আশাশুনির কুল্যা ইউপি সচিবের খামখেয়ালীপনায় জনসাধারণের

আহসান উল্লাহ বাবলু . আশাশুনি সাতক্ষীরা  প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার কুল্যা ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত ইউপি সচিবের কর্মে অনীহা ও খামখেয়ালীপনায় ইউনিয়নবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তার দুর্ব্যবহার, অসদাচরণ ও কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়ার কারণে ইউনিয়ন পরিষদে জরুরী সেবা গ্রহণে স্থবিরতার সৃষ্টি হতে চলেছে। ইউপি সচিব সিরাজুল ইসলাম কুল্যা ইউনিয়ন পরিষদে যোগদানের পর থেকে নিয়মিত ও সময়মত অফিস করেন না। মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার ও কাজের জন্য আসা মানুষকে আজনা কাল করতে করতে সময়ক্ষেপনের মাধ্যমে ভোগান্তির সৃষ্টি করে থাকেন বলে ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করেছেন। এনিয়ে অনেকবার ভুক্তভোগিরা প্রতিবাদ জানালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে তার দৌরাত্ম দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। করোনা ভাইরাস শুরুর পর থেকে তার দৌরাত্ম্য ও খামখেয়ালীপনা আরও বেপরোয়া হয়ে দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি ইউনিয়ন পরিষদে আসা একে বারে বন্দ করে দিয়েছেন বললেও অত্যুক্তি হবে না। কারণ তিনি মাসে মাত্র দু'দিন পরিষদে আগমন করে থাকেন। করোনা ভাইরাস জনিত কারনে এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা পরিসেবা বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পরিষদে ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের উপস্থিতি খুবই প্রয়োজনীয়। তার পরও তিনি পরিষদে আসেননা। ফলে জন্ম-মৃত্যু সনদ, অর্থ নৈতিক লেনদেন, বিভিন্ন সরকারি কাজের কাগজপত্র তৈরি, রিপোর্ট প্রদানসহ জনগণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে সচিবের উপস্থিতির প্রয়োজন হয়ে থাকে। কিন্তু তিনি জনগণের কথা বিবেচনায় না রেখে মাসে দু'দিন উপস্থিত হন। উপস্থিত হলেও অফিসের দরজা বন্দ করে রেখে জানালা দিয়ে মানুষের সাথে কথা বলে থাকেন। মানুষকে দিনের পর দিন এমনকি মাসের পর মাস ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে হয়রানী করে থাকেন। টাকা ছাড়া তিনি কাজ করতে নারাজ, এমন অভিযোগ অসংখ্য রযেছে। বৃহস্পতিবার একদল সাংবাদিক ইউনিয়ন পরিষদে গেলে দেখেন বহু জনগণ সেখানে উপস্থিত। তারা এক দেড় মাস হাটতে হাটতে হাফিয়ে উঠেছেন, দাবী করে প্রতিবাদ মুখর হয়ে পরিষদ চত্বরকে প্রকম্পিত করে তুলেছেন। তাদের মধ্যে দাদপুর গ্রামের বাবলু জানান, এক মাসের অধিক তিনি জন্ম নিবন্ধের জন্য হাটছেন। মহিষাডাঙ্গা গ্রামের বিবেক সরকার দেড় মাস, ডাঃ সুভাস মাসাধিক কাল, বাহাদুরপুর গ্রামের ফারিহা ৩ মাস জন্ম নিবন্ধনের জন্য হয়রানী হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। এব্যাপারে সচিবের সাথে কথা বললে তিনি করোনার কারণে অফিসে আসছেন না। কার কাজ হলো না হলো সেটি দেখার সময় নেই, নিজে বেঁচে তবে অন্যের কাজ করতে চাই। ডিসি মহোদয় সে আদেশ দিয়েছেন তাদেরÑ এমনটি জবাব দিয়ে কক্ষের মধ্যে বসে থাকেন। ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছেত আল হারুন চৌধুরী বলেন, তার অনুপস্থিতির কারনে অনেক অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। তাকে বারবার অফিস করতে বলেছি, কিন্তু ডিসি সাহেব তাকে অফিস করতে নিষেধ করেছেন দাবী করে অফিস না করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খাঁনের সাথে সংবাদিকদের পক্ষ থেকে কথা বলা হলে তিনি ঘটনাটা দুঃখ জনক বলে মন্তব্য করেন। সাথে সাথে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্থ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশকঃ

অফিসঃ হাজী সিরাজুল ইসলাম সুপার মার্কেট, মোহাম্মদপুর মোড়, ছুটিপুর রোড, ঝিকরগাছা, যশোর।

পূর্ববর্তী প্রকাশনা
পরবর্তী প্রকাশনা