মাসুদ রানা সিরাজগঞ্জ জেলাপ্রতিনিধঃ সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নে সড়াতৈল গ্রামে দোকান ও বাড়ী ঘরে সন্ত্রাসী হামলা এবং লুটের অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬ শে জানুয়ারী মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় এই সন্ত্রাসী হামলা ও বাড়ী ঘর লুটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, সড়াতৈল গ্রামের মৃত কলিমুদ্দির ছেলে মোঃ রফিকুল ইসলাম (৫০) দীর্ঘ দিন ধরে সড়াতৈল বাজারে মুদির দোকানের ব্যবসা করে আসছে। খোলাবাড়ী গ্রামের মোক্তাল আকন্দের ছেলে মোঃ হবি (৫০), সড়াতৈল গ্রমের জলি মন্ডলের ছেলে শহিদ (৪০), মোঃ মকবুল (৪৮), শহিদের ছেলে মামুন (১৯), ফজেলের ছেলে আনন্দ (৪২) ও মারুফ (১৯), শুকদেবপুর গ্রামের কোরবানের ছেলে মোঃ শহিদুল ইসলাম (৩৫) সহ আর অজ্ঞাতনামা ৪/৫জন কে আসামী করে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় পৃথক ০২টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রফিকুলের ভাই শফিকুল ইসলাম। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় উক্ত আসামীরা রফিকুলের দোকান থেকে দীর্ঘ দিন ধরে বাকী খায়। কিন্তু ঐ দিন ও আবার বাকি চাওয়ার পরে রফিকুল বাকি না দেওয়াতে আসামীরা দল বল নিয়ে এসে দাকানে হামলা চালায় ও রফিকুলকে গরু জবাই করা ছোরা দিয়ে এলোপাতারি কোপ শুরু করে। রফিকুলের চিৎকারে পাশে থাকা তার ছেলে সিরাজগঞ্জ বিএল স্কুলের এস.এস.সি পরীক্ষার্থী সাকিবাল হাসান আসলে তাকেও ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে এলোপাতারি পিটুনি শুরু করে। তাদের আত্মচিৎকারে আশে পাশের দোকানদার সহ এলাকারবাসী ছুটে আসলে আসামীরা লুট করে পালিয়ে যায়। মূমুর্ষ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ভাই ও ভাতিজাকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তারা এখন সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। সংঙ্গে সংঙ্গে ৯৯৯ ফোন করলে সিরাজগঞ্জ সদর থানা থেকে এসআই মাহমুদ হাসান তার সঙ্গে ফোর্স নিয়ে এসে সরে জমিনে গিয়ে ঘটনাস্থল দেখে যান। রফিকুল ইসলামের ভাই শফিকুল ইসলাম তিনি বলেন দোকান লুট সহ আমাদের আত্মীয় আজাহার আলীর (মাধু শেখ) এর ছেলে মোঃ রফিকুল ইসলাম ইট ব্যবসায়ী আমার ভাইয়ের নাম ও তার নাম একই হওয়ায় তাদের সাথে সম্পর্ক ভালো থাকায় প্রথমত অবস্থায় আমার ভাইয়ের মিতার বাড়ীতে হামলা করে ঘরের ঘাট, বাক্স, ছোকেচ, আলমারী সহ যাবতীয় আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং বাক্স ভেঙ্গে তার ঘরে থাকা জমির সকল দলিল পত্র, স্বর্ণ অলংকার ও নগদ সাড়ে ১০ লক্ষ টাকা সহ লুট করে। রফিকুল ইসলামের ছেলে বকুল হোসেন জানান, দীর্ঘ দিন ধরে আমার বাবার কাছ থেকে এরা চাঁদা দাবী করতো, মাঝে মাঝে অল্প কিছু টাকা বাধ্য করে নিতো। কিন্ত মোটা অংকের টাকা দাবী করাতে আমার বাবা টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমাদের বাড়ীর ওপর হামলা করে। সেখান থেকে এসে আমার ভাইয়ের দোকানে হামলা করে। এ ব্যাপারে পাশের দোকানদার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে চা ব্যবসায়ী কোরবান আলী, আবুল কাশেম, শাহীনুর, সিয়াম উদ্দিন তারা বলেন বাদ মাগরিব আমারা চা খাওয়ার জন্য দোকানে বসে আছি হঠাৎ দেখি এই সন্ত্রাসী বাহিনী দোকানদার রফিকুলের মিতার বাড়ী ভেঙ্গে রফিকুলের দোকানে হামলা করে। তাদের হাতে ছিল ছুটি, হকিস্টিক, লোহার রড, ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প, একজনের হাতে গরু জবাই করা ছুরি। আমাদের দোকান রক্ষার্তে দোকান বন্ধ করে চিৎকার শুরু করলে গ্রামের লোকজন আসা দেখলে তারা পালিয়ে যায়। কোরবান আলী আরও বলেন এই আসামীরা গ্রামে ত্রাশ হিসাবে পরিচিত। এরা যে কোন দোকান থেকে বাকী না দিলে বিভিন্ন রকমের ভয় ভীতি ও হামকি দামকী করে বেড়ায়। তাই এদের ভয়ে মুখ খুলতে কেউ সাহস পায় না। এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ সদর থানার তদন্ত ওসি গোলাম মোস্তফা জানান, ৯৯৯ ফোন করলে আমরা ফোর্স প্রেরণ করে ছিলাম। এখন এজাহার পেয়েছি, ঘটনা তদন্তপূর্বক আসামীদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করব।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
