শেখ হাসিনার গাড়িতে হামলার ঘটনায় সাতক্ষীরায় ৫০ আসামির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

আজহারুল ইসলাম সাদী, স্টাফ রিপোর্টারঃসাতক্ষীরার কলারোয়ায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায়, বিএনপির সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ আসামির সবাইকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারী) সকালে উক্ত রায় প্রদান করেন আদালত।
আসামিদের মধ্যে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব এবং বিএনপিকর্মী আরিফুর রহমান ও রিপনকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও কলারোয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের বাচ্চুকে ৯ বছরের কারাদণ্ড এবং বাকি ৪৬ জনকে দুই থেকে সাত বছরের সাজা দিয়েছে আদালত।

সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম হুমায়ুন কবীর জনাকীর্ণ এজলাসে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

অভিযুক্ত আসামিদের কেউ এই রায়ে খালাস পাননি।আসামিদের মধ্যে কারাগারে থাকা ৩৪ জন রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি ১৬ জনকে পলাতক দেখিয়ে এ মামলার বিচার কাজ চলে। দণ্ডিতরা সবাই বিএনপি নেতাকর্মী।

আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী এবং আসামি হাবিবুল ইসলাম হাবিবের স্ত্রী শাহনাজ পারভিন বকুল রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "এটা সাজানো। আমরা হাই কোর্টে যাব। আমরা সেখানে নিশ্চয় ন্যায্য বিচার পাব।"

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম মুনীর বলেন, "আমরা সন্তুষ্টও না, অসন্তুষ্টও না। রায় পর্যবেক্ষণ করে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।"

২০০২ সালে এক মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী 'ধর্ষণের শিকার' হলে ওই বছর ৩০ অগাস্ট শেখ হাসিনা সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে তাকে দেখে মাগুরায় যাওয়ার পথে তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে।

সে সময় হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনে তিনটি মামলা করা হয়। কিন্তু এক আসামি হাই কোর্টে গিয়ে মামলা বাতিলের আবেদন করলে আদালতে স্থগিতাদেশ দেয়। তাতে মামলার কার্যক্রম ঝুলে থাকে দীর্ঘদিন।হাই কোর্ট গতবছর অক্টোবরে তিন মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিলে নভেম্বরে ফের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।

যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ২৭ জানুয়ারি রায়ের জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি দিন ধায্য করে, সেদিনই জামিনে থাকা ৩৪ আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠান বিচারক। 

এ রায়কে ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আদালত এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সংবাদকর্মীরাও রায়ের সংবাদ সংগ্রহের জন্য আদলতে উপস্থিত হন।

রায়ের পর আদালতের বাইরে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল করেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মিগণ।

উক্ত আনন্দ মিছিলে অংশ গ্রহণ করেনসমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক এমপি, ও স ম জগলুল হায়দার এমপি, অতিঃ এটর্নী জেনারেল এড. মুনির হোসেন ও সহঃ এটর্নী জেনারেল সন্ধিপ রায়, সুপ্রীম কোটের আইনজীবী মোহাস্মাদ হোসেন, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক আ হ ম তারেক উদ্দীন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আসাদুজ্জামান বাবু,  সাংগঠনিক সম্পাদক সফিউল আযম লেলিন, দপ্তর সম্পাদক শেখ হারুন উর রশিদ, পিপি এড. আব্দুল লতিফ, স্পেশাল পিপি এড. জহুরুল হক বাবু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এড. অনিত মুখার্জি ও কলারোয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ স্বপন, সাতক্ষীরা পৌর সভাপতি মেয়র প্রার্থী শেখ নাসেরুল হক, সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রশিদ, বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এড. আল মাহমুদ পলাশ।

যুবলীগনেতা মিজানুর রহমান, কৃষকলীগনেতা এড. শম্ভু নাথ সিংহ, শ্রমিকলীগনেতা এড. তামিম হোসেন সোহাগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগনেতা এড. সাইদুজ্জামান। 
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগ, কৃষকলীগ, ছাত্রলীগ এবং আওয়ামালীগ ও বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট