চামচ গরম করে, হাতুড়ি-রড দিয়ে কাজের মেয়েকে অমানবিক নির্যাতন

সুমন হোসেন,  যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ নির্যাতিতা আমেনা খাতুন।যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে মৃত নূর ইসলামের একমাত্র কন্যা।আমেনার বয়স যখন মাত্র ২ বছর তখন হারায় তার বাবাকে। সংসারের চাপ এসে পড়ে মা আকলিমা খাতুন ও নানী জোহোরা খাতুনের উপর। জোহরা খাতুন যা ভিক্ষা করতেন তা দিয়ে চলতনা তাদের সংসার। বাধ্য হয়ে ২য় বিবাহ দেয় আমেনার মা আকলিমা খাতুন কে।
 
আর এর পরেই শিশু আমেনার উপর নেমে আসে জীবনের কালো অধ্যায়। সংসারে বোঝা কমাতে নানীর জোহোরা খাতুনের সহোযোগিতায় পার্শবর্তী বাগডাঙা গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় প্রভাস নামে এক ব্যাক্তি মেয়ে শ্যামলীর তার ঢাকার মহাখালীর বাসায় কাজের বোয়া হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। এতে ঢাকা শহরের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায় শিশু কন্যা আমেনা খাতুন।

আর এরই মধ্যে গত বছরের ২৩ মার্চ থেকে আমেনা খাতুনের উপর শুরু হয় আমানবিক শিশু নির্যাতন। কারণে অকারণে হাতুড়ি, রড-প্লাস দিয়ে নির্যতন করা হতো আমেনা খাতুন কে। রুটি বানানো, হাত ফসকে গ্লাস পড়া নিয়ে আমেনাকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হতো, রড দিয়ে পিঠে আঘাত করতো, গায়ের উপর উঠে পা দিয়ে পাড়াতো, আবার কখনো কখনো হাত পা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করতো।চামচের হাতল গরম করে ঢুকিয়ে দেওয়া হতো আমেনার গলার ভেতর। ছ্যাকা দেওয়া হতো সারা শরীরে।আমেনা খাতুন বাসায় জানাতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া হতো। এমনকি আমেনা খাতুনের পরিবার আমেনা খাতুনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বহুবার ব্যর্থ হয়েছে।এক পর্যায়ে আমেনাকে হত্যা চেষ্টা করলে আশেপাশে জানাজানি হলে এলাকার লোকজনের সহোযোগিতায় আমেনাকে গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। এসময় আমেনার অবস্থা খারাপ হলে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নির্যতীত শিশু কন্যা আমেনা খাতুন এখন যশোর সদর হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় লড়াই করছেন।নির্যাতনকারী শ্যামলীর স্বামী বাদল, মুঠোফোনে এই নির্যাতনের ঘটনা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি, মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীকে সাথে করে থানায় নিয়েছে অভিযোগ দিলে আমরা ঢাকার ওখানকার থানার সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নিবো।

শেয়ার করুন

প্রকাশকঃ

অফিসঃ হাজী সিরাজুল ইসলাম সুপার মার্কেট, মোহাম্মদপুর মোড়, ছুটিপুর রোড, ঝিকরগাছা, যশোর।

পূর্ববর্তী প্রকাশনা
পরবর্তী প্রকাশনা