শ্যামনগরে বালি উত্তোলন বন্ধ না হলে ভাঙনের আশঙ্কা

হুদা মালী শ্যামনগর প্রতিনিধি:  ইয়াসের ক্ষত কাটিয়ে না উঠতেই ভাঙন কবলিত খোলপেটুয়া নদী থেকে আবারও বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। বালু তোলা বন্ধ না করলে ফের ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে।

সরকারিভাবে ভাঙন কবলিত স্থান হতে বালি উত্তোলন করা সম্পূর্ণ নিষেধ থাকলেও এ আইন অমান্য করে প্রতিনিয়ত খোলপেটুয়া নদী হতে একটি প্রভাবশালী মহল বাণিজ্যিকভাবে ভাঙন কবলিত এলাকা থেকে বালি উত্তোলন করছে। উত্তোলনকৃত বালু এলাকার বিভিন্ন বসত ভিটা, পুকুরসহ বিভিন্নভাবে বিক্রয় কার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে খোলপেটুয়া নদীর ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। এতে ক্ষতি হয় মানুষের লক্ষ টাকার সম্পদ। খোলপেটুয়া নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বালু তোলা শ্রমিকরা

 সরাজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বুড়িগোয়ালীনি, দাতিনাখালিতে পাউবোর ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের পাশে ড্রেজার মেশিন লাগিয়ে খোলপেটুয়া নদী থেকে উত্তোলনকৃত বালু আনলোড করা হচ্ছে। স্থানীয় কলবাড়ি গ্রামের মোস্তাফিজু রহমান বলেন, আমাদের এলাকা ভাঙন কবলিত। একটি প্রভাভশালী মহল উন্নয়নমূলক কাজের নামে প্রতিনিয়ত বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রিয় করছে। বাণিজ্যিকভাবে বালু তোলা বন্ধ না হলে এলাকা আবার ভেঙে যাবে।দাতিনাখালি গ্রামের সবিলা খাতুন বলেন, ভাঙনের রাস্তার পাশে থেকে বালু উত্তোলন করলে আবার ভেঙে যাবে বাড়ি-ঘর। তাই সরকারের কাছে দাবি ভাঙন এলাকা থেকে বালু তোলা বন্ধ হোক। 

স্থানীয় ফজলু ও বাসার বলেন, আমাদের সব সময় দুর্যোগের সাথে মোকাবিলা করতে হয়। প্রতিনিয়ত নদী ভাঙনের আতঙ্কে থাকতে হয়। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করায় ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে।বুড়িগোয়ালীনি ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডল বলেন, উপকূলীয় এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ। সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। তাই পরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করতে হবে। কিন্তু খোলপেটুয়া নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলা হলে আবার ভাঙনের ঝুঁকি থাকবে।

বালু উত্তোলনের দায়িত্বে থাকা হুমায়ূন বলেন, আশাশুনির নদী থেকে বালু আনা হচ্ছে। বিক্রয়ের বিষয় জানতে চাইলে বলেন, যারা বালু কিনতে চায় তাদের কাছে বিক্রয় করা হবে। এতে আপনাদের কি সমস্যা।

 শ্যামনগর সহকারি কমিশনার (ভূমি) শহিদুল ইসলাম বলেন, বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলনের কোন সুযোগ নেই। দাতিনাখালিতে ঈদগাহের জন্য কিছু বালু তোলার কথা বলা হয়েছে। তবে অন্য জায়গায় বালু দিতে পারবে না।

শেয়ার করুন

প্রকাশকঃ

অফিসঃ হাজী সিরাজুল ইসলাম সুপার মার্কেট, মোহাম্মদপুর মোড়, ছুটিপুর রোড, ঝিকরগাছা, যশোর।

পূর্ববর্তী প্রকাশনা
পরবর্তী প্রকাশনা