কপোতাক্ষ নিউজে খালি থাকা সাপেক্ষে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। অতিস্বত্তর সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করুন।

রাজশাহীতে বিএসটিআই’র লাইসেন্সবিহীন ২টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

রাজশাহীতে বিএসটিআই’র লাইসেন্সবিহীন ২টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ আজ রাজশাহীতে বিএসটিআই’র লাইসেন্সবিহীন ০২টি প্রতিষ্ঠানকে ৫০,০০০/- জরিমানাবাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহীর উদ্যোগে অদ্য বুধবার দুপুর ১২.০০ ঘটিকায় রাজশাহী জেলার পবা উপজেলায় একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এতে বিএসটিআই’র গুণগত মানসনদ (সিএম লাইসেন্স) ও মোড়কজাত নিবন্ধন সনদ গ্রহণ ব্যতিরেকে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কোন প্রকার যন্ত্রপাতি ছাড়াই নি¤œমানের ‘স্যানিটারী ন্যাপকিন’ পণ্য উৎপাদন ও বিক্রি-বিতরণ করায় বায়া বাজার এলাকায় অবস্থিত এন এস মেডিকেল ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০,০০০/- (চল্লিশ হাজার টাকা মাত্র) জরিমানা করা হয় এবং তৈরিকৃত স্যানিটারী ন্যাপকিনসহ উৎপাদনে ব্যবহৃত সকল কাঁচামাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্ত্বাধিকারী জনাব আব্দুল মোমিন পরবর্তীতে বিএসটিআই হতে অনুমোদন ব্যতিরেকে এধরণের পণ্য উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ করবেন না মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামা জমা দেন।

এছাড়া একই এলাকায় অবস্থিত মেসার্স বাঁধন দই ঘর প্রতিষ্ঠানটি বিএসটিআই’র গুণগত মানসনদ গ্রহণ ছাড়াই ‘ফার্মেন্টেড মিল্ক (দই)’ উৎপাদন ও বিক্রি-বিতরণ এবং পণ্যের মোড়কে অবৈধভাবে বিএসটিআই’র মানচিহ্ন ব্যবহার করায় ১০,০০০/- (দশ হাজার টাকা মাত্র) জরিমানা করা হয়।বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি), পবা, রাজশাহী জনাব মোহাম্মদ মেহেদী হাসান এর নেতৃত্বে পরিচালিত উক্ত মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই বিভাগীয় অফিস, রাজশাহীর সার্টিফিকেশন মার্কস উইং এর কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ এবং মেট্রোলজি উইং এর কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান। এসময় বিএসটিআই’র কর্মকর্তা মোঃ আজিজুল হাকিম ও মোঃ মসফিকুল হাসান সহ পবা থানা পুলিশের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জনস্বার্থে বিএসটিআই, রাজশাহীর এধরণের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। 

গণশত্রুরা গণভোটকে ক্যাশ করতে চাচ্ছে : মোমিন মেহেদী

 গণশত্রুরা গণভোটকে ক্যাশ করতে চাচ্ছে : মোমিন মেহেদী

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেছেন, নাহিদ-হাসনাত-সার্জিস-আখতারের মত গণশত্রুরা গণভোটকে ক্যাশ করতে চায়। তা না হলে জুলাইতে পুলিশ-শিক্ষার্থী-সাংবাদিক-সাধারণ মানুষ হত্যার দায়সহ গত ১৮ মাসে ইউনূস সরকারের অপরাধ-দুর্নীতির দায় থেকে দায় মুক্তি তারা পাবে না। আর দায়মুক্তি না পেলে সকল হত্যা-জ¦ালাও- পোড়াও আর সংবিধান লঙ্ঘণের কারণে ফাঁসিতে ঝুলতে হতে পারে ভেবে পাগলের প্রলাপ বকছে।

৩ মার্চ বিকেলে তোপখানা রোডস্থ বিজয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত 'বিশ^ব্যাপী বিশ^ মোড়লের আগ্রাসন বন্ধে করণীয়' শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার সভায় তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, শুধু দেশের বিরোধীতা করছে না এই গণশত্রুরা। তারা কোটা বৈষম্য দূর করার নামে মানুষের মধ্যে ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক ও সামাজিক দ্বন্দ্ব তৈরি করতেও পিছপা হচ্ছে না। যেখানে সেখানে হানাহানি-খুনাখুনি লাগিয়ে রেখে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার মধ্য দিয়ে আবারো বাংলাদেশকে পাকিস্তানের অংশ বানাবার মিশন থেকে এরা স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে জোট করে রাজনীতিকে কলুষিত করছে। এরা স্বাধীনতা বিরোধী, দেশ বিরোধী-গণশত্রু; তাই এদেরকে প্রতিহত করা সকল শ্রেণি পেশার মানুষের নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।  

এসময় প্রেসিডিয়াম মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. নূরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব ওয়াজেদ রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন বৈরাগী বক্তব্য রাখেন।  এসময় বক্তারা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ প্রসঙ্গে বলেন, নির্মমতার বিরুদ্ধে দাঁড়াবার অঙ্গিকারে গঠিত জাতিসংঘ আজ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে থাকার পরিবর্তে কেবল ক্ষমতাধরদের পকেটের দিকে তাকিয়ে আছে বলেই এমন নির্মম ঘটনার জন্ম হচ্ছে একের পর এক। আমরা অনতিবিলম্বে মাদুরেসহ সকলের মুক্তির পাশাপাশি সহিংস যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। সেই সাথে খামেনীসহ সকল নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। সেই সাথে অনতিবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখারও আহবান জানান নতুনধারার নেতৃবৃন্দ।

পুলিশ-সাংবাদিকসহ সকল হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে মশাল মিছিল

পুলিশ-সাংবাদিকসহ সকল হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে মশাল মিছিল

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেছে নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি। মশাল মিছিলটি  ২ মার্চ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় ২৭/৭ তোপখানা রোডস্থ কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।  নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মিছিলোত্তর সমাবেশে প্রেসিডিয়াম মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, ওয়াজেদ রানা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির জীবন, মো. বাবুল মিয়া, রুক মিয়া, মো. সুমন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এসময় সভাপতির বক্তব্যে মোমিন মেহেদী বলেন, নির্মমভাবে বাংলাদেশে স্বাধীনতার এত বছর পর এসেও পুলিম-সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে তাদের হাতে জীবন দিতে হচ্ছে, যারা রাজনীতির নামে অপরাজনীতি করছে। ছাত্র-যুব-জনতার নাম ভাঙ্গিয়ে ক্ষমতায় আসবার ষড়যন্ত্র করছে, তারাই আন্দোলনে নিরীহ মানুষকে হত্যার মত জঘণ্য-নিকৃষ্ট দানবিয় উৎসবে মেতে উঠেছিলো। গত আঠারো মাসেও সেই মানবতা বিরোধী হত্যাযজ্ঞের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে রাজপথে ছিলাম, এখনো আছি।  সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়া অবধি রাজপথে থাকবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একমাত্র তারুণ্য নির্ভর রাজনৈতিক প্লাটফর্ম নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি। এসময় বক্তরা ১৬ জুলাই রংপুরে গুলিবিদ্ধ আবু সাঈদের বাবার বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আবু সাঈদের বাবার বক্তব্য অনুযায়ী তার ছেলের মাথায় আঘাতের চিহ্ন যেহেতু ছিলো, লাশ কবর থেকে উঠিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে তা জাতির সামনে উপস্থাপন করা এখন সময়ের দাবি।

শ্যামনগরে যুবদল নেতার নেতৃত্বে প্রেসক্লাবে ঢুকে সভাপতির উপর ন্যক্কারজনক হামলা

শ্যামনগরে যুবদল নেতার নেতৃত্বে প্রেসক্লাবে ঢুকে  সভাপতির উপর ন্যক্কারজনক হামলা

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার প্রেসক্লাব ভবনে ঢুকে সভাপতি সামিউল ইমাম আযম মনিরের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন প্রেসক্লাব চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে  চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীসহ উপজেলা প্রেসক্লাবে অবস্থানরত জুবায়ের মাহমুদ, মিজানুর রহমানসহ অন্যান্যরা জানায় , সোমবার দুপুরে শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনোয়ারুর ইসলাম আঙ্গুর, যুবদল নেতা মিজান, মফু খাঁ সহ যুবদল নেতাকর্মীরা শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে 'শ্যামনগরের সর্বস্তরের জনগণ' ব্যানারে একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি প্রেসক্লাব চত্বরে এসে মানববন্ধনে অংশ নেয়। মানববন্ধনে প্রেসক্লাব সভাপতি আলহাজ্ব সামিউল আযম ইমাম মনিরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মাদক চোরাচালানসহ নানা অভিযোগ তোলা হয়।

এক পর্যায়ে মানববন্ধন চলাকালীন হঠাৎ করে যুবদল সদস্য সচিব আঙুর, বাবলু, মিজান, মতলেব সহ ২৫/৩০ জন নেতাকর্মী প্রেসক্লাব ভবনে ঢুকে পড়েন। এসময় তারা প্রেসক্লাবে অবস্থানরত সভাপতি সামিউল মনিরের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। উপস্থিত সাংবাদিকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে তাদেরও ধাক্কাধাক্কি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা সভাপতিকে মারতে মারতে প্রেসক্লাব চত্বরের বাইরে নিয়ে ইট, হাতুড়ি সহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করেন।

আহত সভাপতিকে তাৎক্ষণিকভাবে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাকির সাংবাদিকদের জানান, "তার মাথার বাম পাশে শক্ত কিছু দিয়ে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন অংশে হাতুড়ি ও লোহার রডের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।" শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক বলেন,  এ ব্যাপারে আমি জেনেছি, থানায় অবহিত করা হয়েছে‌‌। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার বিষয়ে শ্যামনগর থানা-এর অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান বলেন, "আমরা তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফোর্স পাঠিয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" উল্লেখ্য, গত ২৩ শে ফেব্রুয়ারী দৈনিক সমকাল পত্রিকায় সামিউল মনির "যুবলীগ-যুবদল-যুব বিভাগ মিলে খোলপেটুয়া-কপোতক্ষ নদের বালু লুক" শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ পায়। এ ঘটনায় সমকাল প্রতিবেদক ও সভাপতি সামিউল মনিরকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধমকি দেয়া হচ্ছিল।
এদিকে সামিউল মনিরের উপর হামলার ঘটনায় শ্যামনগরে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা প্রেসক্লাবের মতো একটি পেশাজীবী সংগঠনের কার্যালয়ে ঢুকে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। উপজেলার সচেতন মহল মনে করছেন, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বার্থে প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।


নওগাঁয় ভুট্টা চাষে ব্যাপক বিস্তার, বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকরা

নওগাঁয় ভুট্টা চাষে ব্যাপক বিস্তার, বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকরা

মোঃ ফিরোজ আহমেদ,রাজশাহী ব্যুরোঃ ধানের রাজ্য হিসেবে পরিচিত আত্রাই উপজেলায় এবার চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ায় ভুট্টা আবাদে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া সহায়ক থাকলে এবার বাম্পার ফলন পাওয়া যাবে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নেই গত বছরের তুলনায় ভুট্টা চাষের পরিমাণ বেড়েছে। বিশেষ করে শাহাগোলা, ভোঁপাড়া,কালিকাপুর, হাটকালুপাড়া,মনিয়ারী ও আহসানগঞ্জ ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে। কম খরচে বেশি লাভ এবং বাজারে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা ধান ও আলুর পরিবর্তে ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন। হাটকালুপাড়া গ্রামের কৃষক জফের আলী বলেন, "আগে যেসব জমিতে বোরো ধান চাষ করতাম, এবার সেসব জমির অনেকটিতে ভুট্টা করেছি। ধানের উৎপাদন খরচ বেশি, আবার বাজারদরও অস্থির। কিন্তু ভুট্টায় খরচ কম ও দাম ভালো—তাই ভুট্টার দিকেই ঝুঁকেছি।"

সুটকিগাছা গ্রামের কৃষক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক জানান, "আমাদের এলাকা আলু চাষের জন্য পরিচিত হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।তাই এবার ভুট্টা চাষ করছি। ফলন ভালো হলে লাভবান হওয়ার আশা করছি।" শাহাগোলা ইউনিয়নের তারাটিয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হাসান বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর ভুট্টার আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও মাঠ পর্যায়ে তদারকি করা হচ্ছে।

ভবানীপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ ব্যবহার, সুষম সার প্রয়োগ ও রোগবালাই দমনে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, "কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ সরবরাহে সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে। এ বছর ভুট্টার গাছের বৃদ্ধি ও শিষের অবস্থা সন্তোষজনক। সব কিছু অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলন হবে বলে আমরা আশাবাদী।

আত্রাইয়ে ইটভাটা গিলে খাচ্ছে ফসলি জমি

আত্রাইয়ে ইটভাটা গিলে খাচ্ছে ফসলি জমি

মোঃ ফিরোজ আহমেদ,রাজশাহী ব্যুরোঃ নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে ভাটায় নিয়ে ইট তৈরি করা হচ্ছে। ফলে আবাদি জমির পুষ্টি উপাদান কমে কৃষিপণ্যের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ৪ হাজার ৩৬০ হেক্টর তিন ফসলি আবাদি জমি রয়েছে। এসব জমিতে ধান, পাট, পেঁয়াজ, গম, ভুট্টা, সরিষা, মরিচ, বেগুনসহ বিভিন্ন জাতের কৃষিপণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে সরকারি নিয়ম অমান্য করে এসব আবাদি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে ইট তৈরি করছেন ভাটার মালিকেরা।

ফসল উৎপাদনের জন্য শতকরা ৫ ভাগ যে জৈব উপাদান থাকা দরকার, তা সাধারণত মাটির ওপর থেকে ৮ ইঞ্চি গভীর পর্যন্ত থাকে। কিন্তু ইটভাটার মালিকেরা মাটির উপরিভাগের এক থেকে দেড় ফুট পর্যন্ত কেটে নিচ্ছেন। এতে কেঁচোসহ উপকারী পোকামাকড় নষ্ট হচ্ছে। আত্রাই উপজেলায় ১৮টি ইটভাটা রয়েছে। বর্তমানে সচল রয়েছে ১১ টি ইটভাটা এর মধ্যে ৬ টি বৈধ এবং ৫ টি অবৈধ 

সম্প্রতি অনুমোতি না থাকায় পরিবেশ অধিদফতর ৭টি ভাটা গুঁড়িয়ে দিলেও পুনরায় চালু করা হয়েছে বেশ কয়েকটি। সরকারি বিধি মোতাবেক সর্বোচ্চ সাড়ে চার বিঘা অকৃষি জমিতে এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন কিলোমিটারে মধ্যে  একটি ইটভাটা নির্মাণের নিয়ম থাকলেও তা অনেক ক্ষেত্রে মানা হয়নি। এ ছাড়া বেশির ভাগ ইটভাটা তৈরি করা হয়েছে জনবসতিপূর্ণ এলাকায়। বেশিরভাগ ইটভটায় কয়লা সহ হাজার হাজার মণ কাঠ পুড়ানো হচ্ছে। 

ইটভাটার জন্য মাটি কাটা হয়েছেইটভাটা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ভাটায় বছরে ৫০-৫৫ লাখ ইট তৈরি হয়। প্রতি হাজার ইট তৈরি করতে প্রায় ৮৮ ঘনফুট মাটি প্রয়োজন। সেই হিসাবে একটি ইটভাটায় বছরে প্রায় পাঁচ লাখ ঘনফুট মাটি দরকার হচ্ছে। মালিকেরা এক হাজার ঘনফুট মাটি মাত্র ৫০০-৭০০ টাকায় কৃষকের জমি থেকে কেনেন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাক্টর করে মাটি পরিবহন করা হয়। এতে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। আর যানজট লেগেই থাকে। মাটি পরিবহনে মানা হয়না নিয়ম কানুন। পাকা রাস্তায় মাটি পড়ে তা পথচারীদের বিড়ম্বনার সৃষ্টি করছে। এলাকার অনেকে জানান, কৃষকেরা জমির উর্বরাশক্তির ক্ষতির দিক চিন্তা না করে সাময়িক লাভের আশায় অবাধে এসব মাটি বিক্রি করছেন।

কচুয়া গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল  হোসেন বলেন, 'টাকার লোভে জমির মাটি বিক্রি করি। কিন্তু মাটিকাটা জমিতে ফসলের এত বড় ক্ষতি হয়, তা আমরা জানি না।' একাধিক ইটভাটার মালিক বলেন, 'ইটভাটা তৈরি করতে কিছুটা অনিয়ম করা হয়। এ ছাড়া জমি ও মাটি পাওয়া যায় না। তাই জমির মালিকদের কাছ থেকে আমরা মাটি ক্রয় করে থাকি।'তবে পুকুর খনন এবং সংস্কারের নামে বিক্রি হচ্ছে মাটি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, 'কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়ায় পুষ্টি উপাদান কমে গিয়ে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে কৃষি বিভাগ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।' উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো.আলাউল ইসলাম জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা প্রদান করা হবে। এছাড়াও এ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অবৈধ ইটভাটা কি ভাবে চলছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন,আমি অবৈধ ইটভাটা সম্পর্কে কিছু জানিনা।

ডিসির পুনর্বহাল আদেশ উপেক্ষা: কার্যালয়ে ঢুকতেই বাধা পেলেন ইউপি চেয়ারম্যান তোফা

ডিসির পুনর্বহাল আদেশ উপেক্ষা: কার্যালয়ে ঢুকতেই বাধা পেলেন ইউপি চেয়ারম্যান তোফা


মোঃ ফিরোজ আহম্মেদ রাজশাহী ব্যুরোঃ নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খাঁন তোফা জেলা প্রশাসকের লিখিত আদেশ পাওয়ার পরও দায়িত্ব নিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন। এ ঘটনায় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খাঁন তোফা। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি দায়িত্ব ফিরে পান। গত ২২ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বে বহাল করা হয়।

পুনর্বহালের আদেশ হাতে পেয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি বিশা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যোগদান করতে যান। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আহসানগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম মঞ্জুরুল আলম, মনিয়ারী ইউপি চেয়ারম্যান সম্রাট হোসেন এবং ভোঁপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন। তবে কার্যালয়ে প্রবেশের আগেই একদল ব্যক্তি লাঠিসোটা নিয়ে তার পথরোধ করে এবং নানা ধরনের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কায় চেয়ারম্যান তোফা সেদিন আর কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি এবং ফিরে যেতে বাধ্য হন। এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. আলাউল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।