জেলা ও দায়রা জজের একটি মানবিক আদেশ পাগলীর নবজাতক সন্তান পেল সংসার



আহসান উল্লাহ বাবলু  সাতক্ষীরা  জেলা প্রতিনিধিঃ মানুষিক ভারসাম্যহীন এক নারী। কিছুদিন আগেও ঘুরে বেড়াতো পথে পথে। থাকতো খেয়ে না খেয়ে। মাঁথা গোজার ঠাঁইটুকুও ছিল না তার। কিন্তু কোন এক নর-পশুর লালসার শিকার হন তিনি। হয়ে পড়েন অন্ত:সত্বা। জন্ম দেন ফুটফুটে একটি কন্যা সন্তানের। পাগলী মাধুরী এবং তার নবজাতক কন্যা সন্তানের দায়িত্ব নিতে চায়নি কেউ। অবশেষে সংবাদ কর্মীরা পত্রিকার পাতায় তুলে ধরলেন মাধুরী ও তার নবজাতক মেয়ের অসহায়াত্বের কথা।


নবজাতকের দায়িত্ব নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কালিগঞ্জের কাছে আবেদন জানালেন তৃতীয় লিঙ্গের একজন নারী। শিশু কন্যা সন্তানটি দত্তকসহ ভারসাম্যহীন নারীর দায়িত্ব নিতে আরও আবেদন জানালেন শ্যামনগর উপজেলার বড়কুপট গ্রামের


মুক্তিযোদ্ধা জিএম হুমায়ুন কবীরের ছেলে ঔষধ কোম্পানীর এরিয়া ম্যানেজার জিএম মাসুম কবীর ও তার স্ত্রী স্কুল শিক্ষক  হোসনেআরা খাতুন। উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়, কালীগঞ্জ মাধুরী ও তার মেয়েকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রেখে দেখভাল করতে থাকেন এবং দত্তক সংক্রন্ত আবেদন দুটির বিষয় নিষ্পত্তির জন্য শিশু কল্যাণ বোর্ড, কালীগঞ্জের রেজুলেশনের কপিসহ পৃথক একটি আবেদন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান এর নিকট প্রেরণ করেন। বিচারক শিশু কল্যাণ বোর্ড, কালীগঞ্জের রেজুলেশনের কপিসহ দত্তক সংক্রান্ত আবেদন দুটি পর্যালোচনা করে গত সোমবার এক মানবিক আদেশ দেন। আদেশে তিনি বাস্তব অবস্থা এবং প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে মানুষিক ভারসাম্যহীন নারী মাধুরী, পিতা-শ্যামাপদ, গ্রাম-বংশীপুর, উপজেলা-শ্যামনগর এর শিশু কন্যাকে শ্যামনগর উপজেলার বড়কুপট গ্রামের জি এম হুমায়ুন কবীরের ছেলে  জি এম মাসুম কবীর ও তার স্ত্রী  হোসনেআরা খাতুন দম্পত্তির বরাবর দত্তক হিসাবে হস্তান্তর করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সদস্য সচিব উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ড, কালীগঞ্জ, সাতক্ষীরাকে নির্দেশ দেন। এছাড়া মানুষিক ভারসাম্যহীন মাধুরীকে সেভহোম, দশআনি, বাঁগেরহাট বরাবর প্রেরণের জন্য উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা, কালীগঞ্জকে নির্দেশ দেন।


সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমানের অতি মানবিক ওই নির্দেশটি প্রাপ্ত হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সদস্য সচিব উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ড, কালীগঞ্জ এবং সমাজ সেবা অফিসার, কালিগঞ্জ যৌথভাবে গতকাল দুপুরে পাগলী মাধুরীকে আগে সেভহোম, বাগেরহাটে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এবং পরে মাধুরীর ফুটফুটে কন্যা সন্তানটিকে ওই শিক্ষক দম্পত্তির হাতে তুলে দেন।


এ ব্যাপারে কালিগঞ্জের সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল-মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দত্তক নেওয়া ওই শিক্ষক দম্পত্তি শিশু সন্তানটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তার নামে প্রতিমাসে দুই হাজার টাকা করে এফ. ডি আর এবং দুই বিঘা জমি লিখে দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।


অপরদিকে দত্তক নেওয়া শিক্ষক দম্পত্তি জানান, তাদের বিবাহীত জীবন ১৪/১৫ বছর হলেও কোন সন্তান হয়নি। তারা শিশুটিকে আদালতের আদেশে পেয়ে বেজায় খুশি। ওই দম্পত্তি তাদের সন্তানটির জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।


সংবাদটি শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী সংবাদ
পরবর্তী সংবাদ