কপোতাক্ষ নিউজে খালি থাকা সাপেক্ষে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। অতিস্বত্তর সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করুন।

news

news
আত্রাইয়ে ইটভাটা গিলে খাচ্ছে ফসলি জমি

মোঃ ফিরোজ আহমেদ 
রাজশাহী ব্যুরো



নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে ভাটায় নিয়ে ইট তৈরি করা হচ্ছে। ফলে আবাদি জমির পুষ্টি উপাদান কমে কৃষিপণ্যের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।


উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ৪ হাজার ৩৬০ হেক্টর তিন ফসলি আবাদি জমি রয়েছে। এসব জমিতে ধান, পাট, পেঁয়াজ, গম, ভুট্টা, সরিষা, মরিচ, বেগুনসহ বিভিন্ন জাতের কৃষিপণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে সরকারি নিয়ম অমান্য করে এসব আবাদি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে ইট তৈরি করছেন ভাটার মালিকেরা।


ফসল উৎপাদনের জন্য শতকরা ৫ ভাগ যে জৈব উপাদান থাকা দরকার, তা সাধারণত মাটির ওপর থেকে ৮ ইঞ্চি গভীর পর্যন্ত থাকে। কিন্তু ইটভাটার মালিকেরা মাটির উপরিভাগের এক থেকে দেড় ফুট পর্যন্ত কেটে নিচ্ছেন। এতে কেঁচোসহ উপকারী পোকামাকড় নষ্ট হচ্ছে।


আত্রাই উপজেলায় ১৮টি ইটভাটা রয়েছে। বর্তমানে সচল রয়েছে ১১ টি ইটভাটা এর মধ্যে ৬ টি বৈধ এবং ৫ টি অবৈধ 

সম্প্রতি অনুমোতি না থাকায় পরিবেশ অধিদফতর ৭টি ভাটা গুঁড়িয়ে দিলেও পুনরায় চালু করা হয়েছে বেশ কয়েকটি। সরকারি বিধি মোতাবেক সর্বোচ্চ সাড়ে চার বিঘা অকৃষি জমিতে এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন কিলোমিটারে মধ্যে  একটি ইটভাটা নির্মাণের নিয়ম থাকলেও তা অনেক ক্ষেত্রে মানা হয়নি। এ ছাড়া বেশির ভাগ ইটভাটা তৈরি করা হয়েছে জনবসতিপূর্ণ এলাকায়। বেশিরভাগ ইটভটায় কয়লা সহ হাজার হাজার মণ কাঠ পুড়ানো হচ্ছে। 

ইটভাটার জন্য মাটি কাটা হয়েছেইটভাটা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ভাটায় বছরে ৫০-৫৫ লাখ ইট তৈরি হয়। প্রতি হাজার ইট তৈরি করতে প্রায় ৮৮ ঘনফুট মাটি প্রয়োজন। সেই হিসাবে একটি ইটভাটায় বছরে প্রায় পাঁচ লাখ ঘনফুট মাটি দরকার হচ্ছে। মালিকেরা এক হাজার ঘনফুট মাটি মাত্র ৫০০-৭০০ টাকায় কৃষকের জমি থেকে কেনেন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাক্টর করে মাটি পরিবহন করা হয়। এতে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। আর যানজট লেগেই থাকে। মাটি পরিবহনে মানা হয়না নিয়ম কানুন। পাকা রাস্তায় মাটি পড়ে তা পথচারীদের বিড়ম্বনার সৃষ্টি করছে।


এলাকার অনেকে জানান, কৃষকেরা জমির উর্বরাশক্তির ক্ষতির দিক চিন্তা না করে সাময়িক লাভের আশায় অবাধে এসব মাটি বিক্রি করছেন।


কচুয়া গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল  হোসেন বলেন, 'টাকার লোভে জমির মাটি বিক্রি করি। কিন্তু মাটিকাটা জমিতে ফসলের এত বড় ক্ষতি হয়, তা আমরা জানি না।'


একাধিক ইটভাটার মালিক বলেন, 'ইটভাটা তৈরি করতে কিছুটা অনিয়ম করা হয়। এ ছাড়া জমি ও মাটি পাওয়া যায় না। তাই জমির মালিকদের কাছ থেকে আমরা মাটি ক্রয় করে থাকি।'তবে পুকুর খনন এবং সংস্কারের নামে বিক্রি হচ্ছে মাটি।


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, 'কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়ায় পুষ্টি উপাদান কমে গিয়ে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে কৃষি বিভাগ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।'


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো.আলাউল ইসলাম জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা প্রদান করা হবে। এছাড়াও এ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অবৈধ ইটভাটা কি ভাবে চলছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন,আমি অবৈধ ইটভাটা সম্পর্কে কিছু জানিনা।

News

News
ডিসির পুনর্বহাল আদেশ উপেক্ষা: কার্যালয়ে ঢুকতেই বাধা পেলেন ইউপি চেয়ারম্যান তোফা


মোঃ ফিরোজ আহম্মেদ 
রাজশাহী ব্যুরো



নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খাঁন তোফা জেলা প্রশাসকের লিখিত আদেশ পাওয়ার পরও দায়িত্ব নিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন। এ ঘটনায় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খাঁন তোফা। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি দায়িত্ব ফিরে পান। গত ২২ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বে বহাল করা হয়।

পুনর্বহালের আদেশ হাতে পেয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি বিশা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যোগদান করতে যান। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আহসানগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম মঞ্জুরুল আলম, মনিয়ারী ইউপি চেয়ারম্যান সম্রাট হোসেন এবং ভোঁপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন।

তবে কার্যালয়ে প্রবেশের আগেই একদল ব্যক্তি লাঠিসোটা নিয়ে তার পথরোধ করে এবং নানা ধরনের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কায় চেয়ারম্যান তোফা সেদিন আর কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি এবং ফিরে যেতে বাধ্য হন।

এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. আলাউল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মোঃ ফিরোজ আহমেদ 
০১৭১০৯৬৭৫২২

রাসিক প্রশাসক : আলোচনায় সাবেক মেয়র বুলবুল

রাসিক প্রশাসক : আলোচনায় সাবেক মেয়র বুলবুল


নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে প্রশাসক হিসেবে দেখতে চান নগরবাসীর। তাঁদের দাবি, অতীত অভিজ্ঞতা ও নগর উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হলে চলমান ও অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো নতুন গতি পাবে।

​দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে বুলবুল প্রথমবার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেন। সে সময় তিনি রাজশাহী মহানগর যুবদলের সভাপতি ছিলেন। দলীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধ ও সাধারণ মানুষের সমর্থনে তিনি প্রার্থী হলেও তৎকালীন প্রতিকূল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জয়ী হতে পারেননি। সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম সারির অনেক নেতা কারাবন্দি থাকায় এবং নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ফলাফল অনুকূলে আসেনি। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি নগরবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ অটুট রেখেছিলেন।

​পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে ‘আনারস’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেন মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি আধুনিক রাজশাহীর রূপকার হিসেবে পরিচিত সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।তাঁর মেয়াদকালে নগর অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসন ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে তাঁর গৃহীত পরিকল্পনাগুলো সে সময় নগর ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এনেছিল বলে মনে করেন অনেক নাগরিক।

​বুলবুলের সমর্থকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তিনি পূর্ণ মেয়াদ দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাননি। তাঁর বিরুদ্ধে সে সময় অর্ধশতাধিক মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৫ সালের ২ মার্চ তাঁর বাসভবনে পুলিশের অভিযান এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।​বুলবুলকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের দাবি জানিয়ে রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও রাজপাড়া থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি শাহানুর ইসলাম মিঠু বলেন, ​“বুলবুল ভাই একজন পরীক্ষিত নেতা। দলের দুঃসময়ে তিনি সবসময় পাশে ছিলেন। তিনি মেয়র থাকাকালে রাজশাহীতে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। যোগ্য ও অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে আমরা তাঁকেই প্রশাসক হিসেবে চাই। তাঁর ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে।”

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, “আমি জনগণের রাজনীতি করি এবং নিজেকে জনগণের সেবক মনে করি। আমাদের নেতা তারেক রহমান যদি মনে করেন আমি যোগ্য, তবে তিনি যে দায়িত্ব দেবেন তা পালন করতে আমি সদা প্রস্তুত।”রাজনীতি বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, রাজশাহীর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখ হিসেবে বুলবুলকে দায়িত্ব দেওয়া হলে নগরীর উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের আগামীর নেতৃত্ব। নগরবাসী এখন সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।

স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ঢালাই কাজের উদ্বোধন করলেন জামায়াত মনোনীত এমপি ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ

স্থানীয়  নেতৃবৃন্দকে  সাথে নিয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ঢালাই কাজের উদ্বোধন করলেন জামায়াত মনোনীত এমপি ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ

ছুটিপুর প্রতিনিধিঃ যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ দুটি ইউনিয়নের সেতুর ছাদ ঢালাইয়ের উদ্বোধন করেছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকালে তিনি দুটি সেতুর ঢালায় কাজের উদ্বোধন করেন। প্রকল্প দুটি হল, উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের ছুটিপুর খালের ওপর নির্মাণাধীন সাড়ে নয় মিটার দৈর্ঘের সেতু, আরেকটি শিমুলিয়া ইউনিয়নের জামতলা মোড় থেকে বোধখানা সড়কে নির্মাণাধীন সাড়ে নয় মিটার দৈর্ঘের সেতু। ছুটিপুর সেতুর ছাদ ঢালাই কাজের উদ্বোধনের সময় স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাজেদ সাথে ছিলেন। 
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা: রনী খাতুন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: জালাল আহমেদ, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক হারুন অর রশিদসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। দুটি প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৩৫ লাখ ৬১ হাজার ৩১০ টাকা করে ধরা হয়েছে। উদ্বোধনকালে এমপি ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ গণমাধ্যমকে বলেন, জনগণকে সাথে নিয়ে সকল উন্নয়ন কাজ করতে চান।
তিনি আরও বলেন, কপোতাক্ষ এবং বেতনা নদের সংযোগ করা প্রয়োজন। ছুটিপুর-যশোর ব্রীজটি পুন:নির্মানের ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকার যে খাল খননের ওপর যে গুরুত্ব দিয়েছে তা সময়োপযী বলে মন্তব্য করলেন এমপি। স্থানীয় সুশীল সমাজকে নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প তদারকি কমিটি করার চিন্তা রয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রকল্প বাস্তবায়নে কোন রকম দুর্নীতি অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে বলেও হুশিয়ারি দেন এমপি। 

ইউএনও মহোদয়ের সাথে আলাপ চারিতায় এমপি মহোদয় 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা: রনী খাতুন বলেন, সরকার আমাদের নিদের্শনা দিয়েছে বদ্ধ এবং পুন:খননযোগ্য খালের তালিকা করতে। ঝিকরগাছা উপজেলায় এই তালিকার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সেগুলো খননের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, ঝিকরগাছা উপজেলায় এরকম পাঁচটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতা দুর হবে। আবার জনগনের চলাচলে সুবিধা হবে। প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।  তত্ত্বাবধানে রয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস।  এলাকার উন্নয়নকাজ তদারকি করায় স্থানীয় জনগন এমপি মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

​রাসিকের প্রশাসক হিসেবে রিটনকে ঘিরে বাড়ছে প্রত্যাশা: আলোচনায় নগরীর উন্নয়ন ও সুশাসন

​রাসিকের প্রশাসক হিসেবে রিটনকে ঘিরে বাড়ছে প্রত্যাশা: আলোচনায় নগরীর উন্নয়ন ও সুশাসন


নিজস্ব প্রতিবেদক :রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আস্থা, সাহস ও আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে আলোচিত নাম মাহফুজুর রহমান রিটন। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে মহানগর ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি ধাপে ধাপে গড়ে তুলেছেন শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি ও প্রভাবশালী অবস্থান। দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ এবং মাঠকেন্দ্রিক সক্রিয়তার কারণে রাজশাহীর রাজনীতিতে তিনি এখন এক সুপরিচিত ও আলোচিত মুখ।

রাজশাহী সিটি কলেজ ছাত্রদল থেকে তাঁর রাজনৈতিক পথচলার সূচনা। ছাত্রজীবনেই তিনি রাজশাহী সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে কলেজ ছাত্রদলের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সংগঠনকে সক্রিয় ও সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া, কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে দৃঢ় অবস্থানের কারণে তিনি দ্রুতই নেতাকর্মীদের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।এরপর ধারাবাহিক সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং পরে সভাপতি নির্বাচিত হন। মহানগর পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে তৃণমূলভিত্তিক কমিটি গঠন, সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করে তিনি জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতেও সম্পৃক্ত হন, যা তাঁর নেতৃত্বের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করে।

ছাত্ররাজনীতি থেকে যুবরাজনীতিতে উত্তরণের পর তিনি রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিটি পর্যায়ে সংগঠন পুনর্গঠন, নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি এবং কর্মীদের মধ্যে ঐক্য জোরদারে তিনি ভূমিকা রাখেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। পরবর্তীতে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন, যা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করে।বর্তমানে তিনি রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশ, দমন-পীড়ন ও বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেও মাঠে সক্রিয় থেকে দলীয় কার্যক্রম সচল রাখার কারণে তিনি নেতাকর্মীদের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা ও মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা তাঁকে রাজশাহীর রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী মুখে পরিণত করেছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)-এর প্রশাসক হিসেবে তাঁকে দেখার প্রত্যাশা। নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের একটি অংশ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। সমর্থকদের দাবি, নগর রাজনীতির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে প্রশাসনিক দায়িত্বে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।তাদের মতে, নগরীর অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্ব ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের বাস্তব সমস্যা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি বাস্তবভিত্তিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হবেন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন সমর্থকরা।

যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর নাম সম্ভাব্য প্রশাসক হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। ছাত্রদল থেকে যুবদল হয়ে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক—এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় সংগ্রাম, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের সমন্বয়ে মাহফুজুর রহমান রিটন এখন রাজশাহীর রাজনীতিতে একটি প্রত্যাশিত ও আলোচিত নাম। আগামীর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর ভূমিকা কতটা বিস্তৃত হবে, তা সময়ই বলে দেবে; তবে নগর রাজনীতিতে তাঁর উপস্থিতি যে ক্রমশ গুরুত্ব পাচ্ছে, তা স্পষ্ট।যোগাযোগ করা হলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)-এর প্রশাসক হিসেবে তাঁর নাম ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে জোর আলোচনা চলছে, সে বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।

মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন,“আমি সবসময় রাজনীতি করেছি জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে। ব্যক্তিগত পদ-পদবী কখনো আমার লক্ষ্য ছিল না। তবে দল এবং জনগণ যদি মনে করে আমি কোনো দায়িত্ব পালনে উপযুক্ত, তাহলে সেই দায়িত্ব সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে পালন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।”তিনি আরও বলেন,“রাজশাহী আমার প্রাণের শহর। এই নগরীর উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি। প্রশাসনিক দায়িত্ব পেলে সবার আগে নাগরিক ভোগান্তি কমানো, পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গতি আনা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার দিকেই গুরুত্ব দেবো।”

রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ পথচলার প্রসঙ্গ টেনে রিটন বলেন, “ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমি মাঠে থেকেছি। প্রতিকূল সময়েও নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছি। দমন-পীড়ন, মামলা-হামলা—সবকিছুর মধ্যেও সংগঠনকে সচল রাখার চেষ্টা করেছি। রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার বিষয় নয়, দায়িত্বের বিষয়।”তিনি আরো বলেন, নগরবাসীর প্রত্যাশা এখন কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন। “রাজশাহীর মানুষ উন্নয়ন চায়, সেবা চায়, স্বচ্ছতা চায়। আমি বিশ্বাস করি—সমন্বিত পরিকল্পনা, সঠিক তদারকি এবং দল-মত নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে নগর পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।”সমর্থকদের পক্ষ থেকে তাঁকে রাসিকের প্রশাসক হিসেবে চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন,“আমি কৃতজ্ঞ যে অনেকেই আমার ওপর আস্থা রাখছেন। তবে যে কোনো সিদ্ধান্ত দলের এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। আমি দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল।”

ইন্দুরকানীতে গভীর রাতে হিন্দু বাড়িতে আগুন দিয়ে হামলা-লুটপাট করেছে দূর্বৃত্তরা

 ইন্দুরকানীতে গভীর রাতে হিন্দু বাড়িতে  আগুন দিয়ে  হামলা-লুটপাট করেছে দূর্বৃত্তরা


মিঠুন রাজ, স্টাফ রিপোর্টার: পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নে গভীর রাতে এক হিন্দু বাড়িতে অগুন দিয়ে হামলা ও লুটপাট করেছে একদল দূর্বৃত্ত।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে পাড়েরহাট ইউনিয়নের উত্তর বাড়ইখালী গ্রামে এক বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রনজিত দাস নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা রনজিত দাসের বসতঘরে আগুন দেয়। এ সময় তারা ঘরে থাকা মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে রনজিত দাসকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ ‘আগুন আগুন’ বলে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে আহত রনজিত দাসকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এ বিষয়ে ইন্দুরকানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার জানান, ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আত্রাইয়ে এমপি রেজাউল ইসলামের সঙ্গে বিএনপির দপ্তর প্রধানদের মতবিনিময়,ফুলেল শুভেচ্ছায় সংবর্ধনা

আত্রাইয়ে এমপি রেজাউল ইসলামের সঙ্গে বিএনপির দপ্তর প্রধানদের মতবিনিময়,ফুলেল শুভেচ্ছায় সংবর্ধনা

মোঃ ফিরোজ আহমেদ রাজশাহী ব্যুরোঃন ওগাঁর আত্রাইয়ে বিএনপির সকল দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ মোঃ রেজাউল ইসলাম।

মতবিনিময় সভা উপলক্ষে এমপি রেজাউল ইসলামকে একটি বিশাল র‌্যালির মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। পরে দলীয় নেতাকর্মীরা ফুলের মালা দিয়ে তাকে বরণ করে নেন। এ সময় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানস্থল উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়। সভায় এমপি রেজাউল ইসলাম দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করার আহ্বান জানান এবং তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।