নন্দীগ্রামে আইন অমান্য করে লক্ষ লক্ষ টাকার মাটি বিক্রি! নিরব প্রশাসন


নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার নন্দীগ্রামে সরকারি আইন অমান্য করে পুকুর সংস্কারের নামে লক্ষ লক্ষ টাকার মাটি বিক্রি এবং শ্রেনী পরিবর্তন করে কৃষি জমি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে নন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপি'র সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান একে আজাদের বিরুদ্ধে।২০১৬ সালের কৃষিজমি সুরক্ষা আইনের (খসড়া আইন)-৪ ধারায় বলা রয়েছে, কৃষিজমি ভরাট করতে স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু এই আইনের তোয়াক্কা না করে নির্বিচারে ফসলি জমি ভরাট করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নিরব ভূমিকা পালন করছেন উপজেলা প্রশাসন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার কাথম গ্রামে অবস্থিত  প্রায় ৯ একর পরিমান পুকুর এবং বিশাল চৌরা পুকুরের পার থেকে এস্কেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে মাটি কেটে সেই মাটি বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছে বিএনপির এই সাবেক নেতা। মাটি বহনের কাজে ব্যবহার করছে বড় বড় ড্রাম ট্রাক। ট্রাক গুলো সরকারি পাকা রাস্তায় চলাচল এবং অতিরিক্ত ওভারলোডের কারনে নষ্ট হচ্ছে সরকারি রাস্তা। আবার সেই মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে বিঘাকে বিঘা কৃষি জমি। নষ্ট করা হয়েছে আধাপাকা সরিষা ক্ষেত। বিশেষ করে চারপাশে ইরি ধান রোপন শেষ হলেও মাটি ভর্তি ট্রাক চলাচলের জন্য প্রায় ১ কিলোমিটার জুড়ে কৃষি জমি পতিত রাখতে বাধ্য করেছে গ্রামবাসীকে। গ্রামবাসী জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসন সরেজমিনে দেখে গেলেও তারা নিরব ভূমিকা পালন করছে।এবিষয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান একে আজাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পুকুরটি সংস্কার করা হচ্ছে এবং পুকুর পাড়ে মাটি রাখার জায়গা না থাকায় মাটি বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হচ্ছে।বিষয়টি নিয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রোহান সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আবাদি জমি পতিত রেখে এবং সরকারি রাস্তা নষ্ট সহ শ্রেনী পরিবর্তন করে কৃষি জমি ভরাটের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উক্ত বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কৃষি ক্ষেত বিনষ্ট এবং কৃষি জমি পতিত রাখার বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


সংবাদটি শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী সংবাদ
পরবর্তী সংবাদ