"বিশ্বে যা কিছু সৃষ্টি চির কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর"
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের উক্তিটি খুবই যৌক্তিক এবং বাস্তবভিত্তিক একটি বানী।পৃথিবীতে যতগুলো ধর্ম রয়েছে তার মধ্যে একেবারে আধুনিক, সহজ এবং চমৎকার ধর্ম হচ্ছে ইসলাম ধর্ম। আর ইসলাম ধর্ম নারীকে দিয়েছেন যথেষ্ট মর্যাদা ও সম্মান। যা কুরআন, হাদীস এবং ইসলামের পূর্ব ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য করলে স্পষ্টত প্রতীয়মান।যা মুসলিম ও একজন মানব হিসেবে অকপটে মেনে নিচ্ছি। কারন নারী মা হিসেবে,সেবিকা হিসেবে, শিক্ষক হিসেবে এমনকি সমাজ বিনির্মানে প্রচুর অবদান রেখেছেন। যা ইতিহাসে কালের সাক্ষী হয়ে রয়েছে। তবে কিছু জায়গায় নারীকে একটি পরিত্রাণ দিয়ে পুরুষ কে সেখানে স্থান দেয়া সম্ভবত সময়ের একটি যৌক্তিক আবেদন।জ্বি! বলছি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে পুরুষের পদটি একটু বিস্তৃত করনে।
একটি প্রবাদ রয়েছে যে, "প্রয়োজনই আবিস্কারের উদ্ভাবক" সব কিছুই আবিষ্কার হয় প্রয়োজনের তাগিদে।
ইংরেজি একটি কথা যা না বললেই নয়
"Hungry dog is an angry dog " ক্ষুধায় জ্বালায় বাচবিচার থাকে না। সাম্প্রতিক আমরা লক্ষ্য করেছি যে, প্রতিটি পত্র পত্রিকা ও নিয়োগ বিজ্ঞাপ্তিতে খুব সুন্দর ও পরিপাটি করে লিখা এবছর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে থাকছে না কোন কোটা পদ্ধতি। অথচ ৬০%, নারী, ২০% পোষ্য কোটা ও ২০% পুরুষ নামক বেড়াজালে আবদ্ধ এই নিয়োগ প্রক্রিয়া টি।যার কারনে বিশাল অংকে অবমূল্যায়ন করা হয় মেধাবীদের। প্রাথমিক নিয়োগে নারীদের এই বিশাল অগ্রাধিকার কোন এক প্রশ্নের উত্তরে বিশিষ্ট মহল থেকে বলা হয় যে,এই প্রতিষ্ঠান গুলোতে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা করানো হয়।আর এত শিক্ষা দানকারীদের প্রয়োজন হয় প্রচুর ধৈর্য ও সহনশীল মনোভাব। যা একমাত্র নারীদেরই রয়েছে।আমি এই কথাটির সাথে কিছুটা একমত হলেও পুরোপুরি মেনে নিতে পারছি।কারন "Hungry dogs is an angry dog "
তাছাড়া দেখতে হবে নারীদের চাকুরী টা বেশী দরকার না ছেলেদের???????
একটা ছেলের উপর নির্ভর করে অনেক গুলো সদস্য। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে দেখা যায় যে, অনেক চাকরি প্রার্থী বিশেষ কারনে নিয়োগ না পেয়ে আত্মহত্যার মধ্য জঘন্য পথকে বেঁচে নিয়েছে।
এবার দেখুন আমাদের সংবিধান কি বলে? সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের ১৯নং অনুচ্ছেদে বলা আছে,জাতীয় জীবনের সর্বস্তরের মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।
অন্যদিকে সংবিধানের তৃতীয় ভাগের ২৯নং অনুচ্ছেদে রয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদলাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে।
সংবিধানের একই ভাগের ২য় অনুচ্ছেদের বলা আছে,সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।
বর্তমান প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংবিধানের এই ধারা গুলো মান্য হয় কিনা বিচার পাঠক মহলে।
সংবিধানের ধারাগুলো মান্য করে নিয়োগ দান করলে দেশে হয়ত বেকারের সংখ্যা কিছু টা হলেও কমত।
সরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে একটি গবেষণায় দেশে মাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী তরুণদের এক-তৃতীয়াংশ পুরোপুরি বেকার বলে যে তথ্য উঠে এসেছে, তাতে আমরা উদ্বিগ্ন না হয়ে পারি না। এই গবেষণায় দেখা যায়, শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে সম্পূর্ণ বেকার ৩৩ দশমিক ৩২ শতাংশ। বাকিদের মধ্যে ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ সার্বক্ষণিক চাকরিতে, ১৮ দশমিক ১ শতাংশ পার্টটাইম বা খণ্ডকালীন কাজে নিয়োজিত। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক কে এ এস মুর্শিদের নেতৃত্বে একটি দল ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সের শিক্ষিত তরুণদের নিয়ে ফেসবুক ও ই-মেইলের মাধ্যমে এই অনলাইন জরিপ পরিচালনা করেছে। জরিপ অনুযায়ী, শিক্ষা শেষে এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত বেকার ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ, দুই বছরের চেয়ে বেশি সময় ধরে বেকার ১৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত বেকার ১৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
