেন।

উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা মেহেদী হসোনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সিনিয়র শিক্ষক জনাব সাইদুর রহমান। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আসলাম হোসেন মৃধা, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারি কর্মকর্তা এ্যানি আক্তার ও হালিমা আক্তার স্মৃতি প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সূর্যমুখী উৎপাদন, বিস্তার এবং সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি উদ্ভাবন কর্মসূচির আওতাধীন ৪০ জন স্থানীয় কৃষক অংশগ্রহণ করেন। এসময় কৃষি বিভাগ তৈল ফসল সূর্যমুখী চাষ করতে উৎসাহিত করে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়।

আশাশুনির হাড়িভাঙ্গা-নাটানা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি

 আশাশুনির হাড়িভাঙ্গা-নাটানা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি





আহসান উল্লাহ  বাবলু  সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি : আশাশুনির হাড়িভাঙ্গা-নাটানা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলা সদর ইউনিয়নের হাড়িভাঙ্গা-নাটানা বাজারের মৎস্য সেটে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন কল্পে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক স,ম সেলিম রেজা মিলনের সভাপতিত্বে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদাধিকার বলে ইউপি চেয়ারম্যান স,ম সেলিম রেজা মিলন, সাধারণ সম্পাদক নারায়ন চন্দ্র সরকার ও সাংগঠনিক সম্পাদক আছাফুর রহমান মনোনীত হয়। কমিটির অন্যান্যরা হলেন সহ-সভাপতি ইউপি সদস্য সন্তোষ মন্ডল, নূর ইসলাম সরদার ও আতিয়ার রহমান গাজী, যুগ্ম-সম্পাদক মফিকুল ইসলাম খান, সহ-সম্পাদক ইনামুল হক ও দীপঙ্কর মন্ডল, কোষাধ্যক্ষ ডাঃ বিশ^াজিৎ মন্ডল, সহ-কোষাধ্যক্ষ উত্তম কুমার পাইন ও সুশান্ত কুমার সানা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ দিলিপ কুমার মন্ডল ও মহসীন গাজী, দপ্তর সম্পাদক বাবুল ঢালী, সহ-দপ্তর মধুসুদন সরকার, প্রচার সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সহ-প্রচার মফিজুল ইসলাম ও সুখদেব সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক পঙ্কজ সরকার, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক সুকুমার সরকার ও আবিনুর রহমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রহিম জাবেদ, সহ-সাংস্কৃতিক নব কুমার সরকার ও উজ্জল মল্লিক এবং মহিফুল্লাহ গাজীকে কার্যনির্বাহী কমিটির ১নং সদস্য করে মোট ৫১ সদস্য বিশিষ্ট ৩ বছর মেয়াদী হাড়িভাঙ্গা-নাটানা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়।

আশাশুনিতে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস পালন

 আশাশুনিতে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস পালন




আহসান উল্লাহ বাবলু সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি ঃ আশাশুনিতে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস উপলক্ষে সাইকেল র‌্যালী, গণস্বাক্ষর ও প্রচার পরিচালনা করা হয়েছে। সোমবার বেলা ১১.৩০ টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। 


রূপান্তর পিচ কনসোর্টিয়াম প্রকল্পের আওতায় ২১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে। এর মধ্যে বেলা ১১.৩০ টায় শান্তি রক্ষায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে স্বাক্ষর গ্রহণ, অংশগ্রহনকারীদের দিবসের তাৎপর্য ও সিম্বল সম্বলিত টিশার্ট ও মাস্ক পরিধান করান এবং বাই সাইকেল র‌্যালী। র‌্যালী উদ্বোধন করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা। পরে অংশগ্রহনকারীরা ব্যানার, প্লাকাট, টিশার্ট ও মাস্ক পরে বাইকেল চালিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে যাত্রা শুরু করেন। সাইকেল র‌্যালীটি বিভিন্ন সড়ক ও বাজার এলাকা ঘুরে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

মাধবপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাত জুয়াড়ির কারাদণ্ড

মাধবপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাত জুয়াড়ির কারাদণ্ড



লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় জুয়া খেলার সময় হানতেন আটক করে সাত জুয়াড়িকে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) আয়েশা আক্তার এই রায় প্রদান করেন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের বেলঘর গ্রামের 

মৃত আব্দুল হাই মিয়া এর ছেলে মো: কুতুবউদ্দিন (৫০) মৃত আবুল মিয়ার ছেলে বিল্লাল মিয়া (২৮)


মৃত ধনু মিয়ার ছেলে নাসির উদ্দিন (৩৮) জগদীশপুর চা বাগানের মৃত মালি হোসেনের ছেলে মো:জানু মিয়া (৪৫) উত্তর সন্তোষপুর গ্রামের মো:ছালেক মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৮) চারাভাঙ্গা গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে মাসুম মিয়া (২৪) ও মর্তুজ আলীর ছেলে মো:লায়েছ মিয়া (৩০) এর আগে দুপুরে 

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর গোলাম মোস্তফা'র


নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল জগদীশপুর বাজারের পশ্চিম দিকের খোলা মাঠে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত সাত জুয়াড়িকে আটক করে। মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মাধবপুরে ৩ মাস পর আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলন

 মাধবপুরে ৩ মাস পর আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলন


লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের মাধবপুরে বাদী পক্ষের নারাজীর প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে একটি হত্যা মামলার পুনঃ ময়না তদন্ত করতে ৩ মাস পর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। সোমবার দুপুরে হবিগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পথিক মন্ডলের উপস্থিতিতে হবিগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নোয়াপাড়া কবর স্থান থেকে ভিকটিম সাইফুর রহমান মুর্শেদের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। মৃত মুর্শেদ উপজেলার নোয়াপাড়া ইটাখোলা গ্রামের মৃত হেফজু রহমানের ছেলে। মামলার বাদী শফিকুর রহমান শামীম জানান, গত ৮ জুন রাতে তার ভাই সাইফুর রহমান মুর্শেদকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে আবদ্ধ ঘরে আটকে রেখে তালাবদ্ধ করে রাখে।


এ ঘটনায় সাইফুর রহমান মুর্শেদ এর স্ত্রী হাসি বেগমকে আসামী করে মাধবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় হাসি বেগমকে ঘটনার দিন দুপুরে গ্রেফতার দেখিতে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। হাসি বেগম এখনো ওই মামলায় কারাগারে আছে। বাদীর অভিযোগ মাধবপুর থানার এসআই ওয়াহিদ গাজী সুরত হাল প্রতিবেদনে ভিকটিমের গলায়, হাতে পায়ে অন্ডকোষে পায়ুপথ সহ ৭/৮টি জখমের চিহ্ন উল্লেখ ছিল। কিন্তু হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ডাক্তাররা উল্লেখ করেন সাইফুর রহমান মুর্শেদ গলায় ফাঁস দিয়ে মারা গেছে।


এ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদী হবিগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে নারাজীর আবেদন দাখিল করেন। আদালত বাদীর নারাজীর আবেদন মঞ্জুর করে পুনরায় ভিকটিমের কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে পুন ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পথিক মন্ডলের উপস্থিতিতে লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পুন ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করেছে।

কিশোরগঞ্জে ৩৪০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জে ৩৪০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার




মোঃ লাতিফুল আজম

কিশোরগঞ্জ নীলফামারী প্রতিনিধি:



৩৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ লিমন হোসেন(২১) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৩ নীলফামারী সিপিসি-২ ক্যাম্পের একটি অভিযানিক দল। গতকাল রবিবার রাতে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মাদক ব্যবয়াসী লিমন জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে।

আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর/২০২০) দুপুরে নীলফামারী র‌্যাব ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সহকারী পুলিশ সুপার আ.ন.ম ইমরান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বড়ভিটা বাজারের মেসার্স মাহমুদ মেডিকেল হল ফার্মেসী এর সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছে ৩৪০ পিস ইয়াবা, দুইটি মোবাইল ফোন ও ইয়াবা বিক্রির নগদ ৪৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়। আজ সোমবার সকালে মামলা সহ তাকে কিশোরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

যশোরের শার্শায় স্ত্রীর উপর অভিমান করে ফেসবুক লাইভে গিয়ে আত্বহত্যা

 যশোরের শার্শায় স্ত্রীর উপর অভিমান করে ফেসবুক লাইভে গিয়ে আত্বহত্যা

মোঃ জামাল হোসেনঃ যশোরের শার্শায় স্ত্রীর উপর অভিমান করে ফেসবুক লাইভে গিয়ে আত্বহত্যার ঘোষনা দেয় সদ্য বিদেশ ফেরৎ রফিকুল ইসলাম নামের এক যুবক বৃহস্পতিবার যশোর মেডিকেল হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে যানা যায়। নিহত রফিকুল ইসলাম শার্শা উপজেলার কাজিরবেড় গ্রামের দিদার হোসেনের ছেলে। শার্শা থানায় অফিসার্স ইনচার্জ বদরুল আলম খান বলেন। গত বুধবার সন্ধায় ফেসুক লাইভে আত্বহত্যার ঘোষনা দিয়ে বিষ পান করেন রফিকুল। পরে তার স্বজনরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর মেডিকেল কেলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়। যশোরের নাভারন সার্কেলের পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান বলেন রফিকুল ইসলাম নামের ওই ব্যাক্তি দির্ঘদিন মালয়েশিয়াতে ছিলেন। ১৩ দিন আগে তিনি দেশো ফিরে আসেন। মালয়েশিয়াতে থাকা কালীন উপার্জিত সব টাকা তিনি তার স্ত্রীর নামে দেশে পাঠাতেন। রফিকুল দেশে ফেরার পর স্ত্রী স্বামীর পাঠা্নো টাকা আত্বসাত করেন। রফিকুলের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এতে দেশে ফিরে তিনি মানসিক ভাবে ভেঙেপড়েন । দূশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে আত্বহত্যার পখ বেছে নেন। আত্মহত্যার আগে রফিকুল ফেসবুক লাইভে ঘটনাটি বলে যান এবং ১০০ টাকার একটি ননজুডিশিয়াল স্টাম্পে তার স্ত্রীর সহযোগিতাকারীদের নাম লিখে গেছেন বলে জানান তিনি। সহকারি পুলিশ সুপার জুয়েল বলেন লাশ ও সব আলামত আমরা সংগ্রহ করেছি। নিহতের স্ত্রী মনিরা খাতুন কে জিগ্যাসা বাদের জন্য পুলিশ হেফাযতে নেওয়া হয়েছে।

আশাশুনিতে নির্বাচন কর্মকর্তার যোগদান

 আশাশুনিতে নির্বাচন কর্মকর্তার  যোগদান





আহসান  উল্লাহ  বাবলু সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি  ঃআশাশুনি উপজেলায় নতুন নির্বাচন কর্মকর্তা যোগদান করেছেন। আগামী ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন নির্বাচনের আগে অফিসারের যোগদানে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নড়াচড়া শুরু করেছেন।নবাগত উপজেলা নির্বাচন অফিসার কামরুজ্জামান শিকদার গত ৬ সেপ্টেম্বর আশাশুনিতে যোগদান করেন। এরআগে তিনি যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। আশাশুনিতে দায়িত্বরত নির্বাচন অফিসার সাইফুল ইসলাম বদলী হওয়ায় তদস্থলে তিনি যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে তিনি উপজেলার সকল ভোট কেন্দ্র ও পূর্ববর্তী সময়ের নির্বাচনের পরিবেশ-পরিস্থিতিসহ সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে খোজখবর নিতে শুরু করেছেন।

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বেস্ট টিমের এডমিন মুস্তাফিজকে তালাক দিলেন বেস্ট টিমের নেত্রী এডভোকেট মিলি

 সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বেস্ট টিমের এডমিন মুস্তাফিজকে তালাক দিলেন বেস্ট টিমের নেত্রী এডভোকেট মিলি




আহসান উল্লাহ বাবলু সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি: সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে জামিনে মুক্তির পরপরই আলোচিত বেস্ট টিম সাতক্ষীরার সেই কথিত এডমিন চিহ্নিত মাদকাসক্ত মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে বস পাগলকে তালাক দিয়েছেন ওই বেস্ট টিমেরই আহ্বায়ক এ্যাড. শাহনওয়াজ পারভীন মিলি। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাটিয়া মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিষ্টারের কার্যালয় থেকে দাম্পত্য কলহের কারনে বিরোধ, অশান্তি, অত্যাচার, নির্যাতন, স্ত্রী হিসেবে ভরন পোষন ও স্ত্রীর মর্যাদা না দেয়া এবং অন্য স্ত্রী থাকাকে কারন দেখিয়ে এ্যাড শাহনওয়াজ পারভীন মিলি কাবিননামার ১৮ নং ক্রমিকের শর্ত মোতাবেক মোস্তাফিজুর রহমানকে তালাক তাউফিজ প্রদানের মাধ্যমে স্বাক্ষী এসএম কামরুজ্জামান ও এ্যাড সেলিনা আকতার শেলি’র উপস্থিতিতে তালাক নামায় স্বাক্ষর করেন। একইসাথে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের ৭/৮ ধারা মতে তালাক নামার কপি রেজিষ্টার্ড ডাকযোগে তালাকপ্রাপ্ত মোস্তাফিজ ও কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রেরন করেন। কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মিথ্যে মামলা থেকে খালাস হওয়ায় অনলাইন প্রেস ইউনিটির অভিনন্দন

 মিথ্যে মামলা থেকে খালাস হওয়ায় অনলাইন প্রেস ইউনিটির  অভিনন্দন



প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ বরিশালের ৬ সাংবাদিক মিথ্যে মামলা থেকে খালাস হওয়ায় অনলাইন প্রেস ইউনিটির পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা মোমিন মেহেদী, কার্যকরী সভাপতি এ্যাড. নূরনবী পাটোয়ারী, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা প্রমুখ। 

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একটি মামলা থেকে বরিশালের স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা সময়ের বার্তার সম্পাদক প্রকাশকসহ ৬ সাংবাদিককে অব্যাহতি দিয়েছেন সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ সোমবার নির্ধারিত তারিখে সংবাদকর্মীরা আদালতে হাজির হয়ে মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন রাখেন। দীর্ঘ এক ঘণ্টার শুনানী শেষে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন সাংবাদিকদের মামলাটি থেকে অব্যাহতি দিয়ে আদেশ ঘোষণা করেন।

মামলা থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ৬ সাংবাদিক হচ্ছেন- দৈনিক পত্রিকা সময়ের বার্তার সম্পাদক প্রকাশক এম লোকমান হোসাঈন, নিবাহী সম্পাদক ফরহাদ হোসেন ফুয়াদ, যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী, বার্তা সম্পাদক আল-আমিন গাজী এবং কম্পিউটার অপারেটর মো. বেলাল হোসেন। সাংবাদিকদের আইনজীবী মো. কাওসার হোসাইন জানান, বরিশাল চিপ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কবির উদ্দিন প্রামাণিকে বিরুদ্ধে নথি জালিয়াতির অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ করায় ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ এই ৬ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আদালতের নাজির কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে একটি মামলা করেন। আজ সোমবার নির্ধারিত দিনে মামলাটি থেকে ৬ সাংবাদিককে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন রাখলে আদালত তা পর্যালোচনা করেন। এবং দীর্ঘ শুনানী শেষে তাদের মামলাটি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা দেন। 

সখিপুর ছাত্রলীগের ৩ নং ওয়ার্ডের নতুন কমিটিকে মৃত্তিকা মানবিক ইউনিট এর শুভেচ্ছা জ্ঞাপন

 সখিপুর ছাত্রলীগের ৩ নং ওয়ার্ডের নতুন কমিটিকে মৃত্তিকা মানবিক ইউনিট এর শুভেচ্ছা জ্ঞাপন





আহসান উল্লাহ বাবলু সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দেবহাটা উপজেলার ৩ নং সখিপুর ইউনিয়ন এর ৩ নং ওয়ার্ড শাখার পুরাতন  কমিটির মেয়াদ উত্তির্ন হওয়ায় বিলুপ্ত ঘোষণা করে, সখিপুর ছাত্রলীগের প্যাডে সভাপতি তৌহিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ সাঈদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এক বছর মেয়াদি নতুন কমিটির অনুমোদন দেয়ায় নতুন কমিটির সদস্যদের, দেবহাটা মৃত্তিকা মানবিক ইউনিট এর পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করা হয়েছে। 



সখিপুর ইউনিয়ন এর ৩ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সদস্যরা হলেনঃ


সভাপতি এস ডি রাসেল রানা, সহ-সভাপতি আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক লিটন সরদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল হোসেন,সাংগঠনিক সম্পাদক রিদয় হোসেন, যুগ্ন সাংগঠনিক  সম্পাদক আসমাউল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ফয়সাল হোসেন,প্রচার সম্পাদক সাঈদ হোসেন, সদস্যরা হলেন হারুন সরদার, আল আসিন ও তুহিন হোসেন।

আশাশুনিতে স্বপ্নছোঁয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তালের বীজ বপন

 আশাশুনিতে স্বপ্নছোঁয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তালের বীজ বপন




আহসান উল্লাহ বাবলু সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:

আশাশুনিতে স্বপ্ন ছোঁয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দুইদিন ব্যাপী তালের বীজ বপন উদ্বোধন করা হয়েছে। আশাশুনি উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলজিইডি রাস্তার পাশে তালের বীজ বপন এর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা। এ কার্যক্রমের আওতায় উপজেলা সম্মুখে এলজিইডি রাস্তার পাশে ২৫০০ তালের বীজ বপন করা হবে| এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুল হাসান,বন বিভাগ কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্বপ্ন ছোয়া ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ

স্বাধীনতা আমার ছিল কবিঃ সুমন হালদার

স্বাধীনতা আমার ছিল   কবিঃ সুমন হালদার



আমার নদীর পাড়ে বিছানা পাতার স্বাধীনতা ছিল,

আমি খড়কুটো ধরে বাঁচতে পারতাম খুব।

আমি রক্ত জবা হয়ে ফুটতে পারতাম বটে-

আমি পথহারা হয়ে থাকতে পারতাম।


তবে আমি তীরে বাঁচতে চেয়েছি

গোলাপ হয়ে ফুটতে চেয়েছি।

তাই আজ ডাইনোসর যুগে আমি

আমার খবর নেই আজ কাগজের পাতায়।

দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রতিষ্ঠানের সাথে অন্তর্ভুক্তকরন সভা

 দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রতিষ্ঠানের সাথে অন্তর্ভুক্তকরন সভা





আহসান উল্লাহ বাবলু সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি ঃ


আশাশুনিতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রতিষ্ঠানের সাথে অন্তর্ভুক্তিকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার অর্থায়নে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ও উদ্দীপ্ত মহিলা উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উদ্দীপ্ত মহিলা উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক জয়ন্তীর রানী দাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা, বিশেষ অতিথি সদর ইউপি চেয়ারম্যান স ম সেলিম রেজা মিলন বুধহাটা ইউপি চেয়ারম্যান আ ব ম মোছাদ্দেক, শোভনালী ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক ম. মোনায়েম হোসেন, সমাজসেবা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম, আশাশুনি প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা  সভাপতি জিএম মুজিবুর রহমান, রিপোর্টার্স ক্লাব সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ বাচ্চু, প্রেসক্লাব সদস্য শেখ বাদশা উপস্থিত ছিলেন। সভায় উদ্দীপ্ত মহিলা উন্নয়ন সংস্থার ৩০জন গ্রুপ লিডার অংশগ্রহণ করেন।

যশোরে তিন কাজীর বিরুদ্ধে এক আইনজীবীর মানহানী মামলা

 যশোরে তিন কাজীর বিরুদ্ধে এক আইনজীবীর মানহানী মামলা




সুমন হোসেন, যশোর জেলা প্রতিনিধি। 

যশোর সদর উপজেলা কাজী সমিতির সভাপতি মনিরুল ইসলামসহ ৩ কাজীর বিরুদ্ধে রোববার আদালতে মানহানির অভিযোগ এনে মামলা করেছেন মাসুদুর রহমান নামে একজন আইনজীবী। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সাইফুদ্দীন হোসাইন তার অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের প্রতি সমন জারির আদেশ দিয়েছেন।

অভিযুক্তদের মধ্যে মনিরুল ইসলাম যশোর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী (বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার)। অপর দুজন হচ্ছেন-সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের কাজী কামাল হোসেন ও যশোর পৌরসভার ১ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী মোশাররফ হোসেন।বাদী জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য মাসুদুর রহমানের অভিযোগ, গত ৯ সেপ্টেম্বর আসামিরা প্রেস ক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেন। এই সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শহরের আদালত পাড়ার কিছু উকিল ও মহুরি কাজী (বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার) হুসাইন ও তার সহকারীর সাথে একজোট হয়ে অবাধে বাল্য বিয়ে ও তালাক সংক্রান্ত বেআইনি কর্মকান্ডে জড়িত। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে যশোরের আইনজীবীরা বাল্য বিয়ে রোধে বিভিন্ন সমাজিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। এ কারণে বাল্য বিয়ে দেয়া সংক্রান্ত কোন কাজের সাথে আইনজীবীদের কোন ভূমিকাই নেই। মূলত ওই সংবাদ সম্মেলনে আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে আইনজীবীদের সামাজিক মর্যাদাহানির অসৎ উদ্দেশ্যে অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন।

সখিপুর ছাত্রলীগের ৩ নং ওয়ার্ড শাখার কমিটি গঠন

সখিপুর ছাত্রলীগের ৩ নং ওয়ার্ড শাখার কমিটি গঠন

 



আজহারুল ইসলাম সাদী, স্টাফ রিপোর্টারঃ


বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দেবহাটা উপজেলার ৩ নং সখিপুর ইউনিয়ন এর ৩ নং ওয়ার্ড শাখার পুরাতন  কমিটির মেয়াদ উত্তির্ন হওয়ায় বিলুপ্ত ঘোষণা করে, সখিপুর ছাত্রলীগের প্যাডে সভাপতি তৌহিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ সাঈদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এক বছর মেয়াদি নতুন কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। 

কমিটির সদস্যরা হলেনঃ

সভাপতি এস ডি রাসেল রানা, সহ-সভাপতি আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক লিটন সরদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল হোসেন,সাংগঠনিক সম্পাদক রিদয় হোসেন, যুগ্ন সাংগঠনিক  সম্পাদক আসমাউল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ফয়সাল হোসেন,প্রচার সম্পাদক সাঈদ হোসেন, সদস্যরা হলেন হারুন সরদার, আল আসিন ও তুহিন হোসেন।

ব্রাক্ষণবাড়ীয়া প্রেসক্লাবের দ্বি বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত

ব্রাক্ষণবাড়ীয়া প্রেসক্লাবের  দ্বি বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত

 



এস.এম অলিউল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক সাধারন নির্বাচন-২০২০ ইং এর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে রিয়াজ উদ্দিন জামি সভাপতি ও জাবেদ রহিম বিজন সাধারন সম্পাদক হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটা থেকে বিকেল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বিরতিহীন ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে অন্যান্য বিজয়ীরা হলেন – সিনিয়র সহসভাপতি পদে পীযুষ কান্তি আচার্য্য , সহসভাপতি পদে ইব্রাহিম খান শাহদাৎ, কোষাধ্যক্ষ সম্পাদক পদে নজরুল ইসলাম শাহজাদা, দপ্তর সম্পাদক পদে মোঃ মুজিবুর রহমান ও সাংস্কৃতিক ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী।

নির্বাচনে ১১ পদের বিপরীতে ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে চারটি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চারজনকে বিজয়ী ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন। বিজয়ীরা হলেন – যুগ্ম সাধারন সম্পাদক পদে সৈয়দ রিয়াজ আহমেদ অপু (দৈনিক ভোরের কাগজ), পাঠাগার ও ক্রীড়া সম্পাদক এইচ.এম. সিরাজ (দৈনিক শেয়ার বিজ), সাধারন সদস্য পদে মোঃ মনির হোসেন (দৈনিক দেশ রূপান্তর) এবং সাধারন সদস্য পদে ফরহাদুল ইসলাম পারভেজ (আলোকিত বাংলাদেশ)। 

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও প্রেস ক্লাব নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনা করেন। তিনি জানান, শান্তিপূর্ণ সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও উৎসবমুখর ভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি জানান, চারটি পদে প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী না থাকায় চারজনকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।

নওগাঁয় পল্লীবিদ্যুতের অভিযোগ কেন্দ্র ভাংচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের

 নওগাঁয় পল্লীবিদ্যুতের অভিযোগ কেন্দ্র ভাংচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের




মোঃ ফিরোজ হোসাইন 

রাজশাহী ব্যুরো


 নওগাঁর আত্রাইয়ে পল্লী বিদ্যুত সমিতির সমসপাড়া অভিযোগ কেন্দ্র ভাংচুরের ঘটনায় সরকারী কাজে বাধা এবং আনুমানিক দু’লক্ষ বাষট্টি হাজার টাকার সরকারী মালামাল ধ্বংসের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কেন্দ্রের ইনচার্জ আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে ৯ জনকে জ্ঞাত এবং ২০/২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা করে মামলা দায়ের করেন। আসামীরা হলো মোন্নাফ আলীর ছেলে আঃ লতিফ(২৫), ফজু মিস্ত্রির ছেলে সবুজ মিয়া(২৫), সজল মিয়া(২২), বৃন্দাবনের ছেলে আপাল(২২), সোহাগ(২০), হাসমত আলীর ছেলে রেজাউল(২২), বিকাশ(৪০), জেহের আলীর ছেলে খোকন আলী(৩৫), ফজু মিয়ার ছেলে জাকির। তাদের সকলের বাড়ি সমসপাড়া গ্রামে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, পাঁচুপুর ও বিশা ইউনিয়নে ডাবল সার্কিটের কাজ চলছে। সাময়িক অসুবিধা জন্য এলাকায় সকাল ৮ হতে ৫ পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকবে না বলে মাইকিং করে জানিয়ে দেয়া পরও গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধা ৬টার পর আসামীগন বাঁশের লাঠি ও রডসহ সমসপাড়া অভিযোগ কেন্দ্রে প্রবেশ করে। সন্ধা ৬টার মধ্যে বিদ্যুত চালু হলোনা কেন বলে অফিস ইনচার্জের উপর চোরাও হয়। বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে অফিস ইনচার্জ ও তার সহকারীকে চর থাপ্পর মেরে ঘড় হতে বের করে দিয়ে অফিসিয়াল মটরসাইকেল, হেলমেট, সাইনবোর্ড, বিদ্যুতের মিটার ভাংচুর করে। 

আত্রাই থানা ওসি মোসলেম উদ্দিন বলেন, মামলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিরাজগঞ্জে ৭০ বোতল ফেনসিডিল সহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক

সিরাজগঞ্জে ৭০ বোতল ফেনসিডিল সহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক



 মাসুদ রানা সিরাজগঞ্জ জেলাপ্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ৭০ বোতল ফেনসিডিলসহ মো. সোহেল রানা (২৮) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি পুলিশ)। আটককৃত মো. সোহেল রানা টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর থানার ভেংগুলা গ্রামের মো. নুরুল ইসলামের পুত্র।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টার সময় এই তথ্য নিশ্চিত করে সিরাজগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি পুলিশ ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশ সুপার হাসিবুর আলম বিপিএম এর দিকনিদের্শনায় এসআই মো. নাজমুল হকসহ সঙ্গীয় অফিসার-ফোর্স এর সহায়তায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে সদর উপজেলার বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানাধীন কড্ডার মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭০ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল সহ মো. সোহেল রানা (২৮) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। এই বিষয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

হবিগঞ্জে হঠাৎ করেই বিদ্যুতের ভেলকি বাজিতে জনজীবন বিপর্যস্ত

 হবিগঞ্জে হঠাৎ করেই বিদ্যুতের ভেলকি বাজিতে জনজীবন বিপর্যস্ত


লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 

হবিগঞ্জের উপর দিয়ে তীব্র তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে প্রচন্ড গরমে নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। বাহিরে কাজ করাতো দূরের কথা ঘরে থেকেও প্রাণ যায় যায় অবস্থা এ দূর্বিসহ অবস্থায় ‘মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাড়িয়েছে বিদ্যুতের ভেলকিবাজি ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে নাজেহাল অবস্থায় দাড়িয়েছে স্বাভাবিক জীবন-যাত্রা। জেলাবাসীর অভিযোগ- প্রচন্ড গরমের মধ্যে বৈদ্যুতিক পাখা মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিয়ে থাকে কিন্তু লোডশেডিংয়ের মাত্রা অতিরিক্ত হওয়ায় সেই স্বস্তিও মিলছে না তৃষ্ণার্থ প্রাণে। এমনকি রাতের বেলায়ও একাধিকবার বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার কারণে চরম আকার ধারণ করেছে ভোগান্তি।


বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের এমন কর্মকান্ডে জনসাধারণের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে- জেলায় বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নেই কিন্তু গরমের তীব্রতা বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। সেই চাহিদার কারণে ট্রান্সমিটার লোড মানতে না পারায় বারবার লাইন আউট হয়ে যাচ্ছে সেটি মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। জানা যায়- গত ৩/৪ দিন ধরে হবিগঞ্জে প্রচন্ড গরম পড়েছে এতে দূর্বিসহ হয়ে দাড়িয়েছে জনজীবন বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষগুলো। 


প্রচন্ড তাপদাহের অসয্য যন্ত্রনা সহ্য করে জীবিকার তাগিদে কাজ করতে হচ্ছে মাঠে-ঘাটে আবার বাসা বাড়িতে থেকেও গরমে অনেকের নাভিশ্বাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে মরারা উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বাসা বাড়িতে থেকেও স্বস্তি মিলছে না মানুষের। একটু পরপরই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ভোগান্তির মাত্রা যেন আরও বেড়ে যায় শুধু দিনের বেলায় নয় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায় জেলাবাসীর দিনের সাথে পাল্লা দিয়ে রাতেও একটু পরপরই লোডশেডিংয়ের অভিযোগ বিস্তর। 


জেলার প্রতিটি উপজেলাতেই এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে। হবিগঞ্জ সদর এলাকার এলাকার বাসিন্দা লতিফ বলেন-দিনের বেলায় বিদ্যুতের আসা-যাওয়াতে যতটা ভোগান্তি বাড়ায় রাতের বেলা এর কয়েকগুণ বেশি হয়। রবিবার দিবাগত রাতেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে কয়েকবার ঘুম থেকে উঠে বাহিরে যেতে হয়েছে। এছাড়া খাবারের সময় নামাজের সময়ও বিদ্যুতের আসা যাওয়া অব্যাহত থাকে তিনি আরও বলেন- ‘আমাদের যেমন-তেমন শিশুরা আরও বেশি সমস্যায় রয়েছে।


বিদ্যুৎ চলে গেলে তারা ঘুম থেকে উঠে কান্নাকাটি করে সবুজবাগ এলাকারা ব্যবসায়ি মো. সায়েম বলেন-রাতে যে কতবার বিদ্যুৎ গেছে তার কোন হিসেবই নেই। এর মধ্যে ভোরবেলা বিদ্যুৎ নিয়েছেতো আর দেয়ার নামই নেই সারারাত জেগে থেকে সারাদিন কি কাজ করা যায়। একই এলাকার বাসিন্দা ফয়েজ চৌধুরী দাবি করেন বারবার বিদ্যুৎ অফিসে কল দিলেও কোন সাড়া পাওয়া যায় না। তিনি বলেন-গ্রাহকদের সমস্যা যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন বিষয়ই না নিজেরে মতো করে বিদ্যুৎ দেয়া-নেয়া করাই তাদের কাজ।


অফিসে কল দিলেও কেউ ফোন রিসিভ করেন না তিনি বলেন-কিছুক্ষণ পরপরই বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে ঘরের টিভি ফ্রিজ কম্পিউটারের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স জিনিস অকেজো হয়ে যাচ্ছে

এদিকে, অনেকে দাবি করছেন হবিগঞ্জে বিদ্যুতের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে তাই বারবার লোডশেডিং হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল মতিন দাবি করলেন ভিন্ন বিষয় তিনি বলেন- হবিগঞ্জে বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নেই। তবে প্রচন্ড গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে আগের চেয়ে অনেক বেশি অতিরিক্ত বৈদ্যুতির পাকার সাথে এসি ফ্রিজের চাহিদাও বেড়েছে। 


যার কারণে বিদ্যুতের যে টান্সমিটার রয়েছে সেগুলো অনেক ক্ষেত্রে লোড মানছে না। ফলে কিছু সময় পরপরই লাইন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তিনি আরও বলেন-বন্ধ হয়ে যাওয়া লাইন সচল করতে অন্য সংযোগগুলোও অনেক সময় বিচ্ছিন্ন করতে হয়, যার কারণে লোডশেডিং বেড়েছে তবে জনগণকে এ সমস্যাটা বুঝতে হবে কারণ এটি মানব সৃষ্ট কোন সমস্যা নয়।

বন্ধুত্ব এবং একটি স্মরণীয় সন্ধ্যা

বন্ধুত্ব এবং একটি স্মরণীয় সন্ধ্যা

পরিবার নিয়ে আসার পরে আমাদের চীনের পারিবারিক সময়টা অনেক মজা আর হৈ হুল্লোড় করেই চলে যাচ্ছে। সব কিছুর মূলে যে চাইনিজ পরিবারটিকে প্রথমে ধন্যবাদ দিতে হয় তারা হলেন জেসিকাদের পরিবার। জেসিকা আমার মেয়ে অন্তুর বান্ধুবি। আমরা একই কমিউনিটিতে থাকি, একদিন সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে হাটতে গিয়ে পরিচিয় হয় এই পরিবারটার সাথে। অন্তু এবং জেসিকা এত ভালো বান্ধুবিতে পরিনত হয়েছে তা স্বচক্ষে দেখা ছাড়া কাউকে বোঝানো মুশকিল।

অন্তু এবং জেসিকা বিকেলে খেলতে গিয়ে

তারা উভয়েই সকালের নাস্তা সেরে যত দ্রুত পারা যায় বাসায় হোমওয়ার্ক শেষ করে দুজন দুজনের সাথে সাক্ষাত করে। বেশীরভাগ দিন জেসিকা এবং তার মা আমাদের বাসায় আসে। এরপর শুরু হয় তাদের দুরন্তপনা। জেসিকার মা জেসিকাকে আমাদের বাসায় রেখে চলে যান এবং ঘন্টা খানিক পরে এসে আবার নিয়ে যান। এই এক ঘন্টা ধরে যত ধরনের দুষ্টামি করা যায় তারা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যায়। যখনই জেসিকার মা জেসিকাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আবার আসেন সেই মুহূর্তে তাদের দুজনের চোখ মুখে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। কারণ তারা ভাবে উনি আসা মানেই এখানেই দুষ্টামির ইতি টানতে হবে, দুজনের মজা মাস্তি শেষ হবে সেজন্য এত খারাপ লাগে তাদের। এরপরে দুজনকে টেনে হিঁচড়ে আলাদা করে জেসিকাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। অন্তু সহ আমরা সবাই আমাদের বাসার তিনতলার ব্যালকনি থেকে যতদূর চোখ যায় দেখতে থাকি জেসিকা কান্না করতে করতে ওর মার সাথে যাচ্ছে আর ক্ষনিক ক্ষনিক আবার অন্তুর সাথে খেলার জন্য পিছনে দৌড়াচ্ছে। খুব কষ্ট করেই তার মা তাকে বাসা পর্যন্ত নিয়ে যান।
অন্তু এবং জেসিকাকে নিয়ে আমার স্ত্রী বার-বি-কিউ তে যাওয়ার আগে

শুধু বাসাতেই নয় রাস্তায় বা পথিমধ্যে যেখানেই সে আমাকে দেখে দৌড় দিয়ে আমার ই-বাইকে (ব্যাটারী চালিত স্কুটি) উঠে এসে বসে। ওর মা বাবা কেউ তখন ওকে নামাতে পারেনা। আমি অল্প একটু সময় ঘুরিয়ে তারপরে জেসিকাকে নামতে বলি। অনেক ভুলিয়ে ভালিয়ে তাকে রাজি করিয়ে তারপরে তার মা বাবার কাছে দিয়ে আসতে সমর্থ হয়। সপ্তাহে শুধু ছুটির দুইদিন ছাড়া জেসিকা বাকি সব দিনই অন্তুর সাথে খেলতে আমাদের বাসায় আসে, অন্তুও মাঝেমধ্যে ওদের বাসায় যায়। এছাড়া প্রতিদিন বিকেলে তারা বের হয় স্কুটি, সাইকেল, রোলার স্কেট নিয়ে খেলতে।

অন্তু এবং জেসিকা অন্যান্য বন্ধুদের সাথে নাচের প্রশিক্ষণ ক্লাসে

সম্প্রতি তারা একসাথে একটা নাচের স্কুলে ভর্তি হয়েছে। সপ্তাহে দুদিন ক্লাস থাকে তাদের। কোন কোন দিন আমি বা কোন কোন দিন জেসিকার মা দুজনকে নাচের ক্লাসে নিয়ে যান। সেখানে গিয়েও দুজনের দুষ্টামির শেষ নেই। অন্যান্য বন্ধুদের সাথে মিলে শুরু হয় বিভিন্ন ধরনের খেলা। এত বেশি খেলায় মেতে ওঠে তারা যে ক্লাসের বিরতির মাঝে শিক্ষক আবার তাদের ক্লাসে ঢুকাতে হিমশিম খেয়ে যান।

বার-বি-কিউ এর আগে অন্তুর ছিপ-বড়শি দিয়ে পাহাড়ি ঢলে মাছ ধরা

জেসিকার মা বাবা তাদের সমস্ত বন্ধু মহলে আমাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। আমরা ৭-৮ টা ফ্যামিলি এখন এতভাবে নিজেদের সাথে জড়িয়ে গেছি যে সপ্তাহের ছুটির দিন গুলোতে কোন না কোন বন্ধুর বাসায় অথবা রেস্তোরাতে অথবা নতুন কোন জায়গায় সবাই সমবেত হই। শুরু হয় আড্ডা আর নিজেদের দেশ, নিজেদের সংস্কৃতি, নিজেদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে একে অপরকে অবিহিতকরন পর্ব। প্রতিটা ছুটির দিনগুলোতে আমরা খুবই উপভোগ্য সময় পার করি।

অন্তু এবং জেসিকার পাহাড়ি ঢলে সাঁতারে যাওয়ার আগে

ঠিক তারই ধারাবাহিকতায় গেল সপ্তাহান্তে আমরা একত্রে হয়েছিলাম বন্ধু ঝাং এর বাসায়। ঝাং দম্পতি এতটায় বন্ধুপাগল সেটা বুঝেছিলাম প্রায় এক মাস আগে একটা বার-বি-কিউ পার্টিতে গিয়ে। সেই দিনই প্রথম ওনাদের সাথে আমাদের পরিচয়। সেদিন আমরা পাহাড়ি ঢল থেকে নেমে আসা ঝর্নার জলে স্নান সেরে পাহাড়ের পাদদেশেই সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে বার-বি-কিউ করেছিলাম।

বার-বি-কিউ এর আগে অন্তু জেসিকা পাহাড়ি ঢলে খেলা করা

এক অদ্ভুত ভালো লাগা অনুভূতি কাজ করেছিল আমাদের মাঝে। চারদিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সুউচ্চ পর্বত মালা আর পাহাড়ি ঢলের কল কল শব্দে মুখরিত বিকাল। ছিল ঢলে ছিপ-বড়শি দিয়ে মাছ ধরার পর্বও। সেদিন আমরা মাছ বার-বি-কিউ করেছিলাম। সাথে ছিল চাইনিজ স্যুপ নুডুলস। ফিস বল দিয়ে বানানো নুডুলস, বিভিন্ন রকমের ফল, কোমল পানীয় সহ নানান ধরনের বাদাম খেতে খেতে আর আড্ডা দিতে দিতে কখন যে সন্ধ্যা পার হয়ে রাত ৯ টা বেজে গিয়েছিল আমরা বুঝতেই পারিনি।

বার-বি-কিউ এর সময়ে আমি একটা বড় মাছ কেটে সেটাকে বার-বি-কিউ করি

এরপর ঝাং নিয়ে গিয়েছিল চা বানানোর সরঞ্জামাদি। চা এর উৎপত্তি স্থল চীনে হওয়ায় চীনাদের চা বানানো, পরিবেশন এবং পান করার ভিতরে যে কত রকমের সৃজনশীল পর্ব আছে সেটা আমরা ওই দিনই স্বচক্ষে দেখলাম। বার-বি-কিউ এর ধোঁয়া, নুডুলস রান্না, সাথে বড়শি দিয়ে মাছ ধরা, পাহাড়ি ঢলে স্নান, বাচ্চাদের কিচিমিচি, সবুজে ঘেরা মনোমুগ্ধকর প্রকৃতি সব মিলিয়ে ক্ষনিকের জন্য ফিরে গিয়েছিলাম সেই ছেলেবেলার গ্রাম্য চড়ুইভাতিতে যেখানে ছিল ছেলেবেলার বন্ধুদের সাথে মিলে অর্ধ সিদ্ধ খাবার খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলার অভ্যাস। 

বার-বি-কিউ এর মধ্যে বন্ধু ঝাং চা বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন

গেল সপ্তাহে ঝাং দম্পতির বাসায় গিয়ে দেখলাম  অনেক সুন্দর আর অত্যাধুনিক তিন বেড যুক্ত রুম, ড্রয়ং কাম ডাইনিং রুম সহ বড় ব্যালকনি যুক্ত ফ্লাটে আমাদের অন্তুর বয়সী (৫ বছর) একটা মেয়ে নিয়েই তাদের তিনজনের সুখের সংসার। জাং পেশায় একজন আই টি বিশেষজ্ঞ এবং মিসেস জাং আইনজীবী। সেদিন সবমিলিয়ে আমরা পাঁচ পরিবার একসাথে হয়েছিলাম জাং দম্পতির বাসায়। সর্ব প্রথমে আমরা এবং জেসিকার পরিবার একসাথেই ওদের বাসায় ঢুকে গল্প গুজব শুরু করলাম। বাসায় ঢুকতেই দেখলাম মিসেস জাং টেবিলে ফলের পশরা সাজিয়ে রেখেছেন। ফল খেতে খেতে সময় পার করতে করতে চলে আসলেন  ইজরা এবং ওয়াং দম্পতি।

ঝাং দম্পতি সহ আমরা সবাই একসাথে ডিনারের আগের মুহূর্তে

ইজরা দম্পতি পেশায় দুজনই ফুজো বিশ্ববিদ্যলয়ের শিক্ষক, ওয়াং দম্পতির একজন ডাক্তার এবং অন্যজন মিংজিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। ওয়াং দম্পতির দুই বাচ্চা সহ বাকি সবার একটা করে মোট ছয়টা বাচ্চা একসাথে অনেক মজা করেছিল সেদিন। অনেক ধরনের খেলা যেমন লুকোচুরি, কথা না বলে কে কতক্ষণ থাকতে পারা, ড্রয়িং, আলাদা টেবিলে খাওয়ার ব্যবস্থা সব কিছুতেই অনেক বেশি নতুনত্ব খুঁজে নিয়েছিল তারা। অন্য সবার মত অন্তু ও ওই আনন্দ ঘন পরিবেশ রেখে একেবারেই বাসায় আসতে চাইছিল না।

ঝাং এর বাসায় বাচ্চাদের সবার একসাথে ছবি আঁকা

এর ভিতর ঝাং রান্নাঘরে ঢুকে তড়িৎ গতিতে দুই চুলায় রান্না শুরু করলেন। সব মিলিয়ে ঘন্টা খানিকের ভিতর দেখলাম সব খাবার টেবিলে প্রস্তুত। আমরা একটু অবাক হলাম যে পুরুষ মানুষ কিভাবে এত দ্রুত এতসব খাবার রান্না করল। পরে গল্পে গল্পে ওনারা বলতে লাগলেন চাইনিজ পুরুষরা সমান তালে মহিলাদের রান্নার কাজে সাহায্য করেন। কিছু কিছু প্রদেশে নাকি সবসময় পুরুষরাই রান্না করেন। শুনে ভালোই লাগল, কারণ এদের মহিলারা পুরুষের কোন অংশে কম না। ঘরের কাজের চেয়ে বাইরের কাজে মহিলাদের বেশি অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় সেজন্য পুরুষরাই রান্নার কাজে বেশি সময় দেয়।

ডাইনিং টেবিলে রাখা বন্ধু ঝাং এর রান্না করা বিভিন্ন খাবারের মেন্যু

একটু পরেই বাসার গেটে কলিং বেলের শব্দ, দেখলাম রেস্তোরার লোক পুরো ব্যবস্থা সহ বড় একটা আস্ত মাছ রান্না করে নিয়ে এসেছে। পরে বুঝলাম আমার স্ত্রী মাংস এবং ডিম খায়না সেজন্য আগে থেকেই তারা রেস্তোরায় মাছের জন্য অর্ডার করে রেখেছিলেন। জিনিসটা জানার পরে সত্যি কেমন জানি একটু অন্যমনস্ক হয়ে গেলাম। ভাবতে লাগলাম বন্ধুত্বের পাল্লা কতটা ভারী হলে এমনটা হতে পারে। আমার স্ত্রী মাছ পছন্দ করে সেটা জেনে শুধু তার জন্য তারা মাছ অর্ডার করেছে বিষয়টা আমাকে একটু অবাকই করেছিল।

বিভিন্ন সময়ে ছিল বিভিন্ন রকমের ফ্রেশ ফলের সমাহার

এরপর সব খাবার ডাইনিং টেবিলে সাজানো হল। বাচ্চাদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে আলাদা একটা ডাইনিং টেবিল। তাদের জন্য আলাদা করে সব খাবার দেওয়া হয়েছে। আমরা খাওয়ার আগে সবাই মিলে একটা গ্রুপ ছবি উঠালাম। টেবিলে খাবারের মেন্যু রাখার জায়গা ধরছে না। চীনারা বরাবরই অনেক বেশি রকমের মেন্যু দিয়ে দুপুর এবং রাতের খাবার শেষ করে। কিন্তু সেদিন আমাদের মনে হচ্ছিল ওইদিনের মেন্যুগুলো বরাবরের চেয়ে একটু বেশিই ছিল। ঝাং সি ফুড থেকে শুরু করে, সবজি, মাংস, ডিম সব রকমেরই একের অধিক মেন্যু রান্না করেছেন। আমরা কোনটা রেখে কোনটা খাব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আমি প্রায় সব মেন্যুরই কম বেশি স্বাদ নিলাম। উনি চেষ্টা করেছেন আমাদের দেশের মত করে রান্না করতে তাই একটু বেশিই মসলা যোগ করেছেন সব কিছুতে আজ।

বাচ্চারা সবাই আলাদা টেবিলে একসাথে মিলে খেতে বসেছে

খাওয়ার টেবিলে বসে মি. ঝাং তার জীবনে উঠে আসার গল্প বললেন। উনি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন তখন কঠিন একটা রোগ ওনাকে অনেকটা কাবু করে ফেলেছিলেন। পরে অনেক কষ্টে সেটার থেকে পরিত্রান পেয়ে আজকের এ পর্যন্ত আসা। প্রায় ঘন্টা খানিকের ও বেশি সময় ধরে আমরা খেলাম এবং ঝাং এর গল্প শুনছিলাম। খেয়ে ওঠার আগেই মিসেস ঝাং আরেক পশরা ফলের সমাহার নিয়ে হাজির হলেন। এরপর আমরা অন্য একটা টেবিলের চারপাশে বসে আমার দেশ সম্পর্কে ওনাদের বলতে লাগলাম। ওনাদের সবাই কে আমাদের দেশে ঘুরতে যাওয়ার জন্য একটা পরিকল্পনা করতে বললাম। চাইনিজরা খুবই ভ্রমণ পিয়াসু হওয়ায় আমার প্রস্তাবে তারা রাজি হলেন এবং জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন আমাদের দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, দর্শনীয় স্থান, জন নিরাপত্তা, ভালো মানের হোটেলের নিশ্চয়তা সহ আরও অনেক বিষয়ে। আমি সব বিষয়ে ভালো সূচক উত্তর দিয়ে দেশকে তাদের সামনে যথাসম্ভব ভালো বলে উপস্থাপন করলাম।

গল্পের এক ফাঁকে আমার অনুরোধে ঝাং দম্পতি

ঝাং এর ভিতর ব্যস্ত হয়ে পড়লেন চা বানানোর কাজে। চা খেতে খেতে আলোচনা হল আমাদের দেশের কেমন চা পাওয়া যায় সেগুলো নিয়ে। আমি বললাম আমরা বাঙালিরা চা এর সাথে দুধ চিনি মিশিয়ে খেতেই বেশি পছন্দ করি তবে আপনি চাইলে এগুলো না মিশিয়েও খেতে পারবেন। ওনারা শুনে একটু অবাকই হলেন এবং বললেন চা এর সাথে দুধ-চিনি কিভাবে সম্ভব। পরে আমি বললাম ধরতে পারেন এটা অনেকটা কফির মত। 

ঝাং ব্যস্ত সময় পার করছেন রান্নাঘরে

পরে তাদের বুঝালাম যে আমাদের দেশের মানুষ খুবই ভোজন রসিক এবং মিষ্টি একটু বেশিই পছন্দ করি আমরা। সেজন্য কারো বাসায় গেলে সৌজন্যমূলক বড় বড় মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে গিয়ে হাজির হই। এখানে আমরা দেশীয় মিষ্টি খুব বেশি মিস করি সেটাও বললাম, সেজন্য মাঝেমধ্যে আমি বাসায় মিষ্টি বানিয়ে তার অভাব পূরন করি। এ বিষয় গুলো শুনে তারা খুবই মজা পেল এবং আমার কাছে আমাদের দেশী মিষ্টি খেতে চাইলেন। আমি পরের দিনই বাসায় যথাসম্ভব কম চিনি দেওয়া যায় সেভাবে কিছু মিষ্টি বানালাম। পরে জেসিকার মা কে দিয়ে সেগুলো ওনাদের কাছে পৌঁছে দিলাম। সবাই আমার বাসায় বানানোর মিষ্টির অনেক প্রশংসা করেছেন কিন্তু তাঁদের সবারই একটায় অভিযোগ It is too sweet’. 

আমার নিজ হাতে বানানো চীনা বন্ধুদের উদ্দেশ্যে আমাদের আঞ্চলিক মিষ্টি

সূর্যমুখী বীজ ভাজা, আঙুর, চেরি, বরই সাথে চাইনিজ ট্রাডিশনাল চা খেতে খেতে আর খোশ গপ্প করতে করতে কখন যে রাত দশটা বেজে গেল নিজেরা বুঝতে পারলাম না। এবার ফেরার পালা। এর মধ্যে ঝাং দম্পতি আমাদের নিমন্ত্রণের পর্ব সেরে ফেলেছেন। আগামী সপ্তাহের ছুটির দিনে তাদের গ্রামের বাড়ী সিয়ামেন (আমাদের এখান থেকে ২৫০ কি.মি. দূরে ফুজিয়ান প্রদেশের অন্য একটা শহর) ঘুরতে নিয়ে যাবেন। আমাদের সেখানে দুই রাত থাকতে হবে, সমুদ্র দেখতে নিয়ে যাবেন সাথে আরও অনেক বেশি বেশি পরিকল্পনা করে রেখেছেন তারা। আমরা জানিনা আমাদের ইন্টারন্যাশনাল কলেজ করোনার এই মুহূর্তে ছুটি দিবে কিনা। যদি দেয় তাহলে অবশ্যই যাব এটা বলে ওদের থেকে বিদায় নিয়ে নিচে নেমে দেখলাম গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি।

চীনা বন্ধুদের উদ্দেশ্যে আমার নিজ হাতে বানানো লেংচা

ঝাং দম্পতি আমাদের বিদায় দিতে নিচে এসেছেন। আমি আমার ই-বাইক টা নিয়ে রেইনকোর্ট ছাতা এসব বের করতে যাওয়ার মুহূর্তে ঝাং প্রাইভেট কার নিয়ে হাজির। তারা বললেন বৃষ্টির ভিতর বাচ্চা সহ আমরা তিনজন নাকি বাসায় ফিরতে পারবনা তাই উনি গাড়ী করে আমার স্ত্রী বাচ্চাকে বাসায় পৌঁছে দেবেন। আমাদের বাসা ওদের বাসা থেকে খুব বেশি দূরে নয়। সব মিলিয়ে ৪-৫ কি.মি. মত হবে হয়ত। আমরা এর চেয়েও অনেক বেশি বৃষ্টিতেও রেইন কোর্ট ছাতা সহ আমার ই-বাইকে ভ্রমণ করেছি। কিন্তু আজকে ওনাদের বুঝাতেই পারলাম না যে আমরা যেতে পারব। পরে উনি অন্তু এবং ওর মাকে বাসায় পৌঁছে দিলেন।

চীনা বন্ধুদের জন্য আমার নিজ হাতে বানানো গোলাপ জামুন

এমন বন্ধুত্বের প্রতিদান আমরা হয়ত জীবনে কখনো শোধ দিতে পারবনা। তাইতো মনে হয় বন্ধুত্ব হচ্ছে মানব সভ্যতার এক শ্রেষ্ঠ শক্তি এবং অর্জন, বন্ধুত্ব হচ্ছে হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয়ের বসবাস, অনুভূতি এবং আনন্দ, বন্ধুত্ব শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করে। জীবনে চলার পথে আমরা কেউ চিরস্থায়ী নই, একদিন আমরা দূরের বাসিন্দা হব এই চরম সত্যকে মনে ধরেই প্রতিটা পদক্ষেপে সামনে এগিয়ে চলা।

ঝাং এর বানানো চা খেতে আমরা ব্যস্ত সবাই

ডিনারের পরে চা খেতে খেতে আবার খোশগপ্প

সব শেষে ছিল জেসিকার মা এর পিয়ানোর সুর

দূর সীমানার বাইরে চলে গেলেও অন্তরে অটুট থেকে যাবে এসব বন্ধুদের আন্তরিক টান। এজন্য মনিষীদের মধ্যে অনেকেই যেমন এরিস্টটল বলেছেন, ‘প্রতিটি নতুন জিনিসকেই উৎকৃষ্ট মনে হয়। কিন্তু বন্ধুত্ব যতই পুরোনো হয়, ততই উৎকৃষ্ট ও দৃঢ় হয়।’ সত্যিই বন্ধুত্ব কখনো পুরানো হয়না তাই যতই দিন যাচ্ছে ততই বন্ধুত্বের বন্ধন দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হচ্ছে। এদের সংস্কৃতি, এদের জীবনযাপন, এদের প্রতিদিনকার চলাফেরা, সর্বোপরি এই সুন্দর মানুষ গুলোকে ফেলে আবারো নিজের কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে, সবকিছুকে আবার নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে। জীবনে চলার পথে হয়ত অনেক স্মৃতি চাপা পড়ে যাবে কিন্তু মনের মণিকোঠায় গেথে থাকবে এইসব বন্ধুদের বন্ধুত্বের অমলিন স্মৃতি। সবার শুভ কামনায়। 

 

লেখকঃ অজয় কান্তি মন্ডল
গবেষক
ফুজিয়ান এগ্রিকালচার এন্ড ফরেস্ট্রি ইউনিভার্সিটি
ফুজো, ফুজিয়ান, চীন।