নিরাপদ স্থান ফাতিমা পারভীন

স্বাধীন দেশে জন্ম
আমার ছোট্ট শিশুটির।
ও আজ গর্বিত বাঙালি!

মা! মা! শোন না মা!
আমি একটু খেলতে যাই ওপাড়ায়?
না  মা, যেওনা।
যাই না মা একটু!
খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসব!

সোনামণি, জাদুমণি আমার!
 যেওনা! ওপাড়ার বুড়ো চাচার
নজর লাগবে যে!
কে জানে মাঝপথে অপেক্ষা করছে
হয়ত কোন নরপশু!

আমি তাহলে স্কুলে যাই মা!
আচ্ছা যাও।
কিন্তু সেখানেও তো আছে
মনুষত্ববোধহীন শিক্ষক নামের কোন কলঙ্ক!
তোকে একা পেয়ে.....
না বাবা যাসনা!

আচ্ছা মা, আমি তাহলে
নানু বাড়িতে যাই?
নানু বাড়ি! না বাবা,
সেখানে ও তোমার জন্য নিরাপদ নয়।
তোমার নানাভাই থাকবে
মাঠে-ঘাটে, হাটে-বাজারে।
আর তোমার নানু?
সে তো সাংসারিক কাজে ব্যস্ত!
সেখানে তুমি একা খেলতে খেলতে
পানিতে গিয়ে পড়বে!
অথবা কারো রসের চুলায় পড়ে
আগুনে পুড়ে মরবে!
অথবা চকলেটের লোভে কোন লম্পটের
হাত ধরে চলে যাবে।!
এ-ই দৃশ্যের প্রেক্ষাপটে লেখা 

তাহলে আমি দাদু বাড়িতে যাই মা?
কি সর্বনাশ!
সেখানে তুমি ধর্ষিত হবে!

ঠিক আছে মা,
আমি তাহলে কাজের বুয়ার কাছেই থাকি?
খবরদার না!
আমার অবর্তমানে সে তোমাকে নির্যাতন করবে!
আছাড় মেরে ফেলে দিবে!
অথবা ভিজা ঠাণ্ডা বিছানায় শুইয়ে রাখবে!

তাহলে কোথায় থাকব আমি?
ঠিক আছে, সোনামণি আমার!
তুমি তোমার বাবার কাছেই থাকো।

না, না,কিছুতেই না!
এ আমি কি বললাম?
তোমার বাবা তো তোমাকে খুন করবে!
অন্যের উপর প্রতিশোধ নিতে
তোমাকে নির্মমভাবে হত্যা করবে!
কেটে টুকরো টুকরো করবে!
অবশেষে গলা কেটে গাছে ঝুলিয়ে রাখবে!

আমার ছোট্ট শিশুটি!
এই স্বাধীন দেশের সোনার বাংলায়
কোথাও ওর নিরাপত্তা নেই!
আচ্ছা, আমি তো ওর মা!
ও আমার বুকেই নিরাপদ থাকবে।
শান্তির ঘুম পড়বে আমার কোলে মাথা রেখে।

সে কি! আমার কাছে তো
ও মোটেই নিরাপদ নয়!

আমি তো পরকীয়ার টানে
কখন ওকে বালিশ চাপা দিয়ে মেরে
পানিতে ফেলে দিব!
অথবা ওকে একা ফেলে
অন্যের হাত ধরে পালিয়ে যাব!

না,পৃথিবীতে ওর কোন নিরাপদ স্থান নেই!
তবে ও আল্লাহর কাছেই থাক।

শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট