মাদ্রাসার অধ্যক্ষ দ্বারা একাদিক ছাত্র বলৎকার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি,হাসান রিফাতঃচট্টগ্রামের ইপিজেড থানার কাজির গলি এলাকায় একটি মাদ্রাসার ও হেফজখানার অধ্যক্ষ মো. মামুনুর রশীদ। অবসর সময়ে ছাত্রদের তার কক্ষে ডেকে নিয়ে করানো হতো অধ্যক্ষের 'বডি ম্যাসেজ'। সেখানে বাদ যেতো না অধ্যক্ষের গোপনাঙ্গের ম্যাসেজও। দীর্ঘক্ষণ 'বডি ম্যাসেজ' করাকালে বলাৎকারের শিকার হয়েছে অন্তত ৫-৬ জন কোমলমতি ছাত্র।

অভিযোগে জানা গেছে, একেক সময়ে একেকজন ছাত্র অধ্যক্ষের যৌন নির্যাতনের শিকার হতো। এ ঘটনায় একজন ছাত্রের অভিভাবকের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আটক করে পুলিশ।

শনিবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার কাজিরগলির ভেতরে মোস্তফা ভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্ত মো. মামুনুর রশীদ চট্টগ্রাম তাহফিজুল কুরআন মডেল মাদ্রাসার ও তারবিয়াতুল উম্মাহ্ মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।

একাধিক ভুক্তভোগী ছাত্ররা বলেন, সকাল ও সন্ধ্যার সময়ে হেফজখানার পড়ার সময় একেকদিন একেকজন ছাত্র ডেকে নিয়ে যান অধ্যক্ষ। ওনার হাত-পা ম্যাসেজ করার নামে আমাদের শরীর উলঙ্গ করে জড়িয়ে ধরে তার গোপনাঙ্গ টিপানো হতো। এসময় তার গোপনাঙ্গটি আমাদের গোপনাঙ্গে লাগিয়ে রাখা হতো দীর্ঘক্ষণ।
তারা আরও বলেন, এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে অধ্যক্ষ হুশিয়ারি করে ফতোয়া দেন 'কাউকে এসব কথা বললে, হুজুরের বদদোয়া লেগে পড়া মুখস্ত করতে পারবে না। এভাবে তার কক্ষে গিয়ে ৫-৬ জন ছাত্র যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।থানায় অভিযোগ দায়েরকারী এক ছাত্রের অভিভাবক বলেন, 'প্রায় দুই বছর ধরে আমার ছেলে ওই মাদ্রাসায় হেফজখানায় পড়ছে। হঠাৎ ছেলে বলল, হেফজখানায় আর যাবে না। কেন পড়বে না— জানতে গেলে পরে এসব অপকর্মের বর্ণনা দেয় ছেলে। এ ঘটনার পর তার সহপাঠীদের সঙ্গে আলাপ করলে তাদের সঙ্গেও মামুনুর রশীদ একই আচরণ করেছেন বলে জানায়।'

তিনি আরও বলেন, 'এ ঘটনায় পর শনিবার (২৩ জানুয়ারি) একটি ইপিজেড থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। যাতে আর কোনো কোমলমতি ছাত্রের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারের করার সুযোগ না পায়, তার বিচার চাই।'

বিষয়টি নিশ্চিত করে ইপিজেড থানার ওসি উৎপল বড়ুয়া বলেন, 'মাদরাসার হেফজখানার একাধিক ছাত্রের সঙ্গে যৌন নির্যাতনের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মামুনুর রশীদ নামের এক মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।

শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট