অভিযোগ অনুযায়ী, সাদরুল ইসলাম প্রকৌশলী হয়েও কার্যত ঠিকাদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে বিল প্রস্তুত ও ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন—সবই তার একক নিয়ন্ত্রণে ছিল।নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, উপজেলা চত্বরের মিতালী ও বনানী কোয়ার্টার এবং একটি ডরমিটরি ভবনের মেরামত কাজ শতভাগ সম্পন্ন দেখিয়ে ২০২৪ সালের এপ্রিল ও মে মাসে পৃথক তিনটি বিলের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে এসব কাজের অগ্রগতি ছিল নগণ্য। এছাড়া ৯ লাখ ৯৮ হাজার টাকার একটি সিসিকরণ রাস্তা মাত্র ৭২ ঘণ্টায় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে শেষ করে পুরো বিল তুলে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১০ জুন ভাতুড়িয়া গ্রামের আব্দুল ওহাব নামের এক ব্যক্তি জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার বরাবর সাদরুল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রকৌশলী সাদরুল সরকারি বিধি উপেক্ষা করে ইউএনও ও মেয়াদোত্তীর্ণ সাবেক চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ব্যবহার করে বিল বৈধ করেছেন। এমনকি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকরা অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প সম্পর্কে জানতেনই না।বর্তমানে গোদাগাড়ী উপজেলায় কর্মরত থাকাকালে সাদরুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে অস্থিতিশীলতা তৈরির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে তার কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও দাপটের কারণে সাধারণ কর্মচারী ও ঠিকাদাররা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তার এই একক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ফলে সরকারি তহবিলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় সচেতন মহল।এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে গোদাগাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী সাদরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন ও ফরেনসিক অডিট প্রয়োজন।