এর আগে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ জরিপে দেশে মোট শ্রমশক্তির ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেকার বলে জানানো হয়েছিল। বিবিএসের জরিপের তুলনায় বিআইডিএসের অনলাইন জরিপে শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি। বাংলাদেশে বেকারত্বের ভয়াবহতা জানতে কোনো জরিপের প্রয়োজন হয় না। বিসিএস ক্যাডার সার্ভিস কিংবা অন্য কোনো খাতে একটি শূন্য পদে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা দেখলেই সেটি অনুমান করা যায়।
বেসরকারি বা আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থা এই জরিপ করলে সরকারের নীতিনির্ধারকেরা হয়তো অসত্য বলে উড়িয়ে দিতেন। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানের এই জরিপের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। কেবল বিআইডিএস বা বিবিএসের জরিপ নয়, দেশি-বিদেশি প্রায় সব জরিপ ও পরিসংখ্যানেই বাংলাদেশে শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চ বেকারত্বের তথ্য-উপাত্ত উঠে এসেছে। কয়েক বছর আগে ইকোনমিক ইনটেলিজেন্স ইউনিটের জরিপে বলা হয়েছিল, বিশ্বে বাংলাদেশেই শিক্ষিত বেকারের হার সর্বোচ্চ।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নূতন নীতিমালায় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কোটার ব্যাপারে বলা হয়েছে, সহকারী শিক্ষক পদে পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক করা হয়েছে। এ বিধিতে বলা হয়েছে, কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক বা অনার্স অথবা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। বয়সসীমা ২১ থেকে ৩০ বছর।
তবে নারী প্রার্থীদের জন্য ৬০ শতাংশ কোটা বহাল থাকবে। ২০ শতাংশ পোষ্য কোটা ও বাকি ২০ শতাংশ পুরুষ প্রার্থীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিষয়ে পাস প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। যদি ২০ শতাংশ কোটা পূরণ না হয়, তবে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত পরিপত্রে বলা হয়, নবম গ্রেড (আগের প্রথম শ্রেণী) এবং দশম থেকে ১৩তম গ্রেডের (আগের দ্বিতীয় শ্রেণী) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হল। এখন থেকে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদে কোটা ব্যবস্থা আগের মতোই বহাল থাকবে। শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রার্থীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর নবম থেকে ১৩তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রিসভা। পরদিনই পরিপত্র জারি হল। এর মাধ্যমে ৪৬ বছর ধরে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে যে কোটা ব্যবস্থা ছিল তা বাতিল হয়ে গেল। সরকারি চাকরিতে নিয়োগে এতদিন ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত ছিল। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ। পরিপত্রে বলা হয়, ‘সরকার সকল সরকারি দফতর, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন কর্পোরেশনের চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৭ সালের ১৭ মার্চ জারি করা কোটা পদ্ধতি সংশোধন করল।তবে কমিটির একটি সুপারিশ অনুযায়ী, ভবিষ্যতে পর্যালোচনা করে যদি কোনো অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা অপরিহার্য হয়, তাহলে সরকার সেই ব্যবস্থা নিতে পারবে- এ বিষয়ে পরিপত্রে কিছু বলা হয়নি।
সাম্প্রতিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদটি ১৩তম গ্রেড করা হয়েছে। আর তাই এখানে ৬০% নারী কোটা,২০%পোষ্য ও ২০% পুরুষ কোটা পদটি সংস্কার করার জোর অনুরোধ করছি,তার অন্যতম একটি কারন চাকুরী টা মেয়েদের চেয়ে পুরুষের অত্যধিক বেশি প্রয়োজন।
এই লিখাটি হাজার যুবকের চোখের জল আর কলিজা ছেঁড়া আর্তনাদের ভাষা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত লেখাটি পৌঁছলে আশু কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার জোর অনুরোধ করছি।
লেখক ও শিক্ষক,
মোঃ আওলাদ হোসেন
দৌলতখান, ভোল।
