নওগাঁর আত্রাইয়ে গৌরবময় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন

 
রাজশাহী ব্যুরো:  নওগাঁর আত্রাইয়ে শুক্রবার(২৬শে মার্চ) ৫০তম গৌরবময় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছে। যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা,জাতীয় দিবস ও গৌরবময় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন মহামারি করোনা পরিস্থিতিকে সামনে রেখে। শুক্রবার প্রত্যুষে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে ৩১ বার তোপধ্বনি শেষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা প্রসাশন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণ উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

স্বাধীনতার ৫০ বছর পদার্পণের শুভ মুহূর্তে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন বিশেষ মাত্রা যোগ হয়েছে। ২০১৭ সালের অক্টোবরে একাত্তরের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া সেই কালজয়ী ভাষণও ইউনেস্কোর ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যর স্বীকৃতি লাভ করে।

২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস।গৌরবময় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব জন্মশতবর্ষের অঙ্গীকার হোক উন্নত ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হামলা চালায়। অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলার মাধ্যমে বাঙালি জাতির জীবনে বিভীষিকাময় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল। দীর্ঘ নয় মাস মরণপণ লড়াইয়ের মাধ্যমে বাংলার দামাল সন্তানেরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে সে যুদ্ধে বিজয় লাভ করে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে।

১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। উপরন্তু পাকিস্তানি সেনারা বাঙালি বেসামরিক লোকজকে নির্বিচারে গণহত্যা করে। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল সকল রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং সকল সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা।

সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের আগে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং যেকোন মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মূহূর্তের মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.ইকতেখারুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো.এবাদুর রহমান,ওসি আবুল কালাম আজাদ,বীর মুক্তিযোদ্ধা সাজেদুর রহমান দুদু,আখতারুজ্জামান প্রমুখ। 

শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট