যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরিছন্ন কর্মীকে বরখাস্ত নিয়ে নানা গুঞ্জন !

স্টাফ রিপোর্টারঃ  যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরিচ্ছন্নকর্মীকে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় তোলপাড়! যশোর শিক্ষাবোর্ডের একজন পরিছন্ন কর্মীকে তুচ্ছ ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে নানান ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সিবিএ নির্বাচনের আগে এ বরখাস্তের ঘটনায় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিবিএ নেতারা। বরখাস্তকৃত পরিছন্নকর্মী শ্রীতন কুমার দাশ তত্তাবধান শাখার অধীনে 

প্রশানিক ভবন-১ এর নীচতলা, প্রশাসনিক ভবন ২ এর ৩য়, ৪ র্থ ও রেস্ট হাউজের পরিচ্ছন্নতা কাজে কর্মরত ছিলেন। এদিকে বোর্ডের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যে প্রণোদিত 

কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অসাদাচারণ ও বরখাস্ত নামে হাতিয়ার ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোল্যা আমির হোসেন বোর্ডের প্রশাসনিক ভবন ১ নিচ তলার গাড়ির গ্যারেজে আসেন এবং 

সেখানে বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখা ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করা হয়নি তা জানতে চান। এসময় তিনি গাড়ি গ্যারেজের মেঝেতে বিদ্যুতের তার বসানো কাজ করা হয়েছে। মিস্ত্রিরা বাকি কাজটা করেনি এবং এখানে আমার ডিউটি না বলে জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বোর্ডের সচিব এএম এইচ আলী আর রেজা ৩৭.১১.৪০৪১.২০৮,১৮,১২.২০.১৫২/৩০১৫, তারিখ : ১১.১০.২০২০ স্মারকে তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেন। পরিছন্নকর্মীশ্রীতন কুমার দাশ গত ১৩ অক্টোবর কারণ দর্শানোর নোটিশের 

জবাব দেন। সেখানে ঘটনার তথ্য তুলে ধরেন। এছাড়া বোর্ডের ৬ জন পরিচ্ছন্ন কর্মচারীদের কাজের বন্টনে অনিয়ম করে তাকে অন্যান্যদের তুলনায় বেশি পরিমাণে কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। একই সাথে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে মার্জনা করার জন্য এবং ভবিষ্যতে এধরণের ত্রæটি হবে না বলে 

নোটিশের জবাবে পরিচ্ছন্ন কর্মী উল্লেখ করেন। এদিকে দায়িত্ব অবহেলা, বোর্ডের চেয়ারম্যানের সাথে সরকারি শৃংখলা পরিপন্থি কার্যক্রমের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তিন 

সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন। গঠিত কমিটির আহবায়ক হলেন, বোর্ডের উপসচিব (প্রশাসন) আব্দুস সালাম আজাদ, 

সদস্য সচিব সহকারী সচিব ১ (প্রশাসন) মুজিবুল হক এবং সদস্য হলেন সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক (অনুমোদন) এসএম 

আনিছুর রহমান।তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর এবং কারণ দর্শানোর 

জবাবের প্রেক্ষিতে গত ২৭ অক্টোবর বোর্ডের সচিব এএমএইচ আলী আর রেজা ঝাড়–দার শ্রীতন কুমার দাশকে সাময়িক বরখাস্ত 

করেন। একই সাথে তিন কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যার স্মারক নম্বর 

৩৭.১১.৪০৪১.২০১.১৮.০১২.২০.১৭৩। তারিখ : ২৭.১০.২০২০। এ ঘটনায় বোর্ডের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি 

হয়েছে।বোর্ডের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, আগামি ১৬ নভেম্বর বোর্ডের সিবিএ নির্বাচন। নির্বাচনে যশোর শিক্ষাবোর্ড এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন ও যশোর শিক্ষাবোর্ড 

কর্মচারী ইউনিয়ন অংশ নিচ্ছে। সেখানে এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সমর্থকদের মধ্যে নানাভাবে নির্যাতন ও হয়রানি করা হচ্ছে। বরখাস্ত শ্রীতন কুমার দাশ ওই ইউনিয়নের সমর্থক। শুধু তাকে নয়, ওই ইউনিয়নের সমর্থক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি বোর্ডের রেকর্ড সাপ্লায়ার মশিয়ার রহমানকে দারোয়ান, 

দেলোয়ার হোসেন দিলুকে দারোয়ান ও কর্মচারী মমতাজকেচেয়ারম্যানের বাসার স্ত্রী, ছেলে মেয়ে ও তার কাপড় চোপড় পরিস্কার করানোর কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোল্যা আমির হোসেন ইতোপূর্বে বোর্ডের সচিব হিসেবে কর্মরত থাকার সময় বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগে 

কর্মকর্তা কর্মচারীরা আন্দোলন, মিছিল মিটিং করেন। সে সময় তাকে (ওএসডি) বোর্ড থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। 

এরপর তিনি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ নিয়ে আসেন। এরপর তিনি ইতোপূর্বে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য বরখাস্তসহ নানাভাবে প্রতি শোধের কাজ শুরু করেছেন।

শিক্ষাবোর্ডের এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জানান, বোর্ডের চেয়ারম্যান সিবিএ নির্বাচনের আগে পরিকল্পিত ভাবে এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের নেতা, সমর্থক, কর্মীদের মধ্যে ভয়ভীতি দেখানোর জন্য এসব 

করছেন। যাতে নির্বাচনে প্রভাব পড়ে। এ বিষয়ে এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের পক্ষ থেকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। যার অনুলিপি শ্রম অধিদফতর খুলনায় দেয়া হয়েছে। তারা এখনো 

কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

শ্রম অধিদফতর খুলনার লেবার অফিসার মিজানুর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে 

তিনি ফোন রিসিভি করেননি।যশোর শিক্ষাবোর্ডের সচিব এএম এইচ আলী আর রেজা বোর্ডের চেয়ারম্যানের নির্দেশে ঝাড়–দার শ্রীতন কুমার দাসকে বহিস্কার করা হয়েছে। সচিব হিসেবে আমি দায়িত্ব 

পালন করেছি। বিস্তারিত জানতে হলে স্যারের সাথে কথা বলতে 

পারেন। যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোল্যা আমির হোসেনের সাথে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।শিক্ষাবোর্ডের এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক 

আসাদুজ্জামান -০১৭১৬২৬৮৫০২

লেবার অফিসার মিজানুর রহমান-০১৭১২৬১৭৫৯৭

যশোর শিক্ষাবোর্ডের সচিব এএম এইচ আলী আর রেজা -০১৭১২৬৬৭৪৯২

যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান 

অধ্যাপক ড. মোল্যা আমির হোসেন -০১৭১১ ৫৩৫৪২১


শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট