রাজাপুরের ধানসিঁড়ি নদীর দুই তীরে সবুজ ফসলের সমারোহ

মোঃ নাঈম হাসান ঈমন স্টাফ রিপোর্টার 
ঝালকাঠির রাজাপুরের ধানসিঁড়ি নদী খননকৃত উর্বর পলি মাটিতে নদীর দুই তীরে নয়নাভিরাম সবুজের সমারোহ। উর্বর পলি মাটিতে বিভিন্ন জাতের সবুজ ফসল বিপ্লবের হাতছানি দিচ্ছে। বিভিন্ন জাতের সবুজ গাছপালার মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কলতানে মুখরিত নদীটির দুই তীর। রাতের দৃশ্য আরো মনকাড়া। ডুমুর গাছে জোনাকি পোকার জ্বলজ্বল আলোতে নদীর দুই তীর আলোকিত হয়ে যায়। যেকোনো মানুষের চোখ আটকে যাবে জোনাকি পোকার আলোর টিপ টিপ তালে।

উপজেলায় একমাত্র পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে হাতছানি দিয়ে ডাকছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। সংশ্লিষ্টদের একটু নজরে এলেই দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হতে পারে রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতার নদী 'ধানসিঁড়ি'। কারণ নদী, পানির কুলকুল শব্দ, সবুজ, পাখপাখালির কলতান ও বাহারি সবুজ রঙের বিভিন্ন ফসল কার না ভালো লাগে। স্থানীয় গাছিরা নদীর দুই তীরের খেজুর গাছ রস সংগ্রহের জন্য পরিষ্কার করে কেটে খিল লাগিয়ে হাঁড়ি ঝুলিয়ে দিয়েছেন। সেই বাঁশের কঞ্চির খিলে বসে পাখিদের খেজুর গাছের রস খাওয়ার দৃশ্য আরো আকর্ষণীয়। পাখির কিচিরমিচির সুরেলা ডাকে মন হারিয়ে যায় আচেনা দেশে।

বন বিভাগ থেকে জানা যায়, নদীটির ১২ কিলোমিটর তীরজুড়ে ঝালকাঠি সদর ও রাজাপুর উপজেলা বন বিভাগ সারিবদ্ধভাবে রোপণ করেছে রেইনট্রি, মেহগনি, আকাশমনি, শিশু, জারুল, বকাইন, কাঠ বাদাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, জাম্বুরা, আমলকি, বহেরা, অর্জুন, অরহর, ডুমুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।

এদিকে, স্থানীয় চার শতাধিক কৃষকরা নদীটির দুই তীরে শীতকালীন সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদে পুরোদমে ব্যস্ত সময় পার করছেন।  কৃষকরা নদীর দুই তীরের উর্বর মাটিতে আর্থিক মুনাফা লাভের আশায় চাষ করেছেন আলু, সরিষা, টমেটো, শিম, লাউ, কুমড়া, মুগডাল, লালশাক, মুলা, সুস্বাদু ক্ষীরা ইত্যাদি।

স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান, প্রায় দীর্ঘ সাত কিলোমিটার নদীর দুই তীর জুড়ে প্রায় ১২টি গ্রামের ৪ শতাধিক কৃষক বিভিন্ন প্রকার কৃষি চাষ করেছেন। এর মধ্যে পেশদারি কৃষক রয়েছেন দুইশতাধিক এবং দুই শতাধিক রয়েছেন মৌসুমি কৃষক। কৃষকরা নিজেদের চহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট কৃষি ফসল উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে চড়া মূল্যে বিক্রি করে অধিক মুনফা পেয়ে বেশ খুশি বলেও জানান তারা।

পিংরি গ্রামের কৃষক আকবার মৃধা জানান, ধানসিঁড়ি নদী তীরে তার প্রায় ৪০ শতাংশ জমি রয়েছে। এতে শালগম, পেপে, ধনিয়া, লালশাক, মুলা, লাউ ও মিষ্টি কুমড়াসহ একাধিক সাথী ফসল চাষ করেছেন। ৪০ শতাংশ জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় দশ হাজার টাকা। তাতে যে ফসল হয়েছে তা দিয়ে নিজের চাহিদা মেটানোর পরে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা পাবে বলে তিনি আশা করছেন তিনি। একই গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম, রিয়ান সিকদার, দেলোয়ার কারিকর, মোয়াজ্জেম মৃধা ও উজ্জল মৃধা। তারাও জানান একই সম্ভাবনার কথা।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রিয়াজ উল্লাহ বাহাদুর জানান, ধানসিঁড়ি নদীটির খননকৃত পলিমাটি বেশ উর্বর। শাক সবজি চাষের জন্য একদম যথাযথ। যে কারনে বিভিন্ন সবজি ও শাক ব্যাপক হারে ফলছে। এছাড়া কৃষকদের সার ও বীজ প্রনোদণা এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট