মোঃ ফিরোজ হোসাইন, রাজশাহী ব্যুরোঃপটুয়াখালী সদর উপজেলার মধ্য ধরান্দী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে একজন অযোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার পায়তারা চলছে। সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব তার আপন ছোট ভাই মো. শহিদুল ইসলামকে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক করতে নানান কৌশল অবলম্বন করেছেন। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে তিনি ইতিমধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেও ফেলেছেন, এমনটি শোনা যাচ্ছে। চাচা নুরুল ইসলাম মিয়া ওরফে আদম আলীর প্রতিষ্ঠিত স্কুলটিতে শহিদুল ইসলাম বর্তমানে সহকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তার আকের ছোট ভাই মো. মহিউদ্দিন লিটনও একই বিদ্যালয়ের কৃষি শিক্ষক। অভিযোগ রয়েছে, বড় ভাই আব্দুর রব প্রধান শিক্ষক থাকাকালীন অনিয়ম তান্ত্রিকভাবে তাদের নিয়োগ দিয়েছেন। এনিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চরমাকারে ক্ষোভ থাকলেও এবার তিনি অবসরে গিয়ে ছোট ভাই শহিদুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসিয়েছেন। সর্বশেষ চাইছেন তার চেয়ারটি পাকাপোক্ত করে তাকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে। এই বিষয়টি জানাজানি হলে অপরাপর শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকেরাও ক্ষোভে ফুসে উঠেছেন।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, চাচার প্রতিষ্ঠিত স্কুলটিতে সাবেক প্রধান শিক্ষক আবদুর রব মিয়া স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে দুর্নীতির একটি আখড়ায় রুপ দিয়েছেন। নিজে প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসে তার আপন দুই ভাইকে সহকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়ে দেওয়াসহ প্রতিষ্ঠানের অর্থ লুটপাট করেন। এমনকি বর্তমানে তিনি অবসরে থাকলেও তার নির্দেশনায়ই চলছে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ও সকল কার্যক্রম। স্কুলের একটি সূত্র জানায়, ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম শিক্ষক হিসেবে অতটা ভাল না হলেও তাকেই প্রথমে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে বসিয়েছেন আব্দুর রব। এখন চাইছেন ভারপ্রাপ্ত অংশটুকু কেটে চেয়ারটি পাকাপোক্ত করতে। এনিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝেও ক্ষোভ থাকলেও ম্যানেজিং কমিটি রয়েছে নিশ্চুপ। তবে এই বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাখন লাল শিকদারের ভাষ্য হচ্ছে, তিনি শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার ব্যাপারে অবগত নন। এদিকে অযোগ্য ব্যক্তিকে ঐতিহ্যবাহী স্কুলের প্রধান শিক্ষক করার খবরটি চাউর হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়রাও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। অবৈধ এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করে তারা নিয়ম তান্ত্রিকভাবে প্রতিষ্ঠান চালানোর দাবি জানিয়েছেন। নতুবা আন্দোলন করার হুমকি দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে এলাকাবাসী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তবে নিয়োগ দেওয়া বা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলছেন, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। ফলে সব নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত আছে। এই বিষয়ে জেলা সরকারী ডি ই ও আব্দুল হানিফ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে অযোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। মধ্য ধরান্দী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন প্রকার কারসাজি হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
