সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীতে অসময়ে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিমলা ২ নং স্পার বাঁধে প্রায় ২৭ মিটার ধস নেমেছে। এ ধস ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিচ্ছে। সেইসাথে যমুনা তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গনও অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়া নদীর তীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলের অনেক ফসল তলিয়ে গেছে। প্রায় এক সপ্তাহে যমুনা নদীতে প্রায় সাড়ে ১৩ ফিট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, অসময়ে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় শনিবার সকালে ওই স্পারের প্রায় ২৭ মিটার ধস নেমেছে। এ ধস ঠেকাতে সেখানে জিও ব্যাগ নিক্ষেপ করা হচ্ছে। এদিকে প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে উজানের পাহাড়ী ঢল ও দফায় দফায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় সিরাজগঞ্জের কাছে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে। এক সপ্তাহে প্রায় সাড়ে ১৩ ফিট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এই যমুনা নদীতে। অসময়ে যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ইতিমধ্যেই যমুনা নদীর চর ও ডুবোচর ডুবে গেছে এবং শহররক্ষা বাঁধের হার্ডপয়েন্ট এল্কাতেও এখন পানি থই থই। এছাড়া নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে আবারো ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
ইতিমধ্যেই কাজিপুরের পাটাগ্রাম, এয়ায়েতপুর ও শাহজাদপুরে এই ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যাবস্থা নেয়া হচ্ছে। বিগত বছরের চেয়ে এবার অসময়ে যমুনা নদীতে এখন বেশি পানি বাড়ছে। তবে আগামী ৩/৪ দিনের মধ্যে এ পানি হ্রাস পেতে পারে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ হাবিবুল হক বলেন, সপ্তাহ ধরে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে যমুনা নদীর তীরবর্তী চৌহালী, বেলকুচি, কাজিপুর, শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৬৫ হেক্টর জমির আঁখ, পাট, তিলসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
