মোঃ লাতিফুল আজম,কিশোরগঞ্জ নীলফামারী প্রতিনিধি:৫০ শয্যা বিশিষ্ট নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অফিস সহকারী (ভারপ্রাপ্ত)বুলবুল ইসলামের বিরুদ্ধে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে কর্মরত ষ্টাফদের সাথে অসদআচরন ও হয়রানীর কারনে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে শতাধিক ষ্টাফ। ক্ষমতার অপব্যবহার ও হয়রানীর কারনে মুখ খুলছেনা কেউ।
বুলবুল পঞ্চগড় জেলার দেবিগঞ্জ উপজেলায় ক্যাশিয়ার হিসাবে নিয়োগ পেলেও কিশোরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেপুটেশনে এসে একই সাথে অফিস সহকারী প্রধান সহকারীষ ও পরিসংখ্যানবিদ হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। উর্দ্ধতন কর্তপক্ষের আস্থাভাজন হওয়ার কারনে তাঁর বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নিচ্ছেনা কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালের ক্যাশিয়ারের বাড়ি পুটিমারী ইউনিয়নের কালিকাপুর চৌধুরীপাড়া গ্রামে। তাঁর মুল পোষ্টিং পঞ্জগড় জেলার দেবিগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে । গত ২০১৮ সালে তিনি কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে ডেপুটেশনে এসে ক্যাশিয়ার পদে যোগদান করেন। যোগদানের পর উর্দ্ধতন কর্তপক্ষকে ম্যানেজ করে তিনি অফিস সহকারী, পরিসংখ্যানবিদ এবং প্রধান সহকারীর পদসহ একাই চারটি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ক্যাশিয়ার, অফিস সহকারী সহ অন্যান্য পদের দায়িত্বে থাকায় তিনি অফিস ষ্টাফদের সাথে বেপরোয়া আচরন করেন। এবং ষ্টাপদের বিভিন্ন বিল ভাউচার তৈরী করার নামে ষ্টাফদের কাছে বিলের ২০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ টাকা ঘুষ আদায় করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ষ্টাফ জানান, বুলবুল কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে যোগদানের পর হাসপাতালের কোয়াটার নিজের নামে বরাদ্দ নিয়ে বহিরাগতদের থাকতে দিয়েছেন। তিনি অত্র হাসপাতালের ষ্টাপ নার্স মারুফা আক্তারকে বিয়ে করার সুবাধে ওই নার্স ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেননা। ফলে রোগীরা দুভোর্গের স্বীকার হচ্ছে। এছাড়াও বর্তমান সরকারের আমলে কিশোরগঞ্জ উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়িত হলেও বুলবুল উর্দ্ধতন কর্তপক্ষের সাথে যোগসাজস করে জেনারেটরের তেল এবং হাসপাতালে রোগীর জন্য ব্যাবহত এম্বুলেন্সের তেল বাবদ খরচের দ্বিগুন বিল ভাইচার তৈরী করে বিল উত্তোলন করে আত্নসাৎ করার কারনে চাকুরীর কয়েক বছরে টাকার পাহাড় গড়েছেন।
এদিকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে একটি রহস্যজনক চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা রাতের বেলা অফিস সহকারীর রুমের জানালার লোহার রট কেটে ভিতরে প্রবেশ করে অফিসের মুল্যবান কাগজপত্র তছনছ করে। অভিযোগ উঠেছে অফিস সহকারী বুলবুলের আলমারীতে মোটা অংকের টাকা ছিল। টাকা হজম করতেই এ চুরির নাটক। উল্লেখিত বিষয়গুলো তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে পড়বে।
এ ব্যাপারে বুলবুলের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আপনি কি আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ। আমার বিষয়ে আপনাকে বলতে আমি বাধ্য নই।
হাসপাতালের চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল আউয়াল বলেন, হাসপাতাল কর্তপক্ষ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছে। তদন্ত চলছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু শফি মাহমুদের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন, লোকবল না থাকায় বুলবুল পরিসংখ্যান, অফিস সহকারী এবং প্রধান সহকারীসহ বেশ কয়েকটি পদে দায়িত্ব পালন করছে। তিনি আরো বলেন, বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
