তানভীর আহমেদ, মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মেহেরপুর বামন পাড়ার লুৎফর রহমান করোনা পজেটিভ হয়ে গত বৃহস্পতিবার সকালে ভর্তি আছেন করোনা ইউনিটের আইসোলেসন বিভাগে। বাহিরে অপেক্ষা করছেন তারই স্বজন গোলাম মর্তুজা। একটু আগে বিদ্যুৎ চলে গেছে। হাত পাখা নিয়ে ছুটছেন।
তিনি বলেন, করোনা ইউনিটে নিজস্ব কোনো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেই। রোগীরা ছটফট করছেন। কখন বিদ্যুৎ আসবে তাও জানা নেই। করোনা রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত বাতাস প্রয়োজন। বিদ্যুৎ না থাকায় বাতাসের অভাবে রোগীদের কষ্ট বেড়ে যাচ্ছে। তাদের দাবী, দ্রুত জেনারেটর স্থাপন করার। তাছাড়া করোনা রোগীদের জন্য সব ধরনের সুযোগ সুবিধা আছে তা সবই পাওয়া যাচ্ছে। সরকারিভাবে যা দেবার তা দিচ্ছেন।
করোনা পজেটিভ হয়ে ১৫ দিন যাবত ভর্তি আছেন সাজেদা খাতুন। তার স্বজন রাজু আহাম্মেদ জানান, চিকিৎসক এবং আয়া নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রম করে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে জনবলের সংকট রয়েছে। জনবল বৃদ্ধি করা হলে চিকিৎসার গুণগতমান আরো বৃদ্ধি পাবে।
গাংনীর রুস্তম আলী জানান, তিন দিন আগে তার বড় ভাবিকে করোনা ইউনিটে ভর্তি করেছেন। চিকিৎসকদের আন্তরিকতার ঘাটতি নেই। তবে রোগীর স্বজনদের বাহিরে চলাচলের ওপর নজরদারি বা করোনা ইউনিটে প্রবেশের বিষয়ে কড়াকড়ি দেয়া দরকার।
করোনা পজেটিভ রোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান ভর্তি আছেন চার দিন যাবৎ। তিনি বলেন চিকিৎসকদের আন্তরিকতার ঘাটতি নেই। ঘাটতি রয়েছে জনবলের। জনবল সংকট বৃদ্ধির দাবী জানান তিনি।
এছাড়াও রাজনগর গ্রামের মিঠন আলী যক্ষা রোগ নিয়ে সোমবার সকালে ভর্তি হয়েছেন। জায়গা না পেয়ে ঠাই হয়েছে স্টাফ কোয়ার্টারের সিড়ির নিচে।জানতে চাইলে হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) মকলেছুর রহমান জানান, করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় মহিলা ওয়ার্ডের একাংশ করোনা ইউনিট করা হয়েছে। তাই সাধারণ রোগীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে পার্শ্ববর্তি বিল্ডিংএ শিফট করা হয়েছে।
হাসপাতাল সুত্রে জানাগেছে, ২০১৩ সালে ১০০শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নতি করা হলেও জনবল ও যন্ত্রপাতির সরবরাহ আজ পর্যন্ত হয়নি।তবে ১০ তলা বিল্ডিংএর কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও ২০০২ সালে নাতাশা করপোরেশন ও সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোর ডিপার্টমেন্ট (সিএমএসডি) কতৃক সরবারহকৃত প্রায় অর্ধকোটি টাকার জেনারেটরটি অপারেটর ও জ্বালানির অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। পরবর্তিতে কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ কক্ষে আইপিএস সংযোগ করা হয়েছে। যা দিয়ে এখনো চলছে। তবে বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীদের ওয়ার্ডে মোমবাতি না হয় চার্জার লাইটই সম্বল।
এ দিকে মেহেরপুরে দিন দিন করোনা রোগীর চাপ বাড়ায় জায়গা সংকটে ভুগছে জেনারেল হাসপাতাল। এছাড়াও আবহাওয়া জনিত কারনে অনেক রোগীই আসছে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে। জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ৫০ শয্যার করোনা ইউনিটকে ইতোমধ্যে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়াও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে সম্প্রতি ১০২ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার, ১২ টি হাই ফ্লো-নেজাল ক্যানুলা, ১১ টি অক্সিজেন কনসেনট্রেইটর, ২ টা ভেল্টিলেটর, ২ টা আইসিইউ যুক্ত হয়েছে জেনারেল হাসপাতালে।
নাম না প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক দায়িত্বরত কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালে ৪২ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও রয়েছে মাত্র ২৪ জন ডাক্তার। ১৮৪ জন নার্স নিয়োগ থাকার কথা থাকলেও আছে ১৫০ জন নার্স। আয়া এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসেবে ৪৩ জনের থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ১৬ জন।
হাসপাতাপলের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার রফিকুল ইসলাম বলেন, করোনা রোগীদের বিষয়ে কারো কোনো অভিযোগ নেই। করোনা ইউনিটে নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য গণপূর্ত (পিডব্লিউডি) এর কাছে জেনারেটরের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে। শিঘ্রই আমরা জেনারেটর পেয়ে যাব। তাহলে করোনা ইউনিটে সমস্যা থাকবেনা।