তানভীর আহমেদ, মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার (তৎকালীন সাব জজ আদালত) ভবন এখন মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভবন ধ্বসে যেনাে মুর্হুতে ঝরে যেতে পারে তাজা প্রাণ।
ভবনের স্পেলিংয়ের কিছু অংশ বিশেষ হঠাৎ ভেঙ্গে মাটিতে পড়ে । ভেঙ্গে পড়া স্পেলিংয়ের কিছু অংশ নিচে পড়ায় পাশে রাখা ১টি মোটরসাইকেলের ক্ষতি হয়।তবে ওই ভবনে কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ সেবা গ্রহীতারা প্রাণে বেঁচে যান। এ ঘটনার পর থেকে পুরাে এলাকা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,বিকেলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ভবনের সিলিংয়ের স্পেলিং ভেঙ্গে নিচে পড়ে। এসময় বিকট শব্দে হলে, ওই ভবনে থাকা সকলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।এই বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার মাহফুজ রানা জানান, "গাংনী পুরো জেলার অর্ধেকটা নিয়ে গঠিত একটি উপজেলা। এই কার্যালয় ভবনটি জন-সমাগম, রাজস্ব আহরণ, কর্মসংস্থান ও গুরুত্বের বিচারে অনেক ভালাে। দুঃখজনক হলেও সত্য, গত প্রায় চার দশকে এর যথাযথ সংস্কারে কেউ কাজ করেনি। তাই আজ এই বেহাল দশা।
গত বছর ফেব্রুয়ারিতে যোগদান করেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের মেহেরপুর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয়ের কাছে পত্রযোগে সংস্কারের আহবান জানিয়েছি । লকডাউন ও মহামারিতে কাজ শ্লাে হলেও নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু পাল আন্তরিক ছিলেন এবং ৪ লাখ ৭০ হাজার ৩২ টাকার কার্যাদেশ অনুমোদন করেন এবং অল্প সময়ে বেশ কিছু সংস্কার কাজ করে দেন। একই সময়ে উপজেলা পরিষদকেও কিছু সংস্কারের বিষয়ে অবহিত করা হলে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া যায়। এতােটুকু উদ্যোগ বিগত সময়ে কোন অফিসার নেননি বা স্বপ্রণোদিত হয়ে দায়িত্বশীল কেউ সংস্কারে এগিয়ে আসেননি। যার ফলশ্রুতিতে আজ এই দূর্ঘটনা। ভবনটির ছাদের উপর রয়েছে গাছ,পঁচা পাতা। যার কারণে পানি জমে এই ঘটনাটি ঘটতে পারে। এজলাস ও খাসকামরায় এরূপ ফাটল ও ভেজা দৃশ্য ছিল। গত বছর তা মেরামত করা হয়।
খাদ্য গুদামের পেছনে নতুন কার্যালয় ভবন নির্মাণের কথা থাকলেও এযাবত আলোর মুখ দেখেনি। ভবনটি সংস্কারের অযোগ্য হলে গণপূর্ত তা পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে পারে। আর যদি সংস্কারযোগ্য হয় তবে অবিলম্বে সংস্কার শুরু করাই একান্ত কাম্য।" গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী খানম জানান, বিষয়টি আমি জানিনা। এখন পর্যন্ত আমাকে জানানো হয়নি। যেহেতু এটি একটি জনসমাগম এলাকা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়। আমাকে লিখিত ভাবে অবগত করলে, আমি যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।
উল্লেখ্য, গত আশির দশকের প্রথমার্ধে নির্মিত ভবনটিতে নির্মাণোত্তর কোন সংস্কারের ব্যবস্থা করা হয়নি। ভবনটি ব্যবহৃত হচ্ছে, বর্তমানে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি ব্যাংক, ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি প্রকল্প ও সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়। প্রায় অর্ধেকটা জুড়ে সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীর সংখ্যা ও পদচারণাই প্রণিধানযোগ্য। কার্যালয়টিতে বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার হিসাবে মাহফুজ রানা যোগদানের পর বেশ কিছু সংস্কার লক্ষ্য করা যায়।
ভবনের সামনে ফুলের বাগান, হাত ধোয়ার বেসিন, পতাকা স্ট্যান্ড, সিঁড়ি, বারান্দা, এজলাস, কক্ষসমূহ টাইলসকরণ; ডিজিটাল সিরিয়াল সিস্টেম ডিসপ্লে স্থাপন, দরজা জানালা মেরামতসহ ভবনের ভেতর ও বাহিরে রঙ করা ইত্যাদি কাজ ভবনটির প্রায় ধ্বংসাবস্থাকে আড়াল করেছে মাত্র।
