আশাশুনিতে জীবনের নিরাপত্তা ছাড়াই কনডেম ভবনে ৩টি অফিস চলবে আর কতদিন?

আহসান উল্লাহ বাবলু আশাশুনি সাতক্ষীরা  প্রতিনিধিঃ বসবাসের ঘর ভেঙ্গে, অফিস ঘর ভেঙ্গে কিংবা স্কুল ভবন ভেঙ্গে মানুষের হতাহতের ঘটনা অনেক বার ঘটেছে আমাদের দেশে। তারপরও হেলা অবহেলা কিংবা বাধ্য হয়ে জীর্ণশীর্ণ বা কনডেম ঘোষিত ঘরে/ভবনে জীবনের মায়া ব্যাগ করে বসবাস, ব্যবহার বা অফিস করা বাস্তবতা খুবই জঘন্য ও অমানবিক একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা। অবিশাস্য হলেও সত্য আশাশুনি উপজেলা কম্পাউন্ডে ৩টি অফিস চলছে কনডেম ঘোষিত টিনসেড অফিসে। 

উপজেলা ঘোষণার পর আশাশুনি উপজেলার অফিস ভবন নির্মানের সাথে সাথে অডিটোরিয়াম হিসাবে নির্মান করা হয়েছিন একটি টিনসেড ভবন। দীর্ঘদিন সেখানে মিটিং সিটিং চলার পর নতুন অফিস ভবন নির্মানের পর সকল অফিসের স্থান সংকুলান না হওয়ায় পুরনো অডিটোরিয়ামে পাটিশান দিয়ে কয়েকটি অফিস চালু করা হয়। পরবর্তী সেই অফিস ভবন জীর্ণশীর্ণ হলে সেটি ভেঙ্গে আবার নতুন বিল্ডিং করা হলেও এই অডিটোরিয়াম ভবনের কোন গতি হয়নি। জীর্ণশীর্ণ ও আলোবাতাস যাতয়ানের সুযোগহীন অডিটোরিয়ামে কৃষি, মৎস্য, সমবায় ও পরি সংখ্যান অফিস চালান অব্যাহত থাকে। পরবর্তীতে মৎস্য অফিস স্থানান্তরিত হলেও মৎস্য অফিস, সমবায় ও পরি সংখ্যান অফিস স্থানান্তরের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। 

গত বছর (২০২০ সালে) জুলাই মাসে চরম বিপদগ্রস্থ টিনসেড ভবনের সিলিং ভেঙ্গে পড়েছিল। অল্পের জন্য প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তখন অফিসগুলোর পক্ষ থেকে আবেদন করা হলেও স্থান সংকুলানের অভাবে তাদেরকে অন্যত্র নেওয়া সম্ভব হয়নি। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা দ্রুত অফিসগুলো স্থানান্তরের আশ্বাস প্রদান করেন এবং ঘরের সংস্কার না করা হলেও সিলিং ভেঙ্গে অপসারণ করা হয়েছিল। কিন্তু অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় অফিসগুলো স্থানান্তরের কোন ব্যবস্থা না করেই ২০/০৭/২০ তাং ৪৮৫ নং স্মারকে উপজেলা প্রকৌশলী পুরাতন টিটিডিসি হল রুম ব্যবহারের অনুপযোগি হওয়ায় কনডেম ঘোষণা করে পত্র প্রেরণ করেন। পত্র প্রাপ্তির ৭দিনের মধ্যে অফিস স্থানান্তরের কথা বলা হয়। 

অফিস স্থানান্তর করে কোথায় যাবে সেব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তাদের পক্ষে অফিস অন্যত্র স্থানান্তর সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ঝড়বৃষ্টির সময় এসেগেছে। পরিত্যাক্ত ভবনের অবস্থা এতটাই শোচনীয় হয়ে পড়েছে যে, ঝড়ো হাওয়ায় কখন নাজানি পুরো ভবন ভেঙ্গে জানমালের ক্ষতি হবে- এমন আশঙ্খা বুকে নিয়ে অফিস করছেন কর্মকর্তা কর্মচারীরা এবং অফিসে আসা সাধারণ মানুষ। সবাই এহেন পরিণতির হাত থেকে রক্ষা পেতে চায়। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সুনজরে নিয়ে দ্রুততার সাথে ব্যবস্থা নিবেন এ দাবী সংশ্লিষ্ট সকলের।

শেয়ার করুন

প্রকাশকঃ

অফিসঃ হাজী সিরাজুল ইসলাম সুপার মার্কেট, মোহাম্মদপুর মোড়, ছুটিপুর রোড, ঝিকরগাছা, যশোর।

পূর্ববর্তী প্রকাশনা
পরবর্তী প্রকাশনা