মৃত্যু যে কত ভয়কর বিভীষিকাময়, যন্ত্রণাদায়ক মানুষ কতটাই বা অনূভব
করতে পারে, অনেকটা কাছ থেকে মৃত্যুকে দেখে ফিরে আসা এমন
মানুষ জানেন কতটা বিভৎস ও ভয়ংকর বনানীর এফ আর টাওয়ারের
আগুনের ক্ষিপ্রতা, বিভীষিকাময় লেলিহান অগ্নিশিখা, চার দেয়ালের মাঝে
আটকা পড়া সহস্র মানুষের গগণ ভেদী চিৎকার ছুটাছুটি, কাকুতি-মিনতি,
বাঁচার জন্য আত্মচিৎকার অতিদ্রুত পৌছে গেল সবখানে সে খবর আপন
জনের কাছে, চোখের সামনে আগুনে পুড়ে নিমেষেই ছাঁই,সব আশা-ভরসা
ও তাদের স্বপ্নগুলো, ডুকরে কেঁদে ওঠে মন-হৃদয় দুমড়ে মুষড়ে খান-খান,
জীবন্ত মানুষ, জ্বলš Í আগুনে ঝলসে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা যে কতটা কঠিন,
বাঁচার অদম্য চেষ্টা, জানালার কাঁচ ভেঙ্গে সুউচ্চ বহুতল ভবন থেকে লাফিয়ে
পড়া ভয়ংকর সেই দৃশ্য দেখা স্বজনের সামনে, কুন্ডলি পাঁকানো কালো ধোঁয়ার
মধ্যে থেকে হাজার হাজার মানুষের চেচামেচি করুণ আর্ত্মনাদ, হেলিকপ্টার,
দমকল বাহিনীর অব্যর্থ চেষ্টা, পানির শব্দ চারিদিকে ঢাকার আকাশ, বাতাস
মুখরিত, বাতাসে ভেসে এলো জীবন্ত মানুষের পোড়া মাংসের গন্ধ, কি বিষ্ময়
লুকিয়ে আছে ছিন্নমূল কিশোর নাঈমের চোখে-মুখে, পলিথিন জড়িয়ে ফুটো
পানির পাইপ চেপে ধরেছে কি গভীর বিশ্বাসে, প্রাণে বেঁেচ যাবে ভবনের আগুন
লাগা সকল মানুষ, বোঝেনা অবুজ শিশু, অযথা প্রশ্ন করে মাকে, আজ কেন
গুলশান লেকে ঝাঁকে ঝাঁকে হেলিকপ্টার নামে বলতে পারো মা, ওরা কি শুধুই
পানি খায়, কত পানি খায়, পানি খেয়ে কি করে, উড়ে কোথায় যায়? মায়ের
চোখ জলে ভিজে যায়, কচি শিশু দু'হাতে চোখের জল মুছে দেয়। অস্ফুট
কণ্ঠে বলে, মাগো তুমি কেঁদোনা, আমি বোকে দেব হেলিকপ্টারকে আর যেন
কখনো না আসে গুলশান লেকে পানি খেতে, ছোট জান্নাত গুলশানে থাকে,
প্রতিনিয়ত অবুঝ মনে প্রশ্ন করে, গুলশানে কেন ঝাঁকে ঝাঁেক হেলিকপ্টার
উড়ে এসে ঝুপ ঝাপ পানিতে নামে পানি খেয়ে কেন যে আবার আকাশের মেঘের
কোলে হারিয়ে যায়।
