গাবুরায় পিতৃ পরিচয় না পেয়ে স্কুলে ভর্তি হলেন শিশু নিলা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের খলিসাবুনিয়া গ্রামের, আলহাজ্ব জি এম মাকছুর রহমানের ছোট পুত্র নব্যলীগ গাবুরা ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক  জি এম নাজমুল হাসান নয়নের মেয়ে পিতৃ পরিচয়হীন হয়ে স্কুলে ভর্তি হয়েছে।

৮নং ওয়ার্ডের চকবারা গ্রামের অসহায় আবু সামা গাইনের মেয়ে ডলি আক্তার দীর্ঘদিন যাবত নাজমুল হাসান নয়নের বাড়িতে কাজ করে আসছিল কিন্তু দূর্বলতা ও অসহায়ের  সুযোগ নিয়ে পালাক্রমে ডলি আক্তার কে শারিরীক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি করে এবং ওই মেয়েটি কে জোর করে  ঘরে বন্দী রেখে ধর্ষণ করে, এবং মেয়েটির পেটে অবৈধ সন্তান যায়।
শিশু নিলার মায়ের অন্ধকার জীবনে পুরুষের ঔরসে অপ্রত্যাশিতভাবেই নিলার জন্ম। ৪-১-২০১৪ ইং সালের জন্মের পর থেকে নানা প্রতিকুলতার মাঝে প্রকৃতির নিয়মেই ওর একটু একটু করে বেড়ে ওঠা।

যখন নিলার স্কুলে যাওয়ার বয়স, মা তার শত কষ্টের মধ্যেও ভর্তি করাতে যান স্কুলে। কিন্তু নিয়মের বেড়া-জালে আটকে যায় নিলার স্কুলের খাতায় নাম লিপিবদ্ধ করা। কারণ ওর নেই কোনো পিতৃ পরিচয়।

এসব ফুটফুটে শিশুদের পৃথিবীতে আসার পেছনে তাদের কোনো হাত ছিল না। স্বাভাবিক অন্যান্য শিশুদের মত তাদেরও শিক্ষাসহ সকল অধিকার রয়েছে। কিন্তু কোনো অধিকারের ছিটেফোঁটাও ওরা পাচ্ছে না। 

এরকম পিতৃ পরিচয়হীন শিশুদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা কেউ চিন্তা করে না।
গাবুরা ইউনিয়নে অপকর্মের বিভিন্ন বয়সের সহস্রাধিক শিশু রয়েছে।

দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শিক্ষা, বিয়েসহ প্রায় সব জায়গাতেই মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিজের নামের পাশাপাশি বাবা ও মায়ের নামের দরকার হয়। এ ক্ষেত্রে সন্তানদের নির্দিষ্ট কোনো পিতৃ পরিচয় নেই। এতে তারা সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি আইনি জটিলতায় ভুগছেন।পিতার পরিচয় না থাকায় এ সকল শিশুরা অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য ০৩-০১-২০২১ইং তারিখে নয়নের মেয়ে নিলা আক্তার কে প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি করতে গেলে স্কুলের শিক্ষক মন্ডলীরা তার পিতার পরিচয় জানতে চাইলে মেয়েটি ভয়ে নাম না বলায় তার ভর্তি নেওয়া হয়নি। এমতাবস্থায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ সকলের কাছে উক্ত অসহায় মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের পরিবার  অনেক কষ্টে দিনযাপন করছে।

শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট