অকালে চুল পড়ে যাওয়ার কারণ- ডাঃ জাহেদ পারভেজ

মোঃরেজাউল ইসলাম শাফি,নিউজ ডেস্কঃ
চুল পড়ে যাওয়াকে ডাক্তারি ভাষায় অ্যানড্রোজেনেটিক অ্যালোপিসিয়া বলে। মাথার উপরিভাগের চুল ও দুই পাশের চুল পাতলা হয়ে যায়। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২৫টি চুল পড়ে স্বাভাবিকভাবেই। চুল পড়ে যাওয়া তখনই সমস্যা যখন দিনে ১২৫টির বেশি চুল পড়ে এবং সেই চুল গজায় না। পরিবারে চুল পড়ার সমস্যা থাকলে চুল পড়ার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে। চুল পড়ে যাওয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

অ্যানাজেন ইফফ্লুভিয়াম

নানারকম ওষুধ ও কেমোথেরাপির জন্য যখন চুল পড়ে তাকে অ্যানাজেন ইফফ্লুভিয়াম বলে।

টেলোজেন ইফফ্লুভিয়াম

আর চুলের ফলিকল যখন রেস্টিং স্টেজে যায় তখন তাকে টেলোজেন ইফফ্লুভিয়াম বলে। চুলের ফলিকল রেস্টিং স্টেজে যাওয়া মানে চুল আর বড় না হওয়া এবং এক সময় চুল ঝরে যাওয়া।

কারণ

-শারীরিক অসুস্থতা যেকোনো অপারেশনের পর, রক্তস্বল্পতা, ওজন কমে যাওয়া, হজমের সমস্যা।

-মানসিক চাপ ও অতি কর্মব্যস্ততা।

-      মূত্রনালীর প্রদাহ।

-গর্ভাবস্থা, পরিবার পরিকল্পনার জন্য পিল খাওয়া। মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া। অতি মাত্রায় ভিটামিন 'এ' গ্রহণ, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ গ্রহণ।

-খুশকি

-অপরিচ্ছন্নতা

-বংশগত

চিকিৎসা

ওজন কমানোর জন্য অতিরিক্ত ডায়েটিং অনেক সময় চুল পড়ার কারণ। অবশ্যই ডায়েটিশিয়ান, নিউট্রিশনিস্ট কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার তালিকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক চাপ চুল পড়ার অন্যতম কারণ। এ সময় নতুন চুল গজায় না এবং চুল বাড়ে না।

শরীর সারাতে ব্যস্ত থাকে সব শক্তি এবং অনাদরে পড়ে যায় চুল। এসব ক্ষেত্রে চুল পড়তে থাকে তিন মাস আবার চুল গজাতে সময় লাগে তিন মাস। তাই পুষ্টিকর খাবার রাখতে হবে খাবার তালিকায়। খাবারে অনিয়ম করা যাবে না। অসুস্থতায় হাই প্রোটিন ডায়েট থাকতে হবে। আয়রন ডেফিশিয়েন্সি থাকা যাবে না।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাই আসলে চুল ও স্ক্যাল্পের সবচেয়ে বড় যত্ন। চুলের সঠিক যত্নের জন্য প্রথমেই চুলের সঠিক ধরন জেনে নেওয়া জরুরি। চুলের ধরন বুঝে চুলের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য ব্যবহার করা উচিত। অতিরিক্ত রাসায়নিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করা যাবে না। ক্রমাগত গরম কিছু ব্যবহার যেমন, ব্লোড্রায়ার, আয়রন এগুলো যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করতে হবে।

চুলের অন্যতম শত্রু হলো খুশকি। ড্যানড্রাফ হলো চুলের সাইলেন্ট কিলার। তাই খুশকির প্রতিকার করতে হবে দ্রুত। কী কারণে চুল পড়ছে সেটা নির্ধারণ করা জরুরি। সেই অনুযায়ী চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

 
ডা. জাহেদ পারভেজ বড় ভূঁইয়া

চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ এবং এয়েস্থেটিকস সার্জন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
চেম্বার : ডা. জাহিদ হেয়ার অ্যান্ড স্কিনিক
গ্রিনরোড, পান্থপথ, ঢাকা।

শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট