এস আলমে চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

সেলিম চৌধুরী স্টাফ রিপোর্টারঃ- এস আলম গ্রুপে চাকরি দেয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 
গত বুধবার (২৪ মার্চ) খাগড়াছড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মো. হানিফ ওরফে ডিপজল (৪৭) এবং মোঃ শামসুল আলম (৪০)।বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) সিএমপির উপ কমিশনার (সিটি এসবি) হাসান মো. শওকত এক প্রেসি ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গ্রেপ্তার ডিপজল ও শামসুল একটি স্বনামধন্য গ্রুপ অব কোম্পানির ডিজিএমকে ফোন করে নিজেদের অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং এস আলম গ্রুপের পরিচালক বলে পরিচয় দেয়। ফোনে ওই ডিজিএমকে এস আলমে চাকরির প্রস্তাব দেয় তারা। তিনি প্রস্তাতে রাজি হলে তাকে ঢাকায় ইন্টারভিউ দিতে হবে বলে জানায়।
পরে তারা কন্ঠস্বর পরিবর্তন করে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে তার সাথে কথা বলে। কয়েকদিন পর আবার তাকে ফোন করে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের মেয়ে ও মেয়ের জামাতাসহ দুইজন ইঞ্জিনিয়ারের সাথে বিমানযোগে ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে। ঢাকা যাওয়ার জন্য বিমান ভাড়া বাবদ বিমান বাহিনীর এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নম্বরে টাকা বিকাশ করতে বলে। তিনিও সরল মনে টাকা বিকাশ করেন।এর কিছুক্ষণ পর এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে প্রতারক তাকে নির্ধারিত বন্দরে গাড়ি আছে বলে জানায়। সে গাড়ি ছাড়াতে টাকা বিকাশ করতে বললে তিনি টাকা পাঠান। তিনি তাদের মোট ৮০ হাজার সাতশ টাকা প্রদান করেন।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারক মো. হানিফ মিয়া ওরফে ডিপজল বিভিন্ন সময়ে নিজেকে বিভিন্ন গ্রুপ অব কোম্পানির চেয়ারম্যান, পরিচালক, সচিব, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে লোভনীয় চাকরি পাইয়ে দেয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে স্বীকার করে।সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভুক্তভোগী গত ২৩ মার্চ এ অভিযাগে সিএমপির কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা করেন।পরবর্তীতে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে মো. হানিফ মিয়া ওরফে ডিপজল তার সহযোগী মো. শামসুল আলমের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে গতকাল (২৪ মার্চ) রাতে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে খাগড়াছড়ির দিঘীনালা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়। উক্ত সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যহত আছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আসিফ মহিউদ্দীন, পরিদর্শক সঞ্জয়সহ উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট