আর.জে মিজানুর রহমান ইমনঃ নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় (৫ই নভেম্বর) রোজ বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক জনাব মিজানুর রহমান আসেন ফুলপুরে অনলাইন এ্যাক্টিভিটিস ও স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে বিশেষ মতবিনিময় সভা করতে, কিন্তু ফুলপুরের অনেক অনলাইন এ্যাক্টিভিটিস ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেত্ববৃন্দরা পাইনি কোনো আমন্ত্রণ । এ নিয়ে নানান কথার অভিযোগ উঠেছে । যারা আমন্ত্রণ পেয়েছে তারা মনে হয় একান্ত প্রশাসনের কাছের মানুষ বা সংগঠন না হলে কেন ফুলপুরে বিভিন্নভাবে জনগণকে স্বেচ্ছায় সেবা দিয়েও আমন্ত্রণ পাই না । বিভিন্ন সংগঠনের নেত্ববৃন্দরা বলছেন করোনার মহামারীতেও আমরা নিজেদের অর্থ বা অন্যের কাছ থেকে হাত পেতে চেয়ে নানান ভাবে কাজ করেছি যা বিভিন্ন সংবাদকর্মীরা অনলাইন সহ প্রিন্ট পত্রিকায় প্রকাশ করেন । তাহলে কেনইবা পেলাম না, আমরা আমন্ত্রণ । তাহলে কি আমরা ১ টাকা খরচ করে ৫ টাকার কিচ্ছা গাইনি বলে ? নাকি নিজের অর্থ খরচ করে প্রশাসনকে সাথে রেখে কাজ করেনি বলে? নাকি ঠিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি বলে? আজ বেশিরভাগই দেখা যাচ্ছে যারা তেল মারতে পারে তারাই প্রশাসনের নজরে পড়ে। যে সংগঠনের বয়স মাত্র ১মাসও হয়নি তারাও আমন্ত্রণ পেয়েছে কিন্তু কয়েক বছর ধরে স্বেচ্ছায় কাজ করছে তাদের কে দেয়নি আমন্ত্রণ।
এ বিষয়ে তাক্ওয়া অসহায় সেবা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক তপু রায়হান রাব্বি বলেন, আমরা ২০১৭ সাল থেকে স্বেচ্ছায় কাজ করে যাচ্ছি ফুলপুরে। আমাদের সংগঠনটি কোন সরকার অনুমোদিত নয়। এ সংগঠনটি চলে নিজেদের অর্থে। কোন সময় যদি প্রয়োজন পড়ে তাহলে অন্যের কাছে হাত পেতে অসহায় মানুষের পাশে থাকি। প্রাণঘাতী নোবেল করোনাভাইরাসে যখন চিনে আক্রান্ত হয় তখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডঃ প্রাণেশ চন্দ্র পন্ডিত স্যারের সাথে কথা বলে, হাসপাতালের কর্মরত ডাক্তার দেবনাথ চৌধুরী ও ফুলপুরের ব্লাড ডোনার্স কে নিয়ে বিভিন্ন স্কুলে সচেতনতামূলক সেমিনাল করা হয়। পরে যখন বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস দেখা দেয় তখন সেই ডাক্তার করোনা পজিটিভ এ আক্রান্ত হয়। করোনা ভাইরাসের জন্য বাংলাদেশ যখন লকডাউনে অসহায় মানুষের ঘরে খাবারে কষ্ট হচ্ছে তখন বিভিন্নভাবে তাদের পাশে থাকি। আর আমাদের বেশিরভাগ কার্যক্রমে বিভিন্ন অনলাইন সহ প্রিন্ট পত্রিকায় প্রকাশ হয়। শুধু আমরাই কাজ করিনি ফুলপুরের বিভিন্ন সংগঠন কাজ করছে যারা আজকে কোন প্রশাসনের আমন্ত্রণ পায়নি। কারণ একটিয় ফুলপুরের প্রশাসনের কানে কেউ-না-কেউ বিষ ডোকা তে পারে যেন তেলবাজদের স্বার্থে আঘাত না পড়ে। তিনি আরো বলেন আপনাদের উৎসাহিতে এগিয়ে যেতে পারে প্রতিটা সংগঠন। তাই একটু উৎসাহিত করার জন্য সকল সংগঠনকে এক চোখে দেখার বিনীত অনুরোধ করা হল।
সাহাপুর তরুণ স্বেচ্ছাসেবী সংঘ থেকে আকিকুল ইসলাম জানান, আমরা সততার সাথে কাজ করেও কেন পেলাম না ফুলপুরে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ তা জানি না? কিন্তু তাই বলে কোন সংগঠনের স্বেচ্ছা কার্যকলাপ বন্ধ থাকবে না। সততার সাথে এই সকল সংগঠন এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
এ বিষয়ে ৯ বছর ধরে অনলাইনে লেখালেখিতে যুক্ত হৃদি মোতালেব জানান, ফুলপুরে কর্মরত মিডিয়া কর্মীদের মধ্যে অনলাইনে আমার চেয়ে প্রবীণতম কেউ ছিলেন বা আছেন বলে কোন তথ্য আমার জানা নেই। সাম হোয়ার ইন ব্লগ, প্রথম আলো ব্লগ, আমার ব্লগ সহ ব্লগারদের স্বর্ণযুগের সহযোদ্ধা অনেকেই এখনও বন্ধু তালিকায় যুক্ত আছেন স্বমহিমায়। অনলাইনে লেখালেখির অপরাধে ইতিমধ্যে ফুলপুরের ১ম ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মিথ্যা মামলা খেয়েছি, করোনার চরম ক্রান্তিকালে ৪৪ দিন হাজত খেটেছি। এখন আমি যে অনলাইন এ্যক্টিভিস সে সার্টিফিকেট কে দিবে আমাকে?কার কাছ থেকে নিবো তার প্রত্যয়নপত্র? কে দিবে স্বীকৃতি? যারা মামলা দিয়েছে তারা তো স্বীকৃতি দিয়েছেই, বাকীরা কি বলেন? শুধুমাত্র অনলাইন এক্টিভিস্টের স্বীকৃতির অভাবে মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মত বিনিময় সভায় অংশ গ্রহন করতে পারিনি আমন্ত্রণের জন্য এতে দুঃখীত। তিনি আরো বলেন তবে যারা সেই অনুষ্ঠানে মত বিনিময় করেছেন তাদের সবার অনলাইনে কোন এক্টিভিটি রয়েছে তো ? তাদের এ সত্যায়ণে কে প্রত্যায়ণ করেছেন? তিনি নিজে আমার মতো ৯ বছরের অনলাইনার্স তো? তিনি কি দ্য এডমিন দ্যা অনলাইনার্স এ কাজ করেছেন?
এছাড়াও ফুলপুরের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক বা তথ্য প্রচারকারি অনলাইন গ্রুপের সাথে কথা বললেও তারা জানান আমরা কোন দাওয়াত পাইনি। যদি প্রশাসন তার নিজ আইডিতেও দাওয়াত দিতেন তেবুও আমরা সেই দাওয়াত পেতাম বা অংশগ্রহণ করতাম।
এ বিষয়ে ফুলপুর উপজেলা প্রশাসন শীতেষ চন্দ্র সরকারকে মুঠো ফোনে একাধিকবার কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেন নি।
