নিউজ ডেস্ক: গুলবাগপুর গ্রামের আমিনুল গংদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ফুঁসে উঠেছে সমগ্র গ্রামবাসী। মানুষকে সম্মান হানি, শারীরিক নির্যাতন ,অর্থনৈতিক নির্যাতন ,মিথ্যা মামলা, হামলা ,অপমান ,অপদস্থ করাই যেন তাদের নিত্য ঘটনা।ঘটনাটি ঘটে চলেছে যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার ১ নং গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়ন এর ১ নং ওয়ার্ডের গুলবাগপুর গ্রামে।
এ-ই গ্রামের পূর্ব পাড়ার ( স্কুল পাড়া) এক হিংস্র পরিবার।যে পরিবার টির নাম আলী আহমদ পরিবার। যে পরিবার টি সম্পর্কে অগনিত অভিযোগ উঠে এসেছে আমাদের সরেজমিন প্রতিবেদনে। অভিযোগ সুত্রে জানা যায় এ-ই পরিবারে মুরব্বি আলী আহম্মদ যিনি বাল্য বয়সে তার পিতা ও দুই ভাইয়ের সাথে নোয়াখালী থেকে এসে অত্র গ্রামে বসবাস করা শুরু করেন। আলী আহম্মদ বাল্যকালে দিনমজুরি হিসেবে জীবন যাপন শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি নোয়াখালীর এক মেয়ে কে বিবাহ করে এখানে নিয়ে আসেন। শুরু হয় তার সাংসারিক জীবন যাপন। একে একে জন্ম দেন ৬ ছেলে ও ২ মেয়ে।
যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তার বড় ছেলে সিরাজুল ইসলাম কেবল ৭-৮ ম শ্রেণীর ছাত্র থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সাধারন সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন।
তখন থেকে শুরু হয় এ-ই পরিবারের হিংস্র স্বভাবের পরিদর্শন। শুরু থেকে এ-ই পরিবারটি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার কারনে রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে আজ (সিরাজুল,শহিদ,রেজাউল) যেখানে বসবাস করছে সেই জমিটি নাম মাত্র দামে অত্র গ্রামের নাবালক গোলাম মোস্তফা সর্দ্দার এর মায়ের কাছ থেকে দলিল করে নেন বলে ভুক্তভোগীরা প্রতিবেদক কে জানান।এ-ই জমিটি হাতিয়ে নেওয়ার সুবাদে তাদের প্রভাব যেন আরও এক ধাপ বেড়ে যেতে শুরু করে।
এ-ই পরিবারের একমাত্র উচ্চ শিক্ষিত (বাংলায় মাস্টার্স, ৩য় ক্লাশ) ছেলে আমিরুল ইসলাম। যতটুকু শিক্ষিত তার তুলনায় বেশি তার হিংস্র থাবা বলে মন্তব্য করেন গ্রামের একাধিক ভুক্তভোগী। যিনি ( আমিনুল ইসলাম) ১৯৯৮-৯৯ সালে ব্যাংদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। স্কুল টি নতুন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারনে দ্রুত স্কুলটির এমপিও তথা অবকাঠামো উন্নয়ন করার লক্ষ্যে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ও-ই সময়ে একটি লটারি খেলার আয়োজন করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তখন লটারি খেলার টাকা আত্মসাৎ ও বিদ্যালয় এর ফান্ডের টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
সেই অভিযোগ মোকাবিলা করার লক্ষ্যে ১৯৯৯-২০০০ সালে নাম মাত্র দল পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।খোলস পালটিয়েও সেই আত্মাসাতের অভিযোগের হাত থেকে রক্ষা হলো না। শেষ পর্যন্ত অত্র বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ টি সত্য প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
শুরু হয় নতুন করে চাকরি খোঁজের নতুন চেষ্টা যশোরের তাল বাড়িয়া ডিগ্রী কলেজে, আমদাবাদ ডিগ্রী কলেজে, কায়েমকোলা কলেজে সহ শেষ পর্যন্ত চৌগাছার পাশাপোল আমজামতলা মডেল কলেজ এ বাংলা বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত থাকলেও শেষ রক্ষা হলো না। ২০১৫ সালে পাশাপোল কলেজ থেকেও বাদ পড়তে হয়।
এ সকল প্রতিষ্ঠান থেকে বাদ পড়ার আগে থেকেই সুবিধা বাদী রাজনীতি করতে শুরু করেন। যখন যে দিকে লাভ সেদিকে মোড় নেওয়া যেন সাধারন ঘটনা।
(বাকি অংশ আগামীকাল)
