নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যশোরের চৌগাছায় জোর পূর্বক প্রতিপক্ষের জমি দখল, খুন-জখমের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের মাশিলা গ্রামের মৃত সন্তোষ শেখের ছেলে আব্দুর রহিম ওরফে বাদশা (৫৫) তার নিজ পৈতৃক ভিটা চৌগাছা থানাধীন ৪০ নং মাশিলা মৌজার দাগ নং- ১০০, খতিয়ান-৭৪, ২১ শতকের মধ্যে ৪.২৫ শতক জমির উপর ২৪টি গাছ রোপন করে বেড়া দিয়ে ঘিরে দেয়। সেখানে সে সম্প্রতি প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে পাকা বসত বাড়ী, রান্নাঘর ও ১টি গোয়ালঘর নির্মাণ করেন।একই গ্রামের মৃত- এলাহী বক্সের ছেলে বজলুর রহমানের নেতৃত্বে তার আপন ভাই ফজলুর রহমান, অভিযোগকারীর বড় ভাই আশরাফ হোসেন, আব্দুস সাত্তারের ছেলে ইমামুল, কুড়ন শেখের ছেলে আব্দুল হামিদ স্থানীয় প্রভাবশালী ও প্রশাসনের কিছু অসাধু লোকের প্রভাবে বেড়া দিয়ে ঘেরা ২৩টি গাছ কেটে ফেলে এবং তার রান্নাঘর ও গোয়ালঘরটি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। দীর্ঘদিন পারিবারিক কলহের জেরে এঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারী এ বিষয়ে মৌখিকভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান ড. মোস্তানিছুর রহমানের নিকট অভিযোগ করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দেন। পরামর্শের ভিত্তিতে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি লিখিত আবেদন করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী এনামুল হক বিষয়টি তদন্তের জন্য সদ্য বিদায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) নারায়ন চন্দ্র পালের উপর বিষয়টি তদন্তের জন্য দায়িত্ব অর্পন করেন। সদ্য বিদায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) নারায়ন চন্দ্র পাল স্থানীয় নায়েব ও সার্ভেয়ার দ্বারা অভিযোগকারীর জমি মেপে সীমানা নির্ধারণ করে দেন। পরবর্তীতে তিনি পুনরায় তার জমি ইটের পিলার দ্বারা ঘিরে দেয়। পরবর্তীতে আবার উল্লেখিত বজলুর রহমান গং তার সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে উপড়ে ফেলে।
জমির মালিক আব্দুর রহিম ওরফে বাদশা কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে বিগত ২৮ মার্চ, ২০২১ বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে উল্লেখিত ব্যক্তিদের আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ৫০১/ ২০২১। মামলাটি চৌগাছা থানার এ এস আই বাবুল হোসেনকে সরেজমিন পরিদর্শন পূর্বক প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য বিজ্ঞ আদালত নির্দেশ দেন। মামলার আইও এ এস আই বাবুল আক্তার উভয়পক্ষের বিরুদ্ধে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রেখে মামলার রায় না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করেন এবং বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনে দেখা যায়, অভিযোগকারী আব্দুর রহিম ওরফে বাদশার রেকর্ডকৃত ৪.২৫ শতক জমির মধ্যে ১ শতক জমি রাস্তা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে এবং ঘটনাস্থলে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সবুজ উপস্থিত হয়ে অভিযোগকারী আব্দুর রহিমের রেকর্ডকৃত জমির প্রায় ১ শতাংশ জমি স্থানীয় জনসাধারণের চলাচলের জল্য ছেড়ে দিতে বলেন এবং তিনি একটি সীমানা পুতে রেখে আসেন।
চৌগাছা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের নিকট লিখিত অভিযোগ আসার পর শনিবার একটি টিম সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার সত্যতা পান। ভুক্তভোগী আব্দুর রহিম ওরফে বাদশা শেখ স্থানীয় শক্তিশালী উল্লেখিত গং কর্তৃক প্রাণনাশের হুমকী ও পরিবার পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তিনি এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন। এব্যাপারে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, এলাকার আইনশৃ্খংলা যাতে কোনো প্রকার অবনতি না ঘটে তার জন্য সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বিষয়টি যেহেতু বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন, সেহেতু সেখানে কোনো প্রকার অপ্রিতি ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য আমরা সর্বদা সজাগ রয়েছি।
তথ্যের উৎসঃ যশোর বার্তা
