কপোতাক্ষ নিউজে খালি থাকা সাপেক্ষে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। অতিস্বত্তর সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করুন।

News

News
চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে নওগাঁয় মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদের স্মারকলিপি প্রদান



মোঃ ফিরোজ আহম্মেদ 
রাজশাহী ব্যুরো

চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে নওগাঁয় স্মারকলিপি প্রদান করেছে মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ বাংলাদেশ। কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশের ন্যায় নওগাঁতেও জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের নিকট এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানিত সহ-সভাপতি মুফতি আব্দুর রাজ্জাক নওগাঁ। এসময় নওগাঁ জেলা ও সদর উপজেলা শাখার সভাপতি, সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে মউশিক শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ী করার দাবি জানান এবং এ বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতাকর্মীরা দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মোঃ ফিরোজ আহমেদ 
০১৭১০ ৯৬৭৫২২
Uploaded Image Uploaded Image Uploaded Image Uploaded Image Uploaded Image

বসুন্দিয়ায় সৎ বোনের অত্যাচারে পিতার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত শ্রীবাস দাস'র মানবেতর জীবনযাপন

 বসুন্দিয়ায় সৎ বোনের অত্যাচারে পিতার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত শ্রীবাস দাস'র মানবেতর জীবনযাপন



















মোঃ মুরাদ হোসেন : বসুন্দিয়া (যশোর) প্রতিনিধি: সৎ বোনের অত্যাচারে পিতার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন পুত্র শ্রীবাস দাস ও তার পরিবার। বিচারের আশায় প্রশাসনের দারস্থ হয়েও কোনো সুফল পায়নি তারা।  যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়ার সিঙ্গিয়া আদর্শ কলেজ এলাকায় এমন একটি হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে। বানিয়ারগাতির দুলাল দাসের ছেলে শ্রীবাস দাস জানান আমার মায়ের মৃত্যুর পর আমার চাচারা আমাকে লালন পালন করেন। এরপর আমি দীর্ঘদিন আমার নানী বাড়িতে বসবাস করি। আমি বাবার বাড়িতে বার বার আসতে চাইলেও আমার সৎ বোন শিল্পী রানী দাস বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায়, আমাকে নানান হুমকি ধামকি দিয়ে আসতে বাঁধা দেয়। এরপর আমার সৎ বোন শিউলী, শংকরী, দিপালী ও ভগ্নিপতি অসিম দাস মিলে আমার বাবাকে ভূল বুঝিয়ে তার সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নেয়। এখনো আমার বাবার নামে আড়াই শতাংশ বসতভিটা অবশিষ্ট রয়েছে, কিন্তু সেখানেও আমাকে আসতে দিচ্ছেনা। এলাকাবাসীরা একাধিকবার চেষ্টা করেও আমাকে আমার পৈতৃক বসত বাড়িতে উঠাতে পারেনি। আমি বাবারবাড়ি উঠতে চাইলে এর মধ্যে নানারকম হুমকি ধামকি দিয়ে আমাকে  মারপিট পর্যন্ত করা হয়। এখন আমার সন্তান ও পরিবার নিয়ে থাকার মতো কোন বাসস্থান নেই। এর কোন সমাধান না পেয়ে গত ২৬ শে এপ্রিল যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করি। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো সুরাহা আমি পায়নি বরং অভিযোগের পর তারা আমাকে হেনস্থা করার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ  করেছে। এখন আমার পরিবার নিয়ে আমি কোথায় যাবো? কোথায় থাকবো? এব্যাপারে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এঘটনায় অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা  বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মোফাজ্জেল হোসেন জানান, উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন। একাধিক বার উভয় পক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করলেও দুলাল দাস ও তার মেয়েরা বিষয়টি নিয়ে বসতে রাজি না হওয়ায় উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে সাধারণ ডায়েরি করে রাখা হয়েছে। তবে এঘটনা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

News

News
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হলেন এমপি রেজাউল ইসলাম রেজু



রাজশাহী ব্যুরো
Uploaded Image

নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল ইসলাম রেজু। জাতীয় সংসদের স্পিকারের পক্ষ থেকে তাকে এ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মানবসম্পদ শাখা-১ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৩ এর ধারা ১৮(১)(ঙ) অনুযায়ী স্পিকার এ মনোনয়ন প্রদান করেছেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নিবিড় রঞ্জন তালুকদার স্বাক্ষরিত আদেশটি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে সিন্ডিকেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এ কমিটিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের অন্তর্ভুক্তি নওগাঁ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে মনোনীত হওয়ায় আত্রাই ও রাণীনগর উপজেলায় আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের ধারণা, শিক্ষা উন্নয়নে আগ্রহী জনপ্রতিনিধি হিসেবে এমপি রেজাউল ইসলাম রেজু নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

News

News
আত্রাইয়ে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, ফসল ও বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি



মোঃ ফিরোজ আহম্মেদ 
রাজশাহী ব্যুরো

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় মধ্যরাতে আঘাত হানা কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ঝড়ের তাণ্ডবে মাঠের বিভিন্ন ফসল, বসতঘর ও বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে হঠাৎ শুরু হওয়া দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গাছপালা উপড়ে পড়ে। অনেক স্থানে টিনের ঘরের চাল উড়ে যায় এবং আম, লিচুসহ মৌসুমি ফলের বাগানেরও ক্ষতি হয়েছে। মাঠের পাকা ধান ও সবজি খেত মাটিতে লুটিয়ে পড়ায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

এদিকে ঝড়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রাত থেকেই বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন গ্রাহকরা।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

মোঃ ফিরোজ আহমেদ 
০১৭১০৯৬৭৫২২
Uploaded Image Uploaded Image

News

News
আত্রাইয়ে ট্রান্সফরমার ও মিটার চুরি বৃদ্ধি, আতঙ্কে গ্রাহক



রাজশাহী ব্যুরো
Uploaded Image

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার ও মিটার চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগে পড়েছেন গ্রাহকরা। প্রায়ই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গভীর নলকূপ ও রাইসবিলের মিটার চুরির ঘটনা ঘটছে।

গত শুক্রবার রাতে শাহাগোলা ইউনিয়নের তারুটিয়া ছোটডাঙ্গা ও হাতিয়াপাড়া গ্রামে দুটি রাইসবিলের মিটার চুরি হয়। ভুক্তভোগীরা জানান, চোরেরা মিটার খুলে নেওয়ার পর যোগাযোগের জন্য চিরকুটে মোবাইল নম্বর রেখে যায়।

এর আগে কাশিয়াবাড়ী গ্রামে একটি গভীর নলকূপের তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। যার মূল্য প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, বোরো ধান কাটার পর মাঠ ফাঁকা হওয়ায় চোরচক্র আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটলেও অনেকেই প্রতিকার না পাওয়ার আশঙ্কায় অভিযোগ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

আত্রাই পল্লী বিদ্যুৎ জোনের এজিএম রাজু হাসান বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া হবে। আত্রাই থানার ওসি মো. আব্দুল করিম জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মোঃ ফিরোজ আহমেদ 
০১৭১০৯৬৭৫২২

নঁওগার আত্রাইয়ে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান-চাল সংগ্রহের শুভ উদ্বোধন

নঁওগার আত্রাইয়ে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান-চাল সংগ্রহের শুভ উদ্বোধন

Uploaded Image
নঁওগার আত্রাইয়ে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান-চাল সংগ্রহের শুভ উদ্বোধন

মোঃ ফিরোজ আহম্মেদ, রাজশাহী ব্যুরোঃ নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা খাদ্য খাদ্যগুদাম প্রাঙ্গণে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামান-এর সভাপতিত্বে ​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নওগাঁ-৬ (রাণীনগর- আত্রাই) আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আত্রাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম রেজু।

​উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রান্তিক কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য সরাসরি পায়। এই সংগ্রহ অভিযানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য সহ্য করা হবে না। প্রকৃত কৃষকরা যাতে হয়রানিমুক্ত ভাবে গুদামে ধান দিতে পারেন, প্রশাসনকে তা নিশ্চিত করতে হবে। ​

এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শামসুন্নাহার, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার, উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা.আবু আনাছ, আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল করিম, খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার সরকার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আব্দুল জলিল চকলেট, সাধারণ সম্পাদক মো. তসলিম উদ্দিন, যুগ্ম-সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নান সরদার ও মো. নিয়মত আলী বাবু, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. মনোয়ার হোসেন লোটাস প্রমুখ।

​সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে ধান-চাল সংগ্রহ করতে বদ্ধপরিকর। সরকারের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী ধান পরীক্ষা করে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কেনা হবে। কোনো সিন্ডিকেট বা অসাধু চক্র যাতে কৃষকদের অধিকার নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য আমাদের টিম সার্বক্ষণিক তদারকি করবে।

​উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৩৬ টাকা কেজি দরে সরাসরি কৃষকদের নিকট থেকে ১ হাজার ৯৫৫ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হবে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন পর্যন্ত ধান সরকারি খাদ্যগুদামে দিতে পারবেন। এছাড়াও চুক্তিবদ্ধ মিলারদের নিকট থেকে ৪৯ টাকা কেজি দরে ১৬৩ মেট্রিক টন চাল ও ৩৬ টাকা কেজি দরে ৭১মেট্রিকটন গম সংগ্রহ করা হবে। ৩রা মে থেকে ​আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত এই সংগ্রহ অভিযান চলমান থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

সিন্ধু জলচুক্তি: শান্তির দলিল নাকি একতরফা ছাড়ের ইতিহাস?

 সিন্ধু জলচুক্তি: শান্তির দলিল নাকি একতরফা ছাড়ের ইতিহাস?


নিজস্ব সংবাদদাতাঃ সিন্ধু জলচুক্তিকে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক ইতিহাসে প্রায়ই একটি “সফল সমঝোতা” হিসেবে তুলে ধরা হয়। কিন্তু যেকোনো চুক্তির প্রকৃত মূল্যায়ন করতে হলে শুধু তার স্থায়িত্ব নয় বরং এর ভেতরের ভারসাম্যও দেখতে হয়। ১৯৬০ সালের এই চুক্তি ছয় দশকের বেশি সময় ধরে টিকে আছে এটি সত্য। তবে একই সঙ্গে এটিও সত্য, শুরু থেকেই এই চুক্তির কাঠামোর মধ্যে ছিল এক ধরনের অসমতা, যার প্রভাব আজও নানা আলোচনায় বারবার ফিরে আসে।

সিন্ধু নদী ব্যবস্থা মূলত ছয়টি প্রধান নদী নিয়ে গঠিত সিন্ধু, ঝিলম, চেনাব, রাভি, বিয়াস ও শতদ্রু। এই নদীগুলোর পানি শুধু কৃষিকাজের জন্য নয়; পানীয় জল, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পের জন্যও অপরিহার্য। দেশভাগের পর এই নদীগুলো দুই রাষ্ট্রের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু ভৌগোলিক বাস্তবতা ছিল এমন যে, অধিকাংশ নদীর উজান ভারতের ভূখণ্ডে, আর পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ কৃষিভিত্তিক অঞ্চল ছিল ভাটির পানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে নদী প্রশ্নটি দ্রুতই রাজনৈতিক ও কৌশলগত ইস্যুতে পরিণত হয়।

১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে পানি নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়। ভারত উজানের দেশ হিসেবে প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রণের সুবিধা পেলেও শুরু থেকেই সম্পূর্ণ আধিপত্যের পথে হাঁটেনি। বরং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করে। অন্যদিকে পাকিস্তান বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরে এবং ক্রমাগত চাপ তৈরির কৌশল নেয়। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংক মধ্যস্থতায় এগিয়ে আসে। ১৯৫৪ সালে বিশ্বব্যাংক যে প্রস্তাব দেয়, সেটিই পরে মূলত সিন্ধু জলচুক্তির ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। প্রস্তাবে বলা হয়, পূর্বাঞ্চলের নদী রাভি, বিয়াস ও শতদ্রু ভারত ব্যবহার করবে। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের নদী সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত হবে। এখানেই প্রথম বড় বৈষম্যের প্রশ্ন ওঠে। কারণ পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর প্রবাহ ছিল তুলনামূলক অনেক বেশি।

চুক্তির চূড়ান্ত রূপ স্বাক্ষরিত হয় ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, করাচিতে। ভারতের পক্ষে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু, পাকিস্তানের পক্ষে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি এতে স্বাক্ষর করেন। আন্তর্জাতিক মহলে এটিকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। কিন্তু চুক্তির ধারাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভারত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে।চুক্তি অনুযায়ী পূর্বাঞ্চলের তিন নদীর পূর্ণ ব্যবহারিক অধিকার ভারত পেলেও পশ্চিমাঞ্চলের তিন নদীর মূল প্রবাহের ওপর অধিকার কার্যত পাকিস্তানের হাতে চলে যায়। হিসাব অনুযায়ী পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোর বার্ষিক প্রবাহ ছিল প্রায় ১৩৫ মিলিয়ন একর-ফুট (MAF), আর পূর্বাঞ্চলীয় নদীগুলোর প্রবাহ ছিল প্রায় ৩৩ মিলিয়ন একর-ফুট। অর্থাৎ মোট পানির প্রায় ৮০ শতাংশ পাকিস্তানের অংশে যায়, আর ভারত পায় মাত্র ২০ শতাংশের মতো।

এখানেই বিষয়টি শেষ হয়নি। ভারতকে পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোতে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও থাকতে হয়। চেনাব নদী থেকে প্রায় ৩.৬ MAF পানি সরিয়ে নেওয়ার অধিকার ভারতকে ছেড়ে দিতে হয়। মাধোপুর বা ফিরোজপুর হেডওয়ার্কসের মতো গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার প্রশ্নেও ভারতকে নমনীয় অবস্থান নিতে হয়েছে। এমনকি কিছু এলাকায় নতুন সেচ প্রকল্প বা জলউন্নয়ন কার্যক্রমেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে কারিগরি শর্ত। ভারত নিজের ভূখণ্ডে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প করতে পারবে, তবে তার নকশা, পানি সংরক্ষণের ক্ষমতা, এমনকি বাঁধের গঠন নিয়েও নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হবে। অর্থাৎ নদী ভারতের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হলেও তার পূর্ণ ব্যবহারিক স্বাধীনতা ভারতের হাতে ছিল না।

আরও বিস্ময়কর বিষয় ছিল আর্থিক ছাড়। চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত পাকিস্তানকে প্রায় ৬২ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থ প্রদান করতে সম্মত হয়, যাতে পাকিস্তান বিকল্প খাল ও অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি ছিল এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। কারণ এখানে উজানের দেশ শুধু পানির বড় অংশ ছেড়েই দেয়নি, সেই সঙ্গে ভাটির দেশের অবকাঠামো গঠনের জন্যও অর্থ দিয়েছে। সমর্থকেরা বলেন, এই চুক্তির কারণেই দুই দেশের মধ্যে পূর্ণমাত্রার জলসংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ১৯৬৫, ১৯৭১ কিংবা কারগিল সংঘাতের সময়ও সিন্ধু জলচুক্তি পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। এটিকে তারা চুক্তির স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতার প্রমাণ হিসেবে দেখান। তবে সমালোচকদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের মতে, চুক্তিটি এমন একটি কাঠামো তৈরি করেছে যেখানে ভারত নিজের ভূখণ্ডে থাকা নদীগুলোর ওপরও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করতে পারেনি, অথচ পাকিস্তান দীর্ঘমেয়াদে তুলনামূলক বেশি সুবিধা পেয়েছে। বিশেষ করে পানি যখন ভবিষ্যতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ হয়ে উঠছে, তখন এই ধরনের একতরফা ছাড় নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ছে। 

আজ, ছয় দশক পরে এসে সিন্ধু জলচুক্তিকে শুধু “শান্তির প্রতীক” বলে দেখলে হয়তো পুরো বাস্তবতাকে অস্বীকার করা হবে। ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ পাঠ হলো একটি রাষ্ট্রের শক্তি শুধু তার সামরিক বা অর্থনৈতিক সক্ষমতায় প্রকাশ পায় না বরং অনেক সময় তার সংযম ও দায়িত্ববোধেও প্রকাশ পায়। সিন্ধু জলচুক্তিতে ভারত সেই সংযমেরই পরিচয় দিয়েছিল। উজানের দেশ হয়েও নদীর বড় অংশের ব্যবহারিক সুবিধা ছেড়ে দেওয়া, এমনকি অবকাঠামো নির্মাণে আর্থিক সহায়তা করা ছিল ভারতের বিরল এক কূটনৈতিক উদারতা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই উদারতার বিনিময়ে কি সত্যিই দুদেশের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, নাকি সময়ের সঙ্গে সেটি ভারতের একতরফা ছাড় দিয়ে যাওয়ার স্থায়ী কাঠামোয় পরিণত হয়েছে?