কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি : জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতিতে সহায়তা করেন ইউপি চেয়ারম্যান, তারপর নাবালিকা মেয়েকে সাবালিকা দেখিয়ে বিয়ে দেন কনের বাবা। এমনি একটি বিতর্কমৃলক ঘটনা ঘটেছে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার ১নং প্রাগপুর ইউনিয়নে । মেয়েটির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার সনদ বলছে মেয়েটির জন্ম ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০০৭ । ২০১৬ সালে মেয়েটি পরীক্ষা দেয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী তাহলে মেয়েটির এখন পড়ার কথা ৯ম শ্রেণীতে । সে হিসাবে তার বর্তমান বয়স দাঁড়ায় প্রায় ১৩ বছর ।
সম্প্রতি জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতি করে এক পিতা তার নাবালিকা ৯ম শ্রেণি পড়ুয়া কন্যাকে বাল্য বিবাহ দেওয়ার ঘটনা ফাসঁ হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে,উপজেলার ১নং প্রাগপুর ইউনিয়নের মুসলিম নগর গ্রামে ।
এদিকে প্রতিবেদকের হাতে আসে একই নামের আরেকটি জন্ম নিবন্ধন সনদ যা মেয়েটির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার সনদের সাথে মিলে যায়। জন্ম নিবন্ধন সনদ টি প্রদান করা হয় ভেড়ামারা পৌরসভা থেকে । যেটি ইস্যুর তারিখ ২৫,০৫,২০১৫ ও নিবন্ধন বহি নং ০৮। তাহলে এবার প্রশ্ন দাঁড়ায় একজন ব্যক্তির ভিন্ন বয়সের জন্ম সনদ দুটি হলো কিভাবে ? যা এখনও রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন স্থানীয় সরকার বিভাগের ওয়েব সাইটে বহাল ।
একটি সূত্রে জানা যায়, মুসলিম নগর গ্রামের মোঃ সোহরাব হোসেন তার নাবালিকা কন্যা স্কুল ছাত্রী মোছাঃ সুরাইয়া ইয়াসমিন সুরভীর বিবাহ দেওয়ার জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্ম নিবন্ধনে মেয়ের বয়স বাড়িয়ে একটি সার্টিফিকেট করে নেয় । এর পর ওই জন্ম নিবন্ধন দিয়ে তার মেয়েকে বিয়ে দেন চলতি বছরে জুন মাসের ২৯ তারিখে ।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মুকুল মাস্টারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ০২ নভেম্বর প্রতিবেদককে বলেন, আমি মেয়েদের জন্ম সনদ প্রদানের আগে তাদেরকে স্ব শরীরে দেখে তারপরে স্বাক্ষর করি তবে তার পরিষদ থেকে অপ্রাপ্ত বয়সকো মেয়েদের বয়স বাড়িয়ে জন্ম সদন দেবার বিয়য়ে তিনি বলেন এটা হওয়ার কথা না তারপরেও আমি বিষটি দেখে আপনাকে কাল পরশু জানাব । তাকে ০৩ নভেম্বর রাতে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন আমি বিষয়টি দেখেছি ওই মেয়েটি তার এস.এস.সি সার্টিফিকেট দেখিয়ে জন্ম সনদটি তৈরি করেছে ।
২৩,০২,২০১৯ তারিখে ইস্যু একি ব্যাক্তির আরেকটি জন্ম নিবন্ধন সনদ যার নিবন্ধন বহি নং ১৪। এই নিবন্ধনটি তৈরি করাহয় উপজেলার ১ নং প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যা বহাল আছে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন স্থানীয় সরকার বিভাগের ওয়েব সাইটে ।
এদিকে মেয়েটি বর্তমানে মহিষকুন্ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছত্রী বলে জানিয়েছেন একটি বিশস্ত সুত্রে।
