সিরাজগঞ্জের রতনকান্দিতে স,মিল পুড়িয়ে দিয়ে ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদ করার পায়তারা


সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের একডালা পীরের মোড়ে অবস্থিত মায়ের দোয়া স,মিলের শিল্প বিদ্যুৎ লাইন  ৩শত টাকার জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত দিয়ে বিক্রি করার পরও ক্রেতাকে নানা ভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সুত্রে ও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের একডালা গ্রামের মোঃ আশাদুল ইসলামের পুত্র মেসার্স মায়ের দোয়া স,মিলের স্বত্বাধিকারী সোহাগ রানা গত ০১ অক্টোবর ২০২১ইং তারিখে জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প যাহার নং খঘ ৭৭৭৮৭১৭,৭৭৭৮৭১৮,৭৭৭৮৭১৯ মূল্য ১০০/-টাকা করে তিনটিতে লিখিত ভাবে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পিপুলবাড়ীয়া গ্রামের মৃত এছার আলীর পুত্র মোঃ অবির উদ্দিন এর নিকট মেসার্স মায়ের দোয়া স,মিলের শিল্প বিদ্যুৎ লাইন  ২০,০০০/-টাকা মূল্য বিক্রি করেন।লিখিত থাকে যে,মায়ের দোয়া স,মিলের বিদ্যুৎ লাইন এখন হতে,অবির উদ্দিন এর নামে নামকরণ ও বিক্রি করিতে পারিবে। তাহাতে সোহাগ রানা ও তার ওয়ারিশরা দাবি দাওয়া করিতে পারিবেনা করিলেও তাহা আইনত অগ্রাহ্য বলিয়া গণ্য হবে।

জানা যায়, মায়ের দোয়া স,মিলের বিদ্যুৎ লাইন কিনে নেওয়ার পর একডালা পীরের মোড়ে অবস্থিত মায়ের দোয়া স,মিলের বিদ্যুৎ লাইনে  অবির উদ্দিন স,মিল প্রতিষ্ঠিত করেন এবং তার স,মিল পরিচালনা করে আসছিলেন। এরই এক পর্যায়ে, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সোহাগ রানা'র সাথে কথা কাটাকাটি হলে সোহাগ রানা  গোপনে সিরাজগঞ্জ পল্লী  বিদ্যুৎ সমিতিতে মৌখিক ভাবে অবির উদ্দিন স,মিল মায়ের দোয়া স,মিলের বিদ্যুৎ লাইনে চুরি করে বিদ্যুৎ লাইন নিয়েছে বলে অভিযোগ করে। তখন বিদ্যুৎ অফিস লাইন কাটতে আসলে এলাকার মুরুব্বিগণ সেটা মিমাংসার শর্তে সাময়িক কাটতে নিষেধ করেন। 

পরবর্তীতে গত ০৩ মার্চ ২০২৩ইং তারিখে একডালা গ্রামের মুরুব্বি নজরুল ইসলাম পীরের সভাপতিত্বে এলাকার মুরুব্বিগণ একটি শালিসি বৈঠক করে। শালিসি বৈঠকে দুপক্ষের সম্মতিতে জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ১০০/-টাকার মূল্য যাহার নং খঢ ৫০৯৭২৫০  এ লিখিত ভাবে আপোষ মিমাংসা করেদেন।মিমাংসায় মায়ের দোয়া স,মিলের বিদ্যুৎ লাইন ও মিটার দিয়েই অবির উদ্দিন স,মিল চলবে। অবির উদ্দিন স, মিল প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল বাবদ ৮০০০/-টাকা করে মায়ের দোয়া স মিল কে প্রদান করবে। বিদ্যুৎ থাকা অবস্থায় মেসার্স মায়ের দোয়া স,মিল বন্ধ থাকিলেও মেসার্স অবির উদ্দিন স মিলের মালিক তার ইচ্ছে অনুযায়ী চালাতে পারবেন। সেই অনুযায়ী অবির উদ্দিন স মিল চালাচ্ছে ও সোহাগ রানা কে বিদ্যুৎ বিল দিয়ে আসছে। কিন্তু আবারও সোহাগ রানা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বিদ্যুৎ লাইনটি কাটার ব্যাপারে অভিযোগ দেয়। অভিযোগের ভিত্তিতে অবির উদ্দিন স মিলের বিদ্যুৎ লাইনটি কেটে দেয় পল্লী বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ লাইনটি কেটে দেওয়ার পর অবির উদ্দিন স মিলের মালিক ডিজেল চালিত স্যালো মেশিন দিয়ে স,মিলটি পরিচালনা করে আসছেন। অবির উদ্দিন স মিলের মালিক অবির উদ্দিন গত ০৮ মে ২০২৩ইং তারিখে বিকেল ৩টার দিকে মিল বন্ধ করে বাড়ীতে চলে আসে। পরবর্তীতে রাত ০১.১৫ ঘটিকার সময় স,মিলের পাশের বাড়ীর মালিক মোঃশাহিন মোবাইল ফোনে অবির উদ্দিন কে জানান আপনার স,মিলে আগুন ধরে পুড়ে গেছে। এঘটনায় অবির উদ্দিন গত ০৯মে ২০২৩ইং তারিখে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। 

অবির উদ্দিন পরবর্তীতে তার স,মিল পরিচালনার জন্য পৃথক জাগায় ঘর তুলে একটি শিল্প লাইনের আবেদন করেন। সেই আবেদন যাচাই বাছাই করে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস অবির উদ্দিন স মিল কে বিদ্যুৎ লাইন দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।  কিন্তু গত ১৯জুন ২০২৩ তারিখে সোহাগ রানা জেনারেল ম্যানেজার, সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বরাবর দুটি অভিযোগ দাখিল করেন। একটি অভিযোগে বলেন,সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর আওতা ২৩কিঃওঃলোডে০২টি শিল্প সংযোগ গ্রহণ করি এবং নিজস্ব অর্থায়নে ৩৭কেভিএ ট্রান্সফরমার ক্রয় করি। উক্ত ট্রান্সফরমার হইতে বর্তমান আমার ০২টি শিল্প সংযোগ ও বেশ কিছু আবাসিক ও বানিজ্যিক সংযোগ চালু আছে। এমতাবস্থায় উক্ত ট্রান্সফরমার থেকে আমার পাশ্ববর্তী প্রতিবেশী অবির উদ্দিন ০১টি ২৩কিঃওঃ লোডে শিল্প সংযোগ নেওয়ার জন্য পায়তারা করিতেছে। কিন্তু আমি উক্ত পোলে নতুন আর কোন ট্রান্সফরম উত্তোলন করিয়া নতুন সংযোগ গ্রহণ করিতে দিবো না। এবিষয়ে অবির উদ্দিন স মিলের মালিক অবির উদ্দিন বলেন, ২০২১সালে সোহাগ রানার কাছ থেকে বিদ্যুৎ লাইন ক্রয় করার পর থেকেই তিনি নানা ভাবে আমাকে হয়রানি করছে। এলাকার মুরুব্বিগণ দফায় দফায় মিমাংসা করে দিলেও তিনি মেনে নিয়েও পরবর্তীতে আমাকে হয়রানি করে।

গত ০৮জুন ২০২৩তারিখে আমি স,মিল বন্ধ করে বাড়ীতে আসলে গভীর রাতে আমার স,মিলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। পরের দিন ০৯জুন ২০২৩ইং তারিখে আমি সিরাজগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেই অজ্ঞাতদের নামে। আমি নতুন করে স,মিলের ঘর তুলি এবং শিল্প বিদ্যুৎ লাইনের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে আবেদন করি। সে আবেদনের প্রেক্ষিতে শিল্প বিদ্যুৎ লাইনের মিটার অফিস দিবে সেই মুহূর্তে গত ১৯জুন ২০২৩তারিখে সোহাগ রানা বিদ্যুৎ লাইন না দিতে সে লিখিত অভিযোগ দেয়। এতেই প্রতীয়মান হয় সোহাগ রানাই গত ০৮মে রাতে আমার স,মিলে আগুন দিয়ে আমার মিল পুড়ে দিয়েছে এবং আমাকে পথে বসিয়েছে। আমার এতো বড়ো ক্ষতি হলো অথচ সে বিদ্যুৎ লাইন না দিতে অফিসে লিখিত আবেদন করে। তিনি আরও বলেন, আমি মাননীয় জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  মহোদয়ের নিকট আবেদন করছি আমার অভিযোগ গুলো সুষ্ঠু তদন্ত করে মায়ের দোয়া স মিলের মালিক সোহাগ রানার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্হা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি। 


সংবাদটি শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী সংবাদ
পরবর্তী সংবাদ