মেয়ে ও জামাইকে বিদ্যুৎ দিয়ে ফাঁদ পেতে মারার চেষ্টা!

মিঠুন কুমার পিরোজপুর, স্টাফ রিপোর্টারঃ
পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলায় মেয়ে ও জামাইকে বিদ্যুৎ দিয়ে ফাঁদ পেতে মারতে গিয়ে নাতি গুরুতর আহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) সকালে উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের উত্তর কলারন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে গিয়ে পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার মৃত্যু আঃ কাদের হাওলাদারের ছেলে মোঃ আবুল কালাম (৫৫) অবৈধ কারেন্ট দিয়ে তার প্রথম স্ত্রীর মেয়ে রোকসানা পারভিন রুনা ও জামাই আসাদুল হাওলাদার (৪০) কে বিদ্যুৎ দিয়ে ফাঁদ তৈরি করে মারার জন্য, সেই ফাঁদে তাদেরই ছোটো ছেলে মোঃ আরাফাত ইসলাম (০৫) আটকে যায়। পরে গুরুতর অবস্থায় পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়, বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির ভাইয়ের ছেলে ও আহত শিশুর চাচা সহকারী শিক্ষক মোঃ রুবেল বলেন, কিছুদিন আগে আমার ভাইয়ের নামে ইন্দুরকানী থানায় অযথা একটি অভিযোগ করেন, সেই অভিযোগের কোনো সত্যতা না পেয়ে এস আই মনির আমাদের সাথে মিলে যাওয়ার কথা বলায় সে পরে ক্ষিপ্ত হয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ এর লাইন নিয়ে এই ফাঁদ পেতে রাখে কারন আমার ভাই এবং তারা ওখানে গেলেই যেনো বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়।

তিনি আরও বলেন, আমার চাচা একজন মামলা বাজ, ঘটনার সূত্রপাতের আগে আমার বড়ো ভাই তার মেয়ে জামাই আসাদুলের নামে অযথা ইন্দুরকানী থানায় তিনটি অভিযোগ দায়ের করেন ডিউটি অফিসার এসআই মনির এর কাছে, পরে সে বাড়িতে এসে কোন প্রামন না পাওয়ায় তাদের সাথে মিলে যেতে বলায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে পরে এই ব্যাবস্থা নেন এবং সে খুলনাতে থাকে সেখানে মেকারি করে কারেন্টের বিভিন্ন অবৈধ কাজ করে, সে মাঝে মাঝে বাড়িতে এসে এইসব বিভিন্ন অপকর্ম করে থাকে তার প্রথম স্ত্রীসহ তার মেয়ে ও জামাইসহ আসপাশের লোকজনদের সাথে।

অভিযুক্ত আবুল কালামের প্রথম স্ত্রী শাফিয়া বেগম বলেন, আমার স্বামী আমাকে রেখে আরেকটি বিবাহ করে সে আমাদের কোনো খোঁজ খবর নেয় না। আমার ৩ টা মেয়ে কিন্তু। আমাদের খুব অসহায় দিন কাটে এবং বিভিন্ন ক্ষতি করার চেষ্টা করে। আমার মেয়ে ও জামাইসহ আমাদেরকে ক্ষতি করার জন্য কারেন্ট দিয়ে ফাঁদ পাতে, সেই ফাঁদে আমার নাতি গিয়ে বিদ্যুৎ পৃষ্ঠ হয়, পরে আমার মেয়ে দেখে পাশে থাকা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাকে কারেন্ট থেকে বিচ্ছিন্ন করে, পিরোজপুর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

উপজেলার বালিপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ কাজী হাবিবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরে আমরা ঘটনা স্থলে গিয়ে সাইডলাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি।

অভিযুক্ত আবুল কালাম আজ শনিবার (০১ মে) দুপুরে জানান, আমি ঘর করেছি ১ বছর হয়েছে ওখানে কারেন্ট ছিলনা। এটা ষড়যন্ত্র মূলক কাজ। ও যদি মরতে তাহলে বুঝতাম, ও তো মরে নাই। সালিসিদার রা বলছে আমার ঘর খালি করে দিতে তারা যায় না কেন। আইন সবার জন্য সমান।

এ বিষয়ে ইন্দুরকানী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির আজ ১১ টার দিকে সংবাদকর্মীকে বলেন, এ বিষয়ে আমাকে একজন তথ্য দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আমি কোনো মৌখিক অথবা লিখিত অভিযোগ পাইনি। যদি অভিযোগ পাই তাহলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।

শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট