কুল্যায় ভিজিডি তালিকাভুক্ত ১৫ মহিলার চাউল আত্মসাতের সমাধান চাই

আহসান উল্লাহ বাবলু  আশাশুনি সাতক্ষীরা  প্রতিনিধিঃ  আশাশুনি উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের চুড়ান্ত তালিকাভুক্ত ১৫ মহিলা তাদের চাউল না দিয়ে আত্মসাতের প্রতিকার প্রার্থনা করে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এ অভিযোগ দাখিল করা হয়। 

ট্যাবলেট ভিজিডি কর্মসূচির উপকারভোগি মহিলা নির্বাচনের চুড়ান্ত তালিকা (ছক-৩) এ নাম থাকা স্বত্ত্বেও বিগত ৩ মাসে চাউল না পাওয়ায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন পূর্বকচাউল পাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন জানিয়ে দাখিলকৃত অভিযোগে জানাগেছে, ২০২১-২২ ভিজিডি চক্রের কর্মসূচির আওতায় চুড়ান্ত তালিকায় নাম থাকা স্বত্বেও কমপক্ষে ১০০ জনেরও অধিক ব্যক্তি চাউল পাননি। তাছাড়া অনেকের নিকট থেকে টাকা নিয়ে কার্ড বা তালিকাভুক্ত করার অঙ্গীকার করেও চাউল দেয়া হয়নি ও আত্মসাৎ করা হয়েছে। দাদপুর গ্রামের (ওয়ার্ড নং ৮) মোফাজ্জেলের স্ত্রী শাহানারা (তালিকা স্রিয়াল নং ২৩), ওয়ার্ড নং ৯, মহিষাডাঙ্গা গ্রামের বিনয় সরকারের স্ত্রী নমিতা রানী সরকার (স্রিঃ ১৪), গৌরপদ সরকারের স্ত্রী লক্ষ্মী রানী সরকার (স্রিঃ ১৭), মৃত রবীন্দ্র'র স্ত্রী রেবতী মন্ডল (স্রিঃ ০১), মৃত রবীন্দ্র নাথ সরকারের স্ত্রী দিপালী সরকার (স্রিঃ ৮), সন্দীপ কুমার মন্ডলের স্ত্রী নমিতা মন্ডল (স্রিঃ ৬), ওয়ার্ড নং ৭, আগরদাড়ী গ্রামের আনোয়ার হোসেনে কন্যা আমেনা খাতুন (স্রিঃ ৮), রুস্তম আলীর স্ত্রী সেলিনা পারভীন (স্রিঃ ১১), নূর মোহাম্মদের স্ত্রী রাশিদা খাতুন (স্রিঃ ১৫), ওয়ার্ড নং ৪, কচুয়া গ্রামের আবু সাইদ মোল্যার স্ত্রী রুবিনা খাতুন (স্রিঃ ৪৫), উত্তম কুমারের স্ত্রী কনিকা দাসী (স্রিঃ ১৩), সুভাস দাশের স্ত্রী কাকলী রানী দাশ (স্রিঃ ২২), সমার দাশের স্ত্রী শিখা দাস (স্রিঃ ২৯), কেনা দাসের স্ত্রী রুপালী দাসী (স্রিঃ ৬) এবং ওয়ার্ড নং ৩, বাহাদুরপুর গ্রামের সাবুর আলির স্ত্রী সুপিয়া খাতুন (স্রিঃ ৭) স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছেত আল হারুন চৌধুরী তাদের নাম তালিকায় থাকলেও তাদেরকে চাউল দিচ্ছেননা। তারা সাংবাদিকদের কাছে বলেন, চাউল পেতে তারা অনেকবার ইউনিয়ন পরিষদে গেছেন, কিন্তু পাত্তা দেওয়া হয়নি। অসহায় মহিলারা সরকারি সহায়তা বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজুল হুসেইন খাঁন চাউল বঞ্চিত মহিলাদের আবেদন গ্রহন পূর্বক লকডাউন চলছে, তারপরও সুযোগমত বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বস্থ করেছেন বলে জানাগেছে। উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বলেন, কুল্যা ইউনিয়নে সরকারি সহায়তা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ আমরা জেনেছি। বিষয়টি আমাদেরকে ব্যথিত করছে। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর কার্যকর পদক্ষেপ নিবেন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। গরীবের আমানত খেয়ানত করার মত অপরাধ কখনো মেনে নেওয়া যায়না।

শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট