শৈলকুপা প্রেসক্লাবে পৌর মেয়রের ক্যাডার বাহিনীর অতর্কিত হামলা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :ঝিনাইদহের শৈলকুপা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে হামলা করেছে পৌর মেয়র কাজী আশরাফুল আজমের ক্যাডার বাহিনী। শনিবার সন্ধ্যার পর এ হামলার ঘটনা ঘটে। 

জানা যায়, শৈলকুপার কবিরপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সংলগ্ন প্রেসক্লাব কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. এনামুল হোসাইন সুমনের সাথে সাংবাদিকদের মত বিনিময় সভা চলছিলো। মত বিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন শৈলকুপা প্রেসক্লাবের সভাপতি মাসুদুজ্জামান লিটন, সহ সভাপতি এনায়েত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শিহাব মল্লিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক এইচএম ইমরান, সদস্য রাজিব মাহমুদ টিপু, জেলা প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য সুলতান আল একরামসহ প্রায় ২০জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

এসময় রাস্তার পাশে চেচামেচি শুনে সাংবাদিকরা মতবিনিময় সভা ছেড়ে সেখানে এগিয়ে যায়। এগিয়ে যেয়ে দেখতে পায় উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান ভুট্টোর উপর দূর্বত্তরা হামলা করেছে। সাংবাদিকরা হামলার ভিডিও বা ছবি তুলেছে এমন সন্দেহে হামলাকারীরা সাংবাদিকদের তাড়া করেন। সাংবাদিকরা দৌড়ে প্রেসক্লাবে ফিরে গেলে হামলাকারীরা সাংবাদিদের মারার উদ্দেশ্যে প্রেসক্লাব কার্যালয়ে চাপাতি, লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঢুকে পড়ে। এসময় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও সাংবাদিকরা হামলাকারীদের বাধা প্রদান করতে গেলে তারা চেয়ার তুলে সাংবাদিকদের এলোপাতাড়ি ছুড়ে মারে। বাধ্য হয়ে সাংবাদিকরা মতবিনিময় সভা তাৎক্ষনাত বন্ধ করে দিয়ে পুলিশকে খবর দেয়। প্রেসক্লাব কার্যালয়ে পুলিশ উপস্থিত হওয়ার পর হামলাকারীরা স্থান ত্যাগ করে বীরদর্পে ঘটনাস্থল ছেড়ে পৌর ভবনে অবস্থান নেয়। 

এদিকে উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান ভুট্টো জানান, ১০ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তণ দিবস উপলক্ষ্যে আমি দলীয় নির্দেশে শনিবার সন্ধ্যায় কবিরপুর ফুল ঘরে পুষ্টস্তবক অর্ডার দিতে যায়। এসময় পৌর মেয়র কাজী আশরাফুল আজমের ক্যাডার সেজান, ইমদাদ, জুয়েল, সোলাইমান, হাফিজ, পল্টন, আজাদ ও টিটুসহ অন্তত ২০/২৫ মিলে আমার উপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। আমার চিৎকার চেচামেচিতে পাশর্^বর্তী প্রেসক্লাব থেকে স্থানীয় সাংবাদিকরা ছুটে আসলে হামলাকারীরা আমাকে ছেড়ে সাংবাদিকদের ধাওয়া করে। এ সুযোগে আমি সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হই। তবে ততক্ষনে আমার উপর লাঠিসোটা দিয়ে আঘাত করে ও চড় থাপ্পর মারে হামলাকারীরা। 

যুবলীগ নেতা ও সাংবাদিকদের উপর মেয়রের ক্যাডার বাহিনীর হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল ফুঁসে উঠেছে। 

এ ঘটনায় ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। প্রেসক্লাবে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট