বাংলাদেশের জনপ্রিয় সামাজিক সংগঠন দূর্বার তারুণ্যের চট্টগ্রাম জেলা শাখা কমিটি ঘোষণা

অনলাইন ডেক্সঃ নানা জল্পনা-কল্পনা, আলোচনা -সমালোচনার ইতি ঘটিয়ে অবশেষে গতকাল রাতে দেয়া হল বাংলাদেশের জনপ্রিয় সামাজিক সংগঠন দূর্বার তারুণ্যের চট্টগ্রাম জেলা শাখার কমিটি।

সংগঠনটি তাদের কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই একের পর এক জেলা কমিটি দিয়ে যাচ্ছে। তবে চট্টগ্রাম জেলা কমিটি নিয়ে তারা কালক্ষেপণ কম করেন নি। তার পেছনে কারনও ছিল বটে। এই চট্টগ্রাম থেকেই জন্ম নেয় আজকের জাতীয় জনপ্রিয় সামাজিক সংগঠন দূর্বার তারুণ্য। অন্যদিক থেকে এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ আবু আবিদও চট্টগ্রামে বসবাস করছেন। তাই চট্টগ্রাম দূর্বার তারুণ্যের দূর্গ হিসেবে-ই পরিচিত। চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্তর থেকে দূর্বার তারুণ্যের সাথে কাজ করার জন্য পেইজে সিভি জমা পড়ে। চলে যাচাই-বাছাই। 


অবশেষে দূর্বার তারুণ্য এর চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি শেখ আরিফ উল্লাহ চৌধুরী ও সাধারন সম্পাদক চিরনজিৎ বড়ুয়া নির্বাচিত হোন। 

কমিটি কেন এত দেরিতে দেয়া হল? কেন বারবার সময় পেছানো হল? তবে কেন্দ্রীয় কমিটির উপর কি কোন চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে?  আবিদ কেন লাইভে নেই,অনেকদিন? এসকল প্রশ্ন নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয় নানান মহলে। একাধিকবার মুহাম্মদ আবু আবিদ-এর সাথে মুঠোফোনে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সকল প্রশ্নের জবাব একসাথে দিবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

গতকাল কমিটি দেয়ার কিছুক্ষন আগে অনেকদিন পর আবার লাইভে আসেন,সংগঠনটির স্বপ্নদ্রষ্টা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আবু আবিদ। এসময়ে তিনি এতদিন অপেক্ষা করিয়ে রাখার জন্য প্রথমেই ক্ষমা চান গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে। 

তিনি বলেন, আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলাম।  তবে আপনাদের দোয়ায় করোনা থেকে এখনও পরম সৃষ্টিকর্তা আমায় অনেক দূরে রেখেছেন। ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছিলাম। একদিকে আমি অসুস্থ, অন্যদিকে ১১০০ এর অধিক এপ্লাই থেকে আমাদের ৯১ জন বাছাই করতে যেয়ে এত সময় লেগেছে। আর শুধু চট্টগ্রাম ই নয়,পুরো বাংলাদেশ জুড়ে যত কমিটি আমাদের দেয়া হচ্ছে,  সবগুলোতে আমিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি। তাই এখানে বিতর্কের কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। তিনি আরও বলেন,  যারা কমিটি তে চান্স পাবেন না, তাদের জন্যও আমাদের দরজা উন্মুক্ত। তাদের পরিচয় হবে, দূর্বার তারুণ্যের স্বেচ্ছাসেবক। আমিও এখানকার একজন স্বেচ্ছাসেবক বলে মনে করি।


তবে গতকাল রাতে মুহাম্মদ আবু আবিদ এর মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায় নি। আজ দুপুরে এ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কমিটি সাজানো নিয়ে ক্লান্ত ছিলাম আর কিছু উড়ন্ত ফোন আসবে বলেই একটু গোপনে ছিলাম। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার আত্মীয় নাকি রক্ত তা আমি দেখি না। আমি দেখি সামাজিক কাজের প্রতি ইচ্ছা আর বিশ্বস্ততা। তাই যে যা ই বলুক,  আমি আমার নীতি ও আদর্শের মধ্যে থেকেই কমিটি সম্পন্ন করেছি।

উল্লেখ্য যে, এ কমিটি নিয়ে সমালোচনা না উঠলেও পদ বঞ্চিতদের মধ্যে কেউ কেউ হতাশ হয়েছেন। তবে সকলেই তারা দূর্বার তারুণ্য-এর সাথে থাকবেন বলে জানায়।

আরো উল্লেখ্য যে, গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের নিউজ ফিড জুড়ে শুধু অভিনন্দন আর কৃতজ্ঞতার পোস্ট দেখা গিয়েছে৷ ফেসবুকে রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিবর্গসহ অনেকেই এ কমিটিকে সাদরে অভিনন্দন জানায়। 

দেশ ও সমাজের জন্য তরুণদের তৈরি করে এগিয়ে  যাবে দূর্বার তারুণ্য, এই আশা সাধারণ মানুষের।

শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট