আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী রহ.ও আল্লামা শাহ্ মোহাম্মদ তৈয়ব রহ.এর স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

ডা.এম.এ.মান্নান,টাংগাইল জেলা প্রতিনিধি:উপমহাদেশের বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, ধর্মীয় পন্ডিত, হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক আমীর আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী (রহ.) ও জামেয়া জিরির সাবেক মহাপরিচালক আল্লামা শাহ্ মোহাম্মদ তৈয়ব (রহ.) এর স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে কর্ণফুলীতে। 


গতকাল ০১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার  বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কর্ণফুলী উপজেলা শাখার আয়োজনে কর্ণফুলী উপজেলা দৌলতপুর নাছির কনভেনশন হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


 আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগরের বিপ্লবী সভাপতি আলহাজ্ব জান্নাতুল ইসলাম। প্রধান আকর্ষণ ছিলেন, জামেয়া জিরির সম্মানিত পরিচালক জনাব মাওলানা খোবাইব সাহেব। প্রধান আলোচক ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ প্রচার সম্পাদক মুফতী দেলাওয়ার হোসাইন সাকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, দৌলতপুর দারুল উলুম দেয়াং পাহাড় মাদরাসার পরিচালক মাওলানা আবুল হাশেম সাহেব। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কর্ণফুলী উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা সাইফুদ্দীন দৌলতপুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওঃ হাবিব উল্লাহ্ এর পরিচালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ইসলামী ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন কর্ণফুলী উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নোমান। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, জামেয়া হেমায়েতুল ইসলাম কৈয়গ্ৰাম মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আতাউল্লাহ হোসাইনি, দৌলতপুর আশরাফুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা মাহবুবুর রহমান হানিফ, জামেয়া জিরির সম্মানিত মুহাদ্দিস আল্লামা শাহাদাত হোসেন আরমানী, বামুক চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সদর মাওলানা মোজাম্মেল হক, জামেয়া হেমায়েতুল ইসলাম কৈয়গ্ৰাম মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা জুবায়ের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সদস্য সচিব হাফেজ মাওলানা রুহুল্লাহ্ সাহেব,ইশা ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি শরিফুল ইসলাম আজিজিসহ বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক ও ইসলামী আন্দোলন, ইশা ছাত্র আন্দোলন,যুব আন্দোলন‌ও শ্রমিক আন্দোলনের জেলা ও উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। 


আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শুধু দারুল উলুম হাটহাজারী নয়, দেশের কওমি শিক্ষা ব্যবস্থায় আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী (রহ.) উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে গেছেন। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদে বিল পাশের মাধ্যমে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদে রাষ্ট্রীয় যে স্বীকৃতি আসে, তা তারই হাত ধরেই। ২০০৯ সালে তিনি দেশের সিনিয়র ইসলামি ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে একটি যৌথ বিবৃতি প্রদান করেন, যেখানে ইসলামের নামে সন্ত্রাস ও জঙ্গি কার্যক্রমের নিন্দা জানানো হয়। ২০১০ সালে তিনি অরাজনৈতিক ইসলামি সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন।

বক্তারা আরো বলেন, ওয়াজ নসিহত বক্তৃতার মাধ্যমে আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী (রহ.)  ও আল্লামা শাহ্ মোহাম্মদ তৈয়ব (রহ.)মানুষকে ইসলামি শিষ্টাচার ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দিয়েছেন। লেখালেখিতেও তাদের বিশেষ অবদান রয়েছে। বাংলা ও উর্দু ভাষায় শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী (রহ.) রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ২৫টি। আল্লামা শাহ মোহাম্মদ তৈয়ব (রহ.) রচিত বেশ কয়েকটি গ্ৰন্থ রয়েছে।


শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল এবং আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী (রহ) এর রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়।


সংবাদটি শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী সংবাদ
পরবর্তী সংবাদ