অবিলম্বে জাতীয় পরিষদ গড়ে তুলুন
সারা বিশ্ব এক ভয়ংকর সময় পার করছে। এদের মধ্যে তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলো আরও বেশি ভয়াবহ সময় পার করছে। সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারলাম টিকা উৎপাদনে সক্ষম দেশগুলো বিভিন্ন সুবিধা আদায়ের মাধ্যমে টিকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। আমাদের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেটা অকপটে স্বীকারও করেছেন। এমতাবস্থায় আমাদের কি করণীয়?
এ যাবত আমরা দেখেছি যে,সরকার ঘোষিত লকডাউন সাধারণ মানুষ মানতে চাচ্ছে না।মানতে চাচ্ছে না শুধু তাই নয় তারা আবার অপপ্রচার চালাচ্ছে সরকার অমুক বিষয়কে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য লকডাউন দিচ্ছে ইত্যাদি বলে অপপ্রচারও করছে। এযাবৎ এভাবে লকডাউনের অর্থ প্রচারিত হয়েছে বেশি আমি যেমন মনে করছি, আমার মনে হয় আপনারাও একমত হবেন।
করোনাকালীন এই সময়ের কিছু পরিসংখ্যান আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। ২০১৯ সালে যেখানে দারিদ্র্যতার হার ছিল ২১ শতাংশ তা আজ বেড়ে হয়েছে ৪২ শতাংশ। প্রায় ৭৭ শতাংশ পরিবারের মানুষের আয় কমেছে। ৩১ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছে করোনা কালীন এই সময়ে। আমাদের জনগোষ্ঠীর একটা বিরাট অংশ তরুণ। এই তরুণরা কাজ পাওয়ার পরিবর্তে কাজ হারাচ্ছে। ভাবা যায় আগামীতে কি হতে যাচ্ছে? দীর্ঘদিন ঘরের মধ্যে থাকার কারণে এ তরুণরা মানুষিক ভাবে অসুস্থ হয়ে উঠছে অনেকে।
এ সময়ে আমরা রাজনৈতিক অঙ্গনে সমস্যা সমাধান কল্পে একমত হওয়ার থেকে বেশি দেখতে পাচ্ছি রাজনৈতিক মত অনৈক্য।আমার মনে হয় আপনারা একমত হবেন এ কারণে আমরা আরও বেশি পিছিয়ে পড়ছি। এখান থেকে বের হবার উপায় কি? ২৫ জুন বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় দেখলাম লেবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান শ্রদ্ধেয় কর্নেল (অব) ড.অলি আহমদ যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু তিনি দেশের শিক্ষিত সমাজের নিয়ে এ সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু কোন প্রক্রিয়ার এ সরকার গঠন হবে তার সুনির্দিষ্ট কোন রূপরেখা উল্লেখ করেননি।
বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কালীন সংকট সমাধান কল্পে নির্বাচন কমিশনের সাথে আলাপকালে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সমাধানে একটি জাতীয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব দেয়।সেখানে মুক্তিজোট (www.muktijot.org) কিভাবে এ জাতীয় পরিষদ হবে এবং কোন প্রক্রিয়ার জাতীয় সমস্যা সমাধান হবে তার যাবতীয় প্রক্রিয়া উল্লেখ করে। আজ এ সময়ে এসে সেই জাতীয় পরিষদ জাতীয় সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক সংগঠন গুলো নিয়ে যেহেতু এ পরিষদ গঠিত এবং তাদের সমন্বিত সিদ্ধান্ত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংকট সমাধানে কাজ করবে।
তাই যদি অতি সত্তর জাতীয় পরিষদ গঠন করা যায় আজকের যে মত অনৈক্য তা অনেক অংশে কমে আসবে। কারণ আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ কোন না কোন রাজনৈতিক সংগঠনকে সাপর্ট করে। সুতারং জাতীয় পরিষদের সিদ্ধান্ত মানে অধিকাংশ মানুষের সিদ্ধান্ত। তখন যেকোনো মানুষ খুব সহজে জাতীয় পরিষদের সিদ্ধান্ত মেনে নিবে এবং আমরা দ্রুত করোনার এ মহামারী থেকে মুক্তি পাবো ইনশাআল্লাহ।
মোঃ সোহেল রানা,
প্রভাষক, হামিদপুর আল হেরা কলেজ, যশোর।
