নড়াইলে স্বামীর নির্যাতনে এক গৃহবধূর তিন মাসের গর্ভের সন্তান নষ্



মো: আজিজুর বিশ্বাস স্টাফ রিপোর্টার নড়াইলঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় উপজেলাধীন টগরবন্দ ইউনিয়নে ৯নং ওয়ার্ডে পানাইল গ্রামের সামচু সরদারের মেয়ে জামিলা বেগম(২০)কে পার্শ্ববর্তী নড়াইল জেলার  লোহাগড়া উপজেলায়  কাশিপুর ইউনিয়নে বসুপটি গ্রামের সাবু শেখের ছেলে হাসান শেখ এর সঙ্গে উভয় পক্ষের সম্মতিতে এক বছর আগে বিবাহ সম্পন্ন হয়।


জামিলার মা বলেন লক্ষাধীক টাকা(স্বর্ণালঙ্কার, সাইকেল,ঘরের আসবাবপত্র) সহ  পারিবারিক ভাবে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।এরপর সংসারে স্বামী,শাশুড়ি,ননদ কর্তৃক নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ জামিলা বেগম গত  ১২ মার্চ শুক্রবার  সকাল ১০ টার দিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।জামিলা বলেন বিবাহের দুই মাস পর হতে শুরু হয় তার যৌতুক লোভী হাসান শেখ  বিভিন্ন কৌশল, এরপরে খারাপ আচরণ করতে থাকে। 

সময় অসময়ে গৃহবধূর সঙ্গে খারাপ আচরণ সহ মারপিট করে ও বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন টাকা ও মালা মাল যৌতুক  দাবি করে।নির্যাতনের শিকার জামিলা বেগম যৌতুকের বিষয়টি তার পিতা, মাতা কে জানালে পিতা মাতা মেয়ের সূখের কথা চিন্তা করে জামাইকে দোকান দেওয়ার সময় এক লক্ষ টাকা দিতে সম্মতি দেয়।

এটাতেই শেষ হয়নি য‍ৌতুক লোভী স্বামী আবার ও গত ১২ মার্চ  তারিখে এক লক্ষ টাকা দাবি করে জামিলার কাছে।  জামিলা বলেন হাসানের বাহিরে পরকিয়া থাকায় শশুরে পছন্দে আমার সাথে বিয়ে দেওয়া পর থেকে নির্যাতন শুরু হয় অামার উপরে বিয়ের দুই মাস পর থেকে যৌতুকের জন্য মারধর করতো।এবং বলতো যৌতুক দিতে না পারলে আমার সঙ্গে সংসার করবে না বলে জানিয়ে দেয়। 


তখন জামিলা কোনো টাকা দেবেনা বলে জানায় এ কথা শুনে পাষন্ড স্বামী হাসান শেখ  ক্ষিপ্ত হয়ে আবারও আমাকে মারপিট করে এবং বলে যে তোর পিতা মাতা টাকা দিতে না পারলে তোর স্বর্ণালঙ্কার ও অন‍্যান‍্য মালামাল যা যা আছে এ গুলি রেখে তোর বাপের বাড়ি চলে যা বলে আমাকে কিল,ঘুষি লাঠি দিয়ে বেধরক মারপিঠ,করে ও তলপেটে লাথি মারে।

জামিলা অারো বলেন অামার জান প্রাণ বাচানোর জন্য অামি বাবার বাড়ি চলে যাই ও বিষয়টি মাতা হোসনেয়ারা বেগম বলেন তখন মা অামাকে নিয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  ভর্তি করে।

 
কর্তব্যরত ডাঃ আসিকুর রহমান প্রতিবেদক কে বলেন, জামিলার শরীরে আঘাতের দাগ রয়েছে, বিলিডিং ছিল ও বাচ্চা নষ্ট হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ডিএনসি/ ওয়াস করা হয়েছে এখন সে বিপদ মুক্ত।এদিকে জামিলার মা সাংবাদিকদের বলেন আমার মেয়ের সাথে ওরা যা করছে আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই ও  এরকম আর কোনো মেয়ের সাথে যেন এরকম ঘটনা না ঘটে। 


এসময় জামিলার স্বামী হাসানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন আমি জামিলা কে মারি নাই, সে এমনিতেই বাড়ি বাড়ি থেকে পালিয়ে চলে গেছে। 

শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট