মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা শিক্ষক সমিতির




নোবিপ্রবি প্রতিনিধিঃনোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(নোবিপ্রবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামানের মেয়াদে শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ ওঠলে গেল বছরের এপ্রিলে বিশ্ববিদ্যালয়টির সব ধরণের নিয়োগ  কার্যক্রম স্থগিত করে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নিয়োগ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেনি মন্ত্রণালয়।  নিয়োগ  স্থগিতাদেশের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টির সব ধরণের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক আরোপিত সেই নিয়োগ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষক সমিতি।


বৃহস্পতিবার(১ অক্টোবর) নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর ও সাধারণ সম্পাদক মজনুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়টি জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় চ্যান্সেলর এর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন সুযোগ্য উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ায়, যাঁর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে। মাননীয় উপাচার্য মহোদয় দায়িত্বগ্রহণের পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এবং শিক্ষা ও গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। করোনাকালীন জাতীয় দুর্যোগের মধ্যেও তাঁর আন্তরিক চেষ্টায় নোবিপ্রবির জানুয়ারি-জুন সেমিস্টারের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে সমাপ্ত হয়ে পরবর্তী সেমিস্টারের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর উদ্যোগে নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় সকল বিভাগের সকল বর্ষের ফলাফল প্রকাশ করা হয় যা দুর্যোগকালীন শিক্ষা ব্যবস্থাপনার এক অনন্য উদাহরণ। স্বল্প সময়ের মধ্যে ল্যাব স্থাপন ও করোনা পরীক্ষার অনুমোদনের জন্য তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন যার ফলে নোবিপ্রবি অন্য চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে করোনা শনাক্তকরণের জন্য প্রশংসনীয় ভূমিকা পালনে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু মাননীয় উপাচার্য মহোদয়কে নিয়োগের পূর্বে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ সংক্রান্ত যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তা এখনো বলবৎ রয়েছে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছিলাম এর জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে, যার ফলাফল আমরা আজও দেখতে পাইনি। প্রাথমিক অবস্থায় উপাচার্য মহোদয় মারফত আমরা জানতে পেরেছিলাম তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়া সাপেক্ষে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। কিন্তু প্রায় ১ বছর ৫ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি। ফলশ্রুতিতে শিক্ষকরা বিভিন্ন বৈষম্যের সম্মুখীন হচ্ছেন। অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ জন শিক্ষক অস্থায়ী পদে নিয়োগপ্রাপ্ত রয়েছেন। ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষকের পরবর্তী পদে পদোন্নতির সময়ও প্রায় ১ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে, তাদের পরে স্থায়ী পদে নিযুক্ত শিক্ষকগণও পদোন্নতি পেয়ে যাওয়ায় শিক্ষকদের মাঝে একধরণের বৈষম্য দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও অনেকগুলো বিভাগেই পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, মাত্র ২ জন শিক্ষক দিয়ে ২টি শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চলছে। ফলে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না এবং শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। নতুন নিয়োগ বন্ধ থাকায় বিভাগ পরিচালনায় পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই বলে অনেক বিভাগের শিক্ষকরা উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষাছুটিতে যেতে পারছেন না। এতে করে শিক্ষকদের মাঝে উচ্চশিক্ষাজনিত একধরণের অনিশ্চয়তা পরিলক্ষিত হচ্ছে।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আমরা শিক্ষক সমিতি সর্বশেষ গত ২০ সেপ্টেম্বর মানববন্ধন করে ৩০ সেপ্টেম্বরের মাঝে এই সমস্যার সমাধান করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সময়সীমা বেঁধে দিই। মাননীয় উপাচার্য মহোদয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও শিক্ষা সচিবের সাথে আলোচনা করে আমাদের বারবার আশ্বাস দিলেও আমাদের প্রদত্ত সময়ের মাঝে আমরা কোনো ফলাফল পাইনি। ফলে আমরা শিক্ষক সমিতি অস্থায়ী শিক্ষকদের দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। শিক্ষক সমিতি আশা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্রুত এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু করার বিষয়ে সহায়তা করবে।


সংবাদটি শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী সংবাদ
পরবর্তী সংবাদ