ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার ধলহরাচন্দ্র গ্রামে মাজেদার বসবাস। ৭ ভাই- বোন আর বাবা মা এই নিয়ে ছিল তাদের সংসার। একে একে সব ভাই বোন বিয়ে হয়ে যায় মাজেদা ও বড় হতে থাকে মাজেদা। বাবা বহু কষ্ট করে পাসের গ্রামের একটা ছেলের সাতে তার বিয়ে দেন। স্বামী সংসার নিয়ে ভালোই চলছিলো মাজেদার জীবন। কিন্তুু কপালের লিখন না যায় খন্ডন, যৌতুকের জন্য স্বামীর সংসারে শুরু হল মানুষিক ও শারীরীক অত্যাচার। হতদরিদ্র পিতা কিছু টাকা দিয়ে সাময়িক সুখ কেনার চেষ্টা করেন। এরপর মাজেদার বাবা- মায়ের মৃত্যুর পর মাজেদার উপর অত্যাচার আরো বৃদ্ধিপায়। এর মাঝেই মাজেদার কোল জুরে আসে একটা কন্যা সন্তান, এর ফলে তার স্বামী আরো রাগলেন, নির্যাতন বেড়ে গেল। অতি মাত্রায় অত্যাচারের কারনে টিকতে পারে না স্বামীর সংসারে। ফিরে আসলেন গরীব বাপের ভিটায়। এক বেলা খায় আর এক বেলা উপস এ ভাবেই চলতে থাকে মাজেদার সংসার। অন্যের বাড়িতে কাজ করে বহুকষ্টে মেয়ে কে মানুষ করতে লাগলো মাজেদা। ছোট একটা ঝুপরি ঘরই তার সম্বল। ভাঙ্গা চোরা ঝুপরি ঘরেই চলে তার সংগ্রামী জীবন। গ্রামের মানুষের থেকে ধান নিয়ে চাল করে তাদের কে মুড়ি বানিয়ে দেয় তার থেকে সে যতো টুকু টাকা পায় তা দিয়ে চলে তার সংসার, ও বলতে ভুলেই গেছি এরই মধ্যো মাজেদার মেয়েটা ও বড় হয়ে গেছে তাকে ও সে কোন মতো করে বিয়ে দিয়ে দেয় এখন সে একা , এখন চলছে তার সংগ্রামী জীবন। মাজেদার সাথে আলাপ করতে গেলে তিনি জানান, সরকার যদি তাকে একটা ঘর আর কিছু অর্থ দিতো, তাহলে শেষ বেলাতে সে একটু সুখে থাকতে পারতো।নিজে ধান কিনে মুড়ি করে বিক্রি করতে পারলে তার সংসার চালাতে কারো কাছে সাহায্যের প্রয়োজন হতো না। সামান্য সহযোগীতা পেলেই সুখে শান্তিতে থাকতে পারবে একজন মাজেদা। কেননা মাজেদার মতো মানুষের সুখ কিনতে বেশি কিছু লাগে না। পেট ভরে ভাত আর কাপড়ের সংস্থান হলেই তারা খুশি।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
