আজ জাতীয় শোক দিবস

আজ জাতীয় শোক দিবস




নিউজ ডেস্কঃ  আজ শনিবার ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী।

জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে পালন করে দিনটি। তবে এবার বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করা হবে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপদগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।
পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ ও মেয়ে বেবি, সুকান্তবাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে মহান আল্লাহর দরবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্টের সকল শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।
দেশে করোনা মহামারি পরিস্থিতিতেও জাতীয় শোক দিবসকে সামনে রেখে এ মাসের প্রথম দিন থেকেই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করছে।
স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি অনুযায়ী ১৫ আগস্ট শনিবার সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
এদিন সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকার বনানীস্থ কবরস্থানে ১৫ আগস্ট শাহাদতবরণকারী জাতির পিতার পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও অন্যান্য শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক ও ফুলের পাপড়ি অর্পণ এবং ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফাতেহা পাঠ, পুষ্পস্তবকক অর্পণ এবং মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিস্থলে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে বিশেষ দোয়া মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়েছে। সরকারি ছুটির দিনে কর্মসূচি পালনে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সারা দেশের মসজিদসমূহে বাদ যোহর বিশেষে মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। এছাড়াও জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীগুলো ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। পোস্টার মুদ্রণ ও বিতরণ এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/গ্রোথ সেন্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাতীয় শোক দিবসের পোস্টার স্থাপন ও এলইডি বোর্ডের মাধ্যমে প্রচারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এছাড়াও জাতীয় শোক দিবসের তাৎপর্য উল্লেখ করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের মাধ্যমে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সকল মোবাইল গ্রাহককে ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ করবে।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থা জাতীয় শোক দিবসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্ব স্ব কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে জাতীয় শোক দিবস পালনের জন্য সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে।
বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনর্মিত রাখা হবে এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় শোক দিবসে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্য উদয়ের সাথে সাথে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৯টায় ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ।
সকাল ১০টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল। একই সময় টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও বাদ জোহর দেশের সকল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল ও সুবিধা মতো সময়ে মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অুষ্ঠিত হবে। দুপুরে অস্বচ্ছল, এতিম ও দুঃস্থ মানুষদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হবে।
বস্তুত ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ থেকেই বাংলাদেশে এক বিপরীত ধারার যাত্রা শুরু হয়। গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে সামরিক শাসনের অনাচারের ইতিহাস রচিত হতে থাকে।
সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নোবেল জয়ী পশ্চিম জার্মানীর নেতা উইলি ব্রানডিট বলেন, মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে তারা যে কোন জঘন্য কাজ করতে পারে।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীরদ সি চৌধুরী বাঙালিদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরেছে।
দ্য টাইমস অব লন্ডন এর ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সংখ্যায় উল্লেখ করা হয়, ‘সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সবসময় স্মরণ করা হবে। কারণ, তাঁকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই। একই দিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ লোক শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকান্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।’
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোস্তাক আহমেদ বিচারের হাত থেকে খুনীদের রক্ষা করতে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সকে আইন হিসেবে অনুমোদন করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সুদীর্ঘ একুশ বছর পর ক্ষমতায় আসলে ১৯৯৬ সালের ১৪ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তিন প্রধান আসামী লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে গ্রেফতার করা হয়।
একই বছরের ২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহকারি (পিএ) এ এফ এম মোহিতুল ইসলাম ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সংঘটিত নারকীয় হত্যাকান্ডের ঘটনায় থানায় একটি এফআইআর করেন।
১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর খুনীদের বিচারের হাতে ন্যস্ত করতে পার্লামেন্টে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করা হয়। ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি সিআইডি এই মামলায় ২০ জনকে অভিযুক্ত করে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে চার্জশীট দাখিল করে এবং একই বছরের ১২ মার্চ ছয় আসামীর উপস্থিতিতে আদালতে বিচার শুরু হয়।
১৯৯৭ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত বিচারক বিব্রত হওয়াসহ স্বাধীনতা-বিরোধী চক্রের নানা বাধার কারণে আটবার বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এভাবে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর মামলার রায়ে বিচারক কাজী গোলাম রসুল ১৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদ- প্রদান করেন। অন্যদিকে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৪ দিনের শুনানি শেষে বিভক্ত রায় প্রদান করে। বিচারক এম রুহুল আমিন অভিযুক্ত ১৫ আসামীর মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুদ-াদেশ বজায় রাখেন। কিন্তু অপর বিচারক এ বি এম খায়রুল হক অভিযুক্ত ১৫ জনকেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- প্রদান করেন।
পরবর্তীতে ২০০১ সালের অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে বিচার কাজ বন্ধ থাকে। দীর্ঘ ছয় বছর পর ২০০৭ সালের ২৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের মুখ্য আইনজীবী বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সুুপ্রিম কোর্টে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রদান করেন এবং ২৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ২৭ দিনের শুনানি শেষে ৫ আসামীকে নিয়মিত আপিল করার অনুমতিদানের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন।
২০০৯ সালের ১২ নভেম্বর- ২৯ দিনের শুনানির পর চূড়ান্ত আপিল শুনানি শেষ হয় এবং আদালত ১৯ নভেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন। ওইদিন (১৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ৫ আসামীর দায়ের করা আপিল আবেদন খারিজ করা হয়। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে আসামীদের রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে ২৮ জানুয়ারি ৫ আসামীর ফাঁসির রায় কার্যকর করে জাতিকে দায়মুক্ত করা হয়।
২০১০ সালের পর, ভারতে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর আরো একজন খুনি আবদুল মাজেদ এবছর দেশে ফিরে আসার পর গত ১২ এপ্রিল, ২০২০ তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যার ৪৫ বছর, নৃশংস ওই হত্যাকান্ডের মামলার ২৫ বছর এবং উচ্চ আদালতের রায়ে ৫ আসামির ফাঁসি কার্যকরের প্রায় দশ বছর পর গ্রেফতার হন খুনি মাজেদ।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আজ এক বিবৃতিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী, জাতীয় শোক দিবস যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দেশবাসীকে সাথে নিয়ে পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ, সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

যশোরে 'চেতনায় বঙ্গবন্ধু’ ভিডিও তথ্যচিত্রের মোড়ক উন্মোচন

যশোরে 'চেতনায় বঙ্গবন্ধু’ ভিডিও তথ্যচিত্রের মোড়ক উন্মোচন


স্টাফ রিপোর্টারঃ  পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু ইতিহাসের মহানায়কই নন জাতীয় জীবনে সকল প্রেরণার উৎস্য। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন থাকবে বঙ্গবন্ধুর গৌরবগাঁথা। তাই বঙ্গবন্ধুর চেতনাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবন থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। ছোট পরিসরে একটি অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দেশের ঐতিহ্যকে সুনিপুণভাবে তুলে ধরেছে লাল সবুজ। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ‘চেতনায় বঙ্গবন্ধু’ ভিডিও তথ্যচিত্রের মোড়ক উন্মোচনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলা সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র লাল সবুজের উদ্যোগে শুক্রবার সকালে যশোর সার্কিট হাউজে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন গ্রামের কাগজ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন। অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা ও গ্রামের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার এসএম আরিফের সঞ্চালনায় এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডক্টর মোল্লা আমির হোসেন, সিনিয়র সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা রুকুনউদ্দৌল্লাহ ও শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু।
গ্রামের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার এস এম আরিফের রচনা ও স্বরোজিৎ মন্ডলের সুরে ‘চেতনায় বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামে মিউজিক ভিডিওতে কণ্ঠ দিয়েছেন শিল্পী সায়েরা আরজুমান স্মৃতি ও স্বরোজিৎ মন্ডল। ছয় মিনিটের এ ভিডিও তথ্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর শিশুকাল, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয়দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান এবং ৭১’র ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ও মুক্তিযুদ্ধকে সগৌরবে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া দেশের সবুজ শ্যামল গ্রামবাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও সংস্কৃতিকে নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এই ভিডিও চিত্রে। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক গ্রামের কাগজ।

স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প নির্মাণের লক্ষে মহম্মদপুরের বাবুখালী’তে জরুরী বৈঠক

স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প নির্মাণের লক্ষে মহম্মদপুরের বাবুখালী’তে জরুরী বৈঠক



মোঃকুতুবুল আলম মহম্মদপুর (মাগুরা)

মাগুরার মহম্মদপুরের বাবুখালী পুলিশ ক্যাম্পের নির্ধারিত জায়গা চিহ্নিত করার লক্ষে বাবুখালী আফতাব উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শুক্রবার রাতে জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।বাবুখালী পুলিশ ক্যাম্পের নির্ধারিত স্থান না থাকায় বাবুখালী'তে পুলিশ ক্যাম্প থাকবে কি না সে বিষয়ে ১০ই আগষ্ট মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার খাঁন মোহাম্মাদ রেজোয়ান মহম্মদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবু আবাদুল্লাহেল কাফি সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে ক্যাম্প স্থায়িভাবে রাখার জন্য ক্যাম্পের জন্য নির্ধারিত জায়গা চিহ্নিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।উল্লেখিত বিষয়ের বাস্তবায়ন করতে শুক্রবার রাতে উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবু আব্দুল্লাহেল কাফি মাগুরা জেলা পরিষদ সদস্য আলী আহম্মদ মিঞ্জু বাবুখালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মীর মো. সাজ্জাদ সাবেক 


চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বাকি মিয়া বাবুখালী আফতাব উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন আলী খানবাবুখালী আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ রবিউল ইসলাম বাঁশো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল বাশার বাবুখালী বাজার বনিক সমিতির সভাপতি ইমরুল হাসান ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে জরুরী বৈঠকের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত সকলের সিদ্ধান্তে ক্যাম্পের জন্য নির্ধারিত স্থান নির্বাচন করে মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার খাঁন মোহাম্মাদ রেজোয়ান কে জানালে তিনি খুব শীঘ্রই জায়গাটি পরিদর্শনে আসবেন বলে মত প্রকাশ করেন।

নোবিপ্রবি নীলদলের আয়োজনে 'বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন: নির্মাণ প্রক্রিয়া ও প্রয়োগ' শীর্ষক ভার্চুয়াল সভা

নোবিপ্রবি নীলদলের আয়োজনে 'বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন: নির্মাণ প্রক্রিয়া ও প্রয়োগ' শীর্ষক ভার্চুয়াল সভা




নোবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শাহাদাৎ বরণকারী শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের লক্ষ্যে নীল দল, নোবিপ্রবি নীলদলের আয়োজনে 'বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন: নির্মাণ প্রক্রিয়া ও প্রয়োগ' শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভার আয়োজন করে। আজ শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন বিশিষ্ট বঙ্গবন্ধু গবেষক ও বাংলাদেশ ও লিবারেশন ওয়ার স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. দিব্যদূতি সরকার। তিনি বাঙালির প্রাচীন ইতিহাস থেকে পর্যায়ক্রমে বঙ্গবন্ধু কীভাবে বাঙালি জাতিসত্ত্বকে লালন করে বাংলাদেশ সৃষ্টির প্রেক্ষাপট তৈরি করে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করেছেন তা অতি প্রাঞ্জলভাবে তুলে ধরেছেন, এবং একই সাথে তার আলোচনায় উঠে এসেছে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চেতনাকে ভূলণ্ঠিত করা ও বাংলাদেশের  গতিপথকে পাল্টে দেওয়ার জন্য ঘাতকচক্র কীভাবে জাতির পিতাকে সপরিবারে নৃশংশভাবে হত্যা করেছে। প্রধান আলোচকের বক্তব্যের উপর প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ অংশগ্রহণ করে শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করেছেন এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। 

শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদের ডীন এবং শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাতির পিতার জীবন ও কর্ম, বাংলাদেশ সৃষ্টি এবং বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেন। শিক্ষক সমিতির সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক মাজনুর রহমান বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বঙ্গবন্ধুর তেজস্বী ব্যক্তিত্বে সকলকে অনুপ্রানিত হয়ে দেশ সেবার আহবান জানান। শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে নীল দল, নোবিপ্রবির সভাপতি প্রফেসর ড. ফিরোজ আহমেদ শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে উপস্থিত সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানান এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করার দাবি জানান। শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন নীল দল নোবিপ্রবির সাধারণ সম্পাদক, শিক্ষা বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক বিপ্লব মল্লিক।

রেশমা’র ঘাতকের বিচারের দাবীতে সেভ দ্য রোড-এর সমাবেশ

 রেশমা’র ঘাতকের বিচারের দাবীতে সেভ দ্য রোড-এর সমাবেশ




নিউজ ডেস্কঃ 
রেশমা’র ঘাতককে গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে সেভ দ্য রোড-এর সাইক্লিস্ট ও শান্তি সড়ক সমাবেশ ১৪ আগস্ট শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেভ দ্য রোড-এর প্রতিষ্ঠাতা মোমিন মেহেদীর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন সেভ দ্য রোড-এর মহাসচিব শান্তা ফারজানা। 

সংহতি প্রকাশ করেন অনলাইন প্রেস ইউনিটির ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব রানা, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনজুমান আরা শিল্পী, বাংলাদেশ মেস সংঘের মহাসচিব আয়াতুল্লাহ আকতার, প্রোগ্রেসিভ হিউমেনিস্ট জার্নির প্রেসিডেন্ট অভিনেত্রী শ্রুতি খান, সেভ দ্য রোড-এর সাংগঠনিক সম্পাদক মহিদুল ইসলাম, সদস্য সাজিয়া রহমান, শেখ ইকবাল, কন্ঠশিল্পী চম্পাবতী এন মারাক, সাইক্লিস্ট সিয়াম, সামির, সাদমান, সোহেল খন্দকার প্রমুখ। 

এসময় বক্তারা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা আমাদেরকে আশাবাদী করেছে নিরাপদ ৪ পথের জন্য। কিন্তু তাঁর মন্ত্রী-সচিব-আমলাদের কারণে নিরাপদ পথ-এর কর্মচেষ্টা ভেস্তে গেছে, আমরা হারিয়েছি এই পথে লক্ষ লক্ষ মানুষকে, পঙ্গুত্ববরণ করেছে লক্ষ লক্ষ মানুষ। সবার আগে দেশ; আর সেই দেশের নিরাপদ পথ। কিন্তু কারা এই পথকে ডাস্টবিনে রুপান্তরিত করে; কারা এই পথকে মৃত্যুফাঁদে পরিণত করে তা এখন জনগন জেনে গেছে। অনতিবিলম্বে রেশমার ঘাতক চালকের গ্রেফতার ও সাইকেল লেন বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে আন্দোলন হবে ঘরে-বাইরে। ‘কিশোর আন্দোলন’-এর কথা ভুলে গেলে চলবে না।  

বাংলাদেশ আওয়ামী সাংস্কৃতিক লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমি

বাংলাদেশ আওয়ামী সাংস্কৃতিক লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমি

 



 মোঃ রবিউল হোসাইন সবুজঃ

বাংলাদেশ আওয়ামী সাংস্কৃতিক লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির 

প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র একাদিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত চিত্রনায়িকা প্রিয় দর্শনী আরিফা পারভীন মৌসুমি নির্বাচিত হয়েছেন। চিত্রনায়িকা মৌসুমি সাংস্কৃতিক লীগের ব্যানারে আওয়ামীলীগের পক্ষে

দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছেন। সেই সাথে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবুল হোসেন মজুমদারের সভাপতিত্বে শুক্রবার কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভায় এ চিত্রনায়িকা মৌসুমিকে আগামী তিন বছরের জন্য নির্বাচিত করা হয়। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব শরীফ। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসেন,যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলম কিরন,ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর সিকদার,আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফারুক মজুমদার,প্রচার সম্পাদক মনোয়ার হোসেন মুন্না,

শ্রম ও কর্ম সংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খান রাজু আহমেদ,সহ-সম্পাদক 

পারভেজ পাটোয়ারি প্রমুখ।

বঙ্গবন্ধু পেশাজীবি পরিষদ কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে ১৫ আগস্ট শোক দিবসে শ্রাদ্ধাঞ্জলি

 বঙ্গবন্ধু পেশাজীবি পরিষদ কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে ১৫ আগস্ট শোক দিবসে শ্রাদ্ধাঞ্জলি



আজহারুল ইসলাম সাদী, জেলা প্রতিনিধিঃবঙ্গবন্ধু পেশাজীবি পরিষদ সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেছেন, কালিগঞ্জ উপজেলা বঙ্গবন্ধু পেশাজীবি পরিষদ শাখার সভাপতি মুকুল বিশ্বাস।

সিরাজগঞ্জে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে ৩ ইউপি সদস্য সাময়িক বরখাস্ত

সিরাজগঞ্জে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে ৩ ইউপি সদস্য সাময়িক বরখাস্ত

মাসুদ রানা সিরাজগঞ্জ জেলাপ্রতিনিধিঃ কাজিপুরে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে ৩ ইউপি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন, কাজিপুর উপজেলার খাসরাজবাড়ি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য শহিদুল ইসলাম, ৯নং ওয়ার্ডের দুলাল হোসেন এবং গান্ধাইল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আলাউদ্দিন জোয়াদ্দার।

তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার বিকেলে এই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হাসান সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত


করেছেন।

তিনি আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, উক্ত ইউপি সদস্যগণের বিরুদ্ধে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার টাকা অবৈধভাবে উত্তোলন ও ভিজিডির চাল আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়। চলতি বছরের ১৮ জুন ওই উপজেলার খাসরাজবাড়ি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামে বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বাসিন্দা হযরত আলী।

২৮ মে ইউপি সদস্য দুলাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ভাতাভোগী মৃত দিল রওশন (বই নং-২৪৬ , হিসাব নং- ৩০৪) এর ভাইপো রফিকুল ইসলাম এবং গান্ধাইল ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন জোয়াদ্দারের বিরুদ্ধে গান্ধাইল গ্রামের একাধিক ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়।

তাদের বিরুদ্ধে এসব তদন্ত রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। এ তদন্ত রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহম্মেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত তাদের সাময়িক বরখাস্তের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নওগাঁর আত্রাইয়ে ইসরাফিল আলম এমপি'র বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

নওগাঁর আত্রাইয়ে  ইসরাফিল আলম এমপি'র বিদেহী আত্মার  মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

 


রাজশাহী ব্যুরোঃনওগাঁর আত্রাই ও রাণীনগরের জনসাধারণের উন্নয়নের রুপকার

সানের  নওগাঁ-০৬(আত্রাই-রাণীনগর) এর স্থানীয় সংসদ সংসদ সদস্য,শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নওগাঁ জেলা আওয়ামীলীগের  যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক, প্রয়াত ইসরাফিল আলম এমপির বিদেয়ী আত্মার মাগফেরাত  কামনা করে আত্রাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের  উদ্যোগে দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


শুক্রবার  (১৪ই আগষ্ট) বিকেল ৪.০০ টায়  আত্রাই উপজেলা আওয়ালীগের দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও আত্রাই উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি শেখ মোঃ হাফিজুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে ও উপজেলা   ছাত্রলীগের সভাপতি মাহদী মসনদ স্বরুপের সঞ্চালনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।  


 দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,প্রয়াত ইসরাফিল আলমের সহধর্মিণী সুলতানা পারভীন বিউটি। 

মেয়ে ইসরাত সুলতানা ইমু

সভাপতি,রানীনগর উপজেলা ছাত্রলীগ।

আত্রাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ এবাদুর রহমান প্রামানিক, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শ্রী নৃপেন্দ্রনাথ দত্ত সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বাদল। পাঁচুপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো.আফছার আলী প্রামাণিক। 

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর সোহাগ 

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম। 

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবু উজ্জল সম্পাদক সুইট দত্ত

সাংগঠনিক আবু হেনা মোস্তফা কামাল। 

কৃষক লীগের সভাপতি  আজিজ মন্ডল,সম্পাদক  জহুরুল ইসলাম। 

শ্রমিক লীগের সভাপতি  মো.আব্দুস সালাম,সম্পাদক  সরদার শোয়েব। 

মহিল লীগের সভাপতি মমতাজ বেগম।

যুব মহিলা লীগের সভাপতি  রাবিয়া সুলতানা,সম্পাদক মিতু মণি। 

আরো উপস্থিত ছিলেন,রাণীনগর উপজেলার  ইশতিয়াক  আলম। রাণীনগর উপজেল স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন। ও ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি রোকনাজ্জামান মহন। 

উক্ত দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন সাহেবগঞ্জ জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা  মো.শাহিন।

অবশেষে সনাক্ত হলো বশেমুরবিপ্রবি থেকে চুরি হওয়া কম্পিউটার!

অবশেষে সনাক্ত হলো বশেমুরবিপ্রবি থেকে চুরি হওয়া কম্পিউটার!



সুমন,বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি ঃবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে কম্পিউটার চুরির ঘটনা ঘটেছিল সেকথা সবাই জানে।এবার খুঁজে পাওয়া গেলো চুরি যাওয়া সেই ৪৯ টি কম্পিউটারের ৩৪ টির হদিস।সেগুলো এখন কোথায়?

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজধানীর বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরে আজম বলেন,বনানীর একটি হোটেল থেকে কম্পিউটার গুলো জব্দ করা হয়।

উল্লেখ্য ঈদ- উল - আযহার ছুটিকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে কম্পিউটার চুরির ঘটনা ঘটে।এরপর ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করে বশেমুরবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ। আইন বিভাগের ডিন আব্দুল কুদ্দুস মিয়াকে সভাপতি করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

চুরির পর দায়িত্বে অবহেলার কারন ও কেন অনুনোমোদিত ছুটিতে ছিলেন তার জন্য গার্ডদের তলব করা হয়।মামলা দায়ের করা হয় গোপালগঞ্জ থানায়।


অবশেষে সকল যুক্তিতর্ক শেষে ৩৪ টি কম্পিউটারের সন্ধান বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে নিশ্চিত করেন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

আশাশুনিতে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মতবিনিময় সভা

আশাশুনিতে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মতবিনিময় সভা



আহসান উল্লাহ বাবলু উপজেলা প্রতিনিধিঃ আশাশুনিতে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আশাশুনি উপজেলা শাখার সভাপতি সাবেক প্রধান শিক্ষক নীলকন্ঠ সোমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মোস্তাকিম, বিশেষ অতিথি ছিলেন থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ গোলাম কবির, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অসীম বরণ চক্রবর্তী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ বি এম মোস্তাকিম বলেন, মহামারী করোনার কারণে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক পালন করতে হবে। সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রেখে সকলে মিলে মিশে উৎসব করবো। উৎসবের নামে কেউ যেন কোন প্রকার অসামাজিক কাজ করতে না পারে তার জন্য সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে। আশাশুনি পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রনজিত কুমার বৈদ্যর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উপজেলা সভাপতি প্রভাষক সুবোধ চক্রবর্তী, পূজা উদযাপন পরিষদের সহ সভাপতি শিক্ষক কালিপদ রায়, সমীরণ বিশ্বাস। মতবিনিময় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক এবারের দুর্গোৎসব পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

মহম্মদপুরের ধোয়াইল গ্রামের কাঁচা রাস্তাটি বেহাল দশা

মহম্মদপুরের ধোয়াইল গ্রামের কাঁচা রাস্তাটি বেহাল দশা



মোঃকুতুবুল আলম,মহম্মদপুর(মাগুরা)

মহম্মদপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৪ নং ধোয়াইল কানায় ব্রীজ থেকে পূর্ব দিকে আয়েন উদ্দিন শিকারীর বাড়ি পর্যন্ত কাঁচা রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এলাকায় জনপ্রতিনিধি থাকলে দেখার যেন কেউ নেই।


এলাকাবাসী রাস্তায় বেহাল অবস্থা উন্নতি ঘটাতে  মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ ও মহম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের জোর দাবি জানিয়ে দুইটি অভিযোগ পত্র দিয়েছেন এলাকাবাসী। 

এই জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল কলেজ গামী ছাত্রছাত্রীরাসহ অটোরিকশা, ভ্যান ব্যবহার করে  প্রতিনিয়ত শতশত লোক উপজেলা সদরে যায়। তাছাড়া কৃষক ধান,  পাট নানা ফসল আনায়নে চরম দূর্ভোগে পড়ে স্থানীয়রা।

বৃষ্টি হলেই কাঁদাপানি জমে রাস্তাটি দিয়ে যাতায়াতের চরম কষ্টের মুখে পড়ে স্থানীয়রা। 


জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করে  জনসাধারণের চরম দুঃখ দশা থেকে মুক্তির আশায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এলাকাবাসী।


উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বেবি নাজনীন বলেন, এই জনগুরুত্বপূন রাস্কাটি দ্রুত সংষ্কারে প্রয়োজন। তবে তিনি এলাকা বাসীকে আস্থা দিয়েছেন। তিনি অতি দ্রুত বিষয়টি নিয়ে কিছু করবেন বলেও জানান।

যশোরে ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরাসনে টিআরএম'র বিকল্প নেই, প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য

 যশোরে ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরাসনে  টিআরএম'র বিকল্প নেই, প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য


মোরশেদ আলম,যশোর ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধিঃযশোরে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি বলেছেন , ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম প্রকল্পের বিকল্প নেই।বারবার নদী খনন করলেও পুনরায় পলিতে ভরাট হচ্ছে নদীটি। জনগণের টাকা নদী খনন প্রকল্পে ব্যয় না করে ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধান হিসেবে টিআরএম(টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) প্রকল্প চালু করতে হবে। একই সাথে ভবদহ এলাকার পানি ভৈরব নদীতে প্রবাহের জন্য আমডাঙ্গা খাল খনন প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি। তিনি বুধবার (১২ আগষ্ট)  বিকেলে যশোরের অভয়নগরে ভবদহের ২১ ভেন্ট স্লুইসগেট চত্বরে ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসন শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসন আন্দোলন কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভার সভাপতিত্ব করেছেন, আন্দোলন কমিটির আহবায়ক ও অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ এনামুল হক বাবুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন, যশোর জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান, যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলাম, অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুসেইন খাঁন,মণিরামপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেএম রফিকুল ইসলাম।

এছাড়া মতামত প্রকাশ করেছেন, আন্দোলন কমিটির নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ কামরুজ্জামান, পায়রা ইউপি চেয়ারম্যান বিষ্ণুপদ দত্ত, সুন্দলী ইউপি চেয়ারম্যান বিকাশ রায় কপিল, মনোহরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান প্রমুখ।

সভার সভাপতি আলহাজ এনামুল হক বাবুল বলেছেন, ভবদহকে হাতিয়ার করে লুটপাট নয়, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আমডাঙ্গা খালের প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নজরদারী বাড়াতে হবে। পরে নেতৃবৃন্দ ভবদহের ২১ ভেন্ট স্লুইচ গেটের দুই পাশে ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে চারশত মিটার নদী খনন কাজ এবং মশিয়াহাটী গ্রামসহ বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেন। এই দিকে ভবদহে প্রকল্পের নামে লুটপাট বন্ধ ও প্রকল্প বাতিলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে স্মারকলিপি দিয়েছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। স্মারকলিপি প্রদানের মাত্র একদিন পরেই প্রতিমন্ত্রী ভবদহ এলাকা পরিদর্শণ ও সভা করেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ভবদহ অঞ্চলের ৫২ বিল পাড়ের ২০০ গ্রামের ১০ লক্ষাধিক মানুষকে উচ্ছেদ করে জলাভূমি করার চক্রান্ত দীর্ঘদিনের। সেই চক্রান্তের অংশ হিসেবে ২০১৭ সালে গৃহীত টিআরএম প্রকল্প বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এখন জলাবদ্ধতা দূরীকরণের নামে লুটপাটের জন্য ৮০৮ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণের চক্রান্ত চলছে। এত বড় প্রকল্প ভবদহ জনপদের মানুষের কোন মতামত নেওয়া হয়নি।

প্রকল্পটি গণবিরোধী। এর আগে জনপদের মানুষ জোয়ারাধার বাস্তবায়নের (টিআরএম) পক্ষে মত দেয়। যার ভিত্তিতে ২০১৭ সালে টিআরএম প্রকল্প গৃহীত হয়েছিলো। সেই প্রকল্প বাতিল করে ৮০৮ কোটি টাকার ‘লুটপাট আর ভাগবাটোয়ারার প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের ১০ লক্ষাধিক মানুষ জনপদ থেকে উচ্ছেদ হবে। তাই এই গণবিরোধী প্রকল্পের ভাবনা বাদ দিয়ে দ্রুত টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানানো হচ্ছে।

আলিয়া শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব ও আমার ভাবনা

 আলিয়া শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব ও আমার ভাবনা



মোঃ আওলাদ হোসেন জেলা প্রতিনিধি,ভোলা,(দৌলতখান)

বর্তমান বিশ্বে বেশ কত গুলো শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। গনপ্রজাতন্ত্রী  বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ শিক্ষা সেক্টরের সবক'জন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই সেক্টরটাকে আধুনিক, মানসম্মত, যুগোপযোগী,বিজ্ঞানসম্মত ও কর্মীমূখী করার জন্য বদ্ধ পরিকর। 

এহেন পরিস্থিতিতে বর্তমান সমাজে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি, আলিয়া মাদরাসার শিক্ষাব্যবস্থাটি বেশী ফলপ্রসূ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

আলিয়া মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের কেন পড়াবেন সে ব্যাপারে আমার পরামর্শ গুলো হলোঃ

০১.মাদরাসার শিক্ষার্থী নবীর (সাঃ) ওয়ারিস বা উত্তসূরী হয়ে গড়ে ওঠে !

০২.মাদরাসার ছাত্রের পিতা-মাতা বৃদ্ধাশ্রমে থাকা লাগেনা,পরিবারের সাথেই থাকে। 

০৩.মাদরাসার ছাত্র/ছাত্রী বিড়ি,সিগারেট,মাদক ও নেশা মুক্ত। 

০৪.মাদরাসার ছাত্র/ছাত্রী বিনয়ী নম্র ও মানব দরদী হয়। 

০৪.মাদরাসার ছাত্র/ছাত্রী  জঙ্গী,সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হয় না। 

০৫.মাদরাসার ছাত্র/ছাত্রী পরিনত বয়সে হালাল খাওয়ার চেষ্ট করে। 

০৬.দূর্নীতিবাজের তালিকায় মাদরাসার ছাত্র/ছাত্রীর সংখ্যা নগন্য।


★ যা শেখানো হয় আলিয়া মাদ্রাসায়ঃ 

আলিয়া মাদ্রাসাগুলোর পাঠ্যসূচি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সাধারণ বিভাগে শিক্ষার্থীদের ইসলামি শিক্ষা, কলা ও সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হয়। তাদের পাঠ্যসূচিতে কুরআন,হাদীস,ফিকহ, আরবি, ইসলামের ইতিহাস ছাড়াও রয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি)।


বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, জীববিজ্ঞান ও আইসিটি পড়ানো হয়। অন্যদিকে, মুজাব্বিদ বিভাগের শিক্ষার্থীদের অন্যান্য সাধারণ বিষয়ের সঙ্গে পড়ানো হয় তাজবিদ। বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদেরও বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে সঙ্গে সঙ্গে পড়তে হয় কুরআন, হাদিস, ইসলামি আইন ও আরবি। আলিয়া মাদ্রাসাগুলোতে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে দাখিল (এসএসসি সমমান) ও আলিম (এইচএসসি সমমান) পর্যায়ে ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ে পড়ানো হয় না।


আলিয়া মাদ্রাসায় ইবতেদায়ি থেকে কামিল পর্যন্ত ১৭ বছরের পড়ালেখায় রয়েছে পাঁচটি ধাপ। ইবতেদায়ি বা প্রাথমিক পর্যায়ে কুরআন শরিফ পড়া ও মুখস্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। এই পর্যায়ের অন্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামের মৌলিক বিষয়, আরবি, বাংলা, গণিত, ইতিহাস, ভূগোল ও সাধারণ বিজ্ঞান।


দাখিল (মাধ্যমিক) পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কুরআন পড়া ও মুখস্ত করার সঙ্গে যুক্ত হয় কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের ব্যাখ্যা বা তাফসির। এই পর্যায়ে এসে শিক্ষার্থীদের আরবি, ইসলামি দর্শন, ইসলামি আইন ও তত্ত্ব এবং এগুলোর ব্যবহার পড়ানো হয়। আছে কলা,মুজাব্বিদ ও বিজ্ঞান বিভাগ পছন্দের ধাপ।


আলিম (উচ্চ মাধ্যমিক) পর্যায়ে বিজ্ঞান বা কলা বিভাগকে বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে শিক্ষার্থীদের জন্য। উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদেরই কুরআন ও হাদিস, ইসলামি আইন, শরিয়া আইন, উত্তরাধিকার আইন ও ইসলামের ইতিহাস পড়তে হয়। অন্যদিকে, কলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের আরবি ও ফার্সি ভাষা এবং বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিষয় পড়তে হয়।


স্নাতক পর্যায়ে ফাজিল কোর্সে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, কলা ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের বিষয়গুলো আলাদা আলাদা করে শেখানো হয়। অন্যদিকে, স্নাতকোত্তর পর্যায়ের কামিল কোর্সে শিক্ষার্থীদের কেবল ধর্ম বিষয়ে পড়ানো হয়। এই পর্যায়ে এসে তাদের হাদিস, তাফসির (কুরআন  শরিফের ব্যাখ্যা), ইসলামি আইন ও আরবি সাহিত্য বিশেষায়িতভাবে পড়ানো হয়।


কামিল পর্যায়ে শেখানো হয় কুরআন,হাদীস,ফিকহ, তাফসীর,আরবী সাহিত্যেরি উচ্চতর জ্ঞান।বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা এখন যথেষ্ট আধুনিক । 


পরিশেষে বলবো- 


বর্তমানে মাদরাসা শিক্ষা ও সাধারন শিক্ষার সার্টিফিকেটের মান সমান।  মাদরাসা শিক্ষায় আধুনিক শিক্ষার সকল বিষয় রয়েছে,উপরন্তু কু'রআন হাদীস, আরবীসহ ইসলামী শিক্ষার সুযোগ রয়েছে।  মাদরাসা শিক্ষা থেকে মেডিকেল কলেজ,বুয়েট ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সুযোগ ছাড়াও রয়েছে আরব বিশ্বে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে স্কলারশিপ নেয়ার রয়েছে ব্যাপক ব্যবস্থা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল,বুয়েটসহ সকল পাবলিক পরীক্ষায় মাদরাসা পডুয়ারা ঈর্ষনীয় ফলাফল অর্জন করে চলছে।

সাম্প্রতিক প্রকাশ হওয়া ৩৮ তম বিসিএস পরীক্ষায় সাধারন শিক্ষা ক্যাডারে মাদরাসা পড়ুয়া ছাত্র মেধা তালিকায় ১ম স্থান অর্জন করেছে।সম্ভবত ২০১৩-১৪ শিক্ষা বর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষার মাত্র দুইজন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে,সেই দুজনই মাদরাসার ছাত্র।  

আধুনিক শিক্ষার সাথে নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় করে একজন চরিত্রবান মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা বড় অবদান রাখছে। পরকালে মাদরাসা শিক্ষায় শিক্ষিত চরিত্রবান সন্তানের জন্য পিতামাতা বিশেষ পুরস্কারপ্রাপ্ত হবেন।  আরবী ও ইংরেজী সমানভাবে জানার কারনে আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের উন্নত দেশসমূহে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করছে ও অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে।

লেখক,

মোঃ আওলাদ হোসেন 

বিএসএস অনার্স, এমএমএস(রাষ্ট্রবিজ্ঞান)

এমএ,কামিল( ফিকহ)

সহকারী শিক্ষক, দক্ষিণ বড়ধলী আহমদিয়া আলিম মাদরাসা। 

দৌলতখান, ভোলা।

ঝিনাইদহে নবজাতক শিশু উদ্ধার, চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ওসি মিজান

 ঝিনাইদহে নবজাতক শিশু উদ্ধার, চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ওসি মিজান



সম্রাট হোসেন, শৈলকুপা উপজেলা( ঝিনাইদহ) সংবাদদাতাঃঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের তেতুলতলা বাজার এলাকার মায়াধরপুর গ্রামের নুরগীতলা নামক স্থানে এক নবজাতক ছেলে শিশু উদ্ধার করল সদর থানা পুলিশ।

ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে একটি নবজাতক শিশুকে দেখে এলাকাবাসী থানা পুলিশকে জানালে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিশুটিকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি আরো জানান, বাচ্চাটির সুচিকিৎসার সকল ব্যবস্থা আমি গ্রহণ করেছি। বাচ্চাটি এখন চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি আছে। আগ্রহী নিঃসন্তান দম্পতিরা বাচ্চাটিকে নেওয়ার জন্য হাসপাতালে ভিড় করেছে। বাচ্চাটি নিরাপত্তার জন্য আমাদের থানার নারী কনস্টেবল নিয়োজিত করা হয়েছে। 

আমাদের প্রধান লক্ষ্য বাচ্চাটিকে আগে সুস্থ করে তোলা। তারপর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ-আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মাধবপুরে বিলুপ্তির পথে পাহাড়ি এটেঁল মাটি দিয়ে তৈরি হওয়া সুস্বাদু খাবার ছিকর

মাধবপুরে বিলুপ্তির পথে পাহাড়ি এটেঁল মাটি দিয়ে তৈরি হওয়া সুস্বাদু খাবার ছিকর

লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃশিরোনাম দেখে হয়তো অনেকেই ভাবছেন- ছিকর আবার কোন খাবার? তাও মাটি দিয়ে তৈরী হতো এটা কীভাবে সম্ভব অবাক হওয়ারই কথা। অবাক হলেও কথাটি সত্যি। বর্তমান প্রজন্মের কাছে ছিকর শব্দটি নতুন মনে হলে প্রবীনদের কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে মাধবপুর উপজেলার পাহাড়ী অঞ্চল খ্যাত তেলিয়াপাড়া, সুরমা ১০ নং, সাতছড়ি এলাকায় এতিহ্যবাহী ছিকর শিল্প এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। আশি দশকের পূর্বে ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি পরিবার পাহাড়ের এটেঁল জাতীয় মাটি দিয়ে এক প্রকার আহার্য্য সামগ্রী তৈরি করে বিক্রি লব্দ অর্থ দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।


বিভিন্ন জিনিস পত্রের সাথে ইহা ফেরি করে নগদ টাকা পয়সা ও চাউল দিয়ে বিক্রি করা হত বলে জানা যায়। উলেখ্য ছিকর একটি ফারসি শব্দ। ছিয়া মানে কালো আর কর মানে মাটি। ছিয়াকর শব্দটিই পরে ছিকর হয়ে গেছে। ক্ষুধা নিবারণের জন্য নয়, বরং এক ধরণের অভ্যাসের বশে লোকজন তা খেয়েছে বলে প্রবীণ লোকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে। ছিকর হচ্ছে একধরণের পোড়া মাটি। পাহাড়ি টিলার মাটি দিয়ে বিশেষ এক পদ্ধতিতে আগুনে পুড়িয়ে তৈরি হয় ছিকর। ছিকর বিভিন্ন আকৃতির হয়ে থাকে। কোনটি দেখতে বিস্কুটের মত কোন কোন ছিকর আছে ললিপপের মত লম্বা আবার কোন ছিকর ছোট লজেন্সের মতো।


এবার ছিকরের খোজেঁ গিয়ে পাওয়া গেল একজন ছিকর শিল্পীকে। তিনি সুরমা ১০ নং এর দিনেশ মুন্ডা। তিনি বাপ-দাদার আমল থেকেই ছিকর বানান। দিনেশ মুন্ডা জানান, পূর্বপুরুষরা পাইকারদের চাহিদা মেটাতে পারতেন না। সেটা শত বছর আগের কথা। ছিকরের মাটিকে লোকে ডাকে ছিকনা মাটি। এক ধরনের এঁটেল মাটি। উপজেলার উজান এলাকা সহ পাহাড়ে মেলে এ মাটি। তিনি বলেন, ছিকর তৈরিতে আসলে লাগে দক্ষতা। মাটি শুকানো ও পোড়ানোতেই আসল কারসাজি। ঠিকভাবে না হলে স্বাদ আর ঘ্রাণ কোনোটাই পাওয়া যায় না। ছিকনা মাটি তুলে আনাটাও গুরুত্বপূর্ণ কাজ। টিলায় গর্ত খুঁড়ে লম্বা বাঁশের সাহায্যে গভীর থেকে তুলে আনা হয় এ মাটি। রাতের বেলা মাটিগুলো একটি গামলায় নিয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়।


সারা রাত ভিজে মাটি নরম হলে ছাঁচে ফেলে প্রথমে তৈরি করা হয় মন্ড। তারপর কাঠের হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে চ্যাপ্টা করা হয়। এরপর চাকু দিয়ে বিস্কুটের মতো ছোট ছোট করে টুকরা করা হয়। তবে গ্রাহক চাহিদা অনুযায়ী ললিপপ বা লজেন্স আকৃতির ছিকরও হয়ে থাকে। কাটার পর কাঁচা ছিকরগুলো রোদে দেওয়া হয়। দু-এক দিন শুকানোর পর এক ধরনের বিশেষ চুলায় এগুলো পোড়ানো হয়। তারপর একটি মাটির হাঁড়ির নিচের অংশ ভেঙে সেখানে লোহার শিক দিয়ে তৈরি চালুনি বসানো হয়। ছিকরগুলো ওই চালুনির ওপর বসানো হয়। তারপর হাঁড়িটি রাখা হয় একটি মাটির গর্তে।


ধানের তুষ দিয়ে আগুন জ্বালানো হয় গর্তে। সতর্কতার সঙ্গে ছিকরের গায়ে শুধু ধোঁয়া লাগানো হয়। দুই ঘণ্টা পর ছিকর কালচে রং ধারণ করে। সুঘ্রাণ তৈরি হয়। গর্ভবতীদের প্রিয় খাদ্য একসময় সিলেট অঞ্চলে, বিশেষ করে হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে ছিকরের প্রচুর চাহিদা ছিল। দোকানেও বিক্রি হতো। হকাররা বাড়ি বাড়িও পৌঁছে দিতেন। নগদ টাকায় বা চালের বিনিময়ে ছিকর কেনাবেচা হতো। গর্ভবতী মায়েদের কাছে জনপ্রিয় ছিল ছিকর। বিশ্বাস করা হতো এটা খেলে রোগবালাই সারে কিন্তু এখন এটিকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবেই দেখা হয়। মাধবপুর পশ্চিম বাজারে এখনো ছিকর মেলে। মাধবপুর লোকজ সংস্কৃতি সংগ্রাহক ও গবেষক আক্তার হোসেন এ নিয়ে অনেক লেখালেখি করেছেন। তিনি বলেন, সিলেট বিভাগের মাধবপুরে একসময়ের জনপ্রিয় খাবার ছিল এটি। শত বছরের পুরনো এই ছিকরশিল্প। এখন অবশ্য বিলুপ্তপ্রায়।


মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছিকর তৈরির কারিগর ছিল। তিনি বলেন- লোকখাদ্যে মাধবপুর উপজেলার মানুষের আলাদা একটি ঐতিহ্য রয়েছে। অতীতে এ খাদ্যের প্রতি মানুষের নিজস্ব একটি স্বকীয়তা ছিল। খাদ্যগুলো হবিগঞ্জ জেলা ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় ত্রিশ শতক থেকে নব্বই শতক পর্যন্ত অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। আক্তার হোসেন এর সংগ্রহ করা তথ্য মতে- কোন এলাকার ছিকরে খাই মাখানোর সময় গোলাপজল, আদার রস ইত্যাদি মেশানো হয়। যা মাটির সাথে পুড়ানোর পর ভিন্ন এক স্বাদের জন্ম দেয়। স্থানীয় কুমার সম্প্রদায় বা মৃৎ শিল্পীদের কেউ কেউ ছিকর তৈরি করে বাজার জাত করতো। উপজেলার হরষপুর উচুঁ টিলা থেকে একসময় বিভিন্ন এলাকার কুমাররা এসে মিহি মাটি সংগ্রহ করত।


কিন্তু আজ কাল কেউ আর মাটি সংগ্রহ করতে যায় না। উক্ত টিলা ছাড়াও মাধবপুরের বিভিন্ন জায়গায় ছিকরের উপযোগি মাটি আহরণের ক্ষেত্র আছে। উপজেলার হরিশ্যামা গ্রামের অজিত পাল জানান, ‘মাটিকে ভিজিয়ে নরম করে রুটির মত করে ছোট ছোট টুকরোর মাধ্যমে বিশেষ প্রক্রিয়ায় শুধু মাত্র আগুনের ধোয়া দিয়ে পুড়িয়ে তৈরী করা হত। যা এ অঞ্চলের গ্রামগুলোতে ছিকর নামে পরিচিত। ৭০/৮০ দশকে উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে প্রচুর পরিমাণে এই ছিকর পাওয়া যেত। গর্ভবতী মহিলাদের কাছে ইহা একটি পছন্দনীয় সুস্বাদু খাদ্য ছিল।


তাদের ধারণা ছিল এটা খেলে বিভিন্ন রোগ বালাই থেকে বেঁচে থাকা যাবে’। আধুনিক শিক্ষিত মানুষরা ছিকর খাওয়াকে অস্বাস্থ্যকর ও রুচি বিরুদ্ধ বিবেচনা করার কারণে ছিকর এখন বিলুপ্তির পথে।

ছুটিপুর আজ বসছে বিশাল পশু হাট,বিশেষ ছাড়!

ছুটিপুর আজ বসছে বিশাল পশু হাট,বিশেষ ছাড়!



প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ ছুটিপুর আজ শুক্রবার (১৪ ই আগস্ট)   বসছে বিশাল পশু হাট,বিশেষ ছাড়! আজ যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার ছুটিপুর বসছে বিশাল পশু হাট। বাজার কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত সাধারণ ক্রেতার গরু প্রতি পাস খরচ মাত্র ৩০০ টাকা এবং গরু ব্যবসায়ীদের জন্য পাস খরচ মাত্র ২০০ টাকা।


কাগমারীর জয়নাল আবেদিন আর নেই

 কাগমারীর জয়নাল আবেদিন আর নেই



 নিউজ ডেস্কঃ  কাগমারীর জয়নাল আবেদিন আর নেই । যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলাধীন কাগমারী গ্রামের মৃত বদর উদ্দীনের ছেলে জয়নাল আবেদিন(৬০) ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত মঙ্গলবার সকাল ৮ টায় নিজ বাড়িতে মৃত্যু বরন করেন ( ইন্না-লিল্লাহ ---রাজিউন )।  মৃত্যু কালে তিনি স্ত্রী, তিন মেয়ে, দুই ছেলে ও অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।  

নওগাঁর আত্রাইয়ে ৫০ বিঘা জমির অবৈধ দখল মুক্ত করতে হুলিয়া জারি

নওগাঁর আত্রাইয়ে ৫০ বিঘা জমির অবৈধ দখল মুক্ত করতে হুলিয়া জারি


 

মোঃ ফিরোজ হোসাইন রাজশাহী ব্যুরোঃনওগাঁর আত্রাইয়ে ৫০ বিঘা জমির অবৈধ দখল মুক্ত করতে মাইকিং করে ঢোল পিটিয়ে লাল রংয়ের নিশানা ঝুলিয়ে হুলিয়া জারি করা হয়েছে। সেইসাথে ঐ সীমানার মধ্যে চলমান সকল ধরনের নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়,কয়েক যুগ হতে প্রচারিত হয়ে আসা আত্রাই-নাটোর রেললাইনের পূর্বপার্শ্বে বিহারীপুর গ্রাম, পশ্চিমপার্শ্বে জাতআমরুল গ্রাম এবং রেজিস্ট্রি অফিসের পাশদিয়ে নদীরধার বেয়ে চলা রেলি ব্রাদার্স পরবর্তীতে জুটমিল কর্পোরেশন এর নামে খ্যাত যাইগা। বিভিন্ন সময় সরকারের চোখ ফাঁকিদিয়ে রেলি ব্রাদার্স পরবর্তীতে জুটমিল কর্পোরেশন তাদের যাইগা বলে বিভিন্ন জনকে অবৈধভাবে লিজ দিলেও এ যাইগা গুলো ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত। লিজ নিয়ে আবার কেহ পেশি শক্তি প্রয়োগ করে প্রকৃত পক্ষে সরকারের এ যাইগা গুলো দখল করে স্থাপনা নির্মানের মাধ্যমে কেহ নিজে ব্যবসা এবং কেহ কেহ অর্থের বিনিময়ে নির্মিত ঘড় গুলো হস্তাতরিত করে চলেছেন। ফলে যুগ যুগ ধরে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হয়ে আসছে। সরকারী যাইগা হওয়ায় পুরো ৫০ বিঘা জমিতে অবস্থানরত এবং নতুন করে নির্মানাধীন সকলকে যাইগা খালি করেদিতে ঢোল পিটিয়ে মাইকে ঘোষনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ছানাউল ইসলাম। এসময় সহকারী কমিশনার(ভূমি) আরিফ মুর্শেদ মিশু, ওসি মোসলেম উদ্দিনসহ ব্যবসায়ী মহল উপস্থিত ছিলেন।


উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ছানাউল ইসলাম বলেন, রেলি ব্রাদার্স পরবর্তীতে জুটমিল কর্পোরেশন নিজেরা মালিক না হয়েও অবৈধভাবে সম্পত্তি গুলোর লিজ দেয়। এক শ্রেণীর স্বার্থানেসি মহল নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধভাবে যাইগা দখল করে তাদের স্বার্থসিদ্ধি করে।রেলি ব্রাদার্স পরবর্তীতে জুটমিল কর্পোরেশনের অস্তিত্ব না থাকায় এবং এ যাইগা গুলো সরকারী হওয়ায় দখলমুক্ত করা হচ্ছে। যাইগা দখলমুক্ত করে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম এবং এলাকাবাসীর ব্যবসা-বানিজ্য করার জন্য স্থায়ী স্থাপনা নির্মানে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

নওগাঁয় `মুজিব বর্ষ` উপলক্ষ্যে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি

নওগাঁয় `মুজিব বর্ষ` উপলক্ষ্যে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি



মোঃ ফিরোজ হোসাইন রাজশাহী ব্যুরোঃনওগাঁয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশতবার্ষিকী “মুজিব বর্ষ” উদযাপন উপলক্ষ্যে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার রানীনগর উপজেলার শ্রীমতখালী খালের বিশ্ব বাঁধের পাশ দিয়ে বৃক্ষরোপন করা হয়। 

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন,পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. মমিনুর রহমান। 


এসময় উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খাঁন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রবীর কুমার পাল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান। বছরব্যাপী জেলার বিভিন্ন বেড়িবাঁধের উপর মোট ৩ হাজার ৫'শ ফলদ, ঔষধী ও বনজ গাছ রোপন করা হবে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খাঁন। 

এদিকে নওগাঁর সাপাহার উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে একই দিন উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফলজ ও ঔষধি গাছের চারারোপণের মধ্যদিয়ে এ কর্মসূচী পালন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কল্যাণ চৌধুরী। 


এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাজী আবুল মনসুর আলী, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাওছার মানিক, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (জনস্বাস্থ্য) সন্তোষ কুমার কুন্ডু, সাপাহার রেঞ্জ বন বিভাগ কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন প্রমূখ।

নওগাঁর আত্রাইয়ে অসহায় এক বৃদ্ধা মায়ের মানবেতর জীবনযাপন

 নওগাঁর আত্রাইয়ে অসহায় এক বৃদ্ধা মায়ের মানবেতর জীবনযাপন



মোঃ ফিরোজ হোসাইন রাজশাহী ব্যুরোঃবৃদ্ধ বয়সে কেউ ঠিকমত খোঁজ রাখছেনা বৃদ্ধ মায়ের। বয়সের ভারে এখন নানা রোগ শোকের বাসা বাঁধছে শরীরে হয়েছে প্যারালাইসিস। কিছুটা হলেও সরকারের দেওয়া বয়স্কভাতার টাকায় চলে বৃদ্ধ জোহরা বেওয়ার ওষুধপত্র। আল্লাহ যেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হায়াত দারাস করেন। হ্যাঁ এভাবেই কথাগুলো বলেছেন সন্তানের অবহেলার জোহরা বেওয়া নামে এক বৃদ্ধ মা। ওই  বৃদ্ধ মহিলা জোহরা বেওয়া নওগাঁ জেলার আত্রাই  উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের হাটুরিয়া গ্রামের  বাসিন্দা এবং থাকেন ছেলের বৌমার কাছে। বৃদ্ধ বয়সে তার চলার শক্তি আল্লাহ কেড়ে নিয়েছে। সঙ্গ দেয়ারও মানুষ নেই।


জোহরা বেওয়ার বয়স ৭০ ছুই ছুই । এক ছেলে ও তিন মেয়ের তার। স্বামী মারা গেছে অনেক আগে । চোখের পাশে, কপালে ও হাতে যে দাগগুলো, তা কিন্তু তার বয়সের ছাপ নয়। হোচটে আঘাতের চিহ্ন ওগুলো। বৃহস্প্রতিবার (১৩ আগষ্ট) হাটুরিয়া গ্রামে সরেজমিনে  গিয়ে দেখা যায়,টিনের চাউনি টিনের বেড়া বদ্ধ অন্ধকার ঘরে বৃদ্ধা জোহরার বসবাস। ক্ষুধার যন্ত্রনায় সময় সময় বৃদ্ধা হাউ মাউ করে কাঁদছেন। ডাক্তার দেখাতে পারেননি অর্থ সংকটে। তিনি অন্ধকার ঘরের মধ্যে একা বসবাস করেন। ছেলের খোঁজ নেই। ছেলের ওঠানো বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ঘরের মধ্যে থাকেন একা। ছেলে জহির উদ্দিন  কাজের থাকে বাহিরে আর বৌ সুবেদা বেগমর জন্য মায়ের খবর নিতে সাহস পায়না। এক-দুই বার অথবা মায়ের কোন বিশেষ সংবাদ শুনলে দেখে।  তাদের ঘরে বিদ্যুৎ রয়েছে। কিন্তু বৃদ্ধ মায়ের ঘরে একটি বাতি দেয় ওদের ইচ্ছে মত।  প্রতিবেশিরা বার বার বলা সত্ত্বেও বেশি বিলের ভয়ে ছেলে জহির ও বৌ লাইন দেননি মায়ের ঘরে। অবশ্য ছেলের বৌ একটু বেশি মুখচোাঁ (ঝগড়াতে) হওয়ায় এজন্য প্রতিবেশিরা তাকে বিশেষ কিছু বলতে ও পারে না। প্রতিবেশীরা খাবার দিলে ঝগড়া লাগে ছেলের বউ সুখেদা।প্রতিবেশীরা বিদ্যুৎ বিল ও বৃদ্ধা জোহরার খুপরি ঘরে ফ্যান দিতে চাইলে ও নিতে দেয়নি ছেলে বউ। প্রতিবেশী আফরোজা স্বামী মৃত আনোয়ার হোসেন টমা'র কথায় চলে জহির উদ্দিন ও সুখেদা বেগম।     া

বৃদ্ধা জোহরার বয়স্ক ভাতার কার্ডের টাকা সহ জমি রেজিষ্ট্রি করে নিয়েছে বৃদ্ধার কাছে থেকে।বৃদ্ধা জোহরা সব হারিয়ে নিঃস্ব মানবেতর জীবনযাপন করছে।জীবন মৃত্যুর এই সন্ধিক্ষণে । 

বৃদ্ধা জোহরার মেয়ে শেফালী মায়ের মানবেতর জীবনযাপনের কথা বলতে চোখে ছলছল জল নিয়ে বলে, আমার মা খুব কষ্টে আছে।তাঁকে দেখার কেউ নেই।আমি মেয়ে হয়ে ও মায়ের সেবা করতে পারছি না।এমনই হতভাগ্য মেয়ে আমি।মাকে কাছে রেখে সেবা করতে চাইলে। মা যদি মারা যায় কেস করার হুমকি দেয় আমার ভাই। 

হাটকালুপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান  মো.আব্দুস শুকুর সরদার জানান,আমার ইউনিয়নে এমন ঘটনা সত্যি ই কষ্টের। আমি জানতাম না যে ছেলে মাকে এমন কষ্টে রাখতে পারে। আমি যখন জানলাম এর একটি ব্যবস্থা আমি করবো। 

হাটুরিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য মো.আফজাল হোসেন বলেন,বৃদ্ধা আমার প্রতিবেশীই ধরা যায়। বৃদ্ধার ছেলে ও ছেলের বউ কে অনেকবার বলেছি। তারা যেন বৃদ্ধার সাথে ভালো ব্যবহার করে। তারা ও অসহায় মানুষ।

আশাশুনিতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে থানার গাড়ি ভাংচুরসহ দুই পুলিশ আহত

আশাশুনিতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে থানার গাড়ি ভাংচুরসহ দুই পুলিশ আহত



আহসান উল্লাহ বাবলু উপজেলা  প্রতিনিধি:আশাশুনিতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে থানার গাড়ি ভাংচুরসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত, ঘটনাস্থল থেকে ২ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের গদাইপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম ও সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস মোল্ল্যার দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের পূর্বের শত্রুতার জের ধরে এবং শরবত হত্যা মামলার আসামীরা সম্প্রতি জামিন পেয়ে এলাকায় এসে পূর্বের ন্যায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। এরই ধারাবাহিকতায় দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ সার্চ লাইট জ্বালিয়ে ইটপাটকেল ঢাল ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে। সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যেয়ে আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ গোলাম কবিরের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের সংঘর্ষের মাঝে দুই পক্ষের ইটপাটকেল ঢাল ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে থানার গাড়ি ভাংচুর ও হেলমেট ভাংচুর করা হয়েছে। এঘটনায় এসআই জাহাঙ্গীর আহত হন এবং ওসির ড্রাইভার শরিফুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত ড্রাইভার শরিফুল ইসলামকে আশাশুনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন গদাইপুর গ্রামের নুর ইসলামের পুত্র গোলাম কিবরিয়া (৩৫) ও একই গ্রামের গোলাম রব্বানীর পুত্র মফিজুল ইসলাম (৩৮)। সরোজমিনে দেখা গেছে, থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ গোলাম কবির অত্যান্ত দক্ষতার সাথে উভয় পক্ষকে নিবৃত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমান এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ব্যাপারে আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ গোলাম কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের নির্দেশে খাজরা ইউনিয়নের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় যা যা করার প্রয়োজন সেটা করা হবে। তিনি আরো জানান, অত্যান্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

পানিতে ডুবে ২ মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু

পানিতে ডুবে ২ মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু



তাহের খান কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ ) উপজেলা প্রতিনিধিঃরাজাপুর ( কোট চাঁদপুর) আল হেরা হাফেজিয়া মাদ্রাসার ( ছাত্র) এই দুটি বাচ্চা ১৩/০৮/২০২০তারিখে  আনুমানিক বিকাল ৫ঘটিকার সময় নিখোঁজ হয়, অনেক খোঁজাখুঁজির একদিন পর পার্শবর্তী এক পুকুরে তাদেরকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ( ইন্না লিল্লাহি অইন্না ইলাহীর রাজিউন)

পরিবারের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া!  কোটচাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মৃত্যুদেহ উদ্ধার করেন। 



ছাত্রলীগ নেতার শোক দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন

ছাত্রলীগ নেতার শোক দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন



তাহের খান, কোটচাঁদপুর(ঝিনাইদহ)  উপজেলা প্রতিনিধিঃ১৫ই আগস্ট  জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান   ও পরিবারের সকল শহিদদের প্রতি গভির শ্রদ্ধাঞ্জলি ও শোক প্রকাশ করেছেন 

মোঃহায়দার আলী খান, 

সাবেক সহ-সভাপতি ১নং সাফদারপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ!  


কোটচাঁদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে শোকাবহ আগস্ট পালিত হবে বলে জানিয়েছেন।  


শিবগঞ্জের পাকা ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণ

শিবগঞ্জের পাকা ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণ



শামিম উদ্দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :

বন্যাদুর্গত একটি মানুষও না খেয়ে মরবে না--ডা.শিমুল এমপি।।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ডাক্তার সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল বলেছেন, বন্যাদুর্গত এলাকার একটি মানুষও না খেয়ে মারা যাবে না। সরকারের পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে।


তিনি বলেন, যারা বন্যায় ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামীতে বন্যাপ্রবণ এলাকার বাড়ির ভিটা উঁচু করে দেওয়া হবে।


গতকাল দুপুরে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে চাল ও শুকনো খাবার বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।


তিনি বলেন, প্রতি বছর  বাংলাদেশে বন্যা হয়। ভারত থেকে আসা পানিতে বাংলাদেশের কয়েকটি জেলার কিছু অংশ প্লাবিত হয়। নদীভাঙন এলাকায় যতদিন বন্যা থাকবে ততদিন ত্রাণ দেয়া হবে। কোথাও ত্রাণের সংকট হবে না।


ডা. শিমুল এমপি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বন্যা কবলিত অসহায় মানুষের পাশে কাজ করছি। দেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বন্যা যতদিন থাকবে আমি তাদের পাশে থেকে কাজ করে যাবো। এখানকার প্রশাসন বন্যা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে কাজ করছে, যা প্রশংসনীয়।


দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়নের উদ্যোগে বন্যাদুর্গত ১০০ পরিবারের প্রত্যেককে ২০ কেজি চাল, পাউরুটি ও মাস্ক বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, সমাজ সেবক তোহিদুল আলম টিয়া, এডভোকেট আসাদুল আলম আসাদ, অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান,বিশিষ্ট নেতা কফিল উদ্দিন, পাঁকা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দুরুল হোদা, শহিদুল ইসলাম, ওমর ফারুকসহ অন্যরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা গ্রন্থাগারের বৃক্ষরোপণ

 চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা গ্রন্থাগারের বৃক্ষরোপণ



শামিম উদ্দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :চাঁপাইনবাবগঞ্জে মুজিব বর্ষ ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত প্রকল্প, 'দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্প' এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে বৃক্ষরোপন করা হয়েছে। 

গতকাল ৩ আগস্ট ২০২০ রোজ বৃহস্পতিবার গ্রন্থাগারে ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ করা হয়। 

এ কর্মসূচীর আওতায় ফলজ ও ফুলের বিভিন্ন রকমের চারা রোপন করা হয়।জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং উভয় দপ্তরের কিছু সেবাগ্রহীতা এ কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন।