নওগাঁর আত্রাইয়ে সদ্য জাতীয়করণকৃত শিক্ষক- কর্মচারীরা বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন


মোঃ ফিরোজ হোসাইন রাজশাহী ব্যুরোঃ
নওগাঁর আত্রাইয়ে সদ্য জাতীয়করণকৃত আহসান উল্লাহ মেমোরিয়াল মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের আট মাস যাবত প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য। 
এমপিও শীট এবং শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নিয়োগকৃত ২ ও ৩ নম্বর বাদ দিয়ে ৪ নম্বর ক্রমিকে থাকা শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করায় বিদ্যালয়ে চরম বিশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজ করছে। এদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক  আর্থিক ক্ষমতা না থাকায় আট মাস যাবত বেতন না পেয়ে শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজতসহ দৈনন্দিন কার্যক্রমে নেমে এসেছে স্থবিরতা।
জানা যায়, গত ২৪ জুলাই ২০২০ ইং তারিখে আহসান উল্লাহ মেমোরিয়াল মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবসরে যান। এর পর আর্থিক ক্ষমতা বাদে বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এমপিও শীট এবং শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নিয়োগকৃত ২নম্বর ক্রমিকে থাকা মোহাম্মাদ মাহাতাব উদ্দিন এবং ৩ নম্বর ক্রমিকে থাকা শারমিন আখতার কে বাদ দিয়ে ৪ নম্বর ক্রমিকে থাকা জবা রানী ঘোষকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. ছানাউল ইসলাম। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যথাযথ নিয়মে না হওয়ায়  চ্যালেঞ্জ করে গত ৩ সেপ্টেম্বর মোহাম্মাদ মাহাতাব উদ্দিন আর্থিক ক্ষমতাসহ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর আবেদন করেন। অপরদিকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর জবা রানী ঘোষ একই পদে ডিজি বরাবর আবেদন করেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিজি) হতে গত ৫ নভেম্বর আর্থিক ক্ষমতার বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামত চেয়ে উপ-পরিচালক রাজশাহী অঞ্চলকে চিঠি দেন। চিঠির জবাবে গত ২৩ নভেম্বর রাজশাহী অঞ্চেলের উপ-পরিচালক ড. শারমিন ফেরদৌস চৌধুরী এমপিও শীট এবং শিক্ষামন্ত্রনালয়ের নিয়োগে থাকা ২ নং ক্রমিকের শিক্ষক মোহাম্মাদ মাহাতাব উদ্দিনকে আর্থিক ক্ষমতাসহ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে প্রদানের লক্ষে মতামত দেন। চিঠি প্রদানের পর আর্থিক ক্ষমতার মতামত যথাযথ হয়নি মর্মে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি হিউম্যান রাইটস ও মাইনরিটি ওয়ার্ড এর সভাপতি অ্যাডঃ বীরেন ঘোষ উপ-পরিচালক রাজশাহীকে টেলিফোনে উম্মা প্রকাশ করেন। টেলিফোন পেয়ে গত ২ ডিসেম্বর উপ-পরিচালক রাজশাহী অঞ্চল পুনরায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আইন সেলের পরামর্শ্বে মোতাবেক আর্থিক ক্ষমতা প্রদানের মতামত দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. ছানাউল ইসলাম বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক আর্থিক ক্ষমতাসহ প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের বেতন উত্তোলন করতে পারছেন না।

শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট