আলেমদের মুক্তি ও মসজিদ মাদরাসা খুলে দেয়ার আহ্বান করলেন ইসলাহুল উম্মাহ ফাউণ্ডেশন


আশরাফ আলী ফারুকী,স্টাফ রিপোর্টার :
রহমতের মাস রমযানে আলেমদের গণগ্রেফতার, রিমান্ডে নির্মম নির্যাতন ও হয়রানি করায় আমরা হতবাক,মর্মাহত। এই পবিত্র মাসে জেল-জুলুম, হামলা-মামলা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

গতকাল মঙ্গল বার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ইসলাহুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন  ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ ) কেন্দ্রীয় আমেলার সভাপতি মুফতি আব্দুল্লাহ তৈয়ব 
সাধারণ সম্পাদক মুফতি জসিম উদ্দিন এসব কথা বলেন।

হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক এবং মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব সহ গ্রেফতারকৃত সকল আলেমদের মুক্তি ও রিমান্ডে নির্মম নির্যাতন বন্ধের আহবান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ইসলাহুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন ধোবাউড়া ময়মনসিংহ।

ইসলাহুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন বিৃতিতে উল্লেখ করে 

রমযান ইবাদত বন্দেগীর মাস। এই মাসে দেশসেরা আলেম ও তৌহিদী জনতাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার, রিমান্ডে নির্মম নির্যাতন ও মামলার আতঙ্কে ঘরছাড়া করায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের পাশাপাশি অনতিবিলম্বে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।

পবিত্র রমযানে রোজা অবস্থায় শীর্ষ আলেম ও শায়খুল হাদীস মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব,মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন রাজী,মুফতি বশীরুল্লাহ্,মুফতি ফখরুল ইসলাম, মাওলানা যোবায়ের আহমদ, মাওলানা জালালুদ্দিন, মাওলানা রফীকুল ইসলাম মাদানী ও নওমুসলিম ওয়াসেক বিল্লাহ্ নোমানীসহ প্রায় পঁচিশজন শীর্ষ আলেম ও দুইশতাধিক তৌহিদী জনতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সারা দেশে গ্রামে গ্রামে থানায় থানায় আলেমদের নামে মিথ্যা মামলার ডায়েরি করে যে হয়রানি করা হচ্ছে তা অবিলম্বে বন্ধ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

 এতে আল্লাহর গজব অবধারিত হবে এ সমস্ত নেক্কার জনক গর্হিত কাজের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তা বন্ধ করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

মাজলুমদের বদদোয়া থেকে দেশ ও জাতিকে বাঁচাতে অনতিবিলম্বে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি । আমরা লক্ষ্য করছি কল-কারখানা,হাট-বাজার খোলা থাকার পরও মসজিদে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি আমাদের বোধগম্য নয় তাই সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান ,রহমতে এলাহীর প্রত্যাশায় আল্লাহর ঘর মসজিদের উপর আরোপিত সকল বিধিনিষেধ তুলে দিয়ে এবাদতের জন্য সকল মসজিদ উন্মুক্ত করে দিন। এবং করোনার দোহাই দিয়ে মসজিদ বন্ধ করে ঈমানদারগণ কে তাদের রবের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনবেন না।

কুরআন নাজিলের মাস রমযান। এই সময়ে কুরআন শিক্ষার কেন্দ্র কওমি মাদরাসাগুলো বন্ধ করা হয়েছে। বিগত আট মাস যাবত সারাদেশের কওমি মাদরাসাগুলো খোলা ছিল। এই দীর্ঘ সময়ে কোনো কওমি মাদরাসায় করোনা সংক্রমনের কোনো ঘটনা না ঘটা সত্বেও সম্প্রতি সময় করোনার দোহাই দিয়ে কুরআন শিক্ষাকেন্দ্রগুলো বন্ধ করার ষড়যন্ত্র বাংলার জনগণ মেনে নিতে পারছেনা।

প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা, মামলা, ধরপাকড়, হয়রানি ও ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এক আতংকজনক পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।

পবিত্র রমযানে কুরআন শিক্ষার অনন্য আয়োজন কওমি মাদরাসার নূরানী,নাযেরা,হিফয বিভাগসহ দ্বীনি কার্যক্রম পরিচালনার সকল বাধা অপসারণ করে ধর্মীয় দায়িত্বপালনের পথ নির্বিঘ্ন করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন
ইসলাহুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন ধোবাউড়ার কেন্দ্রীয় আমলার  সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা ওমর ফারুক, সহ-সভাপতি মুফতি মাসুদ কামাল, মুফতি মনজুরুল হক নোমানী , মুফতি আবু বকর, মুফতি মুশফিক হাবীব  যুগ্ন সম্পাদক মাওলানা মহাদী হাসান, প্রচার সম্পাদক হাফেজ তরিকুল ইসলাম মুক্তার  প্রমুখ।

শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট