নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায় দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন, অ্যাম্বুলেন্স চালক দাসেরডাঙ্গা এলাকার মৃত শফিউদ্দিন মোল্যার ছেলে টিপু মোল্যা (৪০), লোহাগড়া তেল পাম্প এলাকার গ্যারেজ মিস্ত্রি সিংগা এলাকার মফিজুর রহমান (৪৮), স্ত্রী নাদিয়া বেগম (৩৪), তাদের ছোট ছেলে রিফাত রহমান (১৪) এবং মফিজুরের শ্যালক আলিম শেখ (৪৫)। এ সময় আহত অপর শ্যালক ইনছানকে (৫২) গুরুতর অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিবারের লোকজন আরো জানায়, মঙ্গলবার সকালে মফিজুর রহমান তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রী নাদিয়া বেগমকে পাবনা মানসিক হাসপাতাল থেকে আনতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে দুপুরে নাদিয়াকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে লোহাগড়ার বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের লক্ষ্মীপুর বিত্তিপাড়া এলাকায় ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা চার যাত্রী ও চালক নিহত হন।নিহতটিপুর দাসেরডাঙ্গার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার খবর শুনে তার মা, স্ত্রী, বোন, সন্তানরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। প্রতিবেশিদের অনেকেই ওই বাড়িতে গিয়েও কান্নাকাটি করছেন। এলাকায় এখন চলছে শোকের পরিবেশ। লাশের অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবার সদস্যরা।উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট ওয়াহিদ জানান, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ইফাদ নামে ওই অ্যাম্বুলেন্স পাবনা থেকে কুষ্টিয়া হয়ে ঝিনাইদহের দিকে যাচ্ছিল। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজারের পাশে একটি মাইক্রোবাসকে সাইড দিতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এতে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে পাঁচজন সেখানেই মারা যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশ উদ্ধার কাজ চালায়।কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আলী সাজ্জাদ বলেন, মাত্র একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। আহত ব্যক্তিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ও ময়নাতদন্তের জন্য নিহতদের মৃতদেহ একই হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
