কাজী মোঃ এয়াকুব আজও স্মৃতির মিনারে চির অম্লান

সেলিম   চৌধুরী, স্টাফ  রিপোর্টারঃ-মরহুম কাজী মোঃ এয়াকুব এর আগামী ৯ই ডিসেম্বর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজকে দুই কলম লিখতেছি, কাজী সাহেব আমাকে নিজের ছোট ভাইয়ের মত ভালবাসতেন, দীর্ঘ দিন তাঁর সাথে চলার পথে আমি দেখেছি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে ধারণ করে চট্রগ্রাম দক্ষিণ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অসংখ্য নেতা-কর্মী সৃষ্টি করেছেন এবং সব সময় নেতা-কর্মীদের সুখ-দুঃখ ভাংগ করে নিতেন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য পটিয়া থানার মোড়ের ভাড়িটি ছিল অমূক্ত। আমি  চলার পথে দেখেছি সব সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে ও আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থেকে নেতা-কর্মীদের সাহস যোগিয়ে রাজপথে নেতৃত্ব  দিয়ে আন্দোলন সফল করতে। আমৃত্যু দল ও দেশের জন্য সংগ্রাম করে গিয়েছিল, বুকে আগলে রেখেছিল রাজপথে,১৯৮৭ সালে ছাত্র নেতা হিসেবে ঢাকা চলো আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল ও ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরুদ্ধী গন আন্দোলনের সময় এরশাদের কথিত স্ত্রী মরিয়ম মমতাজের লিপলেট সহ লাল দিঘির পুরাতন গীর্জায় চট্রগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির অফিসের সামনে থেকে ডিবি পুলিশের কাছে গ্রেফতার হয়।কাজী এয়াকুব গন মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন আজীবন।

পটিয়া থানার অন্তর্গত কচুয়াই গ্রামে ১৯৬৪ সালের ২৮ শে সেপ্টেম্বর রোজ রবিবার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে মরহুম কাজী মোহাম্মদ ইউনুছ এর ঘরে জন্ম গ্রহন করেন।

কাজী মোঃএয়াকুব এর শিক্ষা জীবন শুরু হয় কচুয়াই মাতাদীনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে,অত্র বিদ্যালয় হতে ৩য় শ্রেণী পাশ পরিবর্তী ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণী মোহছেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে প্রাথমিক পাশ শেষে পটিয়ার স্বনামধন্য এ,এস, রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৮০ সালে এস সি এবং দক্ষিন চট্টলার ঐতিহ্যবাহী পটিয়া সরকারী কলেজ থেকে এইচ এস সি ও ডিগ্রি পাশ করেন এবং পাশাপাশি আরবি শিক্ষাও গ্রহন করেন।তিনি লোহাগাড়া সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও আলিম এবং ওয়াজেদীয়া আলিয়া মাদ্রাসা পাঁচলাইশ থেকে কামিল পাশ করেন।

কাজী মোঃ এয়াকুব এর রাজনৈতিক জীবন এ,এস, রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে  অধ্যায়নত থাকা অবস্থায় হাতেখড়ি সংগঠনের মাধ্যমে ডানপন্থী ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার মধ্য দিয়ে এবং তারই ধারাবাহিতায় ১৯৮০ সালে পটিয়া সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচন করার মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে কাজী মোঃ এয়াকুবের উত্থান।১৯৮০-১৯৮৪ সালে পটিয়া কলেজ ছাত্র দলের সভাপতি এবং ১৯৮৫ সালের দক্ষিণ জেলা ছাত্র দলের আহবায়ক ও ১৯৮৭-১৯৯০ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ জেলা ছাত্র দলের সভাপতি ছিলেন। ১৯৯১ হতে ১৯৯৫ সালে চট্রগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি ও যুব দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন,১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ডানপন্থী ছাত্র সংগঠন গুলো সংগ্রামী ছাত্র জোট গঠন করলে কাজী মোঃ এয়াকুবকে দক্ষিণ জেলা সংগ্রামী ছাত্র জোটের আহ্বায়ক নির্রবাচিত করা হয়। সংগ্রামী ছাত্র জোটের পাশাপাশি বাম ছাত্র সংগঠন গুলো দক্ষিণ জেলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে, আন্দোলনের গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে সংগ্রামী ছাত্র জোট ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ের জন্য ১৯৯০ সালে দক্ষিণ জেলা উভয় সংগঠনের সমন্বয়কারী হিসাবে কাজী মোঃ এয়াকুবকে নির্বাচিত করেন।পরবর্তীতে পটিয়া থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য এবং দলীয় বিভিন্ন কমিটিতে ছিলেন।কাজী মোঃ এয়াকুব ছিলেন জাতীয়তাবাদী রাজনীতির নিবেদিত প্রান। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে ড. কর্ণেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম (অবঃ) লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি -এলডিপি গঠন করলে কাজী মোঃ এয়াকুব এলডিপিতে যোগদান করেন এবং এলডিপি'র পটিয়া পৌরসভার প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক ও চট্রগ্রাম দক্ষিণ জেলার সহ-সভাপতি হন।পরবর্তীতে ২০১৭ সালে  পটিয়া পৌরসভা এল,ডি,পি'র সভাপতি নির্বাচিত হন।

কাজী মোঃএয়াকুব কলেজ পর্যায়ে ছাত্র রাজনীতি শুরু করে জেলা ও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও প্রিয়মুখ  ছিলেন নেতা-কর্মীদের মাঝে। তিনি একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ব্যক্তিত্ব ছিলেন।একাধারে তিনি একজন, রাজনৈতিক নেতা,সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী।সদা কর্মচঞ্চল, মানবদরদি ও কর্মীবান্ধব  ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে আদর্শবান রাজনৈতিক ও সমাজসেবক কর্মী হিসেবে সবার কাছে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।চট্রগ্রাম দক্ষিণ জেলা বা পটিয়া উপজেলায় জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে যদি কেউ এমন কোনো আদর্শবান রাজনীতিবিদ কিংবা সমাজসেবীর নাম বলতে চান তাহলে নিঃসন্দেহে তার নাম বলতে হবে। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাহায্যের হাত বাড়ানো এবং অসহায় মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে একজন উঁচুমাপের সমাজসেবক হিসেবে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছিলেন।

 অসম্ভব মেধা, প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস ও সময়োপযোগী কর্মোদ্যগের মাধ্যমে বহু আগেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন। তিনি দলের ক্রান্তিকালে কেন্দ্রীয়  নির্দেশ পালনের মাধ্যমে দক্ষিণ জেলা ও পটিয়া বিএনপির নেতা-কর্মীদের সুসংগঠিত করতে চেষ্টা করেছেন। সামরিক শাসন আর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে রাজপথে ছিলেন।স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময়,হামলা-মামলা-নির্যাতন- জেল জুলুম সহ্য করে তিনি এক এক করে কর্মীদের প্রিয় মুখ হয়ে উঠেছিল আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই...

আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি আল্লাহ ভাইয়ের জীবনের সমস্ত গুনহ মাপকরে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন..আমিন। লেখাগুলো লিখেছেন সাইফুর রহমান, সদস্য লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি, 
চট্রগ্রাম দক্ষিণ জেলা।

শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট