বড়লেখায় অভিযানে ৮ ব্যক্তিকে অর্থদন্ড প্রদান

বড়লেখায় অভিযানে ৮ ব্যক্তিকে  অর্থদন্ড প্রদান

আকরাম হোসাইন মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃমৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পৌর শহরে  ম্যাজিস্ট্রেট মীর নাহিদ আহসান মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মহামারী কোভিড- ১৯ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আজ ১৭জুন, ২০২১ তারিখ বিকাল ৪ ঘটিকা থেকে  ৫.৩০ ঘটিকা পর্যন্ত  মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ব্যবসা পরিচালনা ও বাহিরে অবস্থান করায় দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারায় ৮ জন ব্যক্তিকে মোট  ১০,০০০ টাকা অর্থদন্ড প্রদান ও আদায় করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী। মোবাইল কোর্ট  পরিচালনায় সহযোগিতা করে বড়লেখা থানা পুলিশ।

নন্দীগ্রামে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ ও মুক্তিপণের ঘটনায় গ্রেফতার- ৩

নন্দীগ্রামে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ ও মুক্তিপণের ঘটনায় গ্রেফতার- ৩

নন্দীগ্রাম বগুড়া প্রতিনিধিঃবগুড়ার নন্দীগ্রামে ফেসবুক প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ ও মুক্তিপণের ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ। নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আবুল কালাম আজাদ ও এসআই বিকাশ চক্রবর্তী সহ সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।  গ্রেফতারকৃতরা হলেন, উপজেলার ১নং বুরইল ইউনিয়নের ভদ্রদীঘি গ্রামের প্রবাসী সুজন প্রামাণীকের স্ত্রী রিনা বেগম (৩৭), তার সঙ্গী কহুলী তালুকপুরের মিলন হোসেনের ছেলে লিটন হোসেন (২২) ও কহুলী গ্রামের আব্দুল আলীমের ছেলে গোলাম রাব্বি (২০)। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার আবদুল মোত্তালেব (৩৬) সাথে "শিবলু সাথী" ফেসবুক আইডির মাধ্যমে পরিচয় ও বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন রিনা বেগম। পরবর্তীতে রিনা বেগমের আমন্ত্রনে গতকাল বুধবার নন্দীগ্রামের ভদ্র দিঘী গ্রামে রিনার বাড়িতে আসেন মোত্তালেব। এ সময় মোত্তালেবের কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে হাত-পা বেঁধে মারধর সহ বিবস্ত্র করে ছবি তুলে রাখে রিনা সহ তার সহযোগীরা। ছবিগুলোর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং পরিবারকে দেখানোর হুমকি দিলে মোত্তালেব তার আত্মীয়ের মাধ্যমে ১৭ হাজার ২০০ টাকা বিকাশে আনেন। পরে একটি ফাঁকা টেম্পে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। ছাড়া পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে নন্দীগ্রাম থানায় গিয়ে মোত্তালেব অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। উক্ত ঘটনায় নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বুলু মিয়াসহ ৪জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী মোত্তালেব হোসেন। এই ঘটনায় প্রতারক রিনা সহ ৩জন কে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বগুড়া সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজেস্ট্রেট কোর্টে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

নওগাঁর আত্রাইয়ে সাংবাদিকদের সাথে ইউএনও'র মত বিনিময়

 নওগাঁর আত্রাইয়ে সাংবাদিকদের সাথে ইউএনও'র মত বিনিময়

 রাজশাহী ব্যুরোঃ নওগাঁর আত্রাইয়ে উপজেলtয় আগামী ২০ জুন রবিবার মুজিব শতবর্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার দ্বিতীয় পর্যায়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ১০ টি ঘর উদ্বোধন উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় করেছেন ইউএনও ইকতেখারুল ইসলাম ।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে মত বিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আত্রাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবাদুর রহমান প্রামানিক, ওসি আবুল কালাম আজাদ, ভাইস চেয়ারম্যান শেখ হাফিজুল ইসলাম ও মমতাজ বেগম, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আক্কাছ আলী, শফিকুল ইসলাম বাবু,নাজমুল হক নাদিম, আফছার আলী, আব্দুল মান্নান মোল্লা, আত্রাই প্রেস ক্লাবের সভাপতি রুহুল আমীন , সহ-সভাপতি তপন কুমার সরকার , কোষাধ্যক্ষ ফিরোজ হোসেন, সদস্য মুজাহিদ খান, আব্দুল মজিদ মল্লিক, রুহুল আমীন, ওমর ফারুক সহ প্রেস ক্লাবের অনান্য সাংবাদিক বৃন্দ ।এ ছাড়াও আত্রাই উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি একেএম কামাল উদ্দিন টগর, সাধারণ সম্পাদক উত্তাল মাহমুদ সহ প্রেস ক্লাবের অনান্যরা উপস্থিত ছিলেন ।

বদলগাছীতে মুজিব শতবর্ষে ভূমিহীনদের জমি ও গৃহ প্রদান উপলক্ষে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত

বদলগাছীতে   মুজিব শতবর্ষে ভূমিহীনদের জমি ও গৃহ প্রদান উপলক্ষে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত

রহমতউল্লাহ,নওগাঁ প্রতিনিধিঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে,  বদলগাছীতে সাংবাদিকের সাথে প্রেস ব্রিফিং করেছেন ইউএনও আলপনা ইয়াসমিন। আগামী ২০ জুন উপজেলার ৯ টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) বিকাল ৩টায় উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে এই প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় ইউএনও জানান, উপজেলার বিলাসবাড়ী ইউ'পির ভগবানপুর গ্রামে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীনদের জমি ও গৃহ প্রদান ২য় পর্যায়ে ইতোমধ্যই ৯ টি গৃহ নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। যা আগামী ২০ জুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে উদ্ধোধন করবেন।

উক্ত অনুষ্ঠান স্থানীয়ভাবে সুন্দর ও সফল করতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমন জিহাদী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান আলী ও উপজেলা প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান।

ফরিদপুরের নগরকান্দায় অন্তঃসত্বা গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

ফরিদপুরের নগরকান্দায় অন্তঃসত্বা গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ নগরকান্দায় অন্তঃসত্বা গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে নগরকান্দা উপজেলা হাসপাতাল থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়। গৃহবধু নগরকান্দা পৌর এলাকার বালিয়া গ্রামের কামরুল আলমের ২য় স্ত্রী মুক্তি আক্তার (২৫)।জানা গেছে, কামরুল চার মাস পূর্বে পৌর এলাকার মিরাকান্দা গ্রামের বিল্লাল ফকিরের মেয়ে মুক্তি আক্তারকে পরিবারের অজান্তে বিয়ে করেন। এতে কামরুলের প্রথম স্ত্রী মেনে না নেওয়ায় মুক্তিকে নিজ বাড়ীতে স্থান দিতে পারেননি। কামরুল মুক্তিকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ী ভাবে অবস্থান করতেন। গত ৫ দিন আগে উপজেলার চাঁদহাট গ্রামের কামরুলের খালাতো ভাই ফরিদ মুন্সীর বাড়ীতে বেড়াতে যায়। বুধবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আড়ার সাথে ঝুঁলে আত্মহত্যা করে মুক্তি। 

মুক্তির বাবা বিল্লাল ফকির অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি ওকে হত্যা করা হয়েছে। মুক্তি ২ মাসের অন্তঃসত্বা ছিলো বলে জানান তিনি।বাড়ীর মালিক ফরিদ মুন্সী বলেন, রাতের খাবার শেষে দক্ষিণ পাশের ঘরে দুজনকে ঘুমাতে দেই। রাত ১০টার দিকে হঠাৎ কামরুল বলে মুক্তি গলায় ওড়না পেঁচিতে ঝুলছে। দ্রুত ঘরে গিয়ে মুক্তিকে নীচে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতালের ডাক্তার তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। থানা অফিসার ইনচার্জ সেলিম রেজা বিপ্লব বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেন করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নে দুস্থ সহয়তা মানবিক ফাউন্ডেশন স্থায়ী অফিস স্থাপন

নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নে দুস্থ সহয়তা মানবিক ফাউন্ডেশন স্থায়ী অফিস স্থাপন

নগরকান্দা( ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের সুশীল সমাজের সৃজনশীল মানবিক মানবতার বেশ কয়েকজন প্রবাসী তাদের কষ্টার্জিত ঘাম ঝরান। শ্রমের অর্থে দুস্থ অসহায় হতদরিদ্র  গ্রামীণ  মানুষগুলোর জীবন মানের উন্নয়ন উন্নতি সাহায্য  সেবার লক্ষে "দুস্থ সহয়তা মানবিক ফাউন্ডেশন" নামের এ প্রতিষ্ঠান  প্রায় বছর দুই ধরে চরযশোরদী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে করোনা কালিন ও বিশেষ দুর্যোগ কালিন সময়ে দুস্থ অসহায় মানুষের সেবায়  কাজ করে চলেছেন। 
বিদেশ বিভূঁইয়ে থেকে আত্নীয় আপনজন রক্তের স্বজনহীন থেকে তাদের এ মহৎপ্রাণ কাজের জন্যে  দৈনিক আমার সংবাদ পত্রিকা নগরকান্দা প্রতিনিধির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা করছি। 

ট্রাকের চাপায় বাইসাকেল আরোহীর মৃত্যু

ট্রাকের চাপায় বাইসাকেল আরোহীর মৃত্যু

মো. মিজানুর রহমান মিজান, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দিনাজপুর-ফুলবাড়ি মহাসড়কের চিরিরবন্দরে ট্রাকের চাপায় বাইসাইকেল আরোহী হাসান আলী নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে ওই মহাসড়কের চিরিরবন্দরের পুনট্টি ইউপির আমতলী বাজারের ব্রম্মপুর মাদ্রাসা মোড়ে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
দিনমজুর হাসান আলী (৫৫), দিনাজপুর সদরের পূর্ব মোহনপুর (মোহনপুর রাবার ড্যামের পার্শ্বে) গ্রামের ওসমান গণির ছেলে।
স্থানীয়রা ও পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে ফুলবাড়ি থেকে দিনাজপুরগামী চা বোঝাই একটি ট্রাকের সামনের দুটি চাকা একই সাথে ফেটে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায় এবং ট্রাকটি মহাসড়কে উল্টে পড়ে যায়। এ সময় দিনাজপুর সদরের পূর্ব মোহনপুর গ্রামের দিনমজুর হাসান আলী ওই পথ দিয়ে বাড়ি থেকে বাইসাইকেল যোগে আমবাড়ি বাজারের যাওয়ার সময় ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল পূর্বক ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে পুলিশ।চিরিরবন্দর থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

কাশিয়ানীতে জায়গা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১ জন

কাশিয়ানীতে জায়গা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১ জন

রিয়াদুল ইসলাম মোরশেদ,উপজেলা প্রতিনিধি,কাশিয়ানীঃ এক হাত সীমানা নিয়ে বিরোধ গত একবছর ধরে। আজ দুপুরে সংঘর্ষে কাশিয়ানী উপজেলার রামদিয়া গ্রামে খুন হয়েছে পাগল বিশ্বাস(৪৫), রামদিয়াতে আগে লাইব্রেরির দোকান ছিলো, পরে পোল্ট্রি ব্যবসা করতেন পাগল বিশ্বাস।

খুনী ফ্যালান বিশ্বাস(৫০) তার বউ মিনু বিশ্বাস(৪৫) ও তার ছেলে জীবন বিশ্বাস(৩০) গ্রেপ্তার।তথ্য সাপেক্ষে জানা যায়, বেশ কিছুদিন যাবৎ বাড়ির জায়গা নিয়ে দুই ফ্যামিলির মধ্যে ঝামেলা সেই সূত্র ধরে আজ দুপুরে ফেলান বিশ্বাস, পাগল বিশ্বাসের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় একপর্যায়ে ফেলান বিশ্বাস ও তার ছেলে জীবন বিশ্বাস রুখে আসে পাগল বিশ্বাসের উপরে । পাগল বিশ্বাসের স্ত্রীর কথা সাপেক্ষে জানা গেছে খুনি ফেলান বিশ্বাস ও তার ছেলের জীবন বিশ্বাস লাঠি দিয়ে আঘাত করে এবং ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় পাগল বিশ্বাসকে এটা দেখে দৌড়ে আসে পাগল বিশ্বাসের মা ,বউ, ছেলে , তাদের উপরও আঘাত করে ফেলান বিশ্বাস ও তার ছেলে ও বউ ঘটনাস্থলেই মারা যান পাগল বিশ্বাস লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মাধবপুরে গাঁজাসহ পাচারকারী আটক

মাধবপুরে গাঁজাসহ পাচারকারী আটক

লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:হবিগঞ্জের মাধবপুরে থানা পুলিশ মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৮ কেজি গাঁজা সহ শামীম হোসেন শাকিল (৩০)নামে  এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে শামীম হোসেন শাকিল উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের  ফরাস উদ্দিনের ছেলে
 
বুধবার রাতে চৌমুহনী ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের পাকা রাস্তায় শাকিলকে গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করে কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির এক দল পুলিশ মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন এ ব্যাপারে  মাদক নিয়ন্ত্রক  আইনে  মামলা রুজু করা হয়েছে।

মাধবপুরে গায়ে হলুদের দিনে সাউন্ড বক্সে বিদ্যুতের লাইন দিতে গিয়ে বরের মৃত্যু

মাধবপুরে গায়ে হলুদের দিনে সাউন্ড বক্সে বিদ্যুতের লাইন দিতে গিয়ে বরের মৃত্যু

লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:হবিগঞ্জের মাধবপুরে গায়ে হলুদের দিনে সাউন্ড বক্স এ বিদ্যুতের লাইন দিতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেছেন বর। বিয়ে বাড়িতে এখন আনন্দের বদলে চলছে শোকের মাতম বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মনতলা রেলওয়ে স্টেশন পূর্ব বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

বহরা ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত যুবকের নাম সজল মিয়া তিনি মনতলা রেলওয়ে ষ্টেশন খোলাবাজারের ব্যবসায়ী বোরহানপুর গ্রামের কুদ্দুস ভাণ্ডারীর ছেলে। একই ইউনিয়নের সুন্দাদিল গ্রামের হাসান আলীর মেয়ে সেলিনা আক্তার এর সঙ্গে সজলের আগামী কাল শুক্রবার বিয়ের দিন ধার্য ছিল।

তিনি বলেন, বিয়ের সকল প্রস্তুতি শেষ ছিল বৃহস্পতিবার গায়ে হলুদ এর দিনে বাড়িতে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য আনা হয় সাউন্ড বক্স বর নিজেই এতে বৈদ্যুতিক লাইন দিতে যান এসময় বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুত্বর আহত হন। স্বজনরা তাকে মাধবপুর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ডা.এম.এ.গনি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রাস্তা শুভ উদ্বোধন

ডা.এম.এ.গনি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রাস্তা শুভ উদ্বোধন

ডা.এম.এ.মান্নান ,টাংগাইল জেলা প্রতিনিধি:টাংগাইলের সুখিপুরে ডা.এম.এ.গনি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর যাতায়াতের জন্য প্রায় ৩৫০ মিটার রাস্তার কাজ শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেন সুখিপুর উপজেলা পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব জুলফিকার হায়দার কামাল ও ৫ নং হাতীবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মো.গিয়াস উদ্দীন।

 আজ বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১ খ্রি.সকাল ৯.০০ টায় অত্র প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা.মো.তোফাজ্জল হোসেন এর সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা.মো.আ.গনির পরিচালনায় রাস্তার কাজ শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন হয়। শুভ উদ্বোধন শেষে সরকারী মুজিব কলেজ এর সম্মানিত সহকারি অধ্যাপক মো.আসাদুজ্জামান এর পরিচালনায়  মহান আল্লাহ দরবারে বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করা হয়।

নতুন রাস্তা কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্হিতি ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মোছা.মীনা সুলতানা,নিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষক,মেডিকেল অফিসার ও কর্মকর্তা কর্মচারী বৃন্দ,আগত শুভাকাঙ্ক্ষী বৃন্দ ও সুখিপুর, তক্তারচালার সম্মানিত গণ্যমান্য বৃক্তিগণ।

মুজিবনগরে একসাথে তিন সন্তানের জন্ম!

মুজিবনগরে একসাথে তিন সন্তানের জন্ম!


তানভীর আহমেদ, মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি: মুজিবনগরে একসাথে তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক গৃহবধূ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে মুজিবনগর কুদরতে খোদা ক্লিনিকে তাদের জন্ম হয়।চুয়াডাঙ্গা জেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চাকুলিয়া গ্রামের গৃহবধূ তসলিমা খাতুন তিনটি সন্তানের জন্ম দেয়। বর্তমানে মা ও সন্তানরা সুস্থ আছেন বলে জানাই ডাক্তাররা।

নাগরপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

নাগরপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ডা.এম.এ.মান্নান,টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, বাল্যবিবাহ ও মাদক প্রতিরোধ বিষয়ক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে শহীদ সামছুল হক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ মত বিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। ইসলামি ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার মো. মাইনুদ্দিনের সভাপতিত্বে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথী হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সিফাত-ই-জাহান। অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ছামিনা বেগম শিপ্রা, নাগরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বাহালুল খান বাহার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিশ্বাস, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী, ধুবড়িয়া আলিফ উদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলম, ইমাম মুয়াজ্জিম কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। 

মাও. মুকতি মো. হারুন অর রশিদের পরিচালনায় আলোচনা শেষে করোন ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে  সকলের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। মত বিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন ইমাম মুয়াজ্জিম কল্যাণ সমিতির সাধারন সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খান।

মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সিফাত-ই-জাহান বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কোন ভাবেই আঠারোর নিচে মেয়েদের বিবাহ দেয়া যাবে না। সেই সাথে জঙ্গী, সন্ত্রাস ও মাদক কে প্রশ্রয় দিবেন না।  আপনাদের এলাকায় মাদক ও বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটলে অবশ্যই প্রশাসন কে অবহিত করবেন।

ঘাপলাবাজি ও সরকারী অর্থ নয় ছয়ের মধ্যে যশোরে ভৈরব নদ খননে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ?

ঘাপলাবাজি ও সরকারী অর্থ নয় ছয়ের মধ্যে যশোরে ভৈরব নদ খননে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ?

আজগার আলী যশোর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি যশোরের ভৈরব নদ খননে ঠিকাদারের কোনো কাজ ডিজাইন মোতাবেক হয়নি। খনন অংশের সর্বত্রই ব্যাপক ঘাপলাবাজির মধ্যে হয়েছে। চলছে শুভংকরের ফাঁকি, হচ্ছে শুধু সরকারী অর্থ নয় ছয়। অথচ পাউবো কর্মকর্তারা রয়েছে নিরব দর্শকের ভূমিকায়।

পাউবোর প্রত্যক্ষ পরোক্ষ মদদে কয়েকটি মহা ক্ষমতাধর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নামমাত্র নদ খনন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গত বর্ষায় অনেক অংশের কাজ শুধু স্কেভেটর মেশিন নির্ভর হওয়ায় পানির নিচে অদৃশ্য ওই খনন শুধু মাপজোকের ব্যাসিসে বুঝে নেয়া হয়েছে। নদের পাড় কোনো অংশেই দৃশ্যমান না হলেও বিশাল অংকের টাকা তুলে দেয়া হয়েছে ঠিকাদারদের হাতে।

যশোরাঞ্চলের গণমানুষের প্রাণের দাবির মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি চৌগাছার তাহেরপুর থেকে যশোর সদরের বসুন্দিয়া পর্যন্ত ভৈরব নদের ৯২ কিলোমিটার খননে ২৭২ কোটি ৮১ লাখ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি শুধু মাত্র ২০ শতাংশ কাজ। আর নদী সংস্কার আন্দোলন কমিটি বলছে এ সব ভাওতাবাজী।

আরা নানা তালবাহানায় যশোর শহরের অংশ দৃশ্যমানও হয়নি। যদিও পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলীর দাবি, স্বচ্ছতার সাথে কাজ এগুচ্ছে। চলতি মাস থেকেই আবার চূড়ান্ত খনন শুরু হয়েছে। কিছু স্থাপনা কাজে বিঘœ ঘটাতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট 'জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন' প্রকল্পের আওতায় যশোরের ভৈরব নদ পুণখনন প্রকল্পটি একনেকের সভায় পাস হয়। এই প্রকল্পে ২৭২ কোটি ৮১ লাখ টাকা অনুমোদন দেয়া হয়। ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে নদী খননের কাজ শুরুর টার্গেট হাতে নেয়া হয়। খনন কাজ ১ জুলাই ২০১৭ থেকে শুরু হয়ে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে শেষ করার টার্গেট গৃহিত হয়। তবে ঠিকাদারী জটিলতা কাটিয়ে ভৈরবের দু'পাড়ের ১শ'১৮টি কাঁচা পাকা অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ২০১৮ সালের মে মাসে যশোরের শহরতলীর কনেজপুরে প্রথম কোদাল ফেলে খনন শুরু হয়। ৯৬ কিলোমিটার নদ খননের জন্য ১৫ টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৩৮টি লটে বৃহত্তর পরিসরের এ নদ খননের কাজ পায়।

যশোর মুজিব সড়কে অবস্থিত এসটি ইন্টারন্যাশনাল নামের প্রতিষ্ঠানটি পায় দু'টি লটের কাজ। একটি ভবন মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষণ, অন্যটি পায় দু'কিলোমিটার নদ পুনঃ খনন। ঢাকার মতিঝিলের সেনাকল্যাণ ভবনে অবস্থিত ডলি কন্সট্রাকশন লিমিটেডের এসএ-এস (জেভী) নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ৩ টি লটে পায় ৭ কিলোমিটার পুনঃ নদ খনন কাজ। যশোর পুরাতন কসবা মিশন পাড়া এলাকার নুর হোসেন নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ৪টি লটে ১২ কিলোমিটার পুনঃ নদ খননের কাজ পায়। একই এলাকার এস এ-এমএসএ-এনএইচ (জেভী) নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ১টি লটে ৪ কিলোমিটার পুনঃ নদ খননের কাজ পায়। মিশন পাড়া এলাকার এনএইচ-এমএসসি-এস এ ইউ (জেভী) নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ৮টি লটে ২৮ কিলোমিটার খননের কাজ পায়। যশোর পুরাতন কসবা মিশন পাড়া এলাকার টেকনিপ কর্পোরেশন নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ১টি লটে পায় ৩ কিলোমিটার খননের কাজ। যশোর পুরাতন কসবা মিশনপাড়া এলাকার কপোতাক্ষী এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ৪টি লটে পায় ১১ কিলোমিটার খনন কাজ। পুরাতনকসবা বিবি রোড এলাকার রেজা এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ১টি লটে পায় ৩ কিলোমিটার কাজ। এসএস এবং এম টি (জেভী) নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ২টি লটে পায় ৫ কিলোমিটার কাজ। যশোর পুরাতনকসবা ১৯২ কাজীপাড়া এলাকার শামীম চাকলাদার নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ৩টি লটে ৯ কিলোমিটার খননের কাজ পায়। যশোর পুরাতন কসবা মিশন পাড়া এলাকার এম টি এন্ড এস এস কনসোর্টিয়াম নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ২টি লটে পায় ৬ কিলোমিটার পুনঃনদ কাজ। সাতক্ষীরার ইটাগাছা এলাকার শেখ আশরাফ উদ্দিন নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ১টি লটে পায় ২ কিলোমিটার কাজ। খুলনা ক্রস রোড-২, ৩৭ দক্ষিণ টুটপাড়া এলাকার শামীম আহসান নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ৩টি লটে পায় ৭ কিলোমিটার খনন কাজ। খুলনা ১৮ গগন বাবু রোড (২য় লেন) এলাকার আমিন এন্ড কোং নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ৩টি লটে পায় ১০ কিলোমিটার কাজ পায়। চুয়াডাঙ্গার জীবন নগরের জাকাউল্লাহ এন্ড ব্রাদার্স নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ১টি লটে পায় ৩ কিলোমিটার পুনঃ নদ খননের।
কাজসূত্র জানায়, ৯৬ কিলোমিটারের মধ্যে যশোর শহরের ৪ কিলোমিটারসহ ১০ কিলোমিটারের কাজ দৃশ্যত হয়নি। শহরতলীর ডাকাতিয়া বোলপুর বাহাদুরপুর কনেজপুর ও চৌগাছার তাহেরপুর অংশ ও ঝুমঝুমপুর নীলগঞ্জ থেকে শুরু হয়ে রাজারহাট রুপদিয়া বসুন্দিয়া ঘোড়াগাছি পর্যন্ত ইতিমধ্যে খনন কাজ শেষ হয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড দাবি করেছে। তবে ওই সব অংশে কাজ ডিজাইন অনুযায়ী দৃশ্যমান হয়নি। গত বর্ষায় অনেক অংশের কাজ শুধু স্কেভেটর মেশিন নির্ভর হওয়ায় পানির নিচে অদৃশ্য ওই খনন শুধু মাপজোকের ব্যাসিসে বুঝে নেয়া হয়েছে। নদের পাড় কোনো অংশেই দৃশ্যমান না হলেও বিশাল অংকের টাকা তুলে দেয়া হয়েছে ঠিকাদারদের হাতে।

ভৈরব নদ সংস্কার আন্দোলন কমিটির নেতৃবৃন্দের দাবি, এ অঞ্চলের জনগণের দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল ভৈরব নদ খনন প্রকল্প। যশোরের মানুষের স্বপ্ন, নদটি সংস্কার হলে নদের যৌবন ফিরে পাবে। নদটিতে আবরো নৌকা চলবে। কিন্তু সঠিকভাবে কাজ না হওয়ায় নদে নৌকা চলা তো দুরের কথা, সঠিকভাবে পানির প্রবাহও চলবে না। পাউবোর প্রত্যক্ষ পরোক্ষ মদদে কয়েকটি মহা ক্ষমতাধর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নামমাত্র নদ খনন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

ভৈরব নদ সংস্কার আন্দোলন কমিটি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কাছে জোর দাবি করেছেন, খনন কাজটি যথাযথ তদারকি করে কাজ বুঝে নিতে হবে। সিডিউল ব্যত্যয় ঘটলে বিল আটকে দেয়াসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি ওই কমিটির।

যশোর শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলের অন্তরালে চলছে অনৈতিক ব্যবসা

যশোর শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলের অন্তরালে চলছে অনৈতিক ব্যবসা

যশোর প্রতিনিধি:  যশোর শহরে গড়ে ওঠা রেলরোডে আবাসিক হোটেল শাহানাজ ও বড়বাজার এলাকার ঝালায় পট্টিতে হোসেল নিরবে বোর্ডারের অন্তরালে পতিতা বৃত্তি শুরু হয়েছে। অসাধু পুলিশের সবুজ সংকেত পেয়ে আবাসিক হোটেলের মালিকের মদদপুষ্ট ম্যানেজার ও বয়দের সহায়তায় অবাধে চলছে পতিতা বৃত্তি।

দিনদিন এই ব্যবসা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে আবাসিক হোটেল সংলগ্ন অন্যান্য ব্যবসায়ীরা অভিযোগ তুলেছে।খোঁজ নিয়ে জানাগেছে,যশোর শহরের এই দুটি আবাসিক হোটেল সহ যশোর সদর উপজেলায় গড়ে ওঠা ৪০টি আবাসিক হোটেলের কতিপয় আবাসিক হোটেল গুলির এখন মুল ব্যবসা পতিতাবৃত্তি।

কাক ডাকা ভোরে এই সব আবাসিক হোটেলগুলোতে বিভিন্ন বয়সের নারীদের উঠানো হয়। হোটেলের শ্রমিক হিসেবে উঠিয়ে নির্দিষ্ট কক্ষে রেখে শুরু হয় পতিতা বৃত্তি।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে,যশোর শহরের রেলষ্টেশন সংলগ্ন আবাসিক হোটেল শাহানাজ মূলত ট্রেন যাত্রী তাদের মূল ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু। ট্রেন যাত্রীরা ট্রেন থেকে নেমে রাতে আবাসিক হোটেলে উঠে। হোটেলে উঠে তারা হোটেল ম্যানেজার ও বয়দের মাধ্যমে বিশেষ কক্ষে রাখা বিভিন্ন বয়সের যৌন কর্মীদের সামনে হাজির করেন। পছন্দমত পতিতার সাথে অর্থের বিনিময়ে মনোরঞ্জন চলে কক্ষগুলোতে।

এছাড়াও বড়বাজার এলাকায় ঝালায় পট্রিতে হোটেল নিরবসহ যশোর জেলায় কর্মরত অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের সাথে সখ্যতা রেখে আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার ও বয়রা তাদের পতিতা ব্যবসা জমপেশ ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।সূত্রগুলো আরো বলেছে,যশোর শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় গড়ে ওঠা আবাসিক হোটেলের বোর্ডারের অন্তরালে মূলত চলে যৌনকর্মীদের আনাগোনা। কাক ডাকা ভোর থেকে অনেক হোটেলগুলোতে গভীর রাত পর্যন্ত রাখা হয় যৌন কর্মীদের। যাদের বয়স নুন্যতম ১৪ থেকে ৩৬ পর্যন্ত।

আবাসিক হোটেলগুলোতে খোঁজ নিয়ে আরো জানাগেছে,হোটেলের কাপড় চোপড় থেকে শুরু করে হোটেলে ঝাড় ফুকের কাজের জন্য ছবি দিয়ে থানায় পাঠানো হয়েছে আবাসিক হোটেলের শ্রমিকদের। নারী শ্রমিকদের দেখানো হয়েছে আবাসিক হোটেলের ঝাড়ূদার হিসেবে। মূলত তাদের দিয়ে করানো হচ্ছে পতিতাবৃত্তি।

এ ব্যাপারে পুলিশের কর্মকর্তাদের কাছে মাঝে মধ্যে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তারা বলেন বিষয়টি তারা জানেন না। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন। তারপরও চলে এই ব্যবসা। তাই অবিলম্বে অর্থলোভী আবাসিক হোটেলের মালিক ও ম্যানেজারদের গ্রেফতার পূর্বক আইনের আওতায় আনার জন্য নবাগত পুলিশ সুপারসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে যশোরের বিভিন্ন পেশার মানুষেরা।

চীনের সিনোফার্মের তৈরি করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা বগুড়ায় পৌঁছেছে

চীনের সিনোফার্মের তৈরি করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা বগুড়ায় পৌঁছেছে

বগুড়া প্রতিনিধিঃ মোঃ সবুজ মিয়া: চীনের সিনোফার্মের তৈরি করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা বগুড়ায় পৌঁছেছে। বুধবার সকাল ১০টায় টিকা বহনকারী গাড়িটি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে পৌঁছায়। ৩৪ হাজার ৫০০ ভায়াল গ্রহণ করে জেলা টিকা গ্রহণকারী কমিটি।

বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন পুণ্ড্রকথাকে বলেন, 'চীনের ৩৪ হাজার ৫০০ ভায়াল টিকা আমরা গ্রহণ করেছি। সেগুলো আইএলআরে (আইস লাইনড রেফ্রিজারেটর) সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। এক ভায়াল দিয়ে তিনজন করে মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৫০০জনকে এই টিকার ১ম এবং ২য় ডোজ প্রদান করা হবে।' 

তিনি আরও বলেন, 'তবে এই টিকা কারা পাবেন, কবে থেকে দেওয়া শুরু হবে, কোথায় দেওয়া হবে, এসব বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। আজকালের মধ্যে এসব বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা আসবে।'

ঝিকরগাছায় চলছে কঠোর লকডাউন

ঝিকরগাছায় চলছে কঠোর লকডাউন

নিউজ ডেস্ক: করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় যশোরের ঝিকরগাছায় সপ্তাহব্যাপী কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক তমিজুল খান সাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয় ১৭ই জুন থেকে ২৩ জুন সাতদিন ঝিকরগাছা পৌর এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যশোর জেলার সকল রুটে গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। কাঁচাবাজার, ফল ও মুদি দোকান সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। মসজিদে ২০ জনের বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেনা। খাবার দোকান ও রেস্তোরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রাখা যাবে। এছাড়া লকডাউনের জন্য কেন্দ্রিয় নির্দেশনা এই এলাকায় আরোপ করা হয়েছে।
এদিকে কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করতে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। বিধিনিষেধের প্রথম দিনেই গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয় পুলিশ। এছাড়া ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যন সেলিম রেজা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লুবনা তাক্ষী স্বশরীরে বাজারের বিভিন্ন জায়গায় যান। তারা মানুষকে সচেতন করেন। দোকান মালিকদের দোকান বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন।

কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করতে মাঠে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত রহমান। তাকে সার্বক্ষণিক সহায়তা করছেন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের প্রায় সব ধরণের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। তবে পুলিশের সাথে চলছে লুকোচুরি খেলা। পুলিশ আসলে সাটার বন্ধ, চলে গেলে খোলা এই নীতিতেই চলছে দোকানিরা।ইজিবাইক, ভ্যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও পুলিশের জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। দুইজনের বেশি যাত্রী থাকলে পুলিশ তাদের নামিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া মোটরসাইকেলে চালক ব্যতীত কাওকে উঠতে দেয়া হচ্ছেনা। 

বড়লেখায় মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ০১ মাদক ব্যবসায়ী আটক

বড়লেখায় মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে  ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ০১ মাদক ব্যবসায়ী আটক

আকরাম হোসাইন মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি :: পরিচয় গোপন রেখে তথ্য দিন,মাদকমুক্ত মৌলভীবাজার গড়ার শপথ নিন।মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পৌরসভার মহুবন্দ রাস্তা হতে ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ জমির আলীর ছেলে মাদক ব্যবসায়ী শিপার আহমদ (২৬) কে মাননীয় পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ জাকারিয়া মহোদয়ের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।মৌলভীবাজার জেলাকে মাদক মুক্ত রাখতে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বড়লেখায় ৫ কেজি গাঁজাসহ ৩ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

বড়লেখায় ৫ কেজি গাঁজাসহ ৩ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
গাঁজাসহ দুই আসামি গ্রেপ্তার
আকরাম হোসাইন মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ডিমাই গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে কামাল আহমদ (২৫), আব্দুস সবুরের ছেলে জাহিদ আহমদ (১৯) ও মৃত নূর উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান (১৯) কে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বড়লেখা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) জাহেদ আহমদের নেতৃত্বে সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুর রহিমসহ একদল পুলিশ,পৌরসভার পানিদার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ কেজি গাঁজাসহ তিন জন গ্রেপ্তার করেছে। যার আনুমানিক মূল‍্য প্রায় ১২৫০০০/= ( এক লক্ষ পঁচিশ হাজার) টাকা।গাঁজা পরিবহন কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও জব্দ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে প্রেস কাউন্সিলের সনদপত্র পেল নন্দীগ্রামের সর্বকনিষ্ঠ সাংবাদিক আব্দুল আহাদ

বাংলাদেশে প্রেস কাউন্সিলের সনদপত্র পেল নন্দীগ্রামের সর্বকনিষ্ঠ   সাংবাদিক আব্দুল আহাদ
সনদ গ্রহণ করছে সাংবাদিক আহত

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার নন্দীগ্রাম  ইউনাইটেড প্রেসক্লাব ও রুরাল জার্নালিষ্ট ফাউন্ডেশন আরজেএফ'র প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দৈনিক সংবাদ সারাদেশ পত্রিকার  সর্বকনিষ্ঠ সাংবাদিক আব্দুল আহাদ পেল বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সনদপত্র। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের উদ্যোগে সারা দেশের বাছাইকৃত সাংবাদিককে নিয়ে দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। গতকাল বুধবার প্রেস কাউন্সিল আইন, আচরণ ও বিধি, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং তথ্য অধিকার আইন ২০১৯ শীর্ষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।প্রেস কাউন্সিলের সচিব (যুগ্ম সচিব) মো. শাহ আলমের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রেস কাউন্সিলের সচিব (যুগ্ম সচিব) মো. শাহ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রশিক্ষণ দেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সদস্য বিবিসি নিউজের চেয়ারম্যান  দৈনিক অবজারভার সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।প্রশিক্ষণ শেষে ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন।ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন,সাংবাদিকদের মানোন্নয়ন ও অধিকার রক্ষার জন্য প্রেস কাউন্সিল কাজ করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সারা দেশে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের প্রচলিত আইন এবং তথ্য অধিকার আইন ২০১৯ সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানাচ্ছে। আমরা যদি সবাই দেশের আইন মেনে চলি তাহলে কোথাও কোনো সাংবাদিক নির্যাতিত হবে না।'তিনি সারা দেশের সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রিকা বাংলাদেশ টেলিভিশন সহ বিভিন্ন চ্যানেলের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

চৌহালীতে যমুনার নদী হতে ড্রেজারে চলছে বালু লুট

চৌহালীতে যমুনার নদী হতে ড্রেজারে চলছে বালু লুট

মোঃ শাকিল আহমেদ, বিশেষ  প্রতিনিধিঃ বছরের এই সময়ে যমুনা নদীতে পানি বাড়ার সাথে-সাথে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলাধীন এনায়েতপুরে একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে বিক্রি করে কোটি-কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। গত সপ্তাহ খানেক ধরে উপজেলার সদিয়াচাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম সিরাজের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি চক্র করছে বালু তোলার মহাৎসব। তবে অবৈধ এ কারবার বন্ধে প্রশাসনের নেই কোন পদক্ষেপ। এ কারনে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে পশ্চিম পাড়ে স্রোত  আঘাত হানায় এনায়েতপুর স্পার বাধ, তাঁত সমৃদ্ধ অঞ্চল, খাজা ইউনুছ আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় সহ তাঁত শিল্প এলাকা হুমকীর মুখে পড়েছে। এছাড়া এনায়েতপুরের বাক্ষ্মনগ্রাম হতে দক্ষিনে পাঁচিল পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার জুড়ে আবারো ভাঙ্গন তীব্রতর আকার ধারন করায় শংকিত হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। এদিকে র‌্যাবের অভিযান ও প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতে ড্রেজার মালিকদের নামমাত্র অর্থদ্বন্ড দেয়ার থামছেনা বালুদস্যুদের দৌরাত্ব। এ অবস্থায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেবার কথা জানিয়েছে।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান, যমুনার উপর অত্যাচার থামছেই না সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার সদিয়াচাঁদপুর, স্থল ইউনিয়নে স্থানীয় বালু দস্যুদের। এনায়েতপুরের ১০/১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র গত প্রায় ২৫/৩০ বছর ধরে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন ব্যবসার সাথে জড়িত। সরকারী ভাবে বালু মহাল না থাকলেও উপজেলা প্রশাসনের ও থানার পুলিশের   এক শ্রেনীর অসাধু কর্মচারীদের সাথে যোগসাজোশে বছরে অন্তত অর্ধশতাধিক কোটি টাকার বালু উত্তোলন করছে তারা। এ বালু আবার চক্রটি অন্তত ৬০/৭০ কোটি টাকা বিক্রি করছে বিভিন্ন ভাবে। অনেকের এ ব্যবসার সাথে জড়িত থেকে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে রুপান্তর হয়েছে। বর্তমানে এই বালু উত্তোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বালু দস্যুরা। এনায়েতপুর থানা আওয়ামীলীগের সাবেক  সাধারন সম্পাদক ও চৌহালী উপজেলার সদিয়াচাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম সিরাজ, থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আহম্মদ মোস্তফা খান বাচ্চুর নেতৃত্বে ১৪ জনের একটি চক্র নদীর গত এক সপ্তাহ ধরে সুবিশাল কয়েকটি ড্রেজার দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে মাটি কাটছে। এই ড্রেজার গুলো যমুনার মাঝ নদী সদিয়াচাঁদপুর ইউনিয়নের গাবেরপাড়া, উড়াপাড়া, মৌহালী, ইজারাপাড়া, সহ আশাপাশের এলাকা থেকে দিনভর তোলা হচ্ছে লাখ-লাখ ঘনমিটার বালু। যা বিক্রি নদীর পশ্চিম পাড়ের এনায়েতপুর ঘাটের উত্তরপাশে নিয়ে বিশাল এলাকায় স্তুপ করে রাখা হচ্ছে। এখান থেকে ট্রাকে বিক্রি হচ্ছে এনায়েতপুর, বেলকুচি সহ শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে।
এদিকে নদীর ঐসব এলাকার অন্যের জমি থেকে জোড় করে প্রভাবশালী চক্রটি বালু তোলায় কৃষকদের মাঝেও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এনিয়ে যেকোন সময় বালু দস্যু ও জমির মালিকদের মধ্যে সংঘর্ষের আশংকা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে গাবের পাড়ার কৃষক মুল্লুক চাঁন, করিম হোসেন, রাজ্জাক ঘোষ, ধুলিয়াবাড়ির কৃষক আশরাফ হোসেন, মৌহালীর আকবার মোল্লা, সন্তু মিয়া, আছির উদ্দিন জানান, নদীর আমাদের জায়গা থেকে সিরাজ চেয়ারম্যান ও তার লোকেরা জোড় করে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলছে। বন্ধ করতে বলে কোন কাজ হচ্ছেনা। তাদের কাছে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের আকুতি দ্রুত অভিযান চালিয়ে তা বন্ধ করা হোক। তা না হলে আমরা সবাই সম্মিলিত ভাবে লাঠি-সোটা নিয়ে প্রতিহত করতে যাবো।

অপরদিকে যমুনা থেকে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকায় গতিপথ পরিবর্তন হয়ে পশ্চিম দিকে ধাবিত হচ্ছে। পানি আঘাত হানছে পশ্চিম পাড়ের এনায়েতপুর স্পার বাধ ও দেশের বৃহৎ চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান খাজা ইউনুছ আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তীরে। যা বর্তমানে হুমকীর মুখে পড়েছে। একই কারনে প্রচন্ড ¯স্রোতে  এনায়েতপুরের বাক্ষ্মনগ্রাম, আরকান্দি, জালালপুরে ভাঙ্গন আরো তীব্রতর আকার ধারন করছে। তাই আতংকৃত হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। বাক্ষ্মনগ্রামের আজাহার আলী, আবুল হোসেন আরকান্দির মুজাম হোসেন, আবু জাফর জানান, অব্যাহত নদী ভাঙ্গনে আমরা এখন নিঃস্ব প্রায়। বাকি ঘর-বাড়ি যা আছে তাও রক্ষা পাচ্ছেনা। যমুনা থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু কাটায় ¯স্রোত  বাড়াতেই এই অবস্থা। আমরা চাই দ্রুত অবৈধ ভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা বন্ধ করা হোক। তা না হলে আমাদের আর রক্ষা নেই। তারা আরো জানান, আমাদের এলাকা রক্ষায় পাউবোর ৭৪৬ কোটি টাকার কাজ একনেকে পাশ হয়েছে। এ কাজ কয়েক মাস পরে শুরু হবে। অথচ নদীতে বালু তোলায় ভাঙ্গন আরো বাড়ায় এ কাজ বাস্তবায়নে আরো বিরম্বনা বাড়বে।

যমুনা থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়ে সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম সিরাজ জানান, আমি এই বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত না। আপনাকে পরে ফোন করবো। আমি ব্যস্ত আছি।এ বিষয়ে  জেলা প্রশাসক  ড.ফারুক আহাম্মদ প্রতিবেদক কে  বলেন ,এনায়েতপুরে নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে বিষয়টি আমি শুনেছি । দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।জেলার কোথাও অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করতে দেয়া হবেনা।  চৌহালীর এনায়েতপুরেও বালু দস্যুদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহন করবে প্রশাসন খুব শীঘ্রই।

একজন ক্ষুদে ক্রিকেটারের অকাল মৃত্যু!

একজন ক্ষুদে ক্রিকেটারের অকাল মৃত্যু!

মোঃ আরিফুল ইসলাম অনিক জয়পুরহাট (পাঁচবিবি) উপজেলা প্রতিনিধিঃ জয়পুরহাট জেলার পাঁঁচবিবি উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের নওয়ানা গ্রামের এক ক্ষুদে ক্রিকেটারের অকাল মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।নিহত ক্ষুদে ক্রিকেটারের নাম মোঃ সাকিব আল হাসান (সাগর)(১৭)।নিহতের পরিবারের মারফত জানা যায়,বুধবার ১৬ ই জুন সকালে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই সাকিবের মৃত্যু হয়।

সাকিব এলাকায় এক জন ভাল মানের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত ছিলেন।ডান হাতে প্রেসার বোলার এবং ব্যাটিংয়ে ছিল তার দারুন দক্ষতা। জয়পুরহাট জেলার আনাচে কানাচের সকল ক্রিকেট প্রেমিরা এবং ক্রিকেটাররা সাকিব কে এক নামে চিনত।

নিহত সাকিব বাংলাদেশের অনেক জেলাতে ক্রিকেট খেলে সবার মন জয় করেছিল।তার এই অকাল মৃত্যুতে সকল ক্রিকেট প্রেমী এবং তার বন্ধু বান্ধব শুভাকাঙ্ক্ষীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।পাড়ইল ক্রিকেট কাউন্সিলিং একাডেমির দপ্তর সম্পাদক মোঃ মশিউর রহমান মুরাদ লিখিত বক্তব্যে শোক জানিয়েছেন। 

ক্ষুদে এই ক্রিকেটারের অকাল মৃত্যুতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন শোক জানিয়েছেন।অপরদিকে একই দিন বিকেল পাঁচবিবির জলপাইতলী নামক স্থানে দুটি মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় এতে পাঁচবিবি বাজারের প্রবীণ কাপড় ব্যবসায়ী মোঃ গোলাম মোস্তফা গুরুতর আহত হোন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় গোলাম মোস্তফা কে বগুড়া শহিদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় আরো দুই যুবক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বদলগাছীতে নির্মাণের এক সপ্তাহে বেহাল অবস্থা সড়কের, ভেঙ্গে পড়ছে সড়কের দুপাড়

বদলগাছীতে নির্মাণের এক সপ্তাহে বেহাল অবস্থা সড়কের,  ভেঙ্গে পড়ছে সড়কের দুপাড়
এক সপ্তাহ ব্যাবধানে সড়কের বেহাল দশা

রহমতউল্লাহ, নওগাঁ প্রতিনিধিঃনওগাঁর বদলগাছী পাকা সড়ক নির্মাণের  এক সপ্তাহর মধ্যে ভেঙ্গে পড়তে শুরু করেছে সড়কের দুপাড়।সরকের ভাঙ্গা স্থান গুলি লাল  মাটি দিয়ে ঢেকে রাখার অভিযোগ উঠছে।  এতে কাজের গুণগত মান দেখে হতাশ গ্রামবাসী। আলোচিত এই সড়কটির নাম ভেরেন্ডী বাজার  টু কান্দা তালুকদার   পাড়া সরকারি প্রথামিক বিদ্যালয় 

স্থানীয় গ্রামবাসীর ভাষ্যে জানা যায়, এই সড়কের ১ কিলো ৪শো মিটার সড়ক নির্মাণে ১ কোটি ৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। মেসার্স স্বচ্ছ এন্টারপ্রাইজ এন্ড ব্রিক্স ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করে। গ্রামবাসী জানান, গত ডিসেম্বর মাসে সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয় নিম্নমানের ইট, খোয়া দিয়ে। গ্রামবাসীর বাধার মুখে পরে  নিম্নমানের ইট, খোয়া তুলে নেন ঠিকাদার। নিম্নমানের ইট-খোয়া দিয়ে সড়কে ১২ টি ইউড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে কান্দা গ্রামের আহম্মদ আলী, সানোয়ার হোসেন, নজরুল ইসলামসহ অর্ধশতাধিক গ্রামবাসী জানান, আ. সাত্তারের বাড়ির পাশে ১ টি পুরাতন ভাঙ্গা কালভার্টের উপর রাস্তা নির্মাণ করায় রাস্তার দক্ষিণপাড় ভেঙ্গে পড়ে। এখানে রাস্তার মাপ সঠিক নেই।  এবং খালেক এর বাড়ির নিকট রাস্তার পাশে ১টি ডোবা রয়েছে। ডোবায় কিছু অংশ পালাসাইটিং দেওয়া থাকলেও রাস্তার কোনো উপকারে আসেনি। এখানে পশ্চিম পাশের্ প্রায় দেড় ফিট সড়ক ভেঙ্গে পড়েছে। তার দক্ষিণে আরও খারাপ অবস্থা। গত রমজানের ইদের ১০ দিন আগে এ প্রকল্পের কার্পেটিং কাজ সমাপ্ত করা হয়, এবং ঈদের  আগেই ভেঙ্গে পড়ে রাস্তার সাইড। ঠিকাদারের লোকজন এসে মাটি দিয়ে ঢেকে রাখে ভাঙ্গনস্থান। মোবাইল ফোনে কথা বললে ঠিকাদার আ. সোবহান বলেন, নিম্নমানের কাজ হয়েছে কথাটা সঠিক নয়। তাছাড়া বৃষ্টিতে সড়ক ভাঙ্গতেই পারে। স্থানীয় লোকজন কী অভিযোগ করল সেটা আমার দেখার বিষয় না।  বদলগাছী উপজেলা প্রকৌশলীসহ পর্যবেক্ষক দল পরিদর্শন করেছেন এবং তাঁরা জানেন রাস্তার কাজ ভাল হয়েছে। তাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতো কিছু জানার তো কোনো কারণ নেই। এবিষয়ে বদলগাছী উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে এ প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইলে অফিসের হিসাব রক্ষক আমজাদ হোসেন বলেন, এ প্রকল্পের ফাইলটি খুঁজে পাচ্ছি না। এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোকলেছুর রহমান জানান, রাস্তার সাইড ভেঙ্গে পড়েছে বিষয়টি আমি জানি। তবে এবিষয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে বর্ষা মৌসুম কেটে গেলে তা পুনরায় সংস্কার করে দেওয়া হবে।

চাকরির পরীক্ষায় প্রবেশসীমা ৩২ করা সময়ের দাবি

চাকরির পরীক্ষায় প্রবেশসীমা ৩২ করা সময়ের দাবি

 কোভিড-১৯ বা বিশ্ব মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে পৃথিবীর সবকিছু থমকে গেছে। পালাক্রমে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ও আগের মতো কোন রূপ নেই। পৃথিবীর সবকিছু রয়েছে নিস্তব্ধ, অচলাবস্থায়। বাংলাদেশেও এই ভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এখনো বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ও বিপর্যস্ত। ঠিক তেমনি শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে চাকরি প্রত্যাশীদেরও বেহাল দশা। যারা পড়াশোনা শেষ করে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করে সুন্দর ভবিষ্যৎ দেখার স্বপ্ন দেখেছে। কিন্তু এই করোনা নামক ভাইরাসের ভয়াল থাবায় সেই স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে গিয়েছে। করোনায় শিক্ষার্থীদের প্রায় দুই বছর সময় জীবন থেকে নষ্ট হতে চলছে। করোনা ভাইরাসের চলাকালীন সময়ে অনেকের চাকরির আবেদনের বয়সসীমা শেষ হয়ে গেছে। আবার অনেকেরই কাছাকাছি বয়স। এমন পরিস্থিতিতে চাকরি প্রত্যাশীদের যেন প্রতি মুহূর্তে দুশ্চিন্তা গ্রাস করছে। একদিকে যেমন করোনা ভাইরাস নিয়ে দুশ্চিন্তা আবার অন্যদিকে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা শেষ হওয়ায় দুশ্চিন্তা। 

আমাদের দেশে বর্তমানে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে যখন গড় আয়ু ছিল ৫৫ বছর তখন চাকরিতে প্রবেশের বয়স ছিল ২৭ আর অবসরের বয়স ছিল ৫৭ বছর। ১৯৯১ সালে সেশনজটের পরিস্থিতি বিবেচনা করে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ২৭ এর পরিবর্তে করা হলো ৩০ বছর। আর তখন ১৯৯১ সালে গড় আয়ু ছিল ৫৭ বছর। এরপর ২০১১ সালে এসে অবসরের বয়স বেড়ে হয় ৫৯ আর মহান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য হয় ৬০। অবসরের এই ২-৩ বছর বাড়ার কারণে এই সময় তেমন চাকরির বিজ্ঞপ্তিও হয়নি। ১৯৯১ থেকে ২০২১ এই ৩০ বছরে গড় আয়ু ১৬ বছর বেড়ে ৭৩ বছর হয়েছে। কিন্তু চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়েনি। ঠিক আগের অবস্থানে বহাল রয়েছে। এক্ষেত্রে আরো একটি বিষয় উপলব্ধি করা যায়। আর সেটি হচ্ছে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কারণ চিকিৎসকদের শিক্ষাজীবন বেশি দিনের হওয়ার কারণে তাঁদের আবেদনের বয়সসীমা ৩২ বছর করা হয়েছে। কোটায় আওতাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্যও চাকরির বয়সসীমাও ৩২ বছর। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সম্মান কোর্স তিন বছরের স্থলে চার বছর করা হলেও চাকরিতে আবেদনের প্রবেশকালীন সময় বৃদ্ধি করা হয়নি। তাহলে কি এমন পদক্ষেপ গ্রহণে আমরা বৈষম্যের শিকার বলতে পারিনা? প্রশ্ন থেকে যায়।

এছাড়া আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক লেখাপড়ার সঙ্গে চাকরির প্রস্তুতিমূলক লেখাপড়ার কোনো সম্পর্ক নেই বললেই চলে। আমরা যদি একটু পর্যালোচনা করে বলি তাহলে দেখা যাবে, ইতিহাস বিভাগ থেকে পাস করে ব্যাংক কর্মকর্তা, আবার প্রকৌশলী হয়ে পুলিশ কর্মকর্তা হচ্ছেন অনেকেই। চাকরির প্রস্তুতির  জন্য যে লেখাপড়া করতে হয়। তার জন্য অবশ্যই  আলাদা করে প্রস্তুতিমূলক সময়ের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে যদি কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক লেখাপড়া মনোযোগ দিয়ে করেন, তাহলে তিনি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়ার কোনো সময়ই পান না। তাহলে এসব বিষয়গুলো বিবেচনা করে চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না সেটা নিয়েও প্রশ্ন। 

আমাদের দেশে এমনিতেও বেকারত্বের হার অনেক বেশি। একটি দেশের জন্য বেকারত্ব হচ্ছে হুমকিস্বরূপ বা অভিশাপ। কারণ এই বেকারত্ব দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বা সার্বিক উন্নয়নের পথে ধাবিত হওয়ার জন্য বড় একটি বাধা। দেশে বেকারত্বের সংখ্যা বাড়ছে অবিরত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, দেশে মোট শ্রমশক্তির ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেকার। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করা যুবকদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১১ দশমিক ২ শতাংশ। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে এই হার ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ। শিক্ষিতদের মধ্যে নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার ২ দশমিক ৭ শতাংশ। এছাড়া আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর তথ্য মতে গত আট বছরে তরুণ বেকারের সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ। শতকরা হিসাবে যা ১৩ শতাংশ। আর উচ্চ শিক্ষিতের মধ্যে বেকার ১০.৭ শতাংশ। যা এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ২৮ টি দেশের মধ্যে দ্বিতীয়। বিবিএস এর সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী ৬ কোটি ৩৫ লক্ষ কিন্তু কাজ করেন ৬ কোটি ০৮ লক্ষ। অর্থাৎ বেকার ২৭ লক্ষের ও অধিক। যার মধ্যে শিক্ষিত তরুণ বেকারের সংখ্যাই বেশি। আর শিক্ষিত বেকার হওয়ার পিছনে একটি কারণ হচ্ছে চাকরির বয়সসীমা পার হয়ে যাওয়া। 

আমরা যদি অন্যান্য দেশগুলোর চাকরির প্রবেশের বয়সসীমা পর্যালোচনা করি তাহলে দেখা যাবে আমাদের দেশের চাকরির বয়সসীমা ৩০ বছরের থেকে তাদের প্রবেশসীমা উর্ধ্বে। বিশ্বের ১৯২টি দেশের মধ্যে ১৫৫টি দেশে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৫৫ বছর। আবার কোথাও কোথাও ৫৯ বছর পর্যন্ত। উত্তর আমেরিকাতে ৫৯ বছরেও একজন নাগরিক সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করতে পারেন। শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়াতে সরকারি চাকরি প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৪৫। এছাড়াও আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও চাকরির ক্ষেত্রে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর। পৃথিবীর যত উন্নয়নশীল দেশ রয়েছে, প্রত্যেক রাষ্ট্র্র বা দেশে চাকরির বয়সসীমা ৩০ ঊর্ধ্বে হওয়ার কারণেই তারা এত উন্নত। তাহলে অন্যান্য দেশগুলোর থেকে আমরা কেন চাকরির বয়সসীমার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকব? আমাদের দেশে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ এর উর্দ্ধে করার জন্য বিভিন্ন সংগঠনসহ চাকরি প্রত্যাশীরা আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। বরং শুধু মাত্র আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে। তাই চাকরি প্রত্যাশীদের দাবি, করোনাকালীন সরকারের সব প্রণোদনার পাশাপাশি মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির বছরে আমরা বেকার যুবকরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার 'প্রণোদনা স্বরূপ' সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা স্থায়ীভাবে ৩২ বছর করার জন্য দাবি জানাই। সুতরাং, আমরা চাই কেবল করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীদের কথা না ভেবে, বয়স বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি যেন বৈষম্যহীন ও সর্বজনীন হয়। বেকারত্ব হ্রাস করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং পাশাপাশি কর্ম সংস্থান তৈরি করতে হবে। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর চাকরির প্রবেশের বয়সসীমা দিক বিবেচনা করে, বাংলাদেশেও সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়়সসীমা বাড়ানো উচিত। এতে চাকরি প্রত্যাশীরা নিজ কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার ফলে দেশ উন্নতির শিখরে দুর্বার গতিতে পৌঁছাতে পারবে। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারবে। নয়তো শিক্ষার মান উন্নয়নের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে পড়বে। তাই জাতীয় স্বার্থে, বেকার মুক্ত দেশ গড়তে, শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মেধাকে মূল্যায়ন করতে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমাা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। 

মু, সায়েম আহমাদ
কলামিস্ট ও সংস্কৃতিকর্মী
সভাপতি, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ঢাকা কলেজ শাখা

মেহেরপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা আক্রান্ত দুই রোগীর মৃত্যু

মেহেরপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা আক্রান্ত দুই রোগীর মৃত্যু

তানভীর আহমেদ, মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধিঃমেহেরপুর জেনারেল হাসপাতা লে করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা আক্রান্ত ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।আজ ভোর রাতে ও সকালে এই দুই জনের মৃত্যু হয়। মৃত্যুরা হলেন গাংনী উপজেলার মটমুরা গ্রামের আব্দুল হান্নান ও সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামের তাহেরা খাতুন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা: মকলেছুর রহমান পলাশ।তিনি জানান, হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে এই দুইজন শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিল। তারা করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।

ভোররাতে ও আজ সকাল দশটার দিকে দুইজন করোনা আক্রান্ত রোগী মারা যায়। তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
জেলায় আজ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গাংনীর এসএম প্লাজায় হামলার ঘটনায় ৩ আসামি জেল হাজতে

গাংনীর এসএম প্লাজায় হামলার ঘটনায় ৩ আসামি জেল হাজতে

তানভীর আহমেদ, মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি:মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা শহরের এসএম প্লাজায় গাংনী বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মানিক ও তার ছেলেসহ ৩ জনের উপর নৃশংসতার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার ৩জন আসামীকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।সােমবার মেহেরপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট (প্রথম) আদালত তাদের জামিন আবেদন না মঞ্ছুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

জানা গেছে, গত ২৯ মে দুপুরে ব্যবসায়ি হেলাল ও তার লোকজন এক দোকান কর্মচারীকে নির্যাতন করলে, বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মানিক প্রতিবাদ করেন। এতে রাগান্বিত হয়ে ব্যবসায়ি হেলাল ও তার ভাই বেলাল এবং ভাতিজা সাবরি ধারালো চাপাতি দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে মানিককে। এসময় মানিককে বাঁচাতে এসে আহত হন মানিকের ছেলে সোহান ও ব্যবসায়ি স্বপন । এসএম প্লাজার অন্যান্য ব্যবসায়িরা জোটবদ্ধ ভাবে এগিয়ে আসলে,হেলাল ও তার ভাই বেলাল এবং ভাতিজা সাবরি পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় গাংনী থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়। যার নম্বর জিআর- ১২০/২১। আসামীরা আদালতে আত্মসমর্পনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং সােমবার আদালতে জামিন নিতে আসলে, মেহেরপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট(প্রথম) আদালতের বিজ্ঞ বিচারক তরিকুল ইসলাম আসামীদেরকে জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠান।

এদিকে আসামীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। একজন ব্যবসায়ি হয়ে অপর ব্যবসায়ির উপর হামলা ও পাল্টা মামলা করায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন আসামীরা। এসএম প্লাজার ব্যবসায়ি এনামুল হক জানান, ঘটনার দিন আহতদেরকে বাঁচানোর চেষ্টা করা ও চিকিৎসায় সহযোগিতা করায় এনামুলসহ কয়েকজনের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে হেলাল। ঘটনার দিন আহতদের নিয়েই ব্যস্ত ছিল সবাই। কেউ হামলা করেনি। এমনকি ফেসবুক লাইভে এসেও কোন হামলার কথা বলেননি আসামীরা। কোন আঘাতের চিহ্নও দেখতে পাননি দর্শকরা। হেলালদের এ মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।

মেহেরপুরে মাদক সেবনের দায়ে দুই ব্যক্তির কারাদণ্ড

মেহেরপুরে মাদক সেবনের দায়ে দুই ব্যক্তির কারাদণ্ড

তানভীর আহমেদ, মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি: হেরোইন সেবনের দায়ে আশরাফ আলী ও অজয় কুমার দাস নামের দুই ব্যক্তিকে তিন মাসের কারাদণ্ড ১ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।  বুধবার দুপুরের দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আশরাফ আলী ও অজয় কুমার দাস কে এই সাজা দেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্ত আশরাফ আলী মেহেরপুর শহরের কেশব পাড়ার আব্দুল আজিজের ছেলে এবং অজয় কুমার দাস একই এলাকার মদন দাসের ছেলে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়ানুর রহমান এ আদেশ দেন।  এর আগে মেহেরপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে মেহেরপুর শহরের ক্যাসব পাড়ায় অভিযান চালিয়ে ওই দুই মাদকসেবীকে হেরোইনসহ গ্রেফতার করেন।মেহেরপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল অভিযান পরিচালনা করেন।  পরে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৯ এর ১ (গ) ধারা ভঙ্গ করা অপরাধে একই আইনের ৩৬ ধারায় দু'জনকেই ৩ মাস করে কারাদন্ড, এক হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।মেহেরপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুল মান্নান এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

আশাশুনিতে রাস্তার কাজের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ সদস্য মহিতুর রহমান

আশাশুনিতে রাস্তার কাজের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ সদস্য মহিতুর রহমান

আহসান উল্লাহ বাবলু আশাশুনি সাতক্ষীরা  প্রতিনিধি : আশাশুনিতে ইটের রাস্তা,ড্রেন সহ স্লাব নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মহিতুর রহমান। বুধবার সকালে জেলা পরিষদের অর্থায়নে তিনি এ কাজের উদ্বোধন করেন।আশাশুনি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সম্মুখ হতে নজরুল ইসলাম ও মহব্বত হাওলাদার এর বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা পাকা করন, ড্রেন ও স্লাব নির্মান কাজ সম্পন্ন করা হবে। এ রাস্তা, ড্রেন স্লাব নির্মাণের ফলে বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং  স্কুলগামী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আর পানিতে ভিজে স্কুলে স্কুলে যেতে হবে না। রাস্তা নির্মাণের পাশাপাশি ড্রেন ও স্লাব এর ব্যবস্থা করে জলাবদ্ধতা নিরসন করায় এলাকার মানুষ জেলা পরিষদ সদস্য মহিতুর রহমানকে ধন্যবাদ জানান।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের শর্তসাপেক্ষে ২য় বর্ষে প্রমোশন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের শর্তসাপেক্ষে ২য় বর্ষে প্রমোশন

নিউজ ডেস্কঃ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের শর্তসাপেক্ষে ২য় বর্ষে প্রমোশন দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে  বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কোভিড-১৯ করোনা মহামারির কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। যেসব শিক্ষার্থী ২০২০ সালে অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পুরণ করেছেন, তাদেরকে শর্ত সাপেক্ষে ২য় বর্ষে প্রমোশন দিয়ে ক্লাশ করার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। ২০২০ সালে  অনার্স ১ম  বর্ষ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের  জন্য ফরমপূরণ করেছেন সর্বমোট  ৪  লাখ  ৬৭ হাজার ৮৩৫ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে নিয়মিত শিক্ষার্থী সংখ্যা ২ লাখ ৯৭ হাজার ৬২৬ জন, অনিয়মিত শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৯ হাজার ৫০ জন। আর মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৫১ হাজার ১৫৯ জন। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ২য় বর্ষে প্রমোশন পাবেন ৩ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছিল ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৮৭৬ জন শিক্ষার্থী। প্রমোশন পাওয়ার শর্তসমূহের মধ্যে অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে- পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এসব শিক্ষার্থীদেরকে অবশ্যই ১ম  বর্ষের  লিখিত  পরীক্ষায়  অংশগ্রহণ  করতে  হবে।  কেউ  যদি  এই  পরীক্ষায়  অংশ  না  নেয় বা  পরীক্ষায়  অংশ  নিয়ে রেগুলেশন অনুযায়ী ‘নট প্রমোটেড’ হয় সেক্ষেত্রে তার শর্তসাপেক্ষে দেওয়া প্রমোশন বাতিল বলে গণ্য হবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট www.nu.ac.bd তে পাওয়া যাবে।

উলিপুরে এক সন্তানের জননীর আত্মহত্যা

উলিপুরে এক সন্তানের জননীর আত্মহত্যা


কুড়িগ্রাম  প্রতিনিধিঃ  কুড়িগ্রামের উলিপুরের পান্ডুল ইউনিয়নের বাবুপাড়া গ্রামে এক সন্তানের জননীর গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যার খবর পওয়া গেছে।  এলাকাবাসী ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে ও স্বামী মুমিনুল ইসলামের সাথে অভিমান করে গৃহবধূ সুমা আক্তার(২৯) গলায় ওড়না পেচিয়ে গত বুধবার ১৬ জুন গভীর রাতে শয়ন ঘরের ধরনার সাথে  ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করে।তার স্বামীর আরও এক স্ত্রী আছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে।  উলিপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা রহুল আমিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।এঘটনায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

যশোরে করোনা সনাক্ত ১৬৫ মোট ৮৭৪৭জন

যশোরে করোনা সনাক্ত ১৬৫ মোট ৮৭৪৭জন

সুমন হোসেন,  যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ
যশোরে বুধবার নতুন করে আরও ১৬৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে চার জনের। মৃতরা হলো, বাঘারপাড়া উপজেলার জহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব তুহিন (৪০), মণিরামপুর উপজেলার রাজগজ্ঞের শাহাব উদ্দীন (৬২), ঝিকরগাছা নাভারণের আসাদুর রহমান (৫০), চৌগাছা উপজেলার বড় খানপুর গ্রামের আমিল মল্লিক (৫০)। নতুন আক্রান্ত ১৬৫ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ১৬৫ জন। এছাড়া, কেশবপুরে ৪, ঝিকরগাছায় ১১, অভয়নগরের ২০ ও মণিরামপুরের ১ জন করে রয়েছে। সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন জানান, মোট মৃত্যু হয়েছে ৯৬ জনের সুস্থ হয়েছেন ৬৭২০ জন।

পোরশায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার

পোরশায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার

রাকিবুল, পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর পোরশায় থানা পুলিশের অভিযানে মোঃ আব্দুর রাজ্জাক নামের এক সিআর ০৭/২১(সাজা) আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে অফিসার ইনচার্জ শফিউল আযম খান এর নেতৃত্বে এএসআই সিরাজুল ইসলাম ও সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আব্দুর রাজ্জাক পোরশা পুরইল গ্রামের মোঃ লুৎফর রহমানের ছেলে বলে জানা গেছে।

নওগাঁর আত্রাইয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনামূল্যে ভায়া টেষ্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন

 নওগাঁর আত্রাইয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনামূল্যে ভায়া  টেষ্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন

মোঃ ফিরোজ হোসাইন, রাজশাহী ব্যুরোঃ নওগাঁর আত্রাইয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনামূল্যে ভায়া টেষ্ট (জরায়ু মুখ ও স্তন ক্যান্সার) পরীক্ষার উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. রোকসানা হ্যাপির সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর উদ্বোধন করা হয়। ফিতাকেটে এর উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবাদুর রহমান প্রামানিক, ইউএনও ইকতেখারুল ইসলাম। 
এসময় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম, আ'লীগ সভাপতি নৃপেন্দ্রনাথ দত্ত দুলাল, সম্পাদক আক্কাছ আলী, যুগ্ম সম্পাদক নাহিদ ইসলাম বিপ্লব, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলে রাব্বি জুয়েল, আত্রাই প্রেসক্লাব সভাপতি রুহুল আমীন, আরএমও ডা. আরিফ হাসান, ডা. জাকারিয়া হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. রোকসানা হ্যাপি সাংবাদিকদের জানান, সরকারী ছুটির দিন বাদে সব দিন এ পরীক্ষা চলবে। ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সী মেয়েরা এবং যে সকল মেয়ের বিয়ের বয়স ১০ বছর হয়েছে তারাও পরীক্ষা করাতে পারবেন । পরীক্ষা করাতে রোগীকে জাতীয় পরিচয় পত্র সাথে আনতে হবে। বল্য বিয়ের কারনে এ রোগের সংখ্যা বাড়ছে বলে ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে না দিতে অভিভাবকদের আহবার জানান তিনি।

শৈলকুপায় স্কুল ছাত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা চুরির অভিযোগের জেরে শহরে উত্তেজনা, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

শৈলকুপায় স্কুল ছাত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা চুরির অভিযোগের জেরে শহরে উত্তেজনা, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

নিজস্ব সংবাদদাতা শৈলকুপা( ঝিনাইদহ)শৈলকুপায় দর্জির দোকানে আটকে রেখে স্কুল ছাত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা চুরির অভিযোগের জেরে শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে সেইসাথে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
  জানা গেছে, মঙ্গলবার  বিকাল ৫টার দিকে  উপজেলার সাতগাছি গ্রামের বিপ্লব খানের  মেয়ে  দশম শ্রেণীর ছাত্রী সাবিয়া খাতুন ঢাকায় থাকা তার বড় বোনের নিকট বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর জন্য শৈলকুপা শহরে যায়।এরপর তার এক বন্ধুর কথামত শৈলকুপা চৌরাস্তা মোড়ে পাইলট হাই স্কুল মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় সোহেল নামের এক দর্জির দোকানে বসে। দোকান মালিক দর্জি সোহেল তাকে বসতে দিয়ে কিছু সময়ের জন্য বাহিরে যায় এবং ফিরে এসে বলে তার ক্যাশবাক্স থেকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা চুরি  হয়েছে। চুরির অপবাদ দিয়ে সাবিয়া খাতুন  কে আটক করে এবং জিহাদ নামের এক ব্যাক্তিকে  ডেকে এনে তাকে মারধরসহ শাররিক ভাবে লাাঞ্চিত করে। এব্যাপারে সাবিয়ার পিতা বিপ্লব খান জানান , মেয়েকে আসতে বিলম্ব হওয়ায়  তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে অজ্ঞাতনামা এক ব্যাক্তি সাবিয়ার ফোন রিচিভ করে বলে আপনার মেয়েকে নিয়ে যান। পরে মেয়েকে আনতে গেলে  সোহেল ও জিহাদ তার দোকনের  ক্যাশবাক্স থেকে সাবিয়া টাকা চুরি করেছে বলে দাবি করে। এই ঘটনা কে কেন্দ্র  করে উভয়ের মধ্যে বাক বিতন্ডা হলে  তারা আটক স্কুল ছাত্রী  সাবিয়া খাতুন কে ছেড়ে দেয়। এদিকে সাবিয়া খাতুন  এ প্রতিনিধি কে  জানান, আমি দর্জি সোহেলের দোকানে গেলে  আমাকে বসতে দিয়ে  বলে  আামি আসছি, কিছু সময় পর জিহাদ নামের এক ব্যাক্তির সাথে এসে বলে আমার ক্যাশবাক্স  থেকে তুমি  সাত হাজার ৫০০ টাকা চুরি করেছো। তখন  আমি এই মিথ্যা  অপবাদের প্রতিবাদ করলে  জিহাদ নামের এক ব্যাক্তি এসে আমাকে  মারধরসহ শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত করে  এবং আমার মোবাইল ফোন  ছিনিয়ে নেয়। তার কিছু সময় পর আমার পিতা এসে আমাকে উদ্ধার করে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। এব্যাপারে সোহেল দর্জিকে বার বার মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যাইনি। 
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  মোঃ জাহাঙ্গির আলম  জানান, আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি , লিখিত অভিযোগ আসলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিব। অপর দিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে  শৈলকুপা শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পোরশা টু মহাদেবপুর রাস্তার বেহাল অবস্থা

পোরশা টু মহাদেবপুর রাস্তার বেহাল অবস্থা

রাকিবুল  পোরশা( নওগাঁ)চিত্রে দেখতে পাচ্ছেন এটা কোনো সিটি না  এইটা আমাদের নওগাঁ জেলার পোরশা টু মহাদেবপুর থানার একমাত্র যোগাযোগ বহুল রাস্তা। সামান্য বৃষ্টি হলেই তৈরী হয় মরন ফাঁদ।  এখন বর্ষাকাল এই মৌসুমে রাস্তার বেহাল অবস্থা তৈরী হয়েছে। মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা। পোরশা থানার যোগাযোগ স্থূল একমাত্র রাস্তার   এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এই বছর খুব ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তৈরী হচ্ছে জানযট। 
উল্লেখযোগ্য এইটা গনপ্রজাতন্তী বাংলাদেশ সরকারের খাদ্যমন্ত্রী জনাব বাবু সাধন চন্দ্র মজুমদার এম পি মহাদয় এর নির্বাচনী এলাকা ।যোগাযোগ প্রবন রাস্তার এমন পরিস্থিতিতে মানুষের যাতায়াতের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। 
এই নিয়ে কতৃপক্ষের কোনো ভূমিকা নেই। 
রাস্তার যথাযথ কার্যক্রম করা হক দাবি ।

বামুন্দি সাব-জোনাল অফিসের পল্লিবিদ্যুৎ ব্যাবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়ম!

বামুন্দি সাব-জোনাল অফিসের পল্লিবিদ্যুৎ ব্যাবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়ম!

তানভীর আহমেদ, মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বার বার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশকে শতভাগ বিদুৎ ব্যাবস্থার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে,কারন দেশ ডিজিটাল করতে হলে দেশে বিদ্যুৎ ব্যাবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে তানাহলে সকল সেবা দেশের জনগনের মাঝে পৌছানো সম্ভব হবেনা। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার মানুষেরা ইতিপূর্বে বিদ্যুৎ ব্যাবস্থা নিয়ে সন্তোস প্রকাশ করলেও অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ ব্যাবস্থা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন গ্রাহকেরা।

মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যাবস্থা নিয়ে মানুষের ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া গেছে, তবে এ অভিযোগ দেওয়ার পরেও কোনো সমাধান পায়নি তারা।বিশেষ করে বামুন্দি সাব জোনাল অফিসের আন্ডারে বেতবাড়ীয়া,ভবানিপুর,পীরতলা সহ এই এলাকার মানুষের বিদ্যুৎ ব্যাবস্থা নিয়ে বেশি ভুগছে তবে পল্লিবিদ্যুৎ এর সাথে জড়িত কাউকে কিছু বলতে পারছেন না,কারন বিভিন্ন সময় পল্লিবিদ্যুৎ এর লাইনম্যানদের সাথে কথা কাটাকাটি করায় জরিমানা দিতে বাধ্য হয়েছেন অনেক গ্রাহক। 

বেতবাড়ীয়া গ্রামের মৃত নুরেল মোল্লার ছেলে মুদি দোকানদার আসাদুল ইসলাম জানান, আমার বিল বকেয়া থাকার কারনে আমার লাইন বিছিন্ন করতে আসলে আমি তাদের বিভিন্ন ভাবে অনুরোধ করি বলি আমি গরীব মানুষ আমার লাইনটা দয়া করে বিছিন্ন করবেননা। আমি কালকের ভিতরে বিল পরিশোধ করে দিব কিন্তু তারা আমার কথা না শুনেই লাইন বিছিন্ন করে দেয়। আমি পরের দিন বিল পরিশোধ করতে গিয়ে দেখি আমার ২৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে,পরে জানতে পারি আমার উপর খুব্ধ হয়ে অন্যায়ভাবে এই জরিমানা করা হয়।

গ্রাহকদের অভিযোগ পবিত্র রমজান মাসে ইফতার ও সাহরির সময় বিদ্যুৎ থাকতো না পল্লিবিদুৎ অফিসে কল দিলে তারা বলতো লোডশেডিং চলছে,বিশেষ করে মেঘ বা একটু বাতাশ হলেই বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয় ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও বিদ্যুৎ লাইন পাইনা,তখন অফিসে কল দিলে তারা বলে লাইনের কাজ চলছে,তাছাড়া বিভিন্ন সময় কল দিলে তারা রিসিভ করেনা,তুষার আহমেদ নামের এক গ্রাহক জানান,অন্য জেলার মানুষেরা আমাদের বিদ্যুৎ ব্যাবস্থা নিয়ে হাসিঠাট্টা করে। 

একজন গ্রাহক জানান আজকে ১৫ জুন পল্লিবিদুৎ এর কিছু লোকজন এসে বলেন যারা কৃষি বাংকে বিদ্যুৎ বিল দিয়েছেন তাদের লাইন বিছিন্ন করে দেওয়া হবে কিন্তু ঐ গ্রাহক জানতে চান কেন লাইন কেটে দিবেন বিস্তারিত না বলেই স্তান ত্যাগ করে চলে যান তারা।

পাশের জেলা কুষ্টিয়ার দৌলাতপুর উপজেলার বিদুৎ ব্যাবস্থা নিয়ে ব্যাপক প্রশংসা করেন বেতবাড়ীয়া গ্রামের অনেক গ্রাহক,তারা বলেন আমাদের এখানে একটু বাতাশ বা মেঘ হলে বিদ্যুৎ থাকেনা তখন আমাদের জরুরি প্রয়োজনে গোয়ালগ্রাম বাজারে গিয়ে কাজ করি,ঐ গ্রাহক বলেন আমাদের বেতবাড়ীয়াতে ঝড় হলে পাশের গ্রাম নাটনাপাড়া ও গোয়ালগ্রামেও ঝড় হয়,কিন্তু দেখা যাবে আমাদের এখানে বিদ্যুৎ নাই কিন্তু গোয়ালগ্রামে ঝড় শেষ হলেই বিদ্যুৎ চলে আসে,কারন এরা দ্রুত লাইনের কাজ করতে চাইনা।

একদিকে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকার কারনে ছাত্ররা অল্প খরচে অনলাইন ক্লাস করার জন্য ওয়াইফাই ব্যাবহার করে কিন্তু কোন মাইকিং বা অবগত না করে লাইন বন্ধ রাখার কারনে গরিব ছাত্ররা ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। কিছুদিন আগে এক গ্রাহকের অতিরিক্ত বিল আসার কারন জানতে স্তানীয় কয়েকজন সাংবাদিক তাদের অফিসে গেলে লাইভ করতে নিষেধ করেন এখন ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি এজিএম। 

উল্লেখ গতকাল ১৫ই জুন দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল,আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিদ্যুৎ আসছে আর যাচ্ছে তবে বেলা বারোটার দিকে আকাশে মেঘ দেখা দিলে আবারো বিদুৎ বন্ধ করে দেয়,অকারনে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়ার কারন জানতে এক গ্রাহক অফিসে কল দিলে তারা বলে লাইনে গাছ কাটার কাজ চলছে তাই বলে ফোন কেটে দেন বিস্তারিত জানতে হলে স্যারকে কল দিন। 


এ বিষয়ে জানতে আবারো অফিসের নাম্বারে কল দিলে জয়নাল নামের এক পল্লিবিদুৎ এর স্টাফ মেজাজ দেখিয়ে ফোন কেটে দেয়। তবে এ বিষয়ে বামুনি সাব-জোনাল অফিসের এজিএম কম জানান আজ ও কালকে লাইনে কাজ চলার কারনে লাইন বন্ধ রাখা হয়েছে, মাইকিং বা গ্রাহককে অবগত না করে লাইন বন্ধ করার বিধান আছে কি? এ প্রশ্নের সৎ দিতে পারেনি এজিএম কম, এবং কৃষি বাংকে যারা বিল দিয়েছে তাদের লাইন কেন কেটে দেয়া হবে এ প্রসঙ্গে এজিএম কম বলেন এটা বলার কোনো সুযোগ নাই বিষয়টা ক্ষতিয়ে দেখছি।

হীরার খোঁজে গ্রাম খুড়ে একাকার!

হীরার খোঁজে গ্রাম খুড়ে একাকার!
ছবি' ইন্টারনেট 

আন্তার্জাতিক ডেস্ক' সম্পদের জন্য মানুষ কত কিছুই না করে। তবে এ জন্য হাজারখানেক মানুষ মিলে একটা গ্রাম পুরো খুঁড়ে একাকার করে দেওয়ার ঘটনা সম্ভবত এবারই প্রথম ঘটল। কেউ হয়তো যুক্তি দেখাতে পারেন, কৃষিকাজের জন্য জমিতে তো খোঁড়াখুঁড়ি, লাঙল দেওয়াই হয়। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার ওই গ্রামের খোঁড়াখুঁড়ির সঙ্গে কৃষিকাজের কোনো যোগসূত্র নেই। অজ্ঞাত এক পাথরের কারণে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে ওই গ্রামের মানুষ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, ঘটনাটি দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু–নাটাল প্রদেশের কোয়াহ্লাথি গ্রামের। গত শনিবার থেকে ওই গ্রামে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে স্থানীয় লোকজন। দেশের অন্যান্য এলাকা থেকেও অনেকে ছুটে গেছে সেখানে। গত সোমবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত খোঁড়াখুঁড়ি চলছিল।

ঘটনার শুরু এক পশুপালকের একটি পাথর খুঁজে পাওয়ার মধ্য দিয়ে। পশু চরাতে গিয়ে একটি খোলা মাঠে মাটি খুঁড়ে তিনি ওই পাথর পান। পাথরটি আসলে কী, তা শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে স্থানীয় লোকজন এটাকে হীরা বলে ধরে নিয়েছে। এরপর খবর ছড়িয়ে পড়ে, কোয়াহ্লাথি গ্রামে মাটির নিচে হিরা রয়েছে। আর তারপরই দলে দলে মানুষ ওই গ্রামে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে।

২৭ বছর বয়সী স্থানীয় এক তরুণ বলেন, খোঁড়াখুঁড়ি করে তিনি বেশ কয়েকটি পাথর পেয়েছেন, যদিও সেগুলো আকারে ছোট। তিনি বলেন, 'পাথরগুলো আমাদের জীবন বদলে দেবে। কারণ, আমি যে কাজ করি, তা সম্মানজনক নয়। পাথরগুলো নিয়ে যখন বাড়ি ফিরলাম, সবাই আনন্দে নেচে উঠেছিল।'

এদিকে গ্রামজুড়ে ওই খোঁড়াখুঁড়ির খবর সরকারের কাছেও চলে গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার খনিজ সম্পদ দপ্তর সোমবার বলেছে, তারা ওই গ্রামে একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে। এই দল নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে জানাবে, পাথরগুলো আসলে কী।

তবে খনিজ সম্পদ দপ্তরের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বসে নেই স্থানীয় লোকজন। তারা এরই মধ্যে পাথরগুলো আকারভেদে ১০০ র‍্যান্ড (৭ দশমিক ২৯ মার্কিন ডলার) থেকে ৩০০ র‍্যান্ড দরে বিক্রি শুরু করে দিয়েছে।
এদিকে কর্তৃপক্ষকে যথাযথ অনুসন্ধানের সুযোগ দিতে খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ করে সবাইকে সরে যেতে বলেছে প্রাদেশিক সরকার। সরকারের আশঙ্কা, এভাবে হাজারো মানুষ একসঙ্গে জড়ো হওয়ার কারণে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে কর্তৃপক্ষের কোনো কথাই কানে তুলছে না কেউ।

গ্রীষ্মকালীন ফল কালো জাম কেন খাবেন

গ্রীষ্মকালীন ফল কালো জাম কেন খাবেন
ছবিঃ ইন্টারনেট

মোঃ ফিরোজ হোসাইন, রাজশাহী ব্যুরোঃ গ্রীষ্মকালীন ফল কালো জাম। পুরো বর্ষা জুড়েই বাজারে পাওয়া যায় এই ফলটি। এতে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। পুষ্টি উপদান হিসেবে জামে রয়েছে শর্করার পরিমাণ ১৫ দশমিক ৫৬ গ্রাম, পটাশিয়াম ৭৯ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৭ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ১৫ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৯ মিলিগ্রাম ও সোডিয়াম ১৪ গ্রাম।এ ছাড়াও জাম বিভিন্ন রোগপ্রতিরোধ করে থাকে। তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক-এই ফল খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে।

* জামে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন 'সি' থাকায় জ্বর, সর্দি ও কাশি দূর হয়।
* দাঁত, চুল ও ত্বক সুন্দর করতে জাম খেতে পারেন। জাম দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
* জামে থাকা ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম ও ভিটামিনগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে পারে।
* এতে থাকা গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও ফ্রুকটোজ কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
* জামের ভিটামিন 'এ' চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে।
* ক্যানসারের জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে সহায়তা করে জাম। মুখের ক্যানসার প্রতিরোধে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
* নিয়মিত জাম খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
* রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে জাম সহায়ক।
* জামে ডায়াটরি ফাইবার রয়েছে। তাই এটি কোষ্ঠকাঠিন্যে বেশ উপকারী।

মথুরাপুর মাঃ বিঃ এর প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মরিয়া একটি অসাধু চক্র

মথুরাপুর মাঃ বিঃ এর প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদের  বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মরিয়া একটি অসাধু চক্র

কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি //চঞ্চল হোসাইন 
কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামে গড়ে উঠা খাস মথুরাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় অনেক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে। প্রতিস্ঠানটিতে সুনামের সহিত শিক্ষা লাভ করে প্রাক্তন অনেক শিক্ষার্থীই এখন দেশের রাজধানী সহ বিদেশেও গৌরবের সহিত কর্মরত রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে কৃতিত্বের সাথে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন জনাব আব্দুর রশিদ। 
তিনি ২০১০ সাল থেকে এপর্যন্ত সততার সাথে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছেই সে একজন আদর্শ শিক্ষক সে যেন শিক্ষার্থীদের কাছে ভালোবাসা ও সুশিক্ষা দেওয়ার এক অফুরন্ত ভান্ডার শিক্ষার্থীদের নয়নের মনি। 
কিন্তু তার এই সততার সাথে কাজ এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে সুশিক্ষা প্রদাণে ঈর্ষান্বিত হয়ে বাধা প্রধান করার জন্যই কতিপয় কিছু অসাধু ব্যাক্তি এবং জামায়াত, বিএনপির আশির্বাদ পুষ্ট কিছু ব্যাক্তি তার বিরুদ্ধে ইদানিং  গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তার অর্জন এবং সবার কাছে সে যে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে তার থেকে তাকে হেয়পতিপন্য করার জন্যই এই ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন তিনি। কিছু অসাধু ব্যাক্তি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কিছু গনমাধ্যম কর্মী নিবন্ধন বিহীন এবং ভুইফোড় ফেইসবুক পেজ এবং পত্রিকাতে তার নামে যে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এলাকার সুশীল সমাজ। ২০১০ সাল থেকে এপর্যন্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি একজন আদর্শ শিক্ষক ও ভালোবাসার আশ্রয়স্থল এবং সুশিক্ষার এক অফুরন্ত ভান্ডার। 
তাই তার নামে এই মিথ্যা তথ্য এবং সমাজে তাকে হেয়পতিপন্য করায় তার নামে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন তার স্নেহের শিক্ষার্থীরা ও এলাকার সুশীল সমাজ।

মেহেরপুরে সাংবাদিক জনির মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

মেহেরপুরে  সাংবাদিক জনির মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

তানভীর আহমেদ, মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি: সাংবাদিক মিজানুর রহমান জনির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত চাঁদাবাজির  মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং নিঃশর্ত  মুক্তির দাবীতে মানববন্ধন করেন মেহেরপুরের সাংবাদিকরা। 

আজ মঙ্গলবার বিকালে মেহেরপুর রিপোর্টর্স ক্লাবের সামনে এ মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।  মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক মাহবুবুল হক পোলেন, আতিক স্বপন, কাজিমুল হক আনিক, রাশেদ খাঁন প্রমূখ মানব বন্ধনে বক্তারা বলেন এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্তইনা বাদীই জানেনা মামলার আসামীদের অপরাধ। অথচ এই মামলায় সাংবাদিক জনির জামিন না হয়ে জেল হাজতে প্রেরণ দুঃখজনক। এই ঘটনার লাইভ ভৈরব নদের পাড়ের কিন্তু ঘটনা ঢাকাচাপা দিতে জেলা প্রসাশক ও জনপ্রসাশন প্রতিমন্ত্রীর আস্থাভাজন প্রফেসর হাসানুজ্জামান মালেকের মত সম্মানিত ব্যক্তিদের নাম ভাঙ্গিয়ে মরাগাং এর নাটক সাজিয়ে অন্য দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে মিলন মেম্বার। তদন্ত হওয়া দরকার কে এই মিলন মেম্বার, এর অবৈধ কর্মকান্ডের পেছনের শক্তি  কারা। সেই সাথে মিজানুর রহমান জনির নামে মিথ্যামামলা প্রত্যাহার সহ নি:শর্ত মুক্তির দাবি জানায়। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক মিনারুল ইসলাম, লিটন মাহমুদ, রাব্বি আহমেদ,সেলিম, প্রিন্স আরিফ, সাইদ, সান, সোহান, সুরুজ, সজল, হিমেল, তানভির আহমেদ,  শরিফ মাহমুদ মামুন, সাঈদ হোসেন।

কাশিয়ানীতে রাস্তার বেহাল দশা দেখার কেউ নেই

কাশিয়ানীতে রাস্তার বেহাল দশা দেখার কেউ নেই

রিয়াদুল ইসলাম মোরশেদ, উপজেলা প্রতিনিধি,কাশিয়ানীঃ কাশিয়ানী উপজেলা অন্তগত ফুকরা  ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড শাফলীডাঙ্গা সরকারি পুকুর পার  হতে  আনুমানিক  ৪০০ থেকে ৫০০ মিটার দক্ষিনে ১১১ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিত্য যাওয়ার রাস্তার বেহাল দশা দেখার যেনো কেউ নেই, জায়গায় জায়গায় ইট উঠে গেছে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব স্থানে পানি জমে বিপত্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। হালকা বৃষ্টি হলে রাস্তায় হাটার পরিস্থিতি থাকেনা প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।  অনেকদিন যাবত রাস্তাটি সংস্কারহীন ভাবে পড়ে আছে এই রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ করে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে যাওয়া আশায় ও এলাকাবাসীর যাতায়াতে নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে বড় ধরনের বিপদ হতে পারে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। 

রাস্তাটি সংস্কারের জন্য  ঊর্ধ্বতন  কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন যাতে করে খুব দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা হয়

বিচারের ক্ষেত্রে ধর তক্তা মার পেরেক এর কোনো সুযোগ নেই

বিচারের ক্ষেত্রে ধর তক্তা মার পেরেক এর কোনো সুযোগ নেই

মানুষের চুড়ান্ত বিচারের একচ্ছত্র ক্ষমতা একমাত্র সৃষ্টিকর্তার, যিনি ওপারে মানুষের প্রতিটা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাজের হিসাব নিবেন। আর দুনিয়ায় মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার সেই পরম ক্ষমতার কিছুটা চর্চা করার পবিত্র দ্বায়িত্ব পান বিচারকগণ। তাই বিচারের সময় কতটা সাবধানতা আর বিচক্ষণতা বিচারকগণের অবলম্বন করা উচিত তা বলাই বাহুল্য। বিচারের ক্ষেত্রে "ধর তক্তা মার পেরেক" মানে অযাচিত তাড়াহুড়োর কোন সুযোগ নেই। শতশত বছরে প্রাপ্ত নিগূঢ় অভিজ্ঞতা আর আইনের ক্রমবিকাশের সাথে সময়োপযোগী ভাবনার মিশেলে পরিচালিত হওয়া উচিত যেকোন দেশের বিচার ব্যবস্থা। একজন মানুষকেও যেন অন্যায়ভাবে বিচারের মুখোমুখি না করা হয়, কোন নিরপরাধীকে যেন সাজা শুনতে না হয়, সেটা নিশ্চিত করাই আইন-আদালতের পবিত্র দ্বায়িত্ব। Injustice anywhere is a threat to justice everywhere. কিন্তু কি হচ্ছে মোবাইল কোর্ট নামক আধা-বিচারিক ব্যবস্থায়?

ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং এর কার্যক্রম সম্পর্কে দেশের মানুষের বেশ ভালো ধারণা আছে। সহসাই চোখে পড়ে তাদের কর্মতৎপরতা। একঝাকঁ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সর্বদা প্রস্তুত আছেন অপরাধীদের মুহূর্তের মধ্যে সাজা আর জরিমানা প্রদানের আদেশ দেয়ার জন্য। অপরাধীদের বিচিত্র কৌশল আর তথ্য-প্রযুক্তি উৎকর্ষের এই দিনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কিছুটা আবেদন যে আছে সেটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে এই চাহিদা জুডিশিয়াল অফিসারগণই মিটাতে পারতেন যদি হাইকোর্টের অধীনে যথাযথ পরিকল্পনা নিয়ে আগানো যেত। পাশ্ববর্তী দেশে এ ধরনের এক্সপেরিমেন্ট সফল হয়েছে।
 
যাই হোক, লেখাটা প্রয়োজনীয়তা কিংবা অপ্রয়োজনীয়তা নিয়ে নয়। সেটা ভিন্ন আলোচনা। আমি সাধারণত পদ্ধতিগত ত্রুটি নিয়ে লিখি, এখানেও কিছু ভয়াবহ পদ্ধতিগত ত্রুটি নিয়েই আলোচনা করবো, আদতে যেটা আইন লংঘন বা অপরাধের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। বলে রাখা ভালো মোবাইল কোর্ট অর্ডিন্যান্স, যেটি ২০০৯ সালে আইনের মর্যাদা পায়, সংবিধানের সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। এটি মাসদার হোসেন মামলার আলোকে পৃথক হওয়া বিচার বিভাগের জন্য ভয়াবহ হুমকি। স্বাধীন বিচার বিভাগের ধারনার সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক হওয়ায় এবং নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ পৃথক হওয়ায় মহামান্য হাইকোর্ট ইতিমধ্যে আইনটিকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষনা করেছেন। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আপিলে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের এ্যাপিলেট ডিভিশনে আটকে আছে। এই আটকে থাকার সুযোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ তাদের অযাচিত ক্ষমতা প্রয়োগ করে যাচ্ছেন। যাই হোক, এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে গিয়ে তারা বিতর্কিত আইনটির নিজস্ব বিধানও মানছেন না। একে তো মোবাইল কোর্ট আইনটিই বিতর্কিত, সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ আদেশের সময় এই আইনের বিধানও মানছেন না! শুনতে খারাপ লাগে, আইন মানছেন না স্বয়ং ম্যাজিস্ট্রেট! এমনকি পুলিশ এবং ম্যাজিস্ট্রেট একযোগে অপরাধের বিচারের নামে নিজেরাই স্পস্ট অপরাধ করে যাচ্ছেন।
 
মোবাইল কোর্ট আইনের মাধ্যমে অভিযুক্তদের সাজা প্রদানের ক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের কিছু অত্যাবশকীয় শর্ত পালন করতে হয়। সংশ্লিষ্ট আইনের ৫, ৬, ৭ ধারায় সেসব পদ্ধতির কথা বলা আছে। যেগুলো যথাযথ ভাবে পূরণ না করলে কোনভাবেই প্রদত্ত আদেশ আইনসিদ্ধ হয় না। সচরাচর যেগুলো তারা মানেন না বা মানতে চান না। অন্যসব বাদ দিলেও কিছু বিষয় না বললেই নয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ কেবল মোবাইল কোর্ট আইনে প্রদত্ত সিডিউলভূক্ত অপরাধগুলোর বিচার করার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত। সিডিউলভূক্ত অপরাধের বাইরের কোন অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার তাদের নেই। কিন্তু হর হামেশাই তারা এই বিধানের তোয়াক্কা না করে তফশীলভূক্ত অপরাধের বাইরেও তাদের লম্বা হাতখানা ঢুকিয়ে দেন। বুঝে, না বুঝে তারা দেশের বিচার ব্যবস্থায় বিতর্ক সৃষ্টি করে চলেছেন। মহামান্য হাইকোর্ট বারবার তাদের এখতিয়ার বিহীন কার্যক্রমের লাগাম টেনে ধরতে নানান ধরনের নির্দেশনা প্রদান করলেও কিছুতেই তারা থামছেন না।
 
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যাকে সাজা দিতে চাচ্ছেন তাকে অবশ্যই নিজের দোষ স্বীকার করতে হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি সেচ্ছায় দোষ স্বীকার না করেন তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট কোনভাবেই তাকে সাজা শোনাতে পারবেন না। কেন এমন বিধান? সুস্পষ্ট কারণ আছে। মোবাইল কোর্ট ব্যবস্থায় অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোন সুযোগ থাকে না। কিন্তু আইনের গুরুত্বপূর্ণ নীতি হচ্ছে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তাকে অবশ্যই আত্মপক্ষ সমর্থনের যথেষ্ট সুযোগ দিতে হবে। সংবিধানের ৩৫ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, কাউকেই তার নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না। আর আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কাউকে সাজা দিলে সেটা কোনভাবেই বিচার প্রক্রিয়ার সাথে সমান্তরালে যায় না। কুখ্যাত অপরাধীকেও তার পক্ষে কৌশলী নিয়োগের সুযোগ দিতে হবে।
 
সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার, ৩৫ অনুচ্ছেদে বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ বিষয়ে বলা আছে। মোবাইল কোর্ট নামক ব্যবস্থায় যেহেতু বিচারের সাধারণ নিয়মগুলো মানা হয় না, সেহেতু অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বেচ্ছায় তার দোষ স্বীকার করলেই তাকে সাজা দেয়া যাবে। দোষ স্বীকার বাস্তবিক অর্থেই করতে হবে, কোন রকম চাপ কিংবা হটকারিতা করে স্বীকারোক্তি আদায় করা যাবে না। কিন্তু নির্বাহী এই বিশেষ আদালতের বিরুদ্ধে অধিকাংশ সময়ে অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি আদায়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ আর জোর জবরদস্তির অভিযোগ আছে। এমনকি স্বীকারোক্তি আদায়ের বিশেষ কাগজে অভিযুক্তের স্বাক্ষর নেয়ার সময় তাকে বলা হয় না যে দোষস্বীকারের কাগজে সে স্বাক্ষর করছে। অথচ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অবশ্য কর্তব্য হচ্ছে অভিযুক্তকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে বলা যে, সে দোষ স্বীকার করবে কিনা, খুব সতর্কতার সাথে তাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলতে হবে, দোষ স্বীকার করতে তিনি বাধ্য নন। কোন রকম জোর জবরদস্তি কিংবা ছলনা করে না বুঝিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে নিলে সেটা কোনভাবেই দোষস্বীকারোক্তি মর্মে গন্য হবে না।

মোবাইল কোর্ট অর্ডিনান্সের মাধ্যমে বিচার করতে হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অবশ্যই ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে। এর অর্থ হচ্ছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে অপরাধটি সংগঠিত হতে হবে। কোনভাবেই এই শর্তভঙ্গের সুযোগ নেই। কিন্তু আমরা সচারাচর দেখতে পাচ্ছি, পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির করছেন! আর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহা-সমারোহে উক্ত অভিযুক্তকে বিভিন্ন মেয়াদে মূহুর্তের মধ্যে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। কোন আইনে তারা এমনটা করেন? এই বিষয়ে বিস্তর আলোচনা জরুরী। কারন এখানে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট দু'পক্ষই আইন অমান্য করে দন্ডনীয় অপরাধ করছেন।
 
প্রথমে পুলিশের বিষয়ে আসা যাক। আসামী গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি'র ৬০, ৬১ এবং ১৬৭ ধারা পুলিশকে অনুসরণ করতে হয়। সাধারণত পুলিশ আসামী গ্রেপ্তার করে দুই ভাবে; আদালত থেকে এরেস্ট ওয়ারেন্ট পেয়ে এবং আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে ওয়ারেন্ট ছাড়া যে কোন মাধ্যমে খবর পেয়ে। আদালত থেকে ওয়ারেন্ট পেয়ে গ্রেপ্তার করলে আসামীকে কোন রকম বিলম্ব ছাড়া যত দ্রুত সম্ভব আদালতে হাজির করতে হবে। অন্যদিকে আদালতের এরেস্ট ওয়ারেন্ট ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামীকে এখতিয়ারাধীন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির করতে হবে। এখানে ম্যাজিস্ট্রেট বলতে ফৌজদারী কার্যবিধি বলতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বুঝায়। কোনভাবেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির করা যাবে না। পুলিশ কোন আইনে, কিসের ভিত্তিতে আসামীকে ধরে সরাসরি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিয়ে যায়? নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোন আইনে, কোন ক্ষমতায় এভাবে নিয়ম বহির্ভূতভাবে উপস্থাপিত আসামীকে সাজা প্রদান করেন? তিনি কি আইন জানেন না? নাকি জেনে বুঝেই এমনটা করেন? অবশ্য তিনি আইনের লোক না। নাও জানতে পারেন। বিচার করার খায়েশ মানুষের পুরনো প্রবৃত্তি। তাই বলে এমন বেপরোয়া ভাবে? এটা বিচার না, বিচার বিভাগের গালে চপেটাঘাত!

 
পুলিশ আসামীকে গ্রেপ্তার করে আইন অমান্য করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আসামীকে সোপর্দ করে সুস্পষ্ট অপরাধ করছে। পুলিশ আইন, ১৮৬১ সালের ২৯ ধারায় এ ধরনের আইনের লংঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়াও দন্ডবিধি'র ২২০ ধারায় পুলিশের বিরুদ্ধে চার্জ আনা যেতে পারে। যেখানে বলা আছে কোন ব্যক্তি যদি যে পদমর্যাদা বলে কোন ব্যক্তিকে বিচারে প্রেরণ করার বা আটকে সোপর্দ করার আইনানুগ ক্ষমতা লাভ করে, সে পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত ক্ষমতা লাভ করে, সে পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়ে, সে ক্ষমতা প্রয়োগ পূর্বক দুনীতিমূলকভাবে বা দুরভিসন্ধিমূলকভাবে কাউকে বিচারে বা আটকে সোপর্দ করে বা আটক করে রাখে, এবং এইরূপ কাজ দ্বারা সে আইন বিরুদ্ধ কার্য করছে বলে জানা সত্ত্বেও তা করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদন্ডে অথবা অর্থ দন্ডে অথবা উভয়বিধ দন্ডেই দন্ডিত হবে।

অন্যদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে গুরুতর অপরাধ করছেন। তারা দন্ডবিধির ২১৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করছেন। এই ধারায় বলা আছে, কোন ব্যক্তি যদি কর্মচারী হিসেবে কোন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের কোন পর্যায়ে কোন রিপোর্ট, আদেশ, রায় দুর্নীতিমূলকভাবে বা দুরভিসন্ধিমূলকভাবে প্রণয়ন করে বা ঘোষণা করে, যা আইন বিরুদ্ধ বলে সে জানে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদন্ডে অথবা অর্থদন্ডে অথবা উভয়বিধ দন্ডেই দন্ডিত হবে। এছাড়াও অবৈধ আটকের অভিযোগ তো স্পটভাবে করা যায়। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কোন নাগরিককে ৫ মিনিট আটকে রাখারও অধিকার কারো নেই।

আরেকটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; শিশু আইন ২০১৩ এর ১৬ ধারায় অপরাধের সাথে জড়িত শিশুর বিচার কেবল শিশু আদালতই করবে বলা থাকলেও মোবাইল কোর্ট নামক সাজার স্প্রিন্টার মেশিন শিশুদেরও রেহাই দিচ্ছে না। হাজার হাজার শিশু এই অযাচিত এখতিয়ারবিহীন কোর্টের রায়ে কারাগারে। সম্প্রতি মহামান্য হাইকোর্টের নজরে বিষয়টি আসলে মহামান্য হাইকোর্ট মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত সব শিশু আসামিকে বিচার পদ্ধতির ত্রুটির কারনে ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মহামান্য হাইকোর্টের নজরে না আসলে হাজার হাজার শিশু ভুল বিচারের স্বীকার হয়ে জেলেই পচে মরতো। হাইকোর্টের নজরে আসার আগেই যে অসংখ্য অন্যায় হয়ে যাচ্ছে, তার বিচার কে করবে? এই লাগামহীনতার রশি টাঁনবে কে?

 
পদ্মা-মেঘনা বিধৌত চর এলাকা নিয়ে শরীয়তপুর জেলা। এখানকার নদী তীরবর্তী মানুষের প্রধান পেশা মৎস্য শিকার। বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে সরকার মা ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সরকারের এই পরিকল্পনা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু স্থানীয় জেলেদের নির্দিষ্ট ঐ সময়ে বিকল্প কর্মসংস্থান অথবা পর্যাপ্ত ভর্তুকির বিষয়টিও সরকারের মাথায় থাকা উচিত। এ বছর এই নিষেধাজ্ঞার সময়টিতে যা হয়েছে তা নজিরবিহীন। প্রায় ১৯০০ জেলে এবং ইলিশ ক্রেতা-বিক্রেতা-বহনকারীকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়েও যেখানে কারাগারে ধারন ক্ষমতার কয়েকগুন হাজতী-কয়েদী থাকে, সেখানে হুট করে অতিরিক্ত ১৯০০ লোক'কে জায়গা দেয়া কারা-কর্তৃপক্ষের জন্য অসম্ভব হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে পাশ্ববর্তী অন্যান্য জেলার কারাগারে আসামীদের প্রেরণ করতে হয়েছে। সেখানেও ইতিমধ্যে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত হাজতী-কয়েদী আছে। পাঠকদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে এই আলোচনার সাথে মোবাইল কোর্টের কি সম্পর্ক? সম্পর্ক আছে। এই যে ১৯০০ মৌসুমী আসামী জেলে ঢুকলো এদের সবাই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা প্রাপ্ত। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে, এদের অধিকাংশকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কাছে হাজির করলে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করেছেন যা কোনভাবেই তারা করতে পারেন না। এই বিপুল সংখ্যক আসামী কবে নাগাদ আপিলের সুযোগ পাবে আর কবে নাগাদ জামিনের আবেদন করতে পারবে তাও অনিশ্চিত। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রদত্ত সাজার বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে আদেশের সহিমোহরী নকল প্রয়োজন। সেটা তুলতে আসামী পক্ষের রীতিমতো যুদ্ধজয় করতে হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে নকল পেতে এক থেকে দেড় মাস এমনকি তারও বেশি সময় লেগে যায়। অথচ আসামীর ন্যায়সঙ্গত অধিকার যথাসম্ভব দ্রুত রায়ের নকল পাওয়া। ইতিমধ্যে বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আসলে মহামান্য হাইকোর্ট ৫ কর্মদিবসে রায়ের নকল প্রদানের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ইচ্ছাকৃতভাবে এমন অহেতুক বিলম্বের পরে আবার আসে শুনানির জন্য নির্ধারিত দিনের প্রসঙ্গ। অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক এক দিন বসলে চারদিন বসেন না। শুনানির নির্ধারিত দিনে কোর্ট না উঠলে আবার অনিশ্চিত অপেক্ষা। এক ধরনের ফাঁদে আটকে যায় বিচার প্রার্থীর ভাগ্য। এক কথায় বিচারের নামে প্রহসন চলছে এই মোবাইল কোর্ট ব্যবস্থায়।

 
শেষ করবো আলোচ্য বিষয়ের সাথে প্রাসঙ্গিক একটা বিশেষ মামলায় হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ এবং নির্দেশনার মাধ্যমে যেখানে মহামান্য হাইকোর্ট রীতিমতো অন্যায় আদেশ প্রদানকারী সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং এ কাজে সহযোগিতাকারী সংশ্লিষ্ট থানার ওসি'কে অন্যত্র বদলীর নির্দেশ দিয়ে চরম ভৎসনা করেছেন। The state VS UNO of Sakhipur, Tangail & another, 2017 (1) LNJ 239, এই মামলায় পুলিশ সাব্বির শিকদার নামের এক স্কুল ছাত্রকে ফেসবুকে স্থানীয় সাংসদকে হুমকি দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে টাংগাইলের সখিপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের কাছে হাজির করে। রফিকুল ইসলাম আসামীকে তথ্য প্রযুক্তি আইনে দুই বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করেন। ঠিক কোন ধারায় সাজা দিয়েছেন তা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব জানতেন না! কতটা হাস্যকর! ঘটনাটি দেশের অধিকাংশ জাতীয় দৈনিকে স্থান পায়। ২০১৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দি ডেইলি স্টারে'র একটা সংবাদকে নজরে এনে মহামান্য হাইকোর্ট স্ব-প্রনোদিত হয়ে রুল জারি করে মামলার নথিসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানার ওসি'কে তলব করেন। হাইকোর্ট এ ধরনের আদেশ কেন অবৈধ হবে না জানতে চান। এরপরেই শুরু হয় নানান নাটক। নথি টেম্পারিংসহ পুরো আইনটাই বদলে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়। তথ্য প্রযুক্তি আইন হয়ে যায় মাদব দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন। মোবাইল কোর্ট আইনের ৫, ৬, ৭ ধারায় বিচার পদ্ধতি সম্পর্কে যেই স্পষ্ট বিধান আছে তার কিছুই এখানে মানা হয় নি।

অভিযুক্ত পুলিশ আর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শপথপূর্বক আলাদা আলাদা বক্তব্য পেশ করেন। তারা তাদের বক্তব্যে জাতীয় পত্রিকার সংবাদ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবী করেন। তারা জানান, আসামী সাব্বির সিকদারকে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট ১০০ গ্রাম গাজাঁসহ হাতেনাতে ধরে সাজা দিয়েছেন। তথ্য প্রযুক্তি আইনে সাজা দেননি। অথচ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহেব আদেশের দিন সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় সাংসদকে ফেসবুকে হুমকি দেয়ায় আসামী সাব্বিরকে তথ্য প্রযুক্তি আইনে সাজা দেয়া হয়েছে। সাংবাদিকরা কোন ধারায় সাজা দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন "এ মূহুর্তে মনে নেই"! ২০১৬ সালের ২৪৫ নং মামলাটির নথি পর্যালোচনায় মহামান্য হাইকোর্ট দেখতে পান পুলিশ একটি কম্পিউটার টাইপড অভিযোগ এবং একটি কম্পিউটার টাইপড সিজার লিস্ট করেছেন। অথচ মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় আস্ত কম্পিউটার নিয়ে অভিযানে যাওয়া অসম্ভব। স্বাভাবিকভাবেই মহামান্য হাইকোর্টের সন্দেহের উদ্রেক হয়। আর যেই তারিখে অভিযান পরিচালিত হয়েছে দাবি করা হয়েছে সেই তারিখে কথিত আসামী গ্রেপ্তার হয়ে পুলিশের হেফাজতে ছিলো। সাজানো অভিযানের দুই দিন আগেই সাব্বিরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। তাহলে কিভাবে তাকে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান পরিচালনা করে ১০০ গ্রাম গাজাঁসহ গ্রেপ্তার করে সাজা দিলেন?

শেষমেষ মহামান্য বিচারপতি এম. এনায়েতুর রহিম তার জাজমেন্ট প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি বলেন,

'On careful examination of the above provisions of the Mobile Court Ain, 2009 it is crystal clear that the Magistrate who is empowered for holding a Mobile Court under the Mobile Court Ain, 2009 must take cognizance of the alleged offence instantly at the spot provided the same has been committed or unfolded in his presence and the said Magistrate is also empowered to convict the accused and award the prescribed sentence to him if he pleads guilty. Cognizance of the offence has to be taken by the concerned Magistrate instantly on the spot and lodgment of written complainant with the Magistrate is not at all required. There is no scope to convict a person under the Ain, 2009 who was apprehended or arrested or detained by the police prior to his trial that is before commencement of Mobile Court proceeding. And if anyone is convicted in the aforesaid manner, the whole proceeding of the Mobile Court will be vitiated and the order of conviction is illegal and without jurisdiction.'

এ আদেশে মহামান্য হাইকোর্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ওসি'কে চরমভাবে ধিক্কার জানান। তাদের দূরে কোথাও বদলী করতে সরকারকে নির্দেশ দেন। এমন সাজা পেয়েও যদি এদের বোধদয় না হয়, তাহলে হতাশ হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। একই ধরনের অন্যায় বিচার এখনো হরহামেশাই করা হচ্ছে। মহামান্য হাইকোর্ট বারবার সতর্ক করার পরেও এমনটা চলতে থাকলে হয়তো যেকোন সময় কোন অন্যায় আদেশ দেয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা পুলিশের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অপরাধের চার্জ আনারও প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। ভিকটিম নিজে কিংবা যেকোন নাগরিক (কার্যবিধি'তে বাধা না থাকলে) অথবা বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০(১)(গ) তে চাইলে স্বপ্রণোদিত হয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে পারেন। দেশের কিছু জেলার বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইতিমধ্যে পুলিশকে সাবধান করে চিঠিও দিয়েছেন যাতে তারা আসামী ধরে আইন অমান্য করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট উপস্থাপন না করে। সতর্ক বা সাবধান করা এক ধরনের সংকেত। সংকেতের গণনা শেষেই ঝড় আচড়ে পড়ে। শুভবুদ্ধির উদয় হোক। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সব বাধা দূর হোক।

লেখক: মোঃ শহিদুল ইসলাম সজীব, আইনজীবী, শরীয়তপুর জজ কোর্ট; অ্যাসিস্টেন্ট সেক্রেটারী, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, শরীয়তপুর সদর; ই-মেইল: mdshahidulislam0038@gmail.com