ঝিকরগাছার নির্বাসখোলায় কোচিং ব্যবসার দায়ে এক মাসের জন্য চাকুরীচ্যুত হলেন স্কুল শিক্ষক

আব্দুল জব্বার, স্টাফ রিপোর্টার।।যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাসখোলায় কোচিং ব্যবসার দায়ে এক মাসের জন্য চাকুরীচ্যুত হলেন, ইকরা কোচিং সেন্টারের পরিচালক স্কুলের সিনিয়ার শিক্ষক মোঃ মোজাফফর হোসেন। উপজেলার শিক্ষার  মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার যখন একেরপর এক হাতে নিচ্ছেন বিভিন্ন শিক্ষাবান্ধব কর্মসূচী বৈদেশিক শিক্ষার সাথে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই প্রাত্যাহিক পাঠ সম্পন্ন করার লক্ষ্যেও ক্রমাগত তাগিদ দিয়ে চলেছেন তখনি কিছু অসাদু শিক্ষকদের কালো ছায়ায় নস্যাৎ হয়ে চলেছে সে প্রতিজ্ঞা। 

করোনা কালীন এই দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে সারাদেশ ব্যাপি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার খাতিরে সকল শ্রেনীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলছে অনলাইন ভিত্তিক পাঠদান। শুধু এই সময়েই নয় এর আগে থেকেও শিক্ষাবান্ধব বাংলাদেশ সরকার কোচিং সেন্টার নামক বাণিজ্যিক এই রক্তচোষা প্রতিষ্ঠানের নির্মূল করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

কিন্তু কিছু অসাদু ব্যবসায়ীর পায়ে লাগাম দেওয়া তাতে সম্ভব হচ্ছেনা। যার বলি হচ্ছে একের পর এক শিক্ষার্থী তথা শিক্ষার্থী পরিবার।
এমনি এক কোচিং সেন্টারের নাম 'ইকরা কোচিং সেন্টার', পরিচালক নির্বাসখোলা স্কুল এন্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ মোজাফফর হোসেন ও প্রভাষক মোঃ হাবিবুর রহমান। যার স্লোগান আবার "ব্যবসায় নয়, জাতীর মেরুদন্ড গড়াই হোক একমাত্র লক্ষ্য" তাহলে যারা এই কোচিংয়ে পড়তে পারবেনা তারা কি আজীবন মেরুদন্ডহীন হয়েই বাঁচবে! প্রশ্ন থেকে যায়।

প্রাথমিক দৃষ্টিতে এমন সুন্দর নামকরণ ও নজরকাড়া স্লোগান দেখে দাতব্য প্রতিষ্ঠান মনে হলেও ভেতরে ভেতরে চলছে রমরমা ব্যবসা। প্রতি শিক্ষার্থীকে বিষয় প্রতি প্রদান করতে হয় ৫০০-১০০০ টাকা। কোচিং সেন্টারে নাকি আবার বাংলা ব্যকরণও পাঠদান করা হয়। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানায়, "স্যারের কোচিংয়ে না পড়লে মানে স্যারের কাছে যদি না পড়ি তাহলে স্যার তো পরীক্ষায় নাম্বার দেবেন না। ফেল ও করিয়ে দিবেন বলে ভয় দেখান।

এমন পরিস্থিতিতে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীর পরিবার পড়ছেন হুমকীর মুখে। করোনা কালীন সময়ে যেখানে অস্বচ্ছল পরিবার তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি যোগাড় করলেই হিমসীম খাচ্ছে সেখানে এই ধরণের রক্তচোষা কোচিং কতটা মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে একবার ভাবা দরকার। 

শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, সিনিয়র শিক্ষক মোজাফফর হোসেন অনেক আগে থেকেই টিউশন ব্যবসা করে আসছেন। এবং এটা সর্বজন সির্কৃত যে তার কাছে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা ঠিক সময়ে কখনো পড়তে পারেনা। স্যার যদি সময় দেন সকাল ৮ টায় তো হাজির হন সকাল ১০ টার পর। এরই সুযোগ নিয়ে অনেক সময় অল্পবয়সী শিক্ষার্থীরা প্রেমের নামে নির্বিঘ্নে অশ্লীলতা চালিয়ে যেতে পারে। আর এসব বিষয় উক্ত শিক্ষক জানলেও অল্প কিছু ঘুষের বিনিময়ে চেপে যান। 

যার কারণে চড়া মূল্যে পড়তে হলেও শিক্ষার্থীরা তেমন কোন আপত্তি করেনা অনেক সময়। 
আজ দুপুরে নির্বাসখোলা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের কাছে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ফোন আসে এবং সিনিয়র শিক্ষক মোজাফফর হোসেনের এক মাসের বেতন কাটা অর্থাৎ তাকে এক মাসের জন্যে চাকুরীচ্যুত ঘোষণা করা হয়।

শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট