এক পা নিয়ে মানবেতর জীবন জাপন করছেন ভ্যান চালক রানা


মোঃ এরশাদ হোসেন রনি, মোংলাঃ একটি মাত্র পা সচল, তা দিয়েই চালিয়ে যাচ্ছে জীবন যুদ্ধ, জীবন যুদ্ধে কাউকে পাশে পায়নি রানা।খুব কষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছেন রানা।     
মোংলা উপজেলার  চাদপাই ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামে ফুফুর বাসায় থাকে প্রতিবন্ধী  রানা মৃধা। ছোট বেলায় পোলিও টিকা না দেয়ায় নয় মাস বয়স থেকে আস্তে আস্তে তার একটি পায়ে সমস্যা দেখা দেয়, পরবর্তীতে  তার একটি পা পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়ে। বর্তমানে তার একটি পা তার কাছে বোঝা সরুপ।সবসময় লাঠি ভর করে চলাফেরা করতে হয় রানা মৃধাকে। তার পরেও থেমে থাকেনি তার জীবন যুদ্ধ,কারো কাছে হাত না পেতে ভ্যান চালিয়ে উপার্জন করে তা দিয়েই জিবীকা নির্বাহ করেন তিনি।রানার উপরই নির্ভরশীল তার বৃদ্ধ মা বাবা।
 
তার সম্পর্কে জানতে চাইলে ভ্যান চালক রানা মৃধা বলেন আমি মোংলা উপজেলার চাদপাই ইউনিয়নে কানাইনগর গ্রামে আমার ফুফুর বাসায় থাকি। আমাদের তিন ভাই এক বোনের সংসার।বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। আর এক ভাই চিটাগং এ দিন মজুরের কাজ করে।আমার বাবা মা আমার গ্রামের বাড়ী থাকে।  বাবার অনেক বয়স হয়ে যাওয়ায় সে এখন আর ইনকাম করতে পারে না। আমি এখন আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জন কারি ব্যাক্তি।আমি আমার ফুফুর কাছে থেকে ভাড়ায় পা এর ভ্যান চালাই।ভ্যান চালিয়ে  আমি দিনে ৩০০/৩৫০ টাকা উপার্জন  করি। সেই টাকা দিয়ে ভ্যান ভাড়া দেয়ার পরে আমার কাছে ১০০/১৫০  টাকা থাকে।সেই টাকা থেকে আমি খাই ও বাকী টাকা জমা করে সপ্তাহ শেষে  আমার বাবার কাছে পাঠিয়ে দেই।খুব কস্ট হয় আমার চলতে। পায়ের ভ্যান চালাই বলে তেমন বেশী যাত্রীও আমি পাই না।সবাই ইঞ্জিন চালিত ভ্যানে ওঠে আমার ভ্যানে ওঠে না। 
 
তিনি আরো বলেন অনেকের কাছে বলেছি একটা ভ্যান কিনে দেয়ার কথা।নিজের একটা ভ্যান থাকলে দিন শেষে যে টাকা উপার্জন করি তাতে মোটামুটি ভালো ভাবেই চলে যেত। কিন্তু কারো কাছ থেকেই একটি ভ্যান কেনার টাকা পাইনি। কেউ আমার পাশে দাড়ায়নি।করোনার মধ্যেও আমি  ভ্যান চালিয়েছি।কিন্তু কোন প্রকার সহায়তা পাইনি। বর্তমানে খুব কস্ট হচ্ছে আমার।শরীরটাও তেমন একটা ভালো যাচ্ছে না।কেউ যদি একটা ভ্যান এর ব্যাবস্থা করে দিত।তা হলে বাবা মা নিয়ে সংসার টা মোটামুটি  চলে যেত।  
 
রানার সম্পর্কে জানতে চাইলে স্হানীয় ইউপি সদস্য সেলিম হোসেন বলেন রানা আসলেই খুব অসহায় অবস্থায় আছে।যেহেতু রানাকে সহায়তা দেয়ার মত তেমন কোন সুযোগ আমাদের নাই। তারপরও তাকে আমি একটা প্রতিবন্ধী কার্ড করে দিয়েছি।তাতে কিছুটা হলেও ওর উপকার হবে।


সংবাদটি শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী সংবাদ
পরবর্তী সংবাদ