জেলে বাওয়ালীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দস্যু দমনে সাফল্যের ফলে সুন্দরবনে শান্তি ফিরে আসে জেলেদের মাঝে। তবে বিগত ১ বছরে আবারও বনদস্যু বাহিনী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা জেলেদেরকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের পাশাপাশি নানা নির্যাতন শুরু করেছে। সম্প্রতি মধু আহরন মৌসুম শুরু হলে সব বাহিনী গুলো সক্রিয় হয়ে উঠে। তারা মৌয়ালদের নিকট অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার জন্য নানা হুমকি ধামকি অব্যাহত রেখেছে। দস্যু চক্র নতুন করে সংগঠিত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় মৌয়াল ও জেলেদের ট্রলারে হামলা এবং অপহরণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আবার দুই এক বাহিনী বেপরোয়া অত্যাচার করলেও নাম বদলে নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে।
বিশেষ একটি সুত্রে জানা গেছে গত ৭ এপ্রিল সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় আতিয়ার রহমান নামের এক কাঁকড়া জেলে কলাগাছিয়া এলাকায় গুলিবৃদ্ধ হন। মজনু আলিফ বাহিনী এই তান্ডব লিলা চালায়। তবে বিভিন্নভাবে প্রচারনা চালানো হয়েছে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী তার উপর গুলি চালায়। আলিফ বাহিনীর এই ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর উপর চালানো হচ্ছে। এর রহস্য কারন জানতে পারছেনা ভুক্তভোগীরা। মজনু বাহিনী ঐ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। অনেক জেলেরা জানায়, ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী জেলেদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ক্ষান্ত থাকেন অন্য বাহিনীর মতো নির্যাতন চালায় না। জানা গেছে গত বছরের তুলনায় এ বছর অনেক কম মৌয়ালরা মধু আহরন করতে গেছে সুন্দরবনে। তবে বনদস্যুদের সাথে অর্থের বিনিময়ে সমজতা করতে পারলে অনেকেই গহীন বনে যাবে তারা মধু আহরন করতে ।
মৌয়ালরা জানান, মধু সংগ্রহের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা বনের ভেতরে যেতে পারছেন না। অন্যদিকে, জেলেরা বলছেন, দস্যুদের চাঁদা না দিলে বনের খালে মাছ ধরা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঝিদেরও পোহাতে হচ্ছে একই দুর্ভোগ। অনেক মৌয়ালরা বলেন, প্রতি নৌকায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। যা কোন মৌয়ালদের পক্ষে সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সজাগ রয়েছে। দস্যু দমনে বন রক্ষীদের পাশাপাশি কোস্ট গার্ড ও নৌ-পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। বনজীবীদের আশ্বস্ত করে প্রশাসন বলছে, বনের ভেতর জানমালের নিরাপত্তা দিতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে সাধারণ বনজীবীদের দাবি টহল কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি গহীন বনে দস্যুদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হোক। অন্যথায় বনের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার পরিবার অনাহারে দিন কাটাবে। এতে করে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে।

