মো: রবিউল হো: সবুজ (কুৃমিল্লা প্রতিনিধি):
আসসালামু আলাইকুম!!
আমি (ফারজানা প্রেমা)পূর্ব সাতবাড়িয়ার ইসলাম মেম্বারের ছেলে মরহুম জহিরুল ইসলাম (বাহার)এর মেয়ে! আপনারা সবাই জানেন যে, গত ২৮ জুন দুপুরবেলা ২.৪৫ মিনিট এর সময় আমার আব্বু ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন! তারপর ওনাকে বাড়িতে আনার পর সকলের মতামতের ভিত্তি এবং যথাস্থান থেকে অনুমতি নিয়ে ২৯ জুন সকাল ৯.০০ ঘটিকার সময় জানাজা দেওয়ার কথা ছিলো!
কিন্তু পরবর্তীতে কিছু ভালো মানুষের ফোন কলে অতিষ্ট হয়ে ৪র্থ বারে প্রশাসন থেকে মানুষ এসে রাত ১.৩০মিনিটে আব্বুর জানাজা সম্পূর্ণ করেন। তাদের কথা অনুযায়ী আমার আব্বু ছিলেন করোনা রোগী! সেই ভিত্তিতে বাকি সবার মাঝে এটা ছড়িয়ে যাওয়ার ভয় আছে! সব মেনে নিয়ে কবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও তাদের কাছে কিছু সময় চেয়েছিলো, আমার কিছু আপন মানুষ তখনো এসে পৌঁছাতে পারেনি তাই! কিন্তু তারা সেই সময় দেন নি! শুইয়ে দিলেন আমার আব্বুকে তার নতুন ঠিকানায়। তারপরের ভিত্তিতে বারংবার আমার পরিবারকে করোনা রোগী বলে তুচ্ছ করা হচ্ছিলো, যেখানে আমার আব্বুর পুরো রিপোর্টে আছেন তিনি করোনা রোগী নন! তার লিভার নষ্ট হয়ে ছিলো + হার্ট পাম্প করা বন্ধ হয়ে তিনি স্টোক করেছিলেন (যারা আব্বুকে দেখেছেন তারা নিশ্চিত করেই দেখেছেন আব্বুর নাক+মুখে রক্ত যাচ্ছিলো)।
সেই সবের ভিত্তিতে গত ১ জুলাই আমার আম্মু #ফিরোজা ইসলাম এবং ফাহিম ভাইয়াকে করোনা টেষ্ট করতে বাধ্য হয়েছি, যার রিপোর্ট (Negative) আজ এসেছেন!
উক্ত পোষ্ট করার কারণ বাবা মারা যাওয়া নিয়ে কিছু ভালো মানুষ অনেক সুন্দর ভাবে গুছিয়ে আমাদের রোগী সাজিয়েছেন। যার কারনে সবাই আমাদের করোনা রোগী বলছেন! আর একটা কথা........
যারা রিপোর্ট না দেখেই আমার বাবাকে করোনা রোগী সাজিয়েছেন, তারা আমার মা এবং ভাইয়ের রিপোর্টটা ভালোভাবে দেখে নিবেন হসপিটাল গিয়ে, আর তাও যদি না পারেন তাহলে অন্তত আমাদের উপর জুলুম করা বন্ধ করবেন!
কেননা...... মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন, তোমরা এতিমের মনে কষ্ট দিও না, কারণ আমিও এতিম ছিলাম!
তাই আমরা কষ্ট প্রকাশ না করলেও আমাদের ১কষ্টের ১টি দীর্ঘশ্বাস'ই যথেষ্ট! তবে আমার উক্ত কোনো কথায় কষ্ট পেলে ক্ষমা করবেন, দোয়া চাই সবার কাছে!
সমাজের এক প্রকার দুষ্ট প্রকৃতির মানুষ কত নিলজ্জ যে একটা পরিবারের যখন তাদের মূলবান ব্যক্তিকে হারিয়ে বসে। চারদিকে অন্ধকার শুধু হতাশা। অশ্রু ভেজা আঁখি, চোখ জেনো সাগর নেমেছে। তখন কিছু স্বার্থপর নির্লজ্জ মানুষ উৎপেতে বসে থাকে। এতিম, অসহায় ও শোকাত পরিবারে দিকে আঙ্গুল দিয়ে তাদেরকে তাদেরকে ছোট করে দেখেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বস্তরের জনসাধারণকে বলে দিয়েছেন যে করুণা আক্রান্ত ফ্যামিলিকে হোসনা করার জন্য যদি এরকম কিছু করা হয় তাহলে আল্লাহর কাছে এবং আইনের কাছে আপনাকে জবাবদিহি করতে হবে করতে হবে। মনে রাখবেন এসব উপকার আসতে পারে। তাই উপহাস না করে তাদের পাশে দাঁড়াবেন এটাই আশাবাদ ব্যক্ত করলাম।
সর্বোপরি ধন্যবাদ জানাই! লাকসাম ৭ ওয়ার্ড গাজিমুড়া গ্রামের গর্বিতো সন্তান বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সমাজসেবক মশিউর রহমান সেলিম এর একমাত্র ছেলে মোঃ সাইমুন রহমান রকিকেসহ তার সহযোদ্ধাদের কে মনের অন্তস্থল থেকে সাধুবাদ জানাই।
মানবিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন " বিবেক " এর ৩৭ তম (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ টিমের ৩য়) দাফন-কাফন সম্পন্ন করেন।
কুমিল্লা লাকসাম পৌরসভার সাতবাড়িয়া গ্রামের মরুহুম ইসলাম মেম্বারের ছেলে জহিরুল ইসলাম বাহার ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করলে উনার দাফন-কাফন সম্পন্ন করেন, লাকসাম-মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিবেক টিম।
মহান আল্লাহ মরহুমকে জান্নাত বাসী করুন, আমিন।
